ব্লগ লেখার নিয়ম এবং কৌশল

ব্লগ লেখার নিয়ম এবং কৌশল

ব্লগ লেখার নিয়ম বলতে আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে কিছু কৌশল প্রয়োগ করার পদ্ধতি কেবল। যেই কৌশল ব্যবহার করার মাধ্যমে একটি আর্টিকেলকে সার্চ ইঞ্জিন এর জন্য অপটিমাইজ করা হয়।

অনেকেই জানতে চান ব্লগ তৈরির নিয়ম বা আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে। ব্লগ কিভাবে তৈরি করে তার নিয়মবলী নিয়েই আমার এই আর্টিকেলটি তৈরি করা হয়েছে।

আপনি হয়ত একজন নতুন ব্লগার বা ব্লগ লেখার প্রাক্টিস করছেন। অথবা ব্লগিং ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য ব্লগিং এর কনসেপ্ট নিতে চাচ্ছেন।

যে কারণেই এই আর্টিকেলটি পড়েন না কেন, আপনার জন্য এমন কিছু চমৎকার গাইড আমরা রেডি করেছি। যা আপনাকে ব্লগ লেখায় এডভান্টেজ তৈরি করবে।

ব্লগ লেখার নিয়ম

’ব্লগ’ মূলত ’ওয়েবসাইটকে’ বুঝানো হয়। তবে সাধারণ ভাবে আর্টিকেলকেও “ব্লগ” বলা হয়।

ওয়েবসাইটে আর্টিকেল লেখার উদ্দেশ্য হলো ব্লগ থেকে আয় করা।

যে কোন নিশের উপর ব্লগ লেখার জন্য প্রায় একই নিয়ম ফলো করতে হয়।

ইন্টারনেট জুড়ে ব্লগ ওয়েবসাইটের অভাব নেই। তাই প্রতিযোগিতা অনেক বেশী।

পড়ার সাজেশনঃ
লেখালেখি করে আয় করার নিয়ম
কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো?

ব্লগিং সেক্টরে বাংলা ব্লগ সাইটও এখন বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।

বিভিন্ন ক্যাটাগরির উপর বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্লগ সাইট রয়েছে।

এরই মধ্যে আইটি নির্মাণ একটি টেকনোলেজি নিশের ওয়েবসাইট।

আপনি ‘শিক্ষামূলক ব্লগ, ডিজিটাল মার্কেটিং ব্লগ বা ইসলামিক ব্লগ’ যে কোন নিশের ব্লগই লিখেননা কেন, ব্লগ লেখার নিয়ম কানুন আপনাকে জানতেই হবে।

চলুন ব্লগ লেখার আদ্যোপান্ত জেনে নিই।

বিষয় ভিত্তিক ব্লগ

ব্লগ লেখার ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমেই ব্লগ এর বিষয় সিলেক্ট করতে হবে। অর্থাৎ, আপনি কোন বিষয়ের উপর ব্লগ লিখতে চাচ্ছেন তা নির্ধারণ করতে হবে।

যে কোন ব্লগ লেখার জন্য শুরুতেই ব্লগ এর কাঙ্খিত বিষয়টি ভালো করে জানতে হবে।

একটি ব্লগে যদি বিভিন্ন ক্যাটাগরির বিষয় উপস্থাপন করা হয়, তবে ব্লগ এর উদ্দেশ্য ‘হ য ব র ল’ অবস্থা হয়ে যাবে।

উদাহরণস্বরূপঃ আপনার লেখাটি হয় টেকনোলজি বিষয়ক, তবে ভুলেও সেই লেখায় বিনোদন বা খোলাধুলার বিষয় উল্লেখ করা যাবে না।

আবার আর্টিকেল যদি হয় খেলাধুলা নিয়ে, তবে সেই আর্টিকেলে টেকনোলজি বিষয়ক কোন তথ্য দেওয়া ঠিক হবে না।

মোটকথা, বিষয় ভিত্তিক আর্টিকেল লিখতে হবে। সেই আর্টিকেলের পুরোটা জুড়ে শুধুমাত্র একটি বিষয়ের আলোচনা থাকবে।

তারপর আর্টিকেল বা ব্লগটি কত ওয়ার্ড বিশিষ্ট হবে তা টার্গেটে রেখে ব্লগটিকে ৩ টি ভাগে বিভিক্ত করতে হবে।

  • ভূমিকা বা ব্লগ এর উদ্দেশ্য
  • ব্লগ এর মূল ইনফরমেশন
  • উপসংহার ও পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা।

ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার জন্য যত ব্লগ লেখা হয়, তার সবগুলোতেই এই তিনটা বিষয় ফলো করা জরুরি।

শুধু ব্লগ লেখার নিয়ম নয়, যে কোন আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রেও উপরোল্লিখিত ৩টি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পড়ার সাজেশনঃ
ঘরে বসে মোবাইলে আয় করার সেরা উপায়
ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে?

ছোট্ট করে ব্যাখ্যা করা হলোঃ

(১) ভূমিকা বা ব্লগ এর উদ্দেশ্য

আর্টিকেল এর শুরুতে কয়েক লাইনের ভেতরে আর্টিকেল এর মূল উদ্দেশ্য কি তা বলে দিতে হবে।

আর্টিকেল এর শুরুটাকে ’ভূমিকা’ বলা যায়।

এই ভূমিকাকে আপনাকে এমন ভাবে সাজাতে হবে, যেন আর্টিকেলটি পুরোটা পড়ার জন্য একজন পাঠক উদ্বুদ্ধ হয়।

(২) ব্লগ এর মূল ইনফরমেশন

ভূমিকার পর আর্টিকেলটির বিস্তারিত বক্তব্য বা আলোচনা তুলে ধরতে হবে।

এই আলোচনাটাই মূলত একজন পাঠককে প্রভাবিত করে।

আর্টিকেল এর মূল পার্ট এটিই।

তাই ব্লগ লেখার ক্ষেত্রে মাঝখানের অংশকে সুস্পষ্ট ভাষায় বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করা জরুরি।

(৩) উপসংহার ও পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা

আর্টিকেল এর তৃতীয় অংশে আপনার পাঠকদের উদ্দেশ্যে একটি পরামর্শ বা অনুপ্রেরণা মূলক বক্তব্য তুলে ধরা উচিত।

আর্টিকেলটি কেন লিখা হয়েছে, তা পাঠককে কিভাবে প্রভাবিত করতে পারে তার উপর ছোট্ট করে কিছু কথা বলার মাধ্যমে আপনার প্রতি পাঠকদের একটি সুদৃষ্টি তৈরি হয়।

এটা ব্লগিং করে টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার জন্য ব্লগ লেখার নিয়ম এমনই হওয়া উচিত।

এসইও ফ্রেন্ডলি ব্লগ

ইন্টারনেটে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট আছে।

যেই ওয়েবসাইট গুলোতে বিভিন্ন নিশের উপর কোটি কোটি আর্টিকেল বা ব্লগ রয়েছে।

এজন্য আপনাকে ওয়েবসাইটের জন্য এসইও ফ্রেন্ডলি ব্লগ তৈরি করার নিয়ম জানতে হবে।

পড়ার সাজেশনঃ
অনলাইনে ইনকাম বাংলাদেশী সাইট
ফ্রিল্যান্সিং কি হালাল নাকি হারাম?

এসইও ফ্রেন্ডলি ব্লগ লেখা মানে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য ব্লগকে অপটিমাইজ করা।

এসইও ফ্রেন্ডলি ব্লগ লেখার জন্য যা যা করতে হয়

এসইওর উপর আমরা ইতোমধ্যেই বেশকিছু আর্টিকেল প্রকাশ করেছি। তাই এখানে বিস্তারিত বিষয়ে যাব না। ছোট্ট করে কয়েকটি বিষয় বলে দেওয়া হলোঃ

() আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে কিওয়ার্ড রিসার্চ করার মাধ্যমে একটি ’টার্গেটেড কিওয়ার্ড’ নির্বাচন করতে হবে।

কিওয়ার্ড বলতে আমরা সাধারণত যেই বাক্য দিয়ে গুগলে সার্চ করি। যেমনঃ এসইও কাকে বলে?

(২) ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার জন্য এসইও ফ্রেন্ডলি ব্লগ লেখার নিয়ম হলো, ব্লগ এর টাইটেলে টার্গেটেড কিওয়ার্ডটি দিয়ে দেওয়া।

(৩) আর্টিকেল এর প্রথম প্যারাগ্রাফে টার্গেটেড কিওয়ার্ডটি দিতে হবে এবং আর্টিকেল এর প্রতি ০০ ওয়ার্ডে টার্গেটেড কিওয়ার্ডটি একবার ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে।

প্রতি০০ ওয়ার্ডে কিওয়ার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ন্যাচারাল ভাবে কিওয়ার্ড দিতে হবে।

আবার এমনও করা যাবে না যে,০০ ওয়ার্ডের ভেতরে একাধিকবার কিওয়ার্ড দিয়ে দেওয়া।

এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই এসইওর নির্দিষ্ট নিয়মই ফলো করতে হবে।

(৪) টার্গেটেড কিওয়ার্ড এর রিলেটেড কিওয়ার্ড আর্টিকেলে দিতে হবে।

পড়ার সাজেশনঃ
ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ কি কি?
সেরা ০ টাকা ইনকাম করার ওয়েবসাইট

(৫) আর্টিকেল এর টাইটেল হেডিং 1 ট্যাগে রাখতে হবে। তাছাড়া আর্টিকেলের মাঝখানে বিভিন্ন কিওয়ার্ড দিয়ে হেডিং 2, হেডিং 3 এবং যথাক্রমে এইচটিএমইল হেডিং ট্যাগগুলো ব্যবহার করা উচিত।

এগুলোই মূলত স্ট্যান্ডার্ড ব্লগ লেখার নিয়ম কানুন।

তবে ব্লগ লেখার ক্ষেত্রে ‘অন পেজ এসইও’ এর আরো কিছু বিষয় ফলো করতে হয়। যেগুলো ব্লগ লেখার মূল নিয়মের মধ্যে যায় না।

যেমনঃ আর্টিকেলে ফিচার ইমেজ এবং আর্টিকেল এর মাঝে রিলেটেড ইমেজ ব্যবহার করা। ইন্টারনাল লিংক এবং এক্সটারনাল লিংক করা ইত্যাদি।

আপনি যদি অন পেজ এসইও বিষয়ে জানতে চান, তবে পড়ুনঃ অনপেজ এসইও কি এবং কিভাবে করতে হয়?

ব্লগ লেখায় যেই কৌশল ব্যবহার করা উচিত

ব্লগ লেখার ক্ষেত্রে আমরা একেক জন একেক কৌশল ব্যবহার করি।

প্রত্যেক ব্লগার এর পার্সোনাল কৌশল গুলো তার ব্লগিং করার ক্ষেত্রে ভালো ভূমিকা রাখে।

কারো কৌশল দ্রুত কাজ করে, আবার কারো কৌশল যথাযথভাবে কার্যকর হতে একটু সময় লাগে।

তবে কারো কৌশলই ব্যর্থ নয়।

আমাদের সবাই সাধারণ ভাবে লিখতে জানি। তবে কৌশলগত ভাবে ব্লগ লেখার নিয়ম আমাদের প্রায় মানুষই জানিনা।

লেখক হিসেবে স্রষ্টা আমাদের সকল লেখককে সমান জ্ঞান বা সমান কৌশল দেননি।

লেখা সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। এটা আমাদের প্রায় অনেকেই করতে পারি না।

যাইহোক, চলুন  ব্লগ লেখায় যেই কৌশল ব্যবহার করা উচিত তা জেনে নিই।

() ব্লগ লেখার পূর্বে কাঙ্খিত বিষয়ের উপর সবাইকেই বেশ কয়েকটা আর্টিকেল পড়ে নেওয়া উচিত।

আপনার ব্লগের জন্য যেই কিওয়ার্ড নির্বাচন করেছেন, সেই কিওয়ার্ড দিয়ে গুগলে সার্চ করে প্রথম রেজাল্ট গুলোর মধ্যে হতে অন্তত প্রথম ৩ টা রেজাল্টের আর্টিকেলকে ফলো করা খুবই জরুরি।

কেননা, তাদের আর্টিকেল গুলো মানসম্মত এবং এসইও ফ্রেন্ডলি হওয়ার কারণে তাদেরকে গুগল রেংক দিয়েছে।

আপনাকে সেই আর্টিকেলগুলো মনোযোগ সহকারে পড়তে হবে এবং তাদের আর্টিকেল এর নতুনত্ব ও বিশেষত্ব খুঁজে বের করতে হবে।

তারা ব্লগ লেখার নিয়মে কোন কৌশল ব্যবহার করেছে তা নোট করতে হবে।

তাদের কৌশলগুলো উপলব্ধি করার পর আপনার কাঙ্খিত আর্টিকেলটি লেখার সময় সেই কৌশল গুলো ব্যবহার করতে চেষ্টা করবেন।

তবে ভুলেও কারো লেখা কপি করবেন না।

পড়ার সাজেশনঃ
ব্লগিং কিভাবে শিখব? 
কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়? 

(২) এসইও ফ্রেন্ডলি ব্লগ লেখার জন্য ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্লগে ভিজিটর দীর্ঘ সময় ধরে রাখার চমৎকার কৌশল এটি।

ব্লগে যদি ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ লেখা হয়, তবে পাঠকরাও ব্লগটি পড়তে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

এতে পাঠকরাও উপকৃত হয়, ব্লগার হিসেবে লেখকও উপকৃত হয়।

ব্লগে দীর্ঘ সময় ভিজিটর ধরে রাখার মানেই হলো আপনার ব্লগটি কোয়ালিটিপূর্ণ। এটা গুগলকে গ্রিন সিগন্যাল দেয়।

পাশাপাশি আপনার ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট অনেক কমে আসবে।

অনেকেই হয়ত বাউন্স রেট কি বুঝেন না, তারা এই আর্টিকেলটি পড়ে নিনঃ বাউন্স রেট কি?

যে কোন ধরণের ব্লগ লেখার ক্ষেত্রে ছোট ছোট প্যারাগ্রাফ লেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কৌশল।

আমাদের শেষ কথাঃ

প্রিয় পাঠক, ব্লগ লেখার নিয়ম এবং সাধারণ আর্টিকেল লেখার নিয়ম অনেকটা এক হলেও এর মধ্যে ’এসইও ফ্রেন্ডলি’ বিষয়টি আসার কারণে ব্লগ লেখা নতুনদের জন্য অনেকটা কঠিন মনে হতে পারে।

তবে আপনি যদি অনপেজ এসইও বুঝেন তবে ব্লগ লেখা আপনার জন্য মোটেও কঠিন মনে হবে না।

ব্লগিং এবং এসইও বিষয়ে আমরা প্রতিনিয়তই নতুন নতুন আর্টিকেল প্রকাশ করছি। আপনারা যদি আমাদের ওয়েবসাইটে একটু খোঁজাখুঁজি করেন, তবে ব্লগিং ও এসইও সম্পর্কিত অনেক বিষয় জানতে পারবেন।

আমরা আমরা অভিজ্ঞতা থেকে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি ব্লগ লেখার নিয়ম আপনাদের সামনে তুলে ধরার জন্য। আশাকরি উপকৃত হবেন ইনশাআল্লাহ।

এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে ভুলবেন না। আর্টিকেলটি উপকারী মনে হলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন।

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

2 comments

error: Content is protected !!