মৌজা কি - মৌজা ও গ্রামের পার্থক্য - জমির মৌজা রেট কত টাকা

মৌজা কি? মৌজা ও গ্রামের পার্থক্য | জমির মৌজা রেট কত টাকা?

দেশের নাগরিক হিসেবে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়াদি সম্পর্কে জানা সবার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৌজাও তারমধ্যে একটি। কিন্তু অনেকেই জানে না মৌজা কি, মৌজা ও গ্রামের পার্থক্য কি এবং দেশীয় জমির মৌজা রেট কত ইত্যাদি।

আপনি যদি মৌজা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানতে চান তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। আজ আমি আপনাকে বলে দেবো মৌজা কাকে বলে এবং এর গুরুত্ব কতটুকু। তাছাড়া, আর্টিকেলটিতে থাকছে মৌজা বিষয়ক আরো বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর।

মৌজা মানে কি?

রাজস্ব নির্ধারণ এবং রাজস্ব আদায়ের জন্য এক ইউনিট জমির ভৌগোলিক অভিব্যক্তি হলো মৌজা। মৌজা হচ্ছে রাজস্ব আদায়ের সর্বনিম্ন একক-এলাকা। অর্থাৎ, কোনো দেশের সরকারের আয়-ব্যয়ের সামগ্রিক দর্শন, কৌশল ও ব্যবস্থাপনা নীতি।

মুঘল আমল থেকেই মৌজা শব্দের প্রচলন ঘটে। তবে ইতিহাস থেকে জানা যায় মৌজা নীতি প্রাচীনকাল থেকেই ভিন্ন ভিন্ন নামে প্রচলন ছিল।

মুঘল সাম্রাজ্রের কোনো পরগনা বা রাজস্ব-জেলার রাজস্ব আদায়ের একক হিসেবে মৌজা শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হতো। পরগনা বলা হয় মূলত একগুচ্ছ মৌজার সমষ্টিকে।

মৌজা হলো জমি শনাক্তকরণের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য চিহ্ন। মৌজার অন্তর্গত নির্দিষ্ট পরিমাণ ভূমিতে কি কি স্থাপনা আছে, কতগুলো বসতঘর আছে, তা থেকে কত টাকা রাজস্ব আসে এই সমস্ত তথ্য রাস্ট্রের কাছে সংরক্ষিত থাকে।

তবে সাধারণ নাগরিকরা মৌজাকে একটি ম্যাপ বা নকশা হিসেবে চিনে। তাই এটিতে ’মৌজা ম্যাপ বা মৌজা নকশা’ বলা হয়।

জমি শনাক্তকরণের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য চিহ্ন যেহেতু মৌজা, সেহেতু দেশের নাগরিকরা জমি ক্রয়-বিক্রয়ে সবচেয়ে বেশী মৌজার শরণাপন্ন হয়ে থাকেন।

আপনার কাছে নির্দিষ্ট কোনো এলাকার মৌজা থাকে, তবে আপনি সেই এলাকার যে কোনো জমির দাগ নম্বর, খতিয়ান এবং জমির মালিকানা যাচাই করতে পারবেন।

মৌজা কিভাবে বের করবো?

যে কোনো জমির মৌজা ম্যাপ বের করার জন্য আপনি সরকারের ভূমি অফিসে যোগাযোগ করার মাধ্যমে কাঙ্খিত মৌজা ম্যাপটি পেতে পারেন।

তাছাড়া, প্রযুক্তির এই যুগে ডিজিটাল পদ্ধতিতেই অনলাইনে মৌজা ম্যাপ দেখা যায় এবং সংগ্রহও করা যায়। আপনি যদি একজন বাংলাদেশী হয়ে থাকেন, তবে আপনি খুবই সহজেই নিজ ঘরে বসেই বাংলাদেশের যে কোনো জায়গার মৌজা অনলাইন থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

তাছাড়া, আপনি যদি একজন ভারতীয় নাগরিক হন, তবে আপনিও আপনার সরকারের ভূমি অফিসে যোগাযোগ করার মাধ্যমে কাঙ্খিত মৌজা ম্যাপটি পেতে পারেন।

মৌজা ও গ্রামের পার্থক্য কি?

বিংশ শতাব্দীতে মৌজা শব্দটি ব্যবহৃত হতো সামাজিক একক গ্রামের বিকল্প নাম হিসেবে এবং এই নামটি বেশ জনপ্রিয়তাও লাভ করেছিল।

গ্রাম হলো সামাজিক একক। আর মৌজা হলো প্রশাসনিক একক। বেশ কয়েকটি জনবসতি বা পরিবার মিলে একটি গ্রাম হয়। আবার বেশ কয়েকটি মৌজা মিলে একটি ইউনিয়ন হয়।

সমাজের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গ্রাম ব্যবহার করা হয়। আর জায়গা-জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মৌজা ব্যবহার করা হয়। এটাই মূলত মৌজা ও গ্রামের পার্থক্য।

জমির মৌজা রেট কত টাকা?

সারাদেশে মৌজা ভিত্তিক জমির মূল্য ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যায় নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ, শহরের জায়গার মূল্য আর গ্রামের জায়গার মূল্য এক নয়।

ঠিক একইভাবে মৌজার রেটও নির্ধারণ হয় জমি ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্য দিয়ে। অর্থাৎ, শহরের জমির মৌজা রেট আর গ্রামীণ এলাকার জমির মৌজা রেট এক হবে না।

একটি মৌজাতে এক বছরে যে পরিমাণ জমি একে অপরের মধ্যে ক্রয় বিক্রয় হয়েছে, সেখানে জমি হস্তান্তরে যেই মূল্য নির্ধারণ করা রয়েছে সেই মূল্যের ভিত্তিতে মৌজার রেট নির্ধারণ করা হয়।

মনে করেন, এক বছরে একটি মৌজার মধ্যে ৫০০টি দলিল তৈরি করা হয়েছে এবং ৫০০ টি দলিলে মোট জমির পরিমাণ হলো ২০,০০০ শতাংশ। আবার ৫০০ টি দলিলে মোট ২০,০০০ শতাংশ জমির হস্তান্তরিত মূল্য ধরা হয় ৩০০ কোটি টাকা।

এই হিসেবে ৩০০ কোটি টাকাকে ২০,০০০ শতাংশ দিয়ে ভাগ করলে যা ফলাফল আসবে তাই হচ্ছে জমির শতাংশ প্রতি পরবর্তী বছরের জন্য ঐ মৌজার রেট।

এভাবেই মূলত জমির মৌজা রেট নির্ধাণ করা হয়। মৌজা রেট বলতে এক কথায় সম্পত্তির সর্বনিম্ন বাজারমূল্যকে বুঝানো হয়। এই বিষয়ে আরো জানতে আপনার নিকটস্ত কোনো আইনজীবীকে প্রশ্ন করতে পারেন।

গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু কথাঃ

প্রিয় পাঠক, আপনি যদি পুরো আর্টিকেলটি পড়ে থাকেন তবে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন মৌজা কিভাবে কাজ করে এবং জমির মৌজা রেট নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে।

আপনি যদি কখনো জমি ক্রয়-বিক্রয়ের মতো লেনদেনে যান, তবে অবশ্যই মৌজা সহ জমি সংক্রান্ত আরো বিষয়াদি সম্পর্কে জেনে রাখা উত্তম। এতে করে আপনি বিভিন্ন সমস্যার সহজেই সমাধান করতে পারবেন।

যাইহোক, আশাকরি এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য খুবই হেল্পফুল হয়েছে। তথ্যগুলো যদি আপনার উপকারে আসে তবে আপনার প্রিয়জনদের মাঝে আর্টিকেলটি শেয়ার করুন। তারাও জমি সংক্রান্ত জ্ঞানে সমৃদ্ধ হোক।

সবার প্রতিই শুভ কামনা রইলো। আপনার যদি আরো কোনো প্রশ্ন থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট করতে ভুলবেন না। আমি যথাসাধ্য আপনার প্রশ্নের উত্তর দেবো ইনশাআল্লাহ।

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

Add comment

error: Content is protected !!