নামাজে একই সূরা দুই রাকাতে পড়ার মাসআলা

নামাজে একই সূরা দুই রাকাতে পড়ার মাসআলা

মুসলমান হওয়ার পর পরই প্রাপ্ত বয়ষ্ক প্রত্যেক নর-নারীর উপর নামাজের হুকুম অর্পন করা হয়েছে। আমরা মুসলিম হিসেবে পরাক্রমশালী আল্লাহর এই হুকুম কখনই অস্বীকার করিনা। অবশ্যই আমরা নামাজ পড়ার চেষ্টা করি। তবে আমাদের নামাজের মাঝে অনেক সময় বিভিন্ন ভুল হয়ে যায়। তারই মধ্যে একটি ভুল হলো নামাজে একই সূরা দুই রাকাতে পড়ে ফেলি।

এক্ষেত্রে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয়, আমি বড় কোনো সূরার কথা বলছি না। আমাদের বেশীর ভাগ মানুষ ছোট ছোট সূরা তিলাওয়ার করে নামাজ আদায় করি। যেমন: সূরা কাওছার, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক, সূরা নাস ইত্যাদি। আপনি যদি এই ধরণের একটি সূরা ভুলে দুই রাকাতে পড়ে ফেলেন তবে নামাজ শুদ্ধ হবে কি?

আমাদের সমাজে সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে অনেকেই এই বিষয়টা জানে না। তাই অনেকেই মনে করেন নামাজে একই সূরা দুই রাকাতে পড়লে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়, আবার অনেকেই মনে করেন এই ধরণের ভুলের জন্য সাহু সেজদাহ দিতে হয়। এই ধরণের আরো অনেক প্রশ্ন আমাদের মাঝে বিদ্যমান। তাই আজ আমরা নামাজে একই সূরা দুই রাকাতে পড়ার মাসআলা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

নামাজে একই সূরা দুই রাকাতে পড়ার বিধান

(১) মাসআলাঃ যদি কেউ দুই রাকাত নামাজে একই সূরা দুইবার পড়ে, তাহলে তার উপর সাহু সেজদা ওয়াজিব হবে না। (মাসায়েলে সেজদায়ে সাহু: ৩২, শামী : /৫০)

(২) মাসআলাঃ উত্তম হলো প্রত্যেক রাকাতে ছোট হলেও পূর্ণ সূরা পাঠ করা। যদি এক রাকাতে কেউ কোনো সূরার অংশ পড়ে তা হলেও জায়েজ আছে। কিন্তু এটা উত্তম নয়। ( আলমগীরী : /৪০, ফাতওয়া রহিমীয়া : /৭৭)

(৩) মাসআলাঃ কোরআন মাজিদের কোনো একটি রুকু দুই রাকাতে পড়লেও নামাজ আদায় হয়ে যাবে এবং এতে সাহু সেজদা ওয়াজিব হবে না। (ফাতওয়া দারুল উলুম : ৪/৪০৫, ফাতওয়া : মাহমুদিয়া ৭/৯৫)

(৪) মাসআলাঃ প্রথম রাকাতে কোরআন মাজিদের কোনো রুকু এবং দ্বিতীয় রাকাতে ছোট কোনো সূরা যা রুকু থেকে বড় অংশ যদি না পড়ে, তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে উভয় রাকাতে পূর্ণ সূরা পড়া উত্তম। (ফাতওয়া দারুল উলুম : ২/২৩৫, দারুল মুখতার : /৫০)

(৪) মাসআলাঃ এক রাকাতে দুই সূরা পড়া অনুত্তম; তবে নামাজ হয়ে যাবে। কিন্তু ফরজ নামাজে এমন করলে মাহরূহে তানযিহি হবে। (ফাতওয়া দারুল উলুম : ২/২৫৫, ফাতহুল কাদির : /২৯৯)

আরো কিছু কথাঃ

আমাদের অনেকেরই নামাজ পড়তে গিয়ে ভুলক্রমে এই ধরণের সমস্যা হয়।, অর্থাৎ, ভুলক্রমে একই সূরা দুই রাকাতে পড়ে ফেলি। তারপর নামাজ ছেড়ে দিয়ে আবার নতুন করে পড়ি। এটা না জানার দরুন এমন হয়। আমরা সকলেই জানি, যে কোনো নামাজ শুরু করার পর তা পূর্ণ করা আমাদের উপর ওয়াজিব বা অত্যাবশ্যক হয়ে যায়। তাই কখনই নামাজ শুরু করার পর নামাজে ভুল হলেও নামাজ ছাড়তে নেই।

উপরোল্লেখিত মাসআলা গুলো ট্রাস্ট্রেড সোর্স থেকে রেফরেন্স সহ দেওয়া হয়েছে। তাই কোনো ভাবেই বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। মহান আল্লাহ আমাদের নামাজ কবুল করুন। আমিন

ItNirman English

Add comment

error: Content is protected !!