ক্যারিয়ার গঠন

সুখময় ক্যারিয়ার গঠনের সহজ পাথেয় | সহজ গাইডলাইন

ক্যারিয়ার গঠন জীবনের একটি গুরত্বপূর্ণ অধ্যায়। যে অধ্যায়টি প্রতিটি মানুষের সাথে খুবই পরিচিত। সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ নিজের জীবনকে গড়ে তোলতে সাধনায় মেতে আছে। আমরাও সেই পূর্ব পুরুষ-নারীদের সন্তান, তাদেরই অনুসারী। ভবিষ্যত জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ এবং পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা আমাদের সকলেরই স্বপ্ন। সবকিছুরই গোড়াবৃত্তি হলো সঠিকভাবে ক্যারিয়ার গঠন। আর তাই সুখময় ক্যারিয়ার গঠনের সহজ পাথেয় নিয়ে আজকের আলোচনা।

ক্যারিয়ার মানে জীবন গঠন। মানুষের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন বা স্বপ্ন পূরণের কঠিন প্রতিজ্ঞা ও সাধনার সমন্বয়কে ক্যারিয়ারের পাথেয় বলা যায়। জীবন গঠনে চাই ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা! দৃঢ় প্রত্যয়ী হওয়ার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন হলো স্বপ্ন ও জীবনের লক্ষ্য নির্ণয়। যথাযথ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্যারিয়ার গঠনের অন্যতম উপাদান। ব্যক্তি জীবনে ভালো উদ্যোগ, কাজের প্রতি আগ্রহ, সততা ও পেশাগত নৈতিকতার মাঝেই একটি সুন্দর জীবন গড়ে উঠে।

আত্মবিশ্বাস

ক্যারিয়ার গঠনে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার গুরুত্ব

আত্মবিশ্বাস মানে আত্মপ্রত্যয়। অর্থাৎ নিজের শক্তিমত্তা, জ্ঞান, সক্ষমতা ও যোগ্যতায় দৃঢ় বিশ্বাসকেই আত্মবিশ্বাস বলে। আত্মবিশ্বাস এমন একটি বিষয়ের নাম, যদ্দারা যেকোনো মানুষকে সবসময় দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাহায্য করে। আত্মবিশ্বসীরা নিজ শক্তিমত্তা ও সক্ষমতার দৃঢ় প্রত্যয়ী হয় বলে কখনই পিছু হটে না। সব ক্ষেত্রেই তারা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন।

যাদের আত্মবিশ্বাস বেশি তারা লক্ষ্য নির্ধারণে সবসময় অগ্রগামী হয়ে থাকে। কারও তোয়াক্কা করে বা কারো নেতিবাচক মন্তব্যে কখনই পথবিচ্যুত হয় না। তারা যেকোনো কাজে সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় বলে সহজেই সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়। এটাই হলো আত্মবিশ্বাসীদের প্রধান হাতিয়ার।

আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পাশাপাশি আত্মসচেতনতার প্রতি জোরদার

আত্মসচেতনতা এমন একটি গুণের নাম, যা প্রশংশার অপেক্ষা রাখে না। আত্মসচেতন ব্যক্তিকে কখনই বড় বিপদ বা হতাশা স্পর্শ করতে পারে না। কেননা তারা নিজেদের ভালো-মন্দ সম্পর্কে অবহিত থাকেন। আর তাই বিপদ-আপদ সহজেই তাদের গ্রাস করে না। সমাজের মানুষগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুখী ও সহজ জীবনযাপন তারাই করে, যারা নিজে আত্মসচেতন এবং পরিবার পরিজনদেরও আত্মসচেতনতার পথ দেখায়।

ক্যারিয়ার গঠনে আত্মসচেতনতার ভূমিকা গুরুত্বের সাথে সবাইকেই গ্রহণ করতে হবে। জীবন চলার পথে অনেক সিদ্ধান্তই নিতে হয়।

আত্মসচেতনতা

আত্মসচেতন হওয়ার পরও সব সিদ্ধান্তই সুফল বয়ে নাও আনতে পারে। তবে অবশ্যই কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সিদ্ধান্তের বিষয়টি এনালাইসিস করে দেখতে হবে। তবে প্রতিটা সিদ্ধান্তের অর্জনের দিকটা ভারী হবে। এভাবে চললে সমাজের চোখে সম্মানের চিলেকোঠায় স্থান পাওয়া সম্ভব।

আত্মপ্রত্যয়ী হওয়ার জন্য শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা গগণচুম্বী বলা যায়। কেননা শিক্ষাই মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগ্রত করে। শিক্ষা ছাড়া আত্মোপলব্ধি করা খুবই কঠিন। সহজ ক্যারিয়ার গঠনে আত্মোপলব্ধির গুরুত্ব অপরসীম। শিক্ষার মাধ্যমেই আত্মপ্রত্যয় ও আত্মসচেতনতা বৃদ্ধি পায়। ক্যারিয়ার গঠনে সহযোগি হিসেবে শিক্ষাই হতে পারে পরম বন্ধু।

এবার নিজেকে প্রশ্ন করুন

একজন মানুষের সফলতা বুঝা যায় তার অর্জন থেকে। ক্যারিয়ার হলো অর্জনের লক্ষ্যে। আমার জীবনে আমি আদৌ কিছু করতে পেরেছি? আমার সফলতা কতটুকু? বাবা-মায়ের উত্তরাধিকারী সম্পদের ভাগ দিয়েই আমাকে সফলতার দাবিদার মনে করছি না তো?

জন্মসূত্রে আমি ধনাঢ্যশালী পিতার সন্তান। আমার বাবা অঢেল সম্পত্তির মালিক। আমার বাবার এই আছে, সেই আছে। এখন নিজেকে প্রশ্ন করুন তো, আপনার অর্জনের কী আছে? বাবা-মা থেকে পাওয়া সম্পদের অর্জনকারী কেবল বাবা-মা। আমি শুধু সেই সম্পদের ভোক্তভোগি। মালিক নই।

তাই প্রতিটি মানুষের নিজস্ব অর্জনের জন্য লক্ষ্য নির্ণয় করা জরুরি। লক্ষ্য নির্ণয় ছাড়া কখনই ক্যারিয়ার গঠনের স্বপ্ন দেখা যায় না। প্রতিটি মানুষই ক্যারিয়ার গঠনে জীবন যুদ্ধের সৈনিক। একজন প্রকৃত সৈনিক কখনই জীবনের কাছে হার মানে না। আত্মনির্ভরশীলতা ও বুদ্ধির মধ্যদিয়েই লড়ে যায়।

অন্যের উপর নির্ভরশীলতা স্বকীয়তা নষ্ট করে দেয়। এমন মানুষ কখনই সফলতার মুখ দেখতে পারে না। আত্মসচেতন ব্যক্তি অন্যের উপর নির্ভরশীল নয়। তাই নিজের অর্জনকে মূল্যায়ন করে। এভাবেই আত্মবিশ্বাসের দৃঢ়তা বেড়ে যায়। ফলে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো সহজেই সফল হয়।

সফলতা

কর্মের প্রতি ভালোবাসা, আস্থাশীলতা ও মহানুভবতা

সুখময় ক্যারিয়ার গঠনের সহজ পাথেয় হলো কর্মের প্রতি ভালোবাসা রাখা। কর্ম যতই ছোট হোক তুচ্ছ ভাবা যাবে না। নিজ কর্মকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য সকলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। কর্মক্ষেত্রে যদি এই মহৎ গুণটির সঠিক ব্যবহার করা যায়, তবে লক্ষ্য অর্জন খুবই সহজ হয়ে যাবে।

এই পৃথিবীতে কেউ কাউকে সফলতা দিতে পারে না। নিজেকেই সফলতা অর্জন করে নিতে হয়। তাই নিজের প্রতি আস্থা রেখে গন্তব্যের পথে হাটতে হবে। প্রকৃতপক্ষে এটাই হলো ক্যারিয়ার গঠনের সহজ পথ।

জীবন হয়ত কখনো কখনো মেঘাছন্ন আকাশের মতো কালো মেঘে ছেয়ে যাবে। আবার কখনো ঝড়, বাতাসের ঝাপটায় বিভিন্ন কষ্টের সম্মুখীন হতে হবে। এই সবকিছুকেই জীবনের সাথে মানিয়ে নিতে হবে। সুখ-দুঃখ মিলিয়েই জীবন গঠন করতে হয়।

গাছ যেমন হাজারো কষ্টের মাঝে বেড়ে উঠে। নদী যেমন হাজারো বাঁধার মাঝে বয়ে যায়। পাহাড় যেমন ঝড় ঝাপটাই মাঝেও দাঁড়িয়ে থাকে। মাটি যেমন অগণিত বুক ছেড়া কষ্টের মাঝেও নীবর থাকে। জীবনকেও এভাবে গুছিয়ে নিতে হবে।

যে জীবনে সুখ-দুখের সংমিশ্রণ নেই, সে জীবনের মূল্য কী?! সেটা তো জীবনই নয়! বেঁচে থাকতে হলে কষ্ট বহনের জন্য ফেরিওয়ালা সাজতেই হবে। এটা ছাড়া সফলতার হাতছানি সুদূর ভবিষ্যতেও পাওয়া সম্ভব নয়।

স্রষ্টার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার কেবল (মানুষ) আমরাই। পশুপাখিরা অগণিত কষ্টের ডুবায় পড়েও আগামীদিনে সফলতার মাঝে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখে। তবে শ্রেষ্ঠজীব হয়েও আমার কেন নয়! ভালো করে জীবন সাজানোর নামই তো ক্যারিয়ার। এই ছোট্ট জীবনটাকে নিয়েই তো সকলের স্বপ্ন।

পৃথিবীতে কাউকে কষ্ট দেওয়ার জন্য তো আমরা আসিনি। তবুও হিংসা- বিবাদের বিরান গৃহে কেন আমাদের বসবাস। নিজের এই ছোট্ট জীবনটা সাজাতে কেন অন্যের ক্ষতিতে আমি লিপ্ত। আমার আচরণের প্রতি কি কখনই পরিতাপ হয় না?

আমি অন্যের কর্মের এনালাইসিস নিয়ে ব্যস্ত। নিজের জীবনের এনালাইসিস করার সময়ই নেই। কিন্তু কেন? জীবনের শেষ মুহুর্তে ভেবে দেখুন তো কী আমার সফলতা? যারা অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকে, তাদের জীবনটা ব্যর্থতাই ঠেসে যায়। এই পরিস্থিতিতে আমার ক্যারিয়ারের কী হবে?

সফল জীবন

প্রিয় ভাই-বোন! আপনাকেই বলছি…

অন্যকে নিয়ে চিন্তা করে যে সময়টা ব্যয় হয়, সেই সময়টুকু নিজেকে নিয়ে চিন্তা করুন। নিজেকে নিয়ে ভাবুন। নিজেকে জানতে চেষ্টা করুন। হৃদয়ের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ করুন। কথা দিলাম, মহান আল্লাহ আপনাকে সফলতার পথ দেখাবেন। ভালো কর্মের ফলাফল সমসময় ভালো হয়। এই চিন্তন ক্যারিয়ার গঠনে আপনাকে সফলতার পথ দেখাতে কৃপণতা করবে না।

আশাকরি আমাদের ওয়েবসাইটের সম্মানিত সকল দর্শনার্থীদের জন্য এই লেখাটি সুখময় ক্যারিয়ার গঠনের সহজ পাথেয় হিসেবে সহযোগি হবে ইনশাআল্লাহ।

Add comment