ইয়াজুজ মাজুজ এর ফিতনা

ইয়াজুজ মাজুজের ফিতনা ও সমস্ত মুসলিম সাম্রাজ্য পরিচালনায় হযরত ঈসা (আ.)

ইয়াজুজ মাজুজ: পৃথিবীর বুকে এমন একটা জনগোষ্ঠীকে মুক্ত করে দেওয়া হবে, যারা অত্যাচারী ও জালিম সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নত। ইতোপূর্বেওে তারা এই পৃথিবীতে ছিল। এখনও তারা বেঁচে আছে। মানুষের ওপর বেশী অত্যাচার করার কারণে আল্লাহর আদেশে হযরত জুলকারনাইন (আ.) কর্তৃক লোহাঢালা প্রাচীরে তাদের বন্দি করা হয়েছে।

নির্দিষ্ট একটি সময়ের পর মহান সত্তার হুকুমে সেই প্রাচীর ধ্বংস করা হবে এবং পুণরাই তারা এই পৃথিবীতে আত্মপ্রকাশ করবে। তাদের কবল থেকে বাঁচার সৌভাগ্য সবারই হবে না। সেদিন মানুষগণ তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এদিক ওদিক ছুটোছুটি করবে। তবুও তাদের অনিষ্ট থেকে রেহাই পাবে না। এই ভয়ানক ফেৎনার মধ্য দিয়েই কেটে যাবে অনেকদিন।

ইয়াজুজ মাজুজ কারা?

ইয়াজুজ মাজুজ অতি ভীষণ অত্যাচারী মানুষ। তাদের সংখ্যা অনেক বেশী হবে। উভয়াঞ্চলের শেষ সীমার পর সপ্ত দেশের বাহিরে সেখানকার সমুদ্রগুলো অত্যাধিক ঠাণ্ডার কারণে বরফে এত জামাট যে, জাহাজ চলাচল করতে পারবে না। তাদের বাসস্থান অর্থাৎ ছদ্দে সেকান্দদির ( সেকান্দর বাদশাহর দেওয়ালের) পরপার হতে তারা আসবে।

সমগ্র পৃথিবীজুড়ে তাদের ভীষণ উৎপাত শুরু হবে। তারা এমনই শক্তিশালী হবে যে তাদের বিরুদ্ধে লড়ার বা মোকাবেলা করার মতো কারো ক্ষমতা থাকবে না। সারা পৃথিবীতেই ছড়িয়ে যাবে ইয়াজুজ মাজুজের বংশধর। মানুষেরা তখন বিষণ এক হতাশার মুখোমুখি হবে। ইয়াজুজ মাজুজের ফেৎনা থেকে বাঁচার জন্য অনেকেই অনেক প্রকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে, কারো সিদ্ধান্তই কোনো কাজে আসবে না। প্রতিনিয়তই বেড়েই চলবে অত্যাচার।

তখন ইয়াজুজ মাজুজের অনিষ্টকর ভয়ানক কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য হযরত ঈসা (আ.) আল্লাহর হুকুমে মুসলমানদেরকে কোহে তূরে নিয়ে যাবেন। অবশেষে মহান আল্লাহর নিজ রহমতে অত্যাচারী জালেম সম্প্রদায় ইয়াজুজ মাজুজের গুত্রকে ধ্বংস করে দেবেন। মানুষ তখন ইয়াজুজ মাজুজের কবল থেকে মুক্তি লাভ করবে। অতঃপর হযরত ঈসা (আ.) কোহে তূর হতে বাহিরে আসবেন।

তারপর হযরত ঈসা (আ.) চল্লিশ বছরকাল ইসলামি আইনে রাজত্ব পরিচালনা করবেন। তখন পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। আল্লাহর আইনে চলবে দেশ ও সমাজ। সবাই ফিরে পাবে প্রাণখুলে কথা বলার মানসিকতা। হযরত ঈসা (আ.) এর রাজত্ব কায়েম করার চল্লিশ বছর পুরো হবার পর তিনি ইন্তিকাল করবেন। তারপর তাঁকে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রওজা শরীফের পাশে দাফন করা হবে।

হযরত ঈসা (আ.) এর ওফাতের পর জাহ্জাহ্ নামক কাহ্তান বংশীয় ইয়ামনবাসী একজন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবে। তিনি অতি ন্যায়-পরায়ণতার সাথে শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। তারপর এভাবেই কাহ্তান বংশ থেকেই আরো কয়েকজন বাদশাহ হবেন এবং তারাও আল্লাহর জমিনে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।

Add comment