ধৈর্য মুমিনের হাতিয়ার

সর্বকালেই ঈমানদারদের পরীক্ষা হয়

মুসলমান মানেই আত্মসমর্পণকারী। মহান আল্লাহ তা’য়ালার মনোনীত দ্বীন একমাত্র জীবনব্যবস্থা ইসলামের ছায়াতলে যাদের আগমণ হয়েছে, তারা সবাই ঈমানদার। ইসলাম শুধু একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থাই নয়, ইসলাম হলো মুসলিম জাতির প্রাণ। যারাই এই ইসলামের সৌন্দর্য অনুভব করতে পেরেছে, তারাই মহান আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

আত্মসমর্পণকারীদেরকে মহান আল্লাহ বিভিন্ন পরীক্ষার সম্মুখীন করেন। লোহাকে খাঁটি করতে হলে যেভাবে আগুনে পুড়াতে হয়, তেমনীভাবে আত্মসমর্পণকারীদের ঈমান মজবুত করার জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে হয়।

এই পরীক্ষার কোনো বিষয় নির্ধারণ করা নেই। তবে শেষ ফলাফলের উদ্দেশ্য একটাই। কেবল মাত্র মহান আল্লাহ তা’য়ালার সন্তুষ্টি অর্জন। একজন মুমিন বান্দার কাছে এটাই মহা- মূল্যবান সম্পদ। ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী থেকে আমরা সকলেই আখেতের দিকে প্রত্যাবর্তন করবো। করতেই হবে। পৃথিবীতে আসার উদ্দেশ্য ভোগ বিলাসীতা নয়। হাদিসে বলা হয়েছে, ’’পৃথিবী আখেরাতের শস্যক্ষেত’’। পৃথিবী নামক শস্যক্ষেত থেকে চিরস্থায়ী জীবনের জন্য ফসল উৎপাদন করতে হবে। এই ফলস নিয়েই পরকালের অভিমুখে যাত্রা শুরু করতে হবে। এটাই হলো মুমিন বান্দার ক্ষণস্থায়ী সময়ের পূজি। যা চিরস্থায়ী সময়ের বন্ধু হয়ে সাপোর্ট দেবে।

আমরা মুসলমান। আমাদের চিন্তা-চেতনাই শুধুই স্রষ্টার সান্বিধ্য লাভের আশা। কিন্তু অনেকই জীবন চলার পথে সামান্য দুঃখ কষ্টেই ধৈর্যের পরীক্ষায় হেরে যায়। এটা কেবল ঈমানের দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখিন হয়েছে নবী-রাসূলগণ। তারপর যথাক্রমে সাহাবীগণ, মুজতাহিদগণ, ইমামগণ ইত্যাদি। মহান আল্লাহর কাছে যে সবচেয়ে প্রিয়, তাঁকে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা দিতে হয়েছে। নবী-রাসূলগণের তুলনায় আমাদের পরীক্ষা কিছুই না।

তাই মুমিন বান্দা যখনই কোনো কষ্টে পতিত হয়, তখনই ধৈর্যের প্রমাণ দেয়। ধৈর্য এমন একটা মূল্যবান জিনিসের নাম। যার তুলনা কেবলই ধৈর্য। মুমিন বান্দার কোনো কষ্টই বিফলে যায় না। যার প্রতিদান অনেক মিষ্টি। যে বন্ধুরা বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে পারেন না, তাদের জন্য একটি ভিডিও। এই লিংক থেকে দেখে নিতে পারেন। কাঁটার আঘাতেও মুমিনের গুনাহ মাফ হয়

মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের বিপদ-আপদে সহায় হোন। আমাদের ধৈর্য বাড়িয়ে দিন। আমিন।

Add comment