মুসলিম শিশুদের আকিকার নিয়ম জানুন

শিশুর আকিকার বিধান কি? আকিকার নিয়ম

আকিকার নিয়ম: আদিযুগ থেকেই সমাজের সাধারণ মুসলমানদের মাঝে অনেক বিভ্রান্তিকর প্রথা প্রচলন আছে। আকিকা সম্পর্কিত অনেক বিষয়টিও ঠিক তার মাঝে রাখা যায়। অনেকেই আকিকা দেওয়ার বিধানটাকে ফরজ মনে করেন। আবার অনেকেই ওয়াজিব, সুন্নত, মুস্তাহাব , নফল ইত্যাদি মনে করেন। পরিবারের মাঝে অকেকেই এই ক্ষুদ্র বিষয়টা নিয়ে তর্কে লিপ্ত হয়। এটা সম্পূর্নরূপে অবৈধ। মহান আল্লাহ কখনই কোনো বান্দার ওপর এমন কোনকিছু ছাপিয়ে দেন না, যেটা বান্দা বহন করতে পারে না। (আল-কুরআন)। ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে আকীকা দেওয়ার বিধানটা আবশ্যকীয় নয়।

আকিকার নিয়ম

ছেলে শিশু ও কন্যা শিশুর আকীকা সম্পর্কে কিছু মাসয়ালা তুলে ধরা হলো:

১। ছেলে বা মেয়ে জন্মিলে আকীকা দেওয়ার উত্তম দিন হলো সত্তম দিন। সত্তম দিনে শিশু সন্তানের একটি সুন্দর ইসলামিক নাম রাখা ও আকীকা দেওয়া প্রয়োজন। আকীকা দিলে সন্তানের বালা মুছিবত দূর হয় এবং যাবতীয় আপদ বিপদ হতে নিরাপদ থাকে।

২। ছেলে জন্মিলে দুইটি ছাগল বা দুইটি ভেড়া আর মেয়ে জন্মিলে একটি ছাগল বা একটি ভেড়া যবাহ্ করবে। অথবা কুরবানীর গরুর মধ্যে ছেলের জন্য দুই অংশ আর মেয়ের জন্য এক অংশ নিতে হবে।

৩। শিশু জন্মের সপ্তম দিনে আকীকা দেওয়া মুস্তাহাব। যদি কেউ সপ্তম দিনে আকীকা না দিতে পারে, তবে যে কোনো সময় দিতে পারবে। তবে যে বারে সন্তান জন্মেছে তার আগের দিন আকীকা দেবে। যেমন, কোনো শিশু সন্তান যদি শুক্রবারে জন্ম নেয় তবে সপ্তম দিন বৃহস্পতিবারে আকীকা দেবে। বৃহস্পতিবারে জন্মিলে বুধবারে আকীকা দেবে।

৪। শিশু জন্মের সপ্তম দিনে ৪টি কাজ। ইসলামিক সুন্দর নাম রাখা, মাথা কামান, চুলের ওজনে স্বর্ণ-রোপা দান করা এবং আকীকার পশু যবাহ্ করা। জন্মের আগেও শিশু সন্তানের নাম রাখা যাবে, এতে কোনো দোষ নেই। শিশুর মাথার চুল কামানোর সাথে সাথেই আকীকা দিতে হবে, এ কথার কোন ভিত্তি নেই।

৫। যে পশুর দ্বারা কুরবানী দুরুস্ত নয়, সে পশুর দ্বারা আকীকাও দুরুস্ত নয়। আবার যে পশুর দ্বারা কুরবানী দুরুস্ত, সে পশুর দ্বারা আকীকাও দুরুস্ত।

৬। আকীকার পশুর গোশ্ত কাঁচা বিতরণ করা , রান্না করে বিতরণ করা , এমনকি দাওয়াত করে খাওয়ানো জায়েজ আছে।

৭। সামর্থ্য না থাকলে ছেলে সন্তানের জন্য একটি ছাগল বা ভেড়া আকীকা দেওয়া যাবে। আর আকীকা না দিলেও কোন দোষ নেই।

আশাকরি সবাই বুঝতে পেরেছেন। কোনো অংশে ভুল-ত্রুটি দেখতে পেলে আমাদের কে ইমেইল করে জানাবেন। আমরা বিনা দ্বীধায় ভুল-ত্রুটি মার্জনা করতে চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ্। পরিশেষে মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি এই মাসয়ালা গুলোর ওপর আমাদের সবাইকেই আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

It Nirman English

Add comment