ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?

প্রযুক্তির এই যুগে আমরা প্রায় সকলেই বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সাথে পরিচিত। ওয়েবসাইট হচ্ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ভার্চুয়াল পরিচিতি। একটি ওয়েবসাইট বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। ব্যক্তিগত ব্লগ, পোর্টফোলিও, ই-কমার্স, অনলাইন বাণিজ্য সহ যে কোন ধরণের ইন্টারনেট কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড একটি ওয়েবসাইটের দ্বারা পরিচালনা করা যায়। এখন কথা হচ্ছে ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?

প্রথমেই আমাদেরকে ওয়েবসাইট সম্পর্কিত কিছু বিষয়াদি জানতে হবে। যেই বিষয়গুলো নতুনদের জন্য জানা অত্যন্ত জরুরি। আমরা এরই উপর ভিত্তি করে এই আর্টিকেলটি তৈরি করেছি। সবার জন্য ফলদায়ক হবে বলে মনে করি।

ওয়েবসাইট তৈরির ধাপ

ওয়েবসাইট তৈরির CMS পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে কাস্টম ওয়েবসাইটের চাহিদা কমে গেছে। অনেকেই হয়ত CMS কি বুঝতে পারেননি। CMS এর পূর্ণরূপ হচ্ছে ‘কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। ’ অর্থাৎ, ওয়েবসাইট তৈরির জন্য এমন কোন কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা, যেটা পূর্ব থেকেই তৈরি করা রয়েছে।

পড়ার সাজেশনঃ
ওয়েবসাইট কি? ওয়েবসাইটের সুবিধা সমূহ
কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো?

CMS মূলত একটি সফটওয়্যার। যেই সফটওয়্যারটিকে হোস্টিংয়ে ইনিস্টল করে একটি ডেটাবেজ তৈরি করার মাধ্যমে শুধুমাত্র একটি থিম ব্যবহার করেই যে কোন ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারবেন।

CMS সফটওয়্যার গুলো অফিসিয়ালি ফ্রি হওয়ার কারণে ওয়েবসাইট তৈরির খরচ অনেক কমে গেছে। একটি কাস্টম ওয়েবসাইট তৈরি করতে যেখানে ৬০/৭০ হাজার টাকা খরচ হতো, সেই খরচ CMS ব্যবহার করে ওয়েবসাইট তৈরিতে ৮/৯ হাজারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, বলায় যায় অর্ধেকের চেয়েও খরচ কমে গেছে।

জনপ্রিয় CMS সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • ওয়ার্ডপ্রেস
  • জুমলা
  • ড্রুপাল
  • উইক্স ইত্যাদি

এগুলোর মধ্যে ওয়ার্ডপ্রেস হলো সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় সিএমএস প্লাটফর্ম। ”ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে” চলুন এই প্রশ্নের উত্তর জেনে নিই।

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?

আপনি যে কোন ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করেন না কেন, এমন কিছু জিনিস রয়েছে যা একটি ওয়েবসাইট তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

() ডোমেইন
(২) হোস্টিং
(৩) এস এস এল সার্টিফিকেট
(৪) কাস্টম বা সি.এম.এস
(৫) থিম

প্রত্যেকটা বিষয়কে ছোট্ট করে ব্যাখ্যা করা হলোঃ

(১) ডোমেইন

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে
ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে

ডোমেইন হলো ওয়েবসাইটের ঠিকানা। যেটার মাধ্যমে আপনার ভার্চুয়াল কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করা হবে। অর্থাৎ, আপনার ওয়েবসাইটে মানুষ কিভাবে প্রবেশ করতে তা আপনার ডোমেইন বলে দেবে।

উদাহারণস্বরূপ, http://itnirman.com/

এখানে http হলো নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট প্রটোকল এবং এর পূর্ণরূপ হলো Hypertext Transfer Protocol Secure । itnirman হলো প্রতিষ্ঠানের নাম। আর .com হলো ডোমেইন এক্সটেনশন।

নেটওয়ার্ক প্রটোকল, প্রতিষ্ঠানের নাম ও ডোমেইন এক্সটেনশন একত্র করার পর একটি ডোমেইনে রূপান্তর হয়।

আপনি যদি ডোমেইন সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে চান তবে এই আর্টিকেলটি পড়ে নিনঃ ডোমেইন কি?

(২) হোস্টিং

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে এই প্রশ্নের পাশাপাশি অনেকে আবার প্রশ্ন করে হোস্টিং কি?

হোস্টিং মূলত কম্পিউটারের স্টরিজ যেটা ইন্টারনেটের সাথে অলটাইম যুক্ত থাকে। হোস্টিংয়ের কাজ হলো আপনার ওয়েবসাইটের যাবতীয় ফাইল, লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও সহ সকল প্রকারের কন্টেন্টকে স্টোর করে রাখা।

পড়ার সাজেশনঃ
বাউন্স রেট (Bounce Rate) কি? ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কমানোর সেরা ০ উপায়
ব্লগিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ৭ টি কমন ভুল

আমরা যেভাবে স্মার্টফোনের মেমোরিতে আমাদের ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি সংরক্ষণ করে রাখি, ঠিক একই নিয়মে হোস্টিংয়ে আমাদের ওয়েবসাইটের যাবতীয় বিষয়বস্তু সংরক্ষণ থাকে।

তবে হোস্টিংয়ে সংরক্ষণ করা কোন কন্টেন্টকে সাধারণত ইন্টারনেট ছাড়া এক্সেস করা যায় না। আপনি এই বিষয়টা আমাদের ওয়েবসাইট দ্বারা সহজেই বুঝতে পারবেন। যেমন, আমাদের ওয়েবসাইটের কন্টেন্টগুলো হোস্টিং থেকে পরিবেশন করা হচ্ছে। এজন্য আপনাকে ওয়াইফাই ইন্টারনেট বা মোবাইলের সিম ইন্টারনেট দিয়ে আমাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হচ্ছে।

(৩) এস এস এল সার্টিফিকেট

’ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে’ এই প্রশ্নের সাথে সাধারণত এস এস এল সার্টিফিকেট এর কথা বলতে হয় না। তবে প্রসঙ্গক্রমে বলতেই হয়।

SSL সার্টিফিকেট এর পূর্ণরূপ হলো Secure Sockets Layer. এটা মূলত https এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। একটি ওয়েবসাইটের সিকিউরিটির জন্য SSL সার্টিফিকেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ডোমেইনের প্রথমাংশে যে নেটওয়ার্ক প্রটোকল (http) থাকে, সেই প্রটোকলের সাথে S যুক্ত করার মানেই হলো Secure Sockets Layer বা নিরাপদ ওয়েব ব্রাউজিং ব্যবস্থা।

SSL সার্টিফিকেট চেনার উপায় হলো  http এর সাথে s থাকা। অর্থাৎ https থাকা।

বর্তমানে প্রায় সকল ডোমেইন হোস্টিং বিক্রেতা কোম্পানিই ডোমেইন হোস্টিং কেনার সময় SSL সার্টিফিকেট ফ্রিতেই দিয়ে দেয়। তবে আলাদা ভাবেও এটা কেনা যায়।

SSL সার্টিফিকেট নিয়ে খুব বেশী চিন্তার কারণ নেই। আপনি যখন ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ডোমেইন হোস্টিং ক্রয় করবেন, তখন ভালো কোম্পানি থেকে ক্রয় করিয়েন। তবে ফ্রিতেই SSL সার্টিফিকেট পেয়ে যাবেন।

(৪) সি.এম.এস বা কাস্টম

শুরুর দিকেই CMS সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। CMS প্লাটফর্ম ওপেন করার পর ২০২২ সালে এসে প্রায় মানুষেরই একাধিক ওয়েবসাইট রয়েছে। এজন্য বেশীরভাগ মানুষই জানে ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে। তবে নতুনদের জন্য কিছু কথা বলতেই হয়।

CMS  এর পূর্ণরূপ Content management System. আপনি CMS সফটওয়্যার ব্যবহার করেও ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। আবার ইচ্ছে করলে পুরো কাস্টম ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

কাস্টম ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে খরচটা বেশী হবে। তবে কাস্টম ওয়েবসাইট গুলো যথাযথ ভাবে তৈরি করতে পারলে অবশ্যই CMS  দিয়ে তৈরি ওয়েবসাইটের চেয়ে অনেক ভালো হবে। তবে প্রতিনিয়তই কাস্টম ওয়েবসাইটের পেছনে কাজ করতে হয়। নতুনদের জন্য কাস্টম ওয়েবসাইট টিকিয়ে রাখারও কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

পড়ার সাজেশনঃ
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং VS ব্লগিং | কোনটা বেশী লাভজনক?
অনলাইনে ইনকাম বাংলাদেশী সাইট

আপনি যদি নতুন হন তবে অবশ্যই CMS  দিয়ে সাইট তৈরি করুন। কেননা, পৃথিবীর প্রায় ৯০% ওয়েবসাইট বিভিন্ন CMS  দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। তাছাড়া, CMS এর একটি বড় বেনিফিট হলো এর ম্যানেজমেন্ট প্রক্রিয়া ও অসাধারণ ফিচার। খরচের কথা নাহয় বাদই দিলাম।

(৫) থিম

থিম হলো ওয়েবসাইটের বাহ্যিক ডিজাইন। আপনি এই মূহুর্তে আমাদের ওয়েবসাইটের যেই ডিজাইনটি দেখতে পারছেন এটাই মূলত থিম। CMS দিয়ে তৈরি সাইট হোক বা কাস্টম সাইট হোক, সব ধরণের সাইটেরই বাহ্যিক ডিজাইন থাকে। এটাই থিম।

কাস্টম সাইটের জন্য পুরোপুরি ভাবে কাস্টম থিম তৈরি করতে হয়। আর CMS দিয়ে তৈরি সাইটের জন্য আপনি চাইলে রেডিমেট থিম বা কাস্টম থিম ব্যবহার করতে পারবেন।

রেডিমেট থিমের মধ্যে রয়েছে ফ্রি এবং পেইড ভার্সন। আর কাস্টম থিম তো পুরোই পেইড। অর্থাৎ, প্রত্যেক CMS প্লাটফর্মে হাজার হাজার ফ্রি থিম রয়েছে, যেগুলো আপনি সম্পূর্ণ বিনামূলেই ব্যবহার করতে পারবেন। একই ভাবে পেইড থিম রয়েছে, যেগুলো টাকা দিয়ে ক্রয় করে ব্যবহার করতে হবে।

আর কাস্টম থিম আপনাকে কোন ওয়েব ডেভেলপার দিয়ে তৈরি করিয়ে নিতে হবে। কাস্টম থিমের সুবিধা হলো, আপনি যেভাবে ডেভেলপারকে বলবেন ঠিক সেভাবেই তৈরি করে দেবে। কাস্টম থিম দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেত্রে খরচ বেশী হবে।

উপরোল্লিখিত ৫টি বিষয়ের সমন্বয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। আশা করি আপনারা ‘ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে’ এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথাঃ

ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে
ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে

আমাদের অনেকেই প্রশ্ন করেন ওয়েবসাইট তৈরির খরচ কত? আপনি এই আর্টিকেলটির মেসেজটি পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেন, তবে হয়ত খরচের বিষয়ে আপনি অনেকটা ধারণা পেয়ে গেছেন।

ওয়েবসাইট তৈরির খরচ মূলত আপনার চাহিদার উপর ডিপেন্ট করবে। তবে সাধারণ ভাবে CMS ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে একটি ওয়েসাইট তৈরির জন্য ৮/৯ হাজার টাকা খরচ হয়। আবার কোয়ালিটির বিবেচনায় খরচের পরিমাণ এরচেয়ে কম-বেশী হতে পারে।

পড়ার সাজেশনঃ
কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়? বাংলা ব্লগার গাইড
ওয়েব ডিজাইন ক্যারিয়ার

আপনি যদি নিজেই CMS দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন, তবে আর ওয়েবসাইট তৈরির জন্য কোন ওয়েব ডেভেলপারের প্রয়োজন নেই। আর যদি আপনি পুরোই নতুন হন এবং CMS না বুঝেন, তবে অবশ্যই কোন ওয়েব ডেভেলপারের সহযোগিতা নিতে হবে। এজন্য খরচটা সামান্য বেড়ে যাবে।

ওয়ার্ডপ্রেস হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় CMS. এটি অত্যন্ত ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং সহজেই ম্যানেজ করা যায়। আপনি চাইলে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। প্রফেশনাল সাপোর্ট প্রয়োজন হলে যোগাযোগ করুনঃ ItStudio তে। যাইহোক,

প্রিয় দর্শনার্থীবৃন্দ, আমরা আশ করছি ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে এই প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন সকলেই। তুবও যদি এই বিষয়ে আরো জানার আগ্রহ বো প্রশ্ন থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

Add comment

error: Content is protected !!