আয়িশা লুবাইনা এর কবিতা

আয়িশা লুবাইনা-এর একগুচ্ছ ছড়া-কবিতা

বৃষ্টি

বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
টিনের চালে বাজায় নূপুর
সকাল কিংবা মধ্যদুপুর
মাঝরাতেও ঝুমুর ঝুমুর।

বৃষ্টি নামে সন্ধ্যাবেলায়
ছোট্ট খুকি আঁচল তলায়
মন মজে না অন্য খেলায়
ব্যস্ত হয়ে কদম মালায় ।

বৃষ্টি ভেজায় মনের দেয়াল
খোকার কী যে একলা খেয়াল
যায় যে টেনে স্বপ্ন-জোয়াল
চোখের কোণে ঘুমের সওয়াল।

বৃষ্টি জলে সজীব সবুজ
তরুণ মনে ইচ্ছে অবুঝ
দূর আকাশে মেঘের ত্রিভুজ
কেমন করে হয় যে নিখোঁজ।

মায়াজাল

দুঃসময় আজ দ্বারে দ্বারে
অচল জীবন চাকা,
এই তো জীবন খোদার শুধু
তাঁর হুকুমেই থাকা।

কোথায় গেল মান বাঁচানো
সমাজ-রীতির খেলা,
আজ যে শুধু তাঁর চরণে
কপাল ঠোকার মেলা।

বড়াই করার অবুঝ মনে
খুব হতাশা জাগে,
দম বুঝি হায় গেল গেল
গুছিয়ে নেবার আগে।

খোদার দয়া খোদার মায়া
ভরসা করে খুব,
তাঁর রাজি কামাই করে
মোহের জলে ডুব।

কুদরত যদি বুঝতো মানুষ
খুঁজতো তাকে সদা,
মিথ্যে সুখের মায়াজালে
পড়ত হাজার বাধা।

>> এই বইটি প্রতিটা যুবক-যুবতিকে পড়ার উচিৎ

মোহ

দেখো, তুমি আজ কোথাও খুঁজে পাওনি ঠাঁই,
মিথ্যে মায়াজাল মন জুড়ে বেঁধেছিল
পর বলতে হয় তো কিছু নাই।

আশ্রয়হীন আশা আর ভালোবাসা
তোমাকে ঠকিয়েছে স্বপ্ন সীমাহীন,
বোকার মতই স্বর্গলাভ কর‍তে চাইলে
বিনিয়োগ ছাড়া লাভ হয় কোনোদিন?

দেখো, মায়ার কারাগারে বন্দী তুমি
ইচ্ছের দামটাই সবচে’ দিলে বেশি,
প্রতারিত হয়েও বারবার, কেন
প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছিলে বেহিসেবি।

তোমার তুমি এখন ফুরিয়ে গেছ
আঁকড়ে ধরার নেই কোনো সম্বল
হিসাবের খাতাটাই নাড়াচাড়া কর
অসুস্থ সময় মারতে থাকুক ছোবল।

অতীত

আমি কখনো অতীত ভুলিনি।
এগিয়ে যেতে যেতে আমি
বার বার পিছনে তাকাই।
আমার কষ্টগুলো দাঁড়িয়ে আছে
আমাকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়।

সেই অবহেলা, কথার খোঁটা হজম,
দিনভর খেটে যাওয়া, ক্লান্ত হওয়া,
এগুলোই আমার অতীত।
বারবার হাতছানি দেয়।

আমার ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন ছিল না,
ছিল বাস্তবতাকে জয় করার তীব্র আকাংখা।
এমনই আমার অতীত।
খেটে খাওয়া জীবনের প্রথম অধ্যায়।

আমি এঁকেছি ভবিষ্যৎ বলে এক চিত্র।
রং দিতে দিতে আমার বর্তমান পেরোয়।
আমি আশাবাদী এক সত্তা।
স্বপ্নের নির্মাতা।
আমি অতীত ভুলিনি।

উপলব্ধি

ইচ্ছেমতো দাও যে বকা
তুলো গায়ে হাত,
আমার মা তো ভীষণ বোকা
সরল নারীর জাত।

তোমার বাড়ির রসুইঘরে
কাটিয়ে দিন -রাত,
আমার মারও হাতটা পুড়ে
রাঁধতে গিয়ে ভাত।

তোমার পুরো পরিবারের
রাখতে যে খবর,
আমার মায়ের পাতটা খালি
খেতে সবার পর।

সময়মত কাজ না হলে
রাগ দেখাও সে কি,
আমার মা কি তোমার বাড়ির
ঠিকা বুয়া- ঝি?

তোমার মায়ের বড় গলা
সংসারের প্রধান,
আমার মায়ের খেটে যাওয়া
সব ঋতুই সমান।

তোমার বোনের সুখের খবর
ভালো লাগার নাম,
আমার মায়ের আঁচল ছেঁড়া
মুছতে মুছতে ঘাম।

বাবা তুমি মহারাজা
তোমার যত দাম,
আমার মায়ের ধৈর্য বলে
তুমি সফলকাম।

আমার মায়ের দুঃখ তুমি
বুঝবে অনেক পর।
তোমার ঘরের কন্যা যখন
যাবে অন্যের ঘর।

>> বাছাইকৃত দেশপ্রেম-এর কিছু কবিতা

আবদার

তুমি কবি আর আমি তোমার কবিতা।
আমাকে সাজাবে তুমি ছন্দে।
দুই পয়সার আলতা এখন
বাজারে পাওয়া যায়না।
আগের মত দিনক্ষণ ঠিক করে
নদীর ধারে কোন হাট বসে না,
যেখান থেকে লাল টুকটুকে শাড়ি কিনবে।

অন্ত্যমিল হতে হবে নির্ভুল।
কবি, তোমার কবিতা বলে কথা।
আমি তো আর তোমাকে শপিংমলে নিয়ে যাবো না।
অযথা বায়না করবো না।
নায়িকাদের মত শাড়িটা আমার লাগবে না।
মেকাপ তো আমি নিই না।

আমাকে সাজাবে তুমি মনোমুগ্ধকর।
দুই গজ ফিতা আর একটা ন্যাচারাল লিপস্টিক।
আর কিছু লাগবে না।
শুধু শেষ চরণে থাকুক প্রেম বন্দনা।

কবি, আমি তোমার কবিতা হয়ে হাজার বছর বাঁচতে চাই।

যৌতুক

আমার বাবার নামটা তুলে
যখন তখন গালি,
কিনে দিতে মোটরসাইকেল
পকেট তোমার খালি।

বিয়ের সময় নিলে তুমি
নগদ টাকা আর ফোন,
ফার্নিচারের যোগাড় দিতে
বাবা নিলেন ব্যাংক লোন।

ফ্রিজটাও তুমি করলে আদায়
ওয়াশিং মেশিন বড়,
বছর ভরেই দাওয়াত দাবি
স্বজন সুজন সহ।

রাতে বাবার হয় না যে ঘুম
ভেবে আমার কথা,
তোমার করা বায়না পূরণ
করতে হবে যথা।

মেয়ের বাবা মানতে হবে
দাও যে কত খোঁটা,
বাবার চোখের জলের ভাষা
বাড়ায় মনের ব্যথা।

এমন কঠিন হৃদয় তোমার
ফুঁসতে থাক ক্ষোভে,
বউয়ের গায়ে হাতও তুলো
শ্বশুর বাড়ির লোভে।

সময় তুমি গুনতে থাক
তোমার মেয়েও ঘরে,
জুলুম করে নেওয়ার জ্বালা
সইতে হবে পরে।

রচনায়: আয়িশা লুবাইনা

Add comment