কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো

কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো?

অনলাইন থেকে পেসিভ ইনকামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর হচ্ছে ব্লগিং। প্রযুক্তির এই যুগে ব্লগিং সম্পর্কে প্রায় সকলেই অবগত আছেন। আমাদের আশে পাশের বড়দেরকে হয়ত ব্লগিং করতেও দেখেছেন। কিন্তু আমরা যখন নিজেরাই চাই ব্লগিং শুরু করার জন্য, তখন আমরা শুরুটা কিভাবে করবো বুঝতে পারি না। তাই অনেকের প্রশ্ন হলো কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো?

ব্লগিং আসলে কি এই বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যেই আলোচনা করেছি। ব্লগিং করে টাকা আয় করার ব্যাপারটাও পূর্ব আলোচনাগুলোতে সুস্পষ্ট করা হয়েছে। তাছাড়া বাংলা ভাষায় ব্লগিং করে কত টাকা আয় করা যায় এই আইডিয়াও দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি ঐ আর্টিকেলগুলো না পড়ে থাকেন, তবে এখান থেকে পড়ে নিনঃ ব্লগিং টিপস 

ব্লগিং শুরু করার আগে

ব্লগিং শুরু করার প্রাথমিক পর্যায়ে বেশকিছু চিন্তার উদ্ভব হয়। এই চিন্তাগুলো থেকে কিছু বিষয় বাদ দিতে হবে এবং কিছু বিষয় ব্লগিংয়ে এপ্লাই করতে হবে।

ব্লগিং শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে যা যা করা উচিত নয়

  •  ব্লগিং শুরু করার পরপরই ইনকামের চিন্তা করা।
  • ব্লগে ট্রাফিক বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অশ্লীল বিষয়ে লেখালেখি করা।
  • কারো লেখা নিজের বলে ব্লগে পাবলিশ করা।
  • ট্রাফিক ইনগেজমেন্ট বৃদ্ধিকরণে নাস্তিক্যবাদ বা গীবতের মতো কোন বিষয়কে ব্লগিংয়ের নিশ হিসেবে সিলেক্ট করা।

উপরোল্লিখিত বিষয়গুলো ব্লগিং শুরু করা বা ব্লগিংয়ে টিকে থাকার জন্য অনেক বড় বাঁধা। এই চিন্তাগুলো বিভিন্ন নতুন নতুন ব্লগারেরা করে থাকে, আর এর ফলাফল হয় জিরো।

ব্লগিং শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ে যা যা প্রয়োজন হবে

  • ব্লগিং করতে আপনার যে কোন বিষয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে এমন কিছু বিষয় জানা জরুরি, যেই বিষয়ে আপনি লিখতে পারবেন।
  • ব্লগিং করার জন্য কম্পিউটার / ল্যাপটপ / ট্যাব ইত্যাদির যে কোন একটা প্রয়োজন হবে। (স্মার্টফোন দিয়েও ব্লগিং করা সম্ভব। তবে অনেকটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার এটি।)
  • টপ লেভেল ডোমেইন এবং হোস্টিং ক্রয় করে ব্লগ সাইট তৈরি করবেন, তারপর ব্লগিং শুরু করবেন।
  • ডোমেইন নাম নির্বাচনে সামান্য সময় নিন এবং প্রয়োজনে প্রিয়দের সাথে পরামর্শ করুন।
  • ট্রাস্টেড কোম্পনি থেকে ডোমেইন -হোস্টিং ক্রয় করবেন।
  • ভালো থিম এবং অভিজ্ঞ ডেভেলপার দিয়ে ব্লগ সাইট তৈরি করুন।
  • ব্লগিংয়ে আগ্রহীদের লেখালেখির প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা থাকা অত্যাবশ্যক।
  • ব্লগারদের সৃজনশীল চিন্তা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

আপনি যদি ব্লগিংকে সত্যিকার অর্থে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে চান এবং ব্লগিং করে দীর্ঘমেয়াদী একটি পেসিভ অনলাইন ইনকাম সোর্স তৈরি করতে চান তবে আপনাকে সৎভাবে কাজ করতে হবে। নাহয় ব্লগিং সেক্টরটি আপনার জন্য খুব ভালো ফলাফল দেবে না।

কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো?

ব্লগিংয়ের শুরুটা অনেকটা অকল্পনীয় ভাবে হয়। মানুষের লেখালেখি যখন ভালোবাসায় পরিণত হয়, তখন সেই মানুষটা লেখালেখি ছাড়া থাকতে পারে না। ব্লগিং কিভাবে শুরু করা যায় এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমার অভিজ্ঞতা যদি আপনাদের সাথে শেয়ার করি, তবে ব্লগিংয়ের শুরুটা কিভাবে করবেন তা নিজেরাই ভালো বুঝবেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

আমি ইন্টারনেটে ব্লগিং শুরু করেছি প্রায় ৭/৮ বছর আগে। আমার অভিজ্ঞতা তীক্ষতায় ভরপুর। যা হাস্যকরও বটে। যাইহোক, তুবও আমি চাই আমার পার্সোনাল অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আপনাদের উপকার করি। আমি ব্লগিং শুরু করেছিলাম Web 2.0 সাইট দিয়ে। এটা প্রায় ২০৩ সালের কথা।

অনেকেই হয়ত Web 2.0 সাইট কি তা জানেন না। Web 2.0 সাইট হলো ঐ সমস্ত সাইট যা সাব-ডোমেইন আকারে সম্পূর্ণ ফ্রিতেই তৈরি করা যায়। এমন জনপ্রিয় কিছু Web 2.0 সাইট হলো WordPress.com / Blogger.com / wix.com ইত্যাদি। এই সাইট গুলো ব্যবহার করে আপনার জন্য যে কোন ধরণের ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন।

আমি মূলত প্রাথমিক ভাবে এই ধরণের Web 2.0 দিয়ে ব্লগ তৈরি করে লেখালেখি করতাম। এভাবে প্রায় ৩ বছর চলে। এরমধ্যে Web 2.0 সাইট পরিবর্তন করেছি বেশ কয়েকবার। অর্থাৎ, WordPress.com থেকে Blogger.com যেতাম, আবার কিছুদিন পর Blogger.com থেকে WordPress.com এ যেতাম। তবে দুঃখজনক বিষয় হলো যেখানে যা লিখতাম, তা আর সংগ্রহ করতাম না। লেখা সহই সাইট ডিলেট করে দিতাম।

এরপর ২০৫ সালে লেখালেখি সংরক্ষণের গুরুত্ব বুঝলাম। তারপর জানতে পারলাম যে ব্লগ সাইট থেকে ইনকাম করা যায়। তবে ইনকামকে তখন খুববেশী গুরুত্ব দেইনি। তবে লেখক হওয়ার স্বপ্ন ছিল দৃঢ়। এভাবে ২০৬ সাল চলে এলো। জানতে পারলাম, Web 2.0 সাইট দিয়ে ইনকাম করা যায় না। এজন্য প্রয়োজন হয় টপ লেভেল ডোমেইন। নানা প্রতিকূলতার অবসান ঘটিয়ে টপ লেভেল ডোমেইন কেনা হলো।

পূর্ব থেকেই ওয়েবসাইট নিয়ে ঘাটাঘাটির করার কারণে নিজে নিজেই তৈরি করে নিলাম পার্সোনাল ব্লগ ওয়েবসাইট। ৫/৬ মাস চালানোর পর ডোমেইনটা আর পছন্দ হচ্ছে না। পরিবর্তন করে নিলাম। তারপর ২ টি ডোমেইন একসাথে ক্রয় করলাম এবং সাইট তৈরি করে লেখালেখি চালিয়ে যাচ্ছি। ওগুলোও ৩/৪ মাস পর আর ভালো লাগে না।

এইভাবে আমি এই পর্যন্ত ডোমেইন পরিবর্তন করেছি প্রায় ৮ /২০ টি। এটি আমাকে ব্লগিংয়ে সফলতা থেকে অনেক বেশী পিছিয়ে দিয়েছে। আমার ডোমেইন পরিবর্তনের কারণ একটাই, তা হলো ডোমেইন নাম পছন্দ না হওয়া। আবার ৩ টি ডোমেইন প্রতারক চক্রের মাধ্যমে হারাতে হয়।  অনেক গুলো সাইটে আবার গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করিয়েছিলাম। আবার অনেক গুলো ডোমেইনের DA 9, PA 10 এই পর্যায়েও নিয়ে গিয়েছিলাম।

কিন্তু ডোমেইন ভালো না লাগার কারণে ডোমেইন নাম পরিবর্তন করতে হলো। আপনারা অবশ্যই ডোমেইন নাম পরিবর্তন করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবেন। এটা ব্লগিংয়ের শুরুর দিকে অনেকেই করে থাকে। আমার মতো হয়ত ডোমেইন পরিবর্তনের রেকর্ড কেউ করেনি ২০২২ সালে এসে এটাই উপলব্ধি করি!

ব্লগিং শুরু করার সেরা ৫ টিপস

কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো
কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো?

আপনারা যখন আমাদের প্রশ্ন করেন কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো? তখন আমার আক্ষেপ হয় যে, আমিও যদি কাউকে ডিজ্ঞেসা করে ব্লগিং শুরু করতাম! যাইহোক, তখন ইন্টারনেট দুনিয়াটা এতটা সহজ বা ঝাঁকজমক ছিল না। কিন্তু আপনাকে আমি পার্সোনালি কিছু বিষয় বলি, যা ব্লগিং শুরু করার জন্য সুবিধা তৈরি করবে।

() আপনার যদি বাজেট থাকে তবে প্রথমেই একটি টপ লেভেল ডোমেইন দিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিন। আর যদি বাজেট না থাকে তবে ফ্রিতেই WordPress.com / Blogger.com / wix.com এই সমস্ত Web 2.0 সাইট দিয়ে ব্লগ তৈরি করে নিন এবং লেখালেখি শুরু করে দিন। Web 2.0 সাইটকে যে কোন সময় টপ লেভেল ডোমেইনে কনভার্ট করে নিতে পারবেন।

(২) ব্লগিং শুরু করার জন্য আমাদের প্রায় মানুষের সবচেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় কন্টেন্ট। আপনি যদি নিজেই লিখতে জানেন, তবে তো লেখালেখি নিয়ে তেমন চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। আর যদি আপনি নিজে তেমন লিখতে না জানেন, তবে চেষ্টা করবেন অন্তত ২০ টি আর্টিকেল তৈরি করার পর ব্লগ ওয়েবসাইট খোলার জন্য। এতে অনেকটা ভয় কেটে যাবে এবং ব্লগিং শুরু করার জন্য সাহস যোগাবে।

(৩) অনেকেই লেখালেখিতে বেশ এগিয়ে। তবে কপিরাইট ইমেজ নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকেন। তাদের জন্য একটি চমৎকার সল্যুশন হলো স্টক ফটো বা কপিরাইট ফ্রি ইমেজ ওয়েবসাইটের শরণাপন্ন হওয়া। এই ওয়েবসাইট গুলো থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কপিরাইট ফ্রি ইমেজ পাবেন।

(৪) আপনি যদি পুরোই নতুন হন, তবে ব্লগিংয়ের শুরুর দিকে নিশ সিলেকশনের কোন প্রয়োজন নেই। এই নিশ সিলেকশন করতে গিয়ে অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। অবশেষে ব্লগিংই করা হয় না অনেকের। তাই আপনার কাছে যেই ধরণের লেখা আছে বা যা জানেন তা দিয়েই শুরু করে ফেলুন! যে কোন সময় সাইটের নিশ পরিবর্তন করতে পারবেন।

আপনার সাইটে যখন শতাধিক লেখা হবে, তখন আপনার ভিজিটরদের থেকেই একটি ধারণা পাবেন, যা নিশ সিলেকশনে আপনাকে সাহায্য করবে। অর্থাৎ, গুগল এনালাইটিক্স থেকে আপনার ব্লগের পোস্টগুলোর ভিজিটর ইংগেজমেন্ট দেখবেন কোন পোস্টগুলো র‌্যাঙ্ক করছে। তাও হতে পারে আপনার নিশ সিলেকশন প্রক্রিয়া।

(৫) শুরুতেই বিভিন্ন ব্লগ সাইট ফলো করবেন, দেখবেন অন্যরা কিভাবে কাজ করছে। নিয়মিত বিভিন্ন ব্লগ সাইটে প্রবেশ করবেন এবং তাদের আর্টিকেল গুলো পড়বেন। না বুঝলে তাদের ব্লগ পোস্টে কমেন্ট করবেন। ব্লগিং করতে গেলে আপনাকে অনেক  কিছুই জানতে হবে। আপনার জ্ঞান যত সমৃদ্ধ হবে আপনার ব্লগের মান ততই কোয়ালিটিপূর্ণ হবে। আর এটা অবশ্যই জানেন কোয়ালিটি হলো সবকিছুর মূল।

গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু কথাঃ

ব্লগিং করার জন্য একজন ব্লগারের নতুন নতুন বিষয়কে জানার ইচ্ছে থাকবে প্রবল। বিভিন্ন বিষয় রিসার্চ এবং গবেষণা করা সফল ব্লগারদের বৈশিষ্ট্য। ব্লগিংয়ের শুরুটা অনেক সহজ। তবে ব্লগিং সেক্টরে টিকে থাকা বেশিরভাগ মানুষের জন্যই কঠিন। আর এই কঠিন বিষয়টা যারা হাসিমুখে ভালোবাসার পাত্র হিসেবে মনে করে তারাই কেবল ব্লগিংয়ে সফল হতে পারে।

সবসময় চিন্তা রাখবেন সফল ব্লগার হতে। সফল ব্লগার হওয়ার জন্য বেশকিছু বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হয়। যেমনঃ পরনিন্দা না করা, গীবত না করা, খোদাদ্রোহীতা না করা এবং রাস্ট্রীয় আইনের লঙ্ঘন করা থেকে বিরত থাকা। পাশাপাশি অশ্লীলতা এবং মিথ্যার আশ্রয় না নেওয়া।

কিভাবে সফল ব্লগার হওয়া যায় এই বিষয়ে একটি আর্টিকেল ইতোমধ্যেই আমরা পাবলিশ করেছি। চাইলে পড়ে নিতে পারেন। আপনি যদি সঠিক পদ্ধতিতে ব্লগিং করেন, তবে আশা করা যায় আপনি একদিন সফল হবেন ইনশাআল্লাহ।

আমি আশা করছি “কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো” এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছি। তবুও যদি আপনার কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তবে অবশ্যই আপনার জন্য কমেন্টবক্স খোলা রয়েছে। কমেন্ট করুন। যথাযথ উত্তর দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।

ItNirman English

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

Add comment