অন্তরের রোগ থেকে বাঁচার উপায়

অন্তরের রোগ

অন্তরের রোগ: সৌন্দর্যের উপমা সৌন্দর্যই কেবল। পৃথিবীতে এমন কোন সৃষ্টজীব নেই যে সৌন্দর্যকে ভালোবাসে না। সৌন্দর্য এমন একটা বিষয় যার কাছে আকাশের সূর্যটাও হার মানতে বাধ্য! সৌন্দর্য দুই প্রকার। যথা: বাহ্যিক সৌন্দর্য ও চারিত্রিক সৌন্দর্য। একটি সৌন্দর্য মানুষকে পথ ভুলিয়ে দেয়, আরেকটি সৌন্দর্য মানুষকে পথ দেখায় এবং সম্মানী বানায়।

চরিত্রের সৌন্দর্যের কাছে বাহ্যিক সৌন্দর্য তুচ্চ! বর্তমান সমানে বাহ্যিক সৌন্দর্যের চর্চার কম্পিটিশন চলে। কে কার থেকে বড় বাহ্যিক সৌন্দর্যের অধিকারী এটা নিয়ে চারদিকে উদঘাটন হয়। কখনো মননে এমন চিন্তার উৎপত্তি হয়না যে এই সৌন্দর্য নগন্য সময়ের।

আমরা সত্যিই আজ বাহ্যিক সৌন্দর্যের মোহে পড়ে পথ ভুলে গেছি। ভুলে গেছি নিজেদের আপন তাহজিব-তামাদ্দুন। এহানো পরিস্থিতিতে স্রষ্টার অনুগত্য করাও কারো কারো কাছে দুষ্প্রাপ্য বটে! তাই মুসলমানদের চরিত্র থেকেও এমন কিছু অসামাজিক কার্যকলাপ বেরিয়ে আসে যা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। এখন আর কেউ সত্য-মিথ্যার যথাযথ ডিফারেন্ট করতে চায় না। অথচ রাসূল স. -এর বিভিন্ন হাদিস থেকে জানতে পারি চরিত্রের সৌন্দর্যের কত প্রয়োজন!

অন্তরের রোগ

হযরত আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা শুধু তোমাদের দেহের সেীন্দর্য বা আকৃতি দেখেন না। ( যখন প্রকাশ্য কাজগুলো কর যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা সম্পাদিত হয়, মনের একাগ্রতা না থাকলে এর কোন ফায়দা নেই। কেননা, মহান আল্লাহ্ বলেন,) আল্লাহ্ পাক দেখেন তোমাদের অন্তর।
অন্তরে যদি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস না থাকে তাহলে ভালো কাজও আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে না কখনই। অর্থাৎ, কেউ যদি নামাজে দাঁড়ায় যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে ভালো দেখায় অথচ এখলাছ এবং একাগ্রতাশূন্য, অন্যমনস্ক ভাব, তবে এই ইবাদতও কবূল হবে না। অবশ্যই কুরআন-হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, বাহ্যিক কাজের পাশাপাশি অন্তর পরিস্কার এবং একাগ্রতা অত্যন্ত জরুরি। তবেই সকল কাজ কবূল হবে। মহান আল্লাহর কুদরতি দৃষ্টির লক্ষ্যস্থলই হলো বান্দার অন্তর। সুতরাং, একজন মুসলমান হিসেবে অন্তর পরিস্কারের প্রয়োজনীয়তা বাহ্যিক সেীন্দর্যের চেয়ে বেশী জরুরি মনে করতে হবে।

তবে এই নয় যে, বাহ্যিক সেীন্দর্যের প্রয়োজন নেই। অবশ্যই বাহ্যিক সেীন্দর্যও মহান আল্লাহ তা’আলা পছন্দ করেন। (পরিস্কার পরিছন্ন থাকা ঈমানের অঙ্গ)। অন্তরের সেীন্দর্য খোদাভীতি পয়দা করে। যা একজন মুসলমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আত্মার সংশোধনই আত্মশুদ্ধি। কেউ যদি মনে করে যে, আমি কালেমা জানি, নামাজ পড়ি, জাকাত দেই, রোজা রাখি, হজ্জ্ব পালন করি, আর এতেই আমি ক্ষমাপ্রাপ্ত জান্নাতি। তবে এটা শুধু বাহ্যিক সেীন্দর্যই কেবল! কেননা, এই নেক আমলগুলোর মধ্যে ইখলাছ নেই, একাগ্রতা নেই। তাই এই ইবাদত গুলো ফলশূন্য! বিশেষতঃ যাহের-বাতেনের মধ্যে সৃষ্টিগতভাবে এমন এক যোগাযোগ থাকে যে, বাহ্যিক অবস্থার সংশোধন ব্যতীত বাতেনী অবস্থা সংশোধিত হয় না। আবার বাহ্যিক আমলসমূহের উপর পাবন্দি না করলে বাতেনী সংশোধন স্থায়ী হয় না। যখন বাতেনী অবস্থা সংশোধিত হয়ে যায়, তখন বাহ্যিক আমলগুলো খুব ভালোভাবে আদায় হয়। কোন বান্দা যেন এমন মনে না করে যে, বাহ্যিক আমলের প্রয়োজন শুধু  আত্মা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত। যখন কোন বান্দা যথাসাধ্য সময় আল্লাহ্ তা’আলার ইবাদতে ব্যস্ত থাকবে, তবে এটাই আত্মশুদ্ধির পবিত্র নিদর্শন।

পরিশেষে মহান রবের নিকট প্রার্থনা করি আমদের এই ক্ষুদ্র মেহনত কে কবুল করুন। লেখক এবং পাঠক উভয়কেই দ্বীনের পথে অটল রাখুন। আমাদের পাপ মার্জনা করুন। আমিন!

Add comment