ডেটাবেজ কি - ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম

ডেটাবেজ কি? ডেটা সিকিউরিটি কিভাবে ম্যানেজ করবেন?

প্রযুক্তির এই যুগে আমরা প্রায় সকলেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের সাহায্যে আমরা আমাদের বিভিন্ন কাজ সম্পাদন এবং পরিচালনা করি। আর এই কাজগুলো করতে গিয়ে আমরা সকলেই কাঙ্খিত ডেটাবেজে আমাদের কর্মের সকল ডকুমেন্ট সেভ করে রাখি, যেনো পরবর্তীতে তা সহজেই এক্সেস করতে পারি। কিন্তু অনেকেই জানেনা ডেটাবেজ কি এবং ডেটা সিকিউরিটি কিভাবে ম্যানেজ করা প্রয়োজন।

প্রত্যেকটা কাজের ডেটা সিকিউরিটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জীবনে চলার পথে আমাদের অনেকেই আছি কম্পিউটার, ইন্টারনেট চালাতে গিয়ে ডেটা সিকিউরিটি নিয়ে বেশ হতাশাগ্রস্থ হয়ে যাই। আজ আমরা জানবো, ডেটাবেজ কি এবং ডেটা সিকিউরিটির জন্য আমাদের কী ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

ডেটা কি?

তথ্যের অন্তর্ভূক্ত ক্ষুদ্রতর অংশ সমূহকে ডেটা বা উপাত্ত বলা হয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, আপনার জানা বিষয়গুলোই আপনার তথ্য। যেটাকে ইংরেজিতে ডেটা বলা হয়।

আর এই ধরণের তথ্য বা ডেটাকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণ করে কম্পিউটারে ইনপুট করা হয়, তারপর কম্পিউটার ডেটাকে প্রসেস করে একটি তথ্যে রূপান্তরিত করে দেয়। এই তথ্যগুলোই পরবর্তীতে ডেটাবেজ এর মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

ডেটাবেজ কি?

Data শব্দটি ল্যাটিন শব্দ, Datum-এর বহুবচন। Datum শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘তথ্যের উপাদান’। Data শব্দের অর্থ উপাত্ত এবং Base শব্দের অর্থ ঘাঁটি বা সমাবেশ। পরস্পর সম্পর্কৃত এক বা একাধিক ডেটা টেবিল বা ফাইলের সমষ্টিকে Database বলে। একটি ডেটাবেজে এক বা একাধিক ডেটা টেবিল, কুয়েরি, ফর্ম, ম্যাক্রো, রিপোর্ট, মডিউল ইত্যাদি থাকতে পারে। আর এই সবকিছুর সমন্বয়ে গঠিত ডেটার নাম ডেটাবেজ।

একটি ডেটাবেজে বৈচিত্র্যময় সুবিশাল তথ্য ভাণ্ডার থাকে। ডেটাবেজের তথ্য ভাণ্ডার থেকে একজন ব্যবহারকারী খুব সহজেই তার জানা-অজানা তথ্য খোঁজে বের করতে পারে। এজন্য ডেটাবেজের মাধ্যমে পূর্ব থেকেই কাঙ্খিত তথ্য যুক্ত করতে হয়। যেটাকে ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বলা হয়।

ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পদ্ধতি ব্যবহার করে অনেকগুলো ডেটাবেজকে একত্রিত করার মাধ্যমে একটি ডেটা ব্যাংক তৈরি করা যায়।

ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কি?

কোনো তথ্যশালাকে সুন্দর ভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার নামই হলো ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এটিকে একটি ওয়েবসাইটের সাথে তুলনা করে দেখা যাক।

যখন কোন লোক একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে, তখন তার সামনে কিছু লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি তুলে ধরা হয়। এগুলোকে সরাসরি কোন মানুষ সাথে সাথেই সরবারহ করছে না। বরং এই তথ্যগুলো ডেটা আকারে অত্র ওয়েবসাইটের ডেটাবেজের মাধ্যমে আগে থেকেই সাজিয়ে রাখা হয়েছে।

ধরুন আপনি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে কোন একটি আর্টিকেল পড়ছেন, আর্টিকেলটির মাঝে কিছু লেখা এবং কিছু ছবি দেখতে পেয়েছেন। অবশ্যই সবকিছুকেই গুছালো ভাবেই দেখতে পেয়েছেন। হ্যাঁ, এগুলো আমরা আমাদের মতো করে পূর্ব থেকেই গুছিয়ে রেখেছি বলেই আপনি গুছালো ভাবে দেখেছেন।

অর্থাৎ, কোন লেখাটার পর কোন ছবিটা আসবে, বা কোন ছবিটার পর কোন লেখাটা আসবে এটা আমাদেরকে পূর্ব থেকেই ম্যানেজ করে দিতে হয়েছে। এটাই মূলত ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এর কাজ।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডেটা সংগ্রহ করা খুবই সহজ। এজন্য বিশ্বব্যাপী সকল কোম্পানি-প্রতিষ্ঠানই এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডেটা সংগ্রহ করছে। তবে প্রত্যেকটা কোম্পানির ডেটবেজকে বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য ডেটা সিকিউরিটি পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত।

ডেটা সিকিউরিটি কি?

ডেটা সিকিউরিটি বলতে পার্সোনাল বা প্রাতিষ্ঠানিক কোন গোপনীয় তথ্য সুরক্ষিত রাখাকে বুঝানো হয়। অর্থাৎ, গোপনীয় কোন তথ্য যেনো নিজের অজান্তেই তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে না যায়। ডেটা সিকিউরিটির আরেকটি নাম হলো ইনফরমেশন সিকিউরিটি বা কম্পিউটার সিকিউরিটি।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তকে একসাথে করে একটি ডেটাবেজ তৈরি করা হয়। কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট কেন্দ্রিক যেই ধরণের ডেটাবেজ তৈরি করা হয়, তাকে ডিজিটাল তথ্য বলা হয়। আর এই ধরণের ডিজিটাল তথ্যতে ডিজিটাল পদ্ধতিতেই সিকিউরিটি প্রদান করতে হয় যেনো একজনের পোগনীয় তথ্য অন্য জনের কাছে চলে না যায়।

ডেটা সিকিউরিটি -এর প্রয়োজনীয়তা

বর্তমান সময়ে প্রায় সকলেই কাগজ-পত্রের পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডেটা সংরক্ষণ করে। হতে পারে সেটা কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে। আবার অনেকেই ইন্টারনেটের কোন শাখায় বা ওয়েবসাইট ইত্যাদিতে ডেটা সংরক্ষণ করে থাকে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডেটা সংরক্ষণ করা যেহেতু অর্থ বা সময় উভয়ই অপচয় কম হয়, সেহেতু এই পদ্ধতিটাই সকলের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডেটা সংরক্ষণ যেমন ইউজার ফ্রেন্ডলি তেমনই রিস্কি বলা যায়। এটা এজন্য যে, প্রত্যেকটা ডিজিটাল ডিভাইস ইন্টারনেটের সাহায্যে লিংক করা যায়। অর্থাৎ, ইন্টারনেটের মাধ্যমে একটি ডিভাইস থেকে আরেকটি ডিভাইসে যে কোন তথ্য আদান-প্রদান যায়।

আপনি জানলে হয়ত অবাক হবেন, পৃথিবীতে এমন অগণিত প্রযুক্তি এক্সপার্ট মানুষ রয়েছে যারা ইন্টারনেটের সাহায্যে আপনার অজান্তেই আপনার ডিজিটাল তথ্য চুরি করতে পারে। এটাকে মূলত সাইবার ক্রাইম বা সাইবার অপরাধ বলা হয়। যারা এই ধরণের কাজ করে তাদেরকে হ্যাকার বলা হয়।

বিশ্বজুড়ে এমন অগণিত হ্যাকার বা অনিষ্টাকারী ব্যক্তি রয়েছে যারা প্রতিনিয়তই সাধারণ মানুষ হতে ডিজিটাল তথ্য ইউজারের অজান্তেই হাতিয়ে নিচ্ছে।

মনে করেন আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে। সেই ওয়েবসাইটের এক বা একাধিক ডেটাবেজ রয়েছে। আপনি সেই ওয়েবসাইটে নিয়মিত কন্টেন্ট সংরক্ষণ করে যাচ্ছেন। ওয়েবসাইটে কিছু কন্টেন্ট পাবলিশ করছেন আর কিছু কন্টেন্ট ডেটাবেজে প্রাইভেট করে রেখেছেন। এখানে এমন হতে পারে যে, আপনার ইমেইল পাসওয়ার্ড, ওয়েবসাইট পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্য বা পোপনীয় কোন নথী ইত্যাদি সংরক্ষিত রয়েছে।

আর এগুলো কন্টেন্টের ক্যাটাগরির মধ্যেই যায়। সুতরাং, আপনি কখনই চাইবেন না যে, আপনার ওয়েবসাইট এর ডেটাবেজ থেকে এই তথ্যগুলো তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যাক। কিন্তু আপনার অজান্তেই এই গোপনীয় তথ্যগুলো হাতিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন হ্যাকারগোষ্ঠী ইন্টারনেটে সব সময় সক্রিয় রয়েছে।

ডেটা সিকিউরিটি কিভাবে ম্যানেজ করবেন?

আপনার যদি অনলাইন ভিত্তিক কোন বাণিজ্য থাকে, তবে আপনার বাণিজ্য পরিচালনার জন্য অবশ্যই ডেটা সিকিউরিটির প্রতি মনোযাগ দিতে হবে এবং ইউজারদের আস্থা অর্জনে আপনার কোম্পানির ডিজিটাল সিকিউরিটি ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো রাখতে হবে। আর এজন্য চাই সচেতনতা। অনলাইন সিকিউরিটি নিশ্চিতকরণে সচেতনতাই সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

ডেটা সিকিউরিটির জন্য যেভাবে সচেতন হওয়া জরুরিঃ

  • ইন্টারনেটের লাইভ সার্ভারে ডেটা সংরক্ষণ করলে তা এক্সেস করার জন্য অবশ্যই কোন কঠিন পাসওয়ার্ড সেট করে রাখতে হবে। যেনো আপনার অজান্তেই কেউ সেই ডেটা এক্সেস করতে না পারে।
  • কম্পিউটারে ডেটা সংরক্ষণের জন্য স্টরিজের কোন সিকিউর স্থান নির্ধারণ করা প্রয়োজন। যেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।
  • কম্পিউটারে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে চেষ্টা করুন।
  • কম্পিউটারে ভালো এন্টিভাইরাস ব্যবহার করুন।
  • অথেন্টিক ব্রাউজার ছাড়া অন্য কোন ব্রাউজার ব্যবহার করবেন না।
  • আপনার ওয়েবসাইটে কোনো ক্র্যাক বা নাল থিম -প্লাগইন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • ওয়েবসাইটে এসএসএল (SSL) সার্টিফিকেট ব্যবহার করুন।
  • অপরিচিত কোন ওয়েবসাইটের লিংকে ক্লিক করবেন না।
  • আপনার ইমেইল দিয়ে কোন পর্ণগ্রাফি বা বাজে ওয়েবসাইটে লগইন করবেন না।
  • আপনার সব ধরণের একাউন্টে 2 স্টেপ অথেন্টিকেশন / ভেরিফিকেশন পদ্ধতি ব্যবহার করুন।

আপনি যদি উপরোল্লেখিত বিষয়গুলো ফলো করতে পারেন, তবে অনলাইন ডেটা সিকিউরিটি আপনার জন্য অনেকটা স্ট্রং হয়ে যাবে। তখন খুব সহজেই আপনার ডেটা কেউ চুরি করতে পারবে না।

গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু কথাঃ

প্রত্যেকটা কোম্পানিরই এক বা একাধিক ডেটাবেজ থাকে। আর এই ডেটাবেজ গুলোতে নিজস্ব কোম্পানি এবং গ্রাহকদের সকল লেনদেন তথ্য সহ আরো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন জমা থাকে। তাই এই ধরণের ডেটাবেজকে সুরক্ষিত রাখার জন্য ডেটা সিকিউরিটির প্রতি নিয়মিতই নজর রাখতে হবে।

অনেক শ্রম-ঘাম, অর্থ, সময় ব্যয় করেই একটি ডেটাবেজ তৈরি হয়। ডেটাবেজ একটি সাধনার ফসল বটে। আর এজন্যই ডেটাবেজকে সুরক্ষিত রাখার গুরুত্ব অপরসীম। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ডেটা সিকিউরিটির পেছনে বাৎষরিক বাজেট রাখে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। যদিও এই পর্যন্ত যাওয়া আমাদের জন্য অনেকটা কষ্টকর।

আমি আশা করছি, ডেটাবেজ কি এবং ডেটাবেজ সংক্রান্ত সকল বিষয়াদি আপনাকে বুঝাতে পেরেছি। তবুও যদি আপনার কোন প্রশ্ন থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট করবেন। ধন্যবাদ।

ItNirman English

Add comment