পেইড সফটয়্যার VS ক্র্যাক সফটয়্যার

পিসিতে ক্র্যাক সফটওয়্যার চালিয়ে প্রাইভেসি ঝুঁকিতে ফেলছেন নাতো?

সমস্ত পেইড সফটয়্যারের ক্র্যাক ভার্সন! আপনি সত্যিই সঠিক জায়গায় এসেছেন। আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলে আপনাকে স্বাগতম! এই আর্টিকেলটি আপনাকে বাঁচানোর জন্য লেখা!! হ্যাঁ, সত্যিই বলছি। মনোযোগ সহকারে পুরোটা লেখা পড়ুন।

চলুন জেনে নিই পেইড সফটয়্যার VS ক্র্যাক সফটয়্যার সম্পর্কে

পেইড সফটয়্যার হলো অর্থ দ্বারা কিনে ব্যবহার করা। অর্থাৎ, একটি কোম্পানির কোনো প্রোডাক্টকে পুরোপুরি বৈধ উপায়ে ব্যবহার করার জন্য সরাসরি কোম্পানি থেকে টাকা দিয়ে কিনে তারপর ব্যবহার করা। এটাই মূলত পেইড সফটয়্যার।

ক্র্যাক সফটয়্যার হলো অবৈধ উপায়ে কোনো সফটয়্যার ব্যবহার করা। অর্থাৎ, অন্যের জিনিস অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা। আরো সহজ ভাষায় বলতে গেলে ’কারো সম্পদ চুরি করে ব্যবহার করা।’ এটাই মূলত ক্র্যাক সফটয়্যার।

সকলেই জানি, যে কোনো সফটয়্যার কোনো এক বা একাধিক প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের মাধ্যমেই তৈরি করা হয়। হতে পারে সেটা ফ্রি বা পেইড যে কোন ধরণের সফটয়্যার।

পেইড সফটয়্যার ক্র্যাক হয় যেভাবে : পেইড সফটয়্যারটির কোডিংয়ে থার্ডপার্টি কোনো প্রোগ্রামার কর্তৃক কিছু কোড চেঞ্জ করা। অর্থাৎ, সফটয়্যরে ব্যবহৃত কোম্পানি কর্তৃক অফিসিয়ালি কোডগুলো চেঞ্জ করে নিজস্ব কিছু কোড যোগ করে এক্টিভেশন প্রোগাম বন্ধ করে দেওয়া। তারমানে, কোম্পানি থেকে সফটয়্যারটির কন্ট্রোলিটি বিচিহ্ন করে দেওয়া।

এবার অনেকেই ভাবতে পারেন, তবে এটাতো সাধারণ ইউজারদের জন্য ইফেক্টিভ কোন কিছু না। হ্যাঁ, আপনি হয়ত জানেন না যে, অনলাইন থেকে পাওয়া বেশিরভাগ সফটয়্যার কাদের দ্বারা ক্র্যাক হয়। শুনলে অবাক হবেন, বেশিরভাগ সফটয়্যারই হ্যাকার কর্তৃক ক্র্যাক হয়।

এখন বলতে পারেন, এতে তাদের লাভ কী? অবশ্যই তাদেরই লাভ। আমাদের প্রয়োজনে বিভিন্ন সাইট থেকে অনেক ক্র্যাক সফটয়্যার ডাউনলোড করে কম্পিউটারে ব্যবহার করি। সামান্য টাকা বাঁচানোর প্রয়াস।

হ্যাকিং

কিন্তু আপনি কি জানেন, যেই সফটয়্যারটি ব্যবহার করছেন সেটা কাদের দ্বারা ক্র্যাক হয়েছে? যদি কোনো ভালো প্রোগ্রামার দ্বারা ক্র্যাক হয়, তবে বেঁচে গেলেন! আর যদি কোনো হ্যাকার দ্বারা ক্র্যাক হয় তবে নিশ্চিত থাকেন, আপনি বড় ধরণের ক্ষতির সম্মূখিন হতে যাচ্ছেন!

হ্যাকাররা সফটয়্যার ক্র্যাক করতে গিয়ে প্রোগ্রাম ফাইলে অনাকাঙ্খিত কোড ব্যবহার করে। আবার অনেক সময় খুবই জটিল ভাইরাস ঢুকিয়ে দেয়। যা আপনার আমার জন্য খুবই ভয়ঙ্কর অধ্যায়ের বার্তা দেয়।

এভাবে তারা একজন সাধারণ ইউজারের পার্সোনাল তথ্যচুরি করে, তারপর ব্ল্যাকমেইল করে। আবার অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো বিভিন্নভাবে প্রকাশ করে ইউজারকে লাঞ্ছিত করে। ভাইরাসের মাধ্যমে ইউজারের কম্পিউটার ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়। এছাড়া আরো অনেক ভাবেই সাধারণ ইউজারদের কষ্ট দেয়।

ক্র্যাক সফটয়্যারের অসুবিধা ও সুবিধা

ক্র্যাক সফটয়্যারের অসুবিধা : ক্র্যাক সফটয়্যার নিরাপদ নয়। ক্র্যাক সফটয়্যার ভালো করে কাজ করে না। সফটয়্যার রান করতে গিয়ে কম্পিউটার হ্যাং বা স্লো হয়ে যায়। অনেক সময় সফটয়্যারের মূল ফিচারই পাওয়া যায় না।

ক্র্যাক সফটয়্যারের সুবিধা : প্রধান সুবিধাই হলো পেইড সফটয়্যার ফ্রিতে ব্যবহার। এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি যদি সফটয়্যারের পুরো এক্সেস পাওয়া যায়, তবে তো কথাই নাই…। এগুলোই মূলত সুবিধা।

পেইড সফটয়্যারের সুবিধা ও অসুবিধা

cyber security

পেইড সফটয়্যারের সুবিধা : পেইড সফটয়্যারগুলো নিরাপদ। ব্যবহারে পুরো এক্সেস পাওয়া যায়। নিয়মিত আপডেট ভার্সনগুলো ব্যবহার করা যায়। সফটয়্যারে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সরাসরি কোম্পানি থেকে সাপোর্ট নেওয়া যায়।

পেইড সফটয়্যারের অসুবিধা : পেইড সফটয়্যারের একটাই বড় অসুবিধা, তা হলো টাকা দিয়ে কেনা। আবার অনেক সময় আপডেট ভার্সনের জন্য এক্সটা টাকা প্লে করতে হয়।

আমাদের মতামত ও নির্দেশনা

আমাদের বাংলাদেশ একটি গরীব রাস্ট্র। বেশিরভাগ মানুষই দিনমজুর। তাই প্রয়োজনীয় সকল পেইড সফটয়্যার কেনার মতো সবারই যথেষ্ট বাজেট হয় না। এজন্যই আমরা মূলত ক্র্যাক সফটয়্যার ব্যবহার করি।

তবুও সবার কাছে আবেদন থাকবে, বাজেট থাকলে সমসময় পেইড সফটয়্যারগুলোই ব্যবহার করতে চেষ্টা করবেন। আর যারা ক্র্যাক ভার্সনেই সন্তুষ্ট, তারা অবশ্যই ক্র্যাক সফটয়্যারগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

সমসময় ট্রাস্টট্রেড সাইটগুলো থেকে প্রয়োজনীয় ফাইলগুলো ডাউনলোড করবেন। ডাউনলোড করার পর কোনো এন্টিভাইরাস সফটয়্যার দিয়ে স্ক্যান করে তারপর কম্পিউটারে ইনিস্টল দেবেন।

ফ্রি সফটয়্যারের ক্র্যাক ভার্সন নেই। কারণ, ফ্রি সফটয়্যারগুলো অফিসিয়ালি ফ্রী। সবার জন্য উন্মুক্ত। তাই এটাকে ক্র্যাক করার প্রয়োজন হয় না। তাই ফ্রি সফটয়্যারগুলো সবার জন্যই অনায়াসেই ব্যবহার যোগ্য।

========>> এই বিষয়ে আরো কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ

Add comment