আজও মনে পড়ে তোমাকে

আজও মনে পড়ে তোমাকে

মনে পড়ে তোমাকে: অনেক দিন হয়ে গেলো, হয়তো ভুলেই গেছো। কিন্তু আমি আজও তোমার পথ চেয়ে বসে থাকি, তুমি কখন আসবে? তোমার আদর আর ভালোবাসার মুগ্ধতা অনুভব করেছি প্রায় ৮ টি বছর। তারপর অজানা এক কালো বৈশাখীর ঝরে হঠাৎ কোথায় জানি হারিয়ে গেছ। সঙ্গীহারা হয়ে গেলাম। এখন শুধু শূন্যতা অনুভবের পালা। চলে এলো জীবনের এক মহা পরিবর্তন। যা আগে কখনও ভাবিনি। আজ নিজেকে হৃদপিন্ডহীন মনে হয়। গত হলো জীবনের একটি অভাবনীয় অধ্যায়।

মসজিদে আজান হচ্ছে, তুমি কখন আমাকে ডাক দেবে? নামাজের সময় তো পেরিয়ে যাচ্ছে, এখনো আমাকে ডাক দিচ্ছো না কেন? তোমার ডাকের আশায় বসে থাকি, এভাবে সময় ফুরিয়ে দিন যাচ্ছে, রাত যাচ্ছে, মাসের পর মাস চলে যায়। গত হয়ে গেল প্রায় ৮ টি বছর। তবুও তোমার ডাক শুনতে পাইনি।

একা একা আজ মসজিদে যেতে হয়। সঙ্গীহারা আমি মসজিদ পানে যাওয়ার সময় হাতের আঙ্গুলি ধরে পথচলার স্মৃতিগলো ক্ষণে ক্ষণে হৃদয় মিনারে ঝলসে উঠে। পবিত্র সেই আয়াত গুলো আজও একা একা তিলাওয়াত করি, যেই আয়াত গুলো পথচলার সময় আমাকে শেখাতে। কিন্তু তুমি আজ পাশে নেই!

জানো, তোমার সেই লালিত পবিত্র স্বপ্ন আমি পূরণ করেছি। যেই স্বপ্ন পূরণের জন্য তুমি অনেক শ্রম-ঘাম ঝরিয়েছ, বায়তুল্লাহর দেওয়ালে ধরে মহান স্রষ্টার সকাশে অশ্রুঝরা তোমার সেই প্রার্থনা বৃথা যায়নি। দেখো আমি আজ জ্ঞান সাধনায় জীবনের অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছি। কিন্তু আমিতো আজ হৃদপিন্ডহীন! অনুভূতি আছে সাধ্য নেই।

তোমার অবদান আমার শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গে মিশে আছে। আজ তুমি নেই! নিঃশব্দ রাতের গভীরে নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে থাকি আকাশের দিকে। চাঁদকে প্রশ্ন করি আমার সেই হারিয়ে যাওয়া বন্ধুটি কেমন আছে? চাঁদ নীরব কণ্ঠে উত্তর দেয় খুব ভালো আছে। তখন আমার সেই বিষন্নতাময় কষ্টগুলো কেটে যায়।

কিন্তু একটি শূন্যতা আমাকে সারাক্ষণ ঘীরে রাখে। তবুও তুমি ভালো আছ বলে আমার অনুভূতিগুলো চঞ্চল। কখনই হতাশার আঁধার আমাকে ঢাকতে পারে না। তোমার দেওয়া উপদেশ গুলো জীবনের সাথে অনেকটাই মিলে গেছে। আর তাই এতটুকু পথ হাজার বাঁধা সত্ত্বেও চলতে সক্ষম হয়েছি।

কিন্তু এখন যে আর ভালো উপদেশ দেওয়ার মতো কেউ নেই। তুমি যেমন ছিলে সত্যবাদী, তেমনই হক্বের ওপর দৃঢ়। স্বার্থ কখনই তোমাকে নিচু করতে পারেনি। আলেমদের প্রতি যেমন ছিল শ্রদ্ধা তেমনই জ্ঞানাণ্বেষীদের প্রতি স্নেহ। মন্দ কাজে যেমন ছিলে কঠোর, ভালো কাজে তেমনই উদার।

অভাবগ্রস্ত, এতিম, মজলুম মানুষের প্রতি তোমার ভালোবাসা ছিল অনড়। নামের সাথে যার কর্ম মিলে যায় সে কখনই পথভ্রষ্ট হতে পারে না। সমাজের মানুষগুলো আজও তোমাকে ভুলেনি। চারদিকে তোমার কৃতকর্মের সুনাম ছড়িয়ে আছে। ভালোবাসা দিয়ে আজও সমাজের মানুষ তোমাকে স্মরণ করে।

তোমায় হারানোর বেদনা এখনো হৃদয় আকাশে শ্রবণ মেঘের মতো জমাট বেঁধে আছে। কখনো কখনো ডুকরে উঠে মন, বেদানার মেঘ দুচোখ বেয়ে বৃষ্টির মতো অঝোরে ঝরতে থাকে। আজও মনে পড়ে তোমাকে হে প্রাণপ্রিয় দাদা।

পরিশেষে মহান আল্লাহর সকাশে গভীর ভালোবাসা দিয়ে তোমার জন্য ফরিয়াদ করি মহান আল্লাহ্ তোমাকে আরশের শীতল ছায়ায় জান্নাতের সবুজ বাগানে একটি ঘর বানিয়ে দিন। আমিন!

প্রিয় দাদার মাগফিরাত কামনায়:
নাজিরুল ইসলাম নকীব।
৭ আগষ্ট ২০৯ ইং শনিবার।

ItNirman English

Add comment