মানবতার কবিতা

মানবতার কবিতা

”মানুষ মানুষের জন্যে” এই কথাটির মাঝেই প্রকৃত মানবতার রূপ দেখতে পাওয়া যায়। পৃথিবীতে মানুষ নামের জনসংখ্যা প্রায় ৮০০শ’ কোটি। এই মানুষগুলোর মাঝে যারা মানবতার স্লোগানে পথ চলে, মানবতার কথা বলে তারাই প্রতৃক মানুষ। মানবতা মানেই মানুষের কল্যাণে কাজ করা। আর সেই কল্যাণের পথ ধরে মানবতার স্লোগান কে সামনে রেখে একগুচ্ছ মানবতার কবিতা নিয়ে রচিত হলো আমাদের এই আয়োজন।

প্রিয় বন্ধুরা! বিশ্ব মানবতাকে শ্রদ্ধার সাথে গ্রহণ করে চলুন মানবতাবাদী কবিতা গুলো পাঠ করি।

অনাহারি

হাসি আমার কান্না হলো
যুগের এ হাল দেখে,
ধনীরা আজ দেয়না খাবার
অনাহারির মুখে।

পথ শিশুরা আঁসু চোখে
পথের দ্বারে বসে,
দু ‘মুঠো ভাত খেতে তারা
দুখ সাগরে ভাসে।

বাস্তুহারা অবুঝ শিশু
ফুটপাতে ‘ই থাকে,
বুকের ক্ষুদা নিবারণে
কান্নাতে মুখ ঢাকে।

কষ্টে কাতর বুকটা আমার
চোখে অশ্রু ঝরে,
জীবনটা যাক ভালোবাসায়
অভাবিদের তরে।

সর্বদা ‘ই থাকবো আমি
পথ শিশুদের পাশে,
আমার মতো যেন তারা
দুঃখ ভুলে হাসে।

বিপন্য মেয়েটি

আজ আকাশটা কাঁদছে-
বাতাসের ঝাঁপটায় কিছু গাছের পাতা ঝরে গেছে,
সূর্যের হাসি মুখটা ঢেকে রেখেছে মেঘের আড়ালে।
শরতের কাশবন হারিয়ে গেছে হেমন্তের পবনে।

শীত চলে এসেছে, কুহেলিতে ভরে যাবে সবুজ ঘাস
বাস্তুহারা সেই বিপন্য মেয়েটি রাস্তার পাশে বসে-
কেঁদে কেঁদে হা-হুতাশ। আহ্ কত আহাজারী!
বস্ত্রের লাগি করছে রোনাজারী।

নিষ্পলক চোখে চেয়ে আছে
রাস্তায় আসা যাওয়া মানুষগুলোর দিকে রিক্ততা ভরা মন,
দুর্গতিতে ঘুম নাই চোখে। যেনো কন্টকশয়ন!
রাস্তায় গতায়াত মানুষগুলো দেখে দেখে চলে যায়
কেউ কেউ অকাতর চিত্তে মেয়েটির মাথায় হাত বুলায়।

শহরে হাজার মানুষের ভীর,
হেরিতে পারি মেয়েটির চোখে টলমলে নীর।
নেড়ি কুকুর দুটি বসে আছে মেয়েটির পাশে,
অস্বস্তিকর এই দৃশ্য, মনে হলো মেয়েটি বড়ই নিশ্ব।

বেচারা মেয়েটি বসে আছে ফুটপাতের দ্বারে
বিত্তবানেরা বিপণী বিতানে যাচ্ছে শকট চড়ে।
পথের বিবাগীর গাত্রবস্ত্রের জীর্ণতা দেখে
পরিতাপ হলো আপন মনে, জল চলে এলো চোখে।

আমি বসেছিনু তার পাশে
মেয়েটির কান্না থেমে গেলো নিমিষে।
শোধালাম তার মা-বাবার কথা, শুধু কাঁদলো,কিছু বললো না,
তাই লিখলাম এই শোকগাঁথা।

হাভাতে মেয়ের করুণ কান্না বস্ত্রহারা দুখ
হৃদয়ে আমার আঁচর করিলো, কেড়ে নিলো যত সুখ।
নয়ন ভরে গেলো দুখের অশ্রুতে হালচাল দেখে তার
থরথর করে হেঁকেছি ভজন, কেঁদেছি বারেবার।

কল্যাণকামী প্রাণ

আমার বাহুতে হিতেশাধোন্
আর কর কল্যাণ দান
যে হিতে সবাই তৃপ্তি পাবে
ভরবে সকল প্রাণ।

কারো যেন ক্ষতি নাহয়
আমার উভয় বাহু দ্বারা
আমি যেন দিতে পারি
খোদা ঈমানের পাহারা!

কল্যাণ কাজে আমি যেন প্রভু
হতে পারি সহযোগী
ইসলাম মেনে হই যেন আমি
কুরআনের অনুরাগী।

উদারদা দিয়ে ভরে দাও হৃদ
করি যেন হিত সাধন
কাটাও দ্বীনের নকীবের পথে
মম জীবন যৌবন।

আমার জীবনে কল্যাণ আসুক
যায় না যে কভু বৃথা
জগ মানুষের ভালোবাসা আর
দাও মঙ্গল সততা।

কৃপণতা থেকে পবিত্র কর প্রভু
কপটতা করে দূর
আলোকিত কর পথচলা আমার
দিয়ে তোমার নুর!

ভালো কাজে নববীর পথে
করি যেন আহবান
আমার দ্বারা হয় যেন সব
মানুষের কল্যাণ।

আমরা মানুষ

কেউ যদি সমাজে থাকে অতি সরল
তার পেছনেই লাগে প্রায় লোক সবে
অমানুষ গুলো যদি এইভাবে লাগে
ভালো লোক পাবে না সমাজে তবে।

এই সরল মানুষ যদি হয়ে যায় বিলীন
বাঁচবো কিভাবে মোরা এই ভবে
সত্যের জয় যদি ঢেকে রাখা হয়
ধরণীতে সৎলোক লোপ হয়ে যাবে।

আর এভাবেই চলে যদি সমাজের গতি
সরল আলোক প্রাণ যাবে সব নিভে
যদি এ-আলো না জ্বলে কোনদিন তবে
মোড়লের শোষণে কাঁদতে যে হবে।

শোনো, পৃথিবীর ইতিহাসে ছিল এক যুগ
জাহেলিয়াত নামে আজও অভিহিত
ন্যায়-নীতির পক্ষে কভু থাকতো না তারা
তাই সাধারণ লোকগুলো ছিল নিপীড়িত।

ভালো লোক কখনো যদি দেখা যেতো
তার জুলুম সইতে হতো সবচেয়ে বেশী
আর আমরাও যদি আজ এভাবে চলি
তবে নতুন প্রজন্মের কাছে আমরাই দোষী।

তাই মানবতা কখনই বলে না এমন –
সরল মানুষ কে কভু ধোঁকা দিতে
আমরা মানুষ, মাখলুকাতে জগত সেরা
চলো হিংসা বিভেদ ভুলে থাকি একসাথে।

মানুষ তুমি

সরল হতে হবে তোমার গরল হয়ো না
সত্যকে ভাই মিথ্যে দিয়ে ঢাকতে যেওনা।
নিজের জন্য যেমন তুমি করো পছন্দ,
অন্যের বেলা ঠিক তেমনি, ভেবো না মন্দ।

কারো বিপদ দেখলে তুমি করো সহায়তা,
মানুষ তুমি শ্রেষ্ঠ জাতি দেখাও উদারতা।
অনাহারি দেখলে মুখে খাবার তুলে দিও,
প্রতিবেশি থাকলে অসুখ খবর নিতে যেও।

নিন্দা,গীবত করিওনা মিলে মিশে থাক,
মজলুমদের স্নেহ করে তোমার পাশেই রাখ।
অন্ধ,বধির,বোবাকেও করিওনা ঘৃণা,
ভালো কাজের আদেশ দিও মন্দ কাজে মানা।

মনে সদায় সাহস রাখ চরিত্রকে ভালো,
কোরআন দিয়ে সাজাও জীবন মুছে আঁধার কালো।
উজন করার সময় মাপে কম দিওনা,
অন্যের মাল থাবা মেরে ছিনিয়ে নিওনা।

লোভ লালসা সব ভুলে যাও হৃদয় উদার করে,
স্নেহ,মমতার চাদর বিছাও মাখলুকাতের তরে।
পশুপাখি, সৃষ্টির প্রতি রেখো ভালোবাসা,
আল্লাহ্ ছাড়া কারো উপর করিওনা ভরসা।

অসৎ যতো ভাবনা আছে ঝেড়ে ফেল তুমি,
রহমান হলো মহা-প্রলয়ের বিচার দিনের স্বামী।
ক্ষুদার জ্বালায় কাতর তবুও হাত পেতনা ভাই,
আল্লাহ হলেন রিজিকদাতা আপন সর্বদায়।

[প্রথম প্রকাশ: ২০৭ ইং পুষ্প জাগরণ ও হৃদয় বীণার সুর কাব্যগ্রন্থ ]

মানবতার কবিতা নিয়ে লেখকের অভিমত

মানবতা মানেই মানবজাতি বেঁচে থাকার জন্য একটি দেয়াল। সেই মানবতার দেয়াল যতদিন মজবুত থাকবে ততদিনই মানব জাতির মাঝে একটি শান্তির বারিধারা রয়ে চলবে। আমরা সকলেই মানুষ। তাই মানবতার পক্ষে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব এবং কর্তব্য।

মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখুন। মানবের ভালোবাসার মুগ্ধ হোক গোটা সৃষ্টিজগত।

ItNirman English

Add comment