ব্যভিচারী যুবকটি আলোর সন্ধান পেলো যেভাবে

ব্যভিচারী যুবকটি আলোর সন্ধান পেলো যেভাবে

আলোর সন্ধান: একবার এক যুবক রাসূলুল্লাহ (সা.) এর দরবারে এসে আরজ করলো, ইয়া রাসূল্লাল্লাহ্! আমাকে ব্যভিচার করার অনুমতি দিন! কারণ আমি আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না।

হযরত রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই যুবকের প্রতি ক্ষুব্ধ হননি। তিনি বুঝতে পেরেছেন, এ যুবক অসুস্থ। সে ক্ষুব্ধ হওয়ার পাত্র নয়। সে সমবেদনার পাত্র।

যুবকটি আলোর সন্ধান পেলো যেভাবে

রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই যুবককে ডেকে কাছে বসালেন। মমতার সাথে তার কাঁধে হাত রাখলেন। ভাই, তুমি আমাকে একটি প্রশ্ন করেছো, আমি কি তোমাকে একটি প্রশ্ন করতে পারি না? যুবক বললো, কি প্রশ্ন ইয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ।

হযরত রাসূলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করলেন, আচ্ছা কেউ যদি তোমার বোনের সাথে এ আচরণ করতে চায়, তাহলে কি তুমি তা মেনে নেবে? যুবক বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ কক্ষনোই না। হযরত রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করলেন, যদি তোমার কন্যা, কিংবা মায়ের সাথে? যুবক বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ্, তাও হতে পারে না।

এবার হযরত রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে নারীর সাথে তুমি এ আচরণ করতে চাচ্ছ, সেও তো কারোও বোন, কারও কন্যা, কারও মা। সুতরাং অন্য ব্যক্তি কিভাবে তার মা, বোন কিংবা কন্যার সাথে এ আচরণ মেনে নেবে?

একথা শোনার পর যুবক বললো, ইয়া রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম । আমার অন্তরের রোগ আমি বুঝতে পেরেছি। জীবনে আর কখনই এমন ব্যভিচার করবো না। আমার অন্তরে এ কাজের প্রতি ঘৃণা জেগেছে। এভাবে যুবকটি আলোর সন্ধান পেয়ে গেলো।

এটাই হলো রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চরিত্র। আর এটাই হলো ব্যভিচারীদের কে সংশোধনের নিয়ম!

এই গল্প থেকে শিক্ষাঃ

একবার ভেবে দেখুন তো, একজন যুবক রাসূলুল্লাহর দরবারে এসে ব্যভিচারের অনুমতি চাইছে, অথচ সেই যুবকের প্রতি ক্ষুব্ধ হননি। বরং স্নেহের সাথে সেই যুবককে বুঝানোর চেষ্টা করছেন। এর ফলে যুবকটি নিজের ভুল বুঝতে পেয়েছে এবং আলোর সন্ধান পেয়ে গেছে।

আজ যদি কোনো শায়েখের কাছে কোনো যুবক এই জাতীয় প্রার্থনা করে তাহলে তিনি রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়বেন। এমনকি মারধর করতেও দ্বীধা করবেন না। পাশাপাশি তুচ্চ-তাচ্ছিল্য তো আছেই। এভাবে মানুষ আরো গোমরাহ হয়ে যায়।

মানুষ বিবেকবান প্রাণী। বিবেক কাটিয়ে মানুষ ভালো-মন্দ নির্ণয় করতে পারে। তাই আমাদের উচিত যে কোনো মানুষকে চারিত্রিক সৌন্দর্য দিয়ে হিদায়েতের পথ দেখানো। তবে খুব সহজেই যে কোন মানুষ আলোর সন্ধান পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। মহান আল্লাহ আমাকে এবং আমাদের সবাইকেই হিদায়াতের পথ দেখান। আমিন।

[মূল বক্তব্য আল্লামা মুহাম্মদ তাক্বী ওসমানী (দা. বা.) এর কিতাব থেকে নেওয়া ]

ItNirman English

Add comment