একুশের কবিতা। অমর ২১ শে কবিতা

একুশের কবিতা

আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। এই ভাষা পাওয়ার জন্য আমাদেরকে রক্ত দিতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে। বাংলা ভাষার জন্য ৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন ৩৫৮) পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হামলায় আমাদের ভাইয়েরা শাহাদাত বরণ করেন। ৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারির সেই দিনকে স্বরণ করেই লিখা হয় একুশের কবিতা। এ যেন আমার বাংলা ভাষার কবিতা

একুশ মানে

একুশ মানে অগ্নিঝরা
মনের দুঃখ গ্লানি,
একুশ মানে রক্তে ভেজা
দু’নয়নের পানি।

একুশ মানে দুপুর বেলায়
পাকলা মেঘের বৃষ্টি,
একুশ মানে প্রাণ জরানোর
নব্যতিহাস সৃষ্টি!

একুশ মানে বাংলা মায়ের
ছেলে হারানো কোল,
একুশ মানে শহীদ মিনারে
সওগাত দেওয়া ফুল।

একুশ মানে সালাম, রফিক
বরকতের-ই স্মৃতি,
একুশ মানে ভাই হারানোর
যন্ত্রণা-শোকগীতি।

একুশ মানে জব্বারের-ই
অক্লেশে প্রাণ দেওয়া,
একুশ মানে স্বাধীন ভাবে
বাংলা ভাষা পাওয়া।

[ রচনা: ০৯-০২-৯ বৃহস্পতিবার ]
প্রথম প্রকাশ: সময়ের সুর কাব্যগ্রন্থ।

অমর মর্সিয়া

শহীদের পূত খুনে
এই ধ্বজা আঁকা
প্রভাতের কূজনে
কি যে মধু মাখা।

হাজার প্রাণে ভুমি
হলো লালে লাল
তাজা খুনে লোহিত
নদ-নদী খাল।

দলে দলে ছুটে এলো
বিদ্রোহী ফৌজ
জীবনের বিনিময়ে
পেলো আজাদির খোঁজ।

আজ তাই এ-ভাষা
এতো মধু লাগে
শহীদের মর্সিয়া
আজও হৃদে জাগে।

[ রচনা : ২৬-০৫ ইং ] প্রথম প্রকাশ: পুষ্প জাগরণ কাব্যগ্রন্থ

একুশের কবিতা নিয়ে লেখকের কথাঃ

কবিতার মাঝে একটি ইতিহাস হাজার বছর বেঁচে থাকে। বাংলা ভাষা শুধুই একটি ভাষা নয়; এ যেন এক ইতিহাস। এই ইতিহাসকে মানুষের মাঝে বাঁচিয়ে রাখার জন্য কবিরা লিখে যায় অমর একুশের কবিতা।

বাংলা ভাষা মহান আল্লাহ তা’য়ালার অফুরন্ত দান। ভাষা রক্ষার জন্য জীবন দিতে হয়েছে এমন নজির পৃথিবীরে আর নেই। বর্তমান বিশ্বে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ আছে প্রায় ২৮ কোটিরও বেশী। বাংলা ভাষা পেয়ে আমরা সকলেই গর্বিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের জন্য এটি একটি পরম পাওয়া।

বাংলা ভাষা রক্ষায় যারা জীবন দিয়ে তারা শহীদ। শহীদের কোনো মৃত্যু নেই। সেই সৌভাগ্যের অধিকারী আমাদের সকলের প্রিয় সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার। তাদের ত্যাগ কখনই ভুলে যাওয়ার মতো নয়। তাদের স্বরণেই বাংলাদেশে অমর একুশে নামে প্রতি বছর বিভিন্ন উৎসব পালন করা হয়। একুশের কবিতায় তারা চির অমর। তারা আমাদের মুসলিম ভাই। তাদের জন্য মহান রবের কাছে জান্নাত কামনা করি। আমিন!

ItNirman English

Add comment