রমজান মাস নেকি হাসিলের সুবর্ণ সুযোগ

রমজান মাস নেকি হাসিলের সুবর্ণ সুযোগ

রমজান মাস নেকি হাসিলের সুবর্ণ সুযোগ। প্রতিটি মুমিন বান্দা দীর্ঘ এগারো মাস প্রতীক্ষা করে এই মাসটির জন্য। করুণাময়ের পক্ষ হতে এই অপার দান সবার জন্যই বিশেষ রহমত। গোনাহ মাফ ও স্রষ্টার নৈকট্য লাভের এক উপযোগি সময়। একজন মুসলমান-মুমিন বান্দার অন্তিম ইচ্ছা তো এটাই…!

আমরা সকলেই আদম সন্তান। আর নবী-রাসূল ব্যতীত প্রতিটি আদম সন্তানই শয়তানের ফাঁদে পড়ে অপরাধ বা গোনাহ করে। আমরা তার বিপরীত নই। তবে মানব জাতির শ্রেষ্ঠত্ব এখানেই…! কেননা, মহান আল্লাহ মানব জাতিকে ভুল করা / ভুল শোধরানোর ক্ষমতা দিয়েছেন। এজন্যই সৃষ্টিতথ্যে ফেরাশতাগণদের উপরের স্থানে আমরা আশরাফুল মাখলুকাত।

বিতাড়িত শয়তানের ওয়াদা হলো মানবজাতিকে পথভ্রষ্টের দিকে নিয়ে যাওয়া। গোনাহের কাজে লিপ্ত করানো। আর পরাক্রমশালী রবের ওয়াদা হলো বান্দাকে ক্ষমা করে সঠিক পথ প্রদর্শন করানো। এজন্যই রমজান মাস আমাদেরকে তিনি উপহার দিয়েছেন। কিন্তু রমজান মাস কেন?

২৯ মার্চ ২০২১ পবিত্র শবে বরাত

রমজান এমন একটি বরকতময় মাস, এই মাসে অভিশপ্ত শয়তানকে করুণাময়ের পক্ষ হতে শৃংখলিত করা হয়। ফলে সে আর আল্লাহর দ্বীনে প্রতিষ্ঠিত বান্দাদেরকে কুমন্ত্রণা দিতে পারে না। এই মহা-সুযোগে প্রতিটি মুমিন বান্দাই ক্ষমার আশায় নেকি অর্জনে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। তাই রমজান মাস নেকি হাসিলের সুবর্ণ সুযোগ।

রমজান এতটাই ফজিলতপূর্ণ মাস, এই পবিত্র মাসের উসিলায় জাহান্নামের সকল দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। রমজান মাস চলাকালীন তার একটি দরজাও খোলা হয় না। এমনিভাবে জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেওয়া হয়, একটি দরজাও বন্ধ করা হয় না। রমজানের দিনগুলোতে মহান স্রষ্টা অগণিত জাহান্নামিকে ’জাহান্নাম’ থেকে মুক্তি দেন। এই দৃশ্যগুলো দেখে শয়তান খুবই লজ্জা অনুভব করে। এটাও দয়াময় স্রষ্টার একটি নিদর্শন।

রমজান মাসে রোজাদারের সমস্ত গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। মুমিনবান্দার প্রতিটা নেক আমলের ছওয়াব সত্তরগুণ বৃদ্ধি করা হয়।

রমজান এতো বরকতময় কেন?

  1. মহা-গ্রন্থ কুরআন নাজিলের মাস রমজান।
  2. রমজান মাসকে ফরজ রোজার মাধ্যমে বিশেষিত করা হয়েছে।
  3. লাইলাতুল ক্বদর দ্বারা রমজানকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। ( লাইলাতুল ক্বদর এমন একটি রাত যা হাজার মাসের চেয়েও অধিক উত্তম।)

রমজান মাস নেকি হাসিলের সুবর্ণ সুযোগ

সকলেই দুনিয়াবি জীবন গঠনের কাজে ব্যস্ত। সারা বছর আমাদের প্রত্যেকেরই বিভিন্ন কর্ম ব্যস্ততার অনেক ছাপ থাকে। জিবিকা অর্জন ও স্বপ্ন পূরণের প্রতিযোগিতায় ব্যস্ততার মাঝে কেটে যায়। যার হেতু স্রষ্টার উপাসনা থেকে  আমরা বড়ই ঊদাসীন হয়ে থাকি।

কিন্তু রমজানে কাজ-কর্মের ছাপের পরিমাণ তুলনামূলক কম হয়। এটাও স্রষ্টা প্রদত্ত একটি রহমত। হেদায়েতপ্রাপ্ত মুমিন বান্দারা এই সময়টা কিছুতেই বৃথা যেতে দেয় না। তাদের মাঝে বিরামহীন ভাবে শুরু হবে রবের তোষামোদের দুর্দান্ত প্রতিযোগিতা।

মহান আল্লাহ আমাদেরকেও তাদের দলে স্থান দিন। রমজানের পরিপূর্ণ বরকত দিন। আমাদের পাপ মার্জনা করুন। আমিন

Add comment