প্রত্যেক ভালো কাজ সদকা তুল্য

মুসলমানদের প্রতিটা ভালো কাজই সদকা হয়ে যায়!

ভালো কাজ একটি মহৎ গুণ। ভালো কাজ, চরিত্রবান মানুষ দুটোই সবার কাছে পছন্দনীয়। বনের একটি পাখিও ভালো খাবার, ভালো নীড়, ভালো বন্ধুর খোঁজ করে। অতএব পাখিও ভালো কাজের পূজারী। তবে মানুষ হয়ে আমরা কেন নয়। আমরা তো শ্রেষ্ঠজাতি। শ্রেষ্ঠ নবীব উম্মত। আমাদের উচিত জীবন চলার পথে সবসময় ভালো কিছুর অনুসন্ধান করা।

সদকা এমন একটি পূণ্যকাজের নাম, যার দ্বারা জাহান্নাম থেকে বাঁচা যাবে। প্রতিটি মুসলমানের উচিত তার অর্জিত সম্পদ থেকে নিয়মিত সদকা প্রদান করা। যদিও একটি মাত্র খেজুর হয়। যে কেউ চাইলে সদকা দিতে পারে। সদকা দিলে নিজের সম্মান বৃদ্ধি পায়। চরিত্রে ফুটে উঠে ফুল। অন্তর হয় পরিস্কার। সদকা বিষয়ে কিছু হাদিস তোলে ধরতে চেষ্টা করছি। ওমা-তাওফিকী ইল্লা বিল্লাহ্!

ভালো কাজ সদকা তুল্য

কোরআন এবং হাদিস থেকে জানা যায়, সদকা দুই প্রকার। এক আবশ্যকীয় সদকা । দুই ঐচ্ছিক সদকা । উভয় সদকা প্রদানের মাঝে আছে অনেক সাওয়াব। কিন্তু দুইটি সদকার মাঝে রয়েছে মৌলিক কিছু পার্থক্য ।

আবশ্যকীয় বা বাধ্যতামূলক সদকা হলো: নেসাব পরিমান সম্পদের অধিকারী বা সামর্থবান ব্যক্তির উপর ইসলামী আইন মোতাবেক প্রদেয় সম্পদ । যা আদায় করা আবশ্যকীয় । না করলে পাপ হবে, এটা বড় অন্যায়। যেমন: যাকাত, ফিতরা, উশর ইত্যাদি।

ঐচ্ছিক সদকা হলো: কোন সাধারণ মুসলমান নিজ ইচ্ছায় ছাওয়াবের আশায় কোন গরীব, এতিম, মিসকিন বা অসহায় কে প্রদান করে । এটা তার জন্য আবশ্যক নয় । কারণ সে নেচাব পরিমাণ সম্পদের মালিক নয়। সে এরূপ দান না করলেও কোন গোনাহ বা অপরাধ হবে না । তবে দান করার কারণে সে অনেক ছাওয়াবের অধিকারী হবে।

সদকা শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। জাগতিক বা পারলৌকিক যে কোন ভালো কাজই সদকা হতে পারে। যেমন: সৎকাজ, সৎসঙ্গ, সৎ উপদেশ ইত্যাদি । প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) বলেছেন, প্রত্যেক মানুষের উপরই সদকার একটি কর্তব্য রয়েছে। কেউ যদি দুইজন মানুষের মধ্যকার বিরোধ নিস্পত্তি করে দেয় তবে এটাও একটি সদকা। আবার কেউ যদি যান বাহনের আরোহিকে সাহায্য করে তবে এটাও একটি সদকা বলে গণ্য।

❑ হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, প্রতিদিন বান্দা যখন সকালে ঘুম থেকে উঠে, তখন দু’জন ফেরেশেতা অবতীর্ণ হয়। তাদের একজন বলেন, ‘হে আল্লাহ’ ! খরচকারীর ধন আরো বাড়িয়ে দাও, এবং দ্বিতীয় জন বলে কৃপণকে ধ্বংস করে দাও। ( সহিহ মুসলিম )

❑ হযরত হাকীম ইবনে হেযাম (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, উপরের হাত নিচের হতে অপেক্ষা উত্তম। নিজের আত্মীয়স্বজনদের দিয়ে দান খায়রাত শুরু কর। অভাবমুক্ত থেকে যে দান সদকা করা হয় সেটাই উত্তম দান। যে ব্যক্তি অন্যের কাছে হাত না পেতে পবিত্র থাকতে চায়, মহান আল্লাহ তাকে তা থেকে পবিত্র রাখেন এবং যে স্বনির্ভর থাকতে চায় আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন।

কিছু দান সদকা করে খোঁটা দেওয়া নিন্দনীয়; মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন-

যারা নিজেদের ধন সম্পদ আল্লাহর রাহে ব্যয় করে অতঃপর যা ব্যয় করে তার জন্য গ্রহীতাকে খোঁটা দেয় না, ক্লেশ প্রদান করে না, তাদের জন্য তাদের পালনকর্তর নিকট রয়েছে মহা পুরুস্কার, তাদের কোনরূপ আশংকা বা ভয় ভীতির কারণ নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। ( সূরা বাকারা: আয়াত ২৬২ ) ( বুখারি )

❑ অনেকেই দান অথবা সদকা করার সময় অল্প পরিমানের দান-সদকাকে অবজ্ঞা করে, এটা মোটেও ঠিক নয়। একটি হাদিসে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, হে মুসলিম নারী সমাজ ! তোমাদের কোন প্রতিবেশি যদি ছাগলের খুরও উপহার দেয় তবুও তা তুচ্ছ জ্ঞান মনে করবে না। ( মুসলিম )

শেষ কথাঃ

সুতরাং, আমাদের উচিত সামর্থ অনুযায়ী নিজেদের আত্মীয় স্বজন পাড়া-প্রতিবেশি গবীর, এতিম, বিধবা বা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এটাও একটি সদকা বলে গণ্য হবে। কিয়ামতের দিন অসংখ্য সদকাকারীকে মহান আল্লাহ্ তায়ালা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। তাই অবশ্যই প্রতিটা ভালো কাজ নির্ভয়ে নির্দ্বীধায় করতে চেষ্টা করতে হবে। যদিও কাজটি সমাজের চোখে ছোট বলে গণ্য হয়।

উদাহারণত: মনে করেন আপনি রিকসায় চড়ে কোথাও যাচ্ছেন, হঠাৎ রাস্তাটি উঁচুর দিকে যাচ্ছে, এতে করে চালক ভাইয়ের কষ্ট হচ্ছে, তখন আপনি রিকসা থেকে নেমে যান এবং চালক ভাইকে হেল্প করুন। এতে করে আপনার সম্মান কমবে না, বরং বেড়ে যাবে। নিজেদের মাঝে সম্প্রীতি তৈরি হবে। সবচেয়ে বড় কথা হলো এটাও সদকার অন্তর্ভূক্ত। একটা সদকা-ই হতে পারে জাহান্নাম থেকে বাঁচার উসিলা। মহান আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন!

ItNirman English

2 comments

  • সুবহানাল্লাহ! ইসলাম এতো সুন্দর, এতো সুন্দর, যদি একজন বিধর্মীও জানতো তবে মুসলমান না হয়ে পারতো না। অথচ আমার মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও গাফেল। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন, এবং দ্বীন ইসলাম বুঝার তাওফিক দান করুন! আমিন!!