উইন্ডোজ ১১ এর সুবিধা-অসুবিধা

উইন্ডোজ ১১ এর সুবিধা এবং অসুবিধা

Microsoft উইন্ডোজ ১১ এর Beta ভার্সনটি প্রাথমিকভাবে রিলিজ হয় 24 জুন, 2021 তারিখে। তার কিছুদিন পরপরই ফাইনাল ভার্সনটি অফিসিয়ালি বাজারজাত করা হয়। এরই মধ্যে সারা বিশ্বে কম্পিউটার এবং উইন্ডোজ মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে বেশ সাড়া পড়ে যায়। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১১ এর সুবিধা এবং অসুবিধাগুলো যদি জানতে চান তবে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য।

উইন্ডোজ ০ এর চেয়ে আরও চিত্তাকর্ষক এবং অপটিমাইজেশন করা হয়েছে উইন্ডোজ ১১ কে। তাছাড়া উইন্ডোজ ০ এর চেয়ে অনেক বেশী ফিচার সমৃদ্ধতায় Windows 11 বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আপডেট এবং চাহিদা সম্পূর্ণ অপারেটিং সিস্টেম।

আপনি যদি মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ০ ব্যবহার করে থাকেন, তবে অবশ্যই জানেন যে এই উইন্ডোজটি কত বেশী অপটিমাইজ। ব্যবহারকারী হিসেবে আমি পুরো পুরিই সেটিস্ফাইড।

উইন্ডোজ ১১ প্রাথমিক ভাবে রিলিজের তারিখ ঘোষণা করার পর এর বেটা ভার্সন বা ডেভেলপার ভার্সনটি অনেকেই কম্পিউটার /ল্যাপটপে সেটআপ দিয়েছিলেন। তখন অনেক টেক রিভিউয়াররা এটি নিয়ে প্রশংসা মূলক মন্তব্যের পাশাপাশি বিরূপ মন্তব্যও করতে দেখেছি।

তবে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো ডেভেলপার ভার্সন কিন্তু সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য না। এটি সাধারণত এডভান্স ব্যবহারকারীদের থেকে ফিডব্যাক পাওয়ার উদ্দেশ্যে এবং উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম এর ল্যাগ গুলো ডিফাইন্ড করার জন্যই মূলত প্রকাশ করা হয়েছিল।

যাইহোক, এখন উইন্ডোজ 11 এর ফাইনাল ভার্সন বাজারে চলে এসেছে। এখন এটি আর ধরা ছোঁয়ার বাইরে নয়, বরং আপনার হাতের নাগালেই আছে। ঠিক এই মূহুর্তে যে কেউ ব্যবহার করতে পারবে।

উইন্ডোজ ১১ এর সুবিধা এবং অসুবিধা

উইন্ডোজ 11 অপারেটিং সিস্টেমটিকে ব্যবসা, ব্যক্তিগত এবং গেমিং পারপাসে ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে অপটিমাইজড উইন্ডোজ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

এটিকে অনেকেই উইন্ডোজ 10 এর একটি আপগ্রেড ভার্সন হিসেবে আখ্যা দেয়। তবে Windows 11 এর কিছু উল্লেখযোগ্য সুবিধা রয়েছে যা একজন ব্যবহারকারীকে অনেক বেশী এডভান্টেজ ‍দেবে।

তবে প্রত্যেকটি জিনিসেরই সুবিধা-অসুবিধা থাকে। এইদিক বিবেচনায় ‍উইন্ডোজ ১১ এর কিছু অসুবিধা থাকলেও ব্যবহারকারী হিসেবে আপনাকে অনেক বেশী সুবিধা প্রদান করবে।

চলুন এক এক করে জেনে নিই উইন্ডোজ 11 এর সুবিধা গুলো কি কি।

১. গ্রাফিক্যাল পরিবর্তন Windows 11 এর প্রধান সুবিধা

স্টার্ট বোতাম এবং স্টার্ট-আপ সাউন্ড সহ উইন্ডোজ 11-এ থিম সেটটি নতুন এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন।

উইন্ডোজ ১১ ডিফল্ট ইউজার ইন্টারফেসে একটি বিশাল উন্নতি হয়েছে যা ব্যবহারকারীর ডিভাইসের স্ক্রিনের সাথে অটোমেটিক ভাবে খাপ খায়।

একটি ফ্লোটিং লগইন স্ক্রিন, নতুন করে ডিজাইন করা টাস্কবার, অ্যাডাপটিভ কার্সার, ফ্রেশ আইকন এবং সিস্টেম ট্রে এবং কাস্টমাইজড নোটিফিকেশন ট্রে আরও আকর্ষণীয় হয়েছে।

স্টার্ট বোতামটি ডিফল্ট ভাবে টাস্কবারের মধ্যে থাকবে যা আপনি চাইলেই আপনার মতো করে ডানে-বামে নিতে পারবেন । এই চমৎকার ফিচারটি অন্য কোন উইন্ডোজে নেই।

২. উন্নত টাস্ক ভিউ

উইন্ডোজ 11 এর রয়েছে একটি মাল্টি-উইন্ডো টাস্ক প্যান, যা ব্যবহারকারীদের জন্য উইন্ডোজ ১১ এর সুবিধাগুলিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ, ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই যে কোন মাল্টি টাস্ক স্কিন উইন্ডো প্যানের মধ্যে স্যুইচ করতে পারবেন।

Windows 11-এর মাল্টিটাস্কিং ফিচারটি ব্যবহারকারীদের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় বটে। বিশেষ করে যারা খুব বেশী মাল্টিটাস্কিং করেন তারা এই ফিচারটিকে খুব বেশী উপভোগ করবে বলে মনে করি।

Windows 11 আপনার নির্বাচিত সেটিংস নিজ থেকে মনে রাখবে, যাতে আপনি সহজেই যে কোন কাস্টম ভিউতে স্যুইচ করতে পারেন। এতে একটি সুবিধা হলো আপনাকে নিজ থেকে পুনরায় সক্রিয় উইন্ডোগুলিকে সাজাতে হবে না।

৩. ট্যাবলেট মোড

Windows 10 এর দুর্বল ট্যাবলেট মোডের কারণে ব্যবহারকারীরা অনেক বেশী নেতিবাচক মন্তব্য করেছে। তবে Windows 11 -এ একটি স্বজ্ঞাত ট্যাবলেট মোড রাখা হয়েছে, ব্যবহারে দারুণ এক্সপেরিয়েন্স পাবেন।

এছাড়াও, ব্যবহারকারীরা ভয়েস টাইপিং , টাচ স্ক্রিন, কাস্টম কীবোর্ড সেটিংস এবং ডিজিটাল পেনের মাধ্যমে স্ক্রিনে কাজ করতে পারবেন।

উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেমটিতে থাকবে মাইক্রোসফ্ট স্টোর, অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস সাপোর্ট, অ্যামাজন অ্যাপ স্টোর ইত্যাদি।

৪. ইনস্ট্যান্ট-সার্চ এন্ড গেমিং

উইন্ডোজ ১১ এর সুবিধাগুলোর মধ্যে ইনস্ট্যান্ট-সার্চ এন্ড গেমিং ফিচারটি খুবই চমৎকার।

উইন্ডোজ 10-এ একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যার বা সেটিংস খুঁজতে আপনাকে Type here to search বাটন ব্যবহার করতে হতো।

অন্যদিকে উইন্ডোজ ১১ এর বেলায় ইন্সটা-সার্চ ব্যবহারকারীরা ক্যোয়ারী টাইপ করার সাথে সাথে ফলাফল দেখতে সক্ষম হবে। এমন ভাবে ফলাফল প্রদান করে যেখান থেকে আপনি যে কোন জিনিস ইনস্ট্যান্ট খুঁজে পাবেন।

উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের একটি ভালো গেমিং অভিজ্ঞতার জন্য, Xbox এবং Microsoft Store কে একীভূত করা হয়েছে এবং উইন্ডোজ 11 এর পারফর্মেন্সে বুস্ট এসেছে। যা গেমিং এক্সপেরিয়েন্স আরো সমৃদ্ধ করবে।

৫. উইন্ডোজ আপগ্রেড

আপনি যদি লাইসেন্স সহ উইন্ডোজ ব্যবহার করে থাকেন, তবে যে কোন উইন্ডোজ থেকে সম্পূর্ণ ফ্রিতেই উইন্ডোজ ১১ এর মধ্যে মুভ করতে পারবেন।

এতে আপনার কোন প্রকার এক্সট্রা টাকা দিতে হবে না। আবার আপগ্রেড করতেও কোন প্রকার ঝামেলা হবে না।

এগুলো ছাড়াও উইন্ডোজ ১১ ব্যবহারকারীরা উল্লেখযোগ্য বিভিন্ন সুবিধা উপভোগ করতে পারবে।

যেমনঃ স্টার্ট মেনুর নতুন ডিজাইন, স্নেপ লেআউট, আবহাওয়া বার্তা, ট্রেন্ডিং নিউজ, ভিডিও কল, ভিডিও কনফারেন্স বা চ্যাটিং ইত্যাদি। তাছাড়া এন্ড্রোয়েড অ্যাপগুলো নেটিভলি উইন্ডোজ 11 -এ রান হবে।

Windows 11 এর অসুবিধাগুলো কি কি?

অনেক ব্যবহারকারীর জন্য উইন্ডোজ 11 এর সম্ভাব্য খারাপ দিক রয়েছে যা অনেক ব্যবহারকারীর জন্য বড় অসুবিধার কারণ।

সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা ছাড়াও, আরও কিছু জিনিস রয়েছে যা ব্যবহারকারীরা উইন্ডোজ 11-এ অনুপস্থিত বোধ করতে পারেন।

উইন্ডোজ 11 ব্যবহারকারীদের কিছু সাধারণ অসুবিধার কথা নিচে বলা হলো।

১. নির্দিষ্ট সিস্টেমের প্রয়োজনীয়তা

উইন্ডোজ 11 ব্যবহার করতে কমপক্ষে ৮ জিবি র‌্যাম এবং 64 জিবি হার্ড ডিস্ক স্পেস প্রয়োজন হবে।

কম্পিউটারে TPM 1.2 বা উচ্চতর একটি TPM সুরক্ষা সংস্করণ এবং Windows 11 এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার জন্য দুটি বা তার বেশি কোর এবং 1GHz এর চেয়ে বেশী গতিসম্পন্ন প্রসেসর সহ নিরাপদ বুট সক্ষম সমর্থন থাকতে হবে।

এই শর্তগুলো উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের অনেক বড় একটি অংশ নিঃসন্দেহে পূরণ করতে পারবে না। বিশেষ করে যারা লো বাজেটের কম্পিউটার/ল্যাপটপ ব্যবহার করেন, তারা উইন্ডোজ ১১ এর সুবিধা থেকে সম্পূর্ণ ভাবে বঞ্চিত হবে।

আবার ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার/ল্যাপটপ ক্রয় করার জন্য বড় অংকের বাজেট প্রয়োজন হবে। যা অধিকাংশ মানুষের জন্য অনেক বেশী কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

আরেকটি প্রধান সমস্যা হলো গ্রাফিক্স কার্ড, যা Direct X12 এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বা WDDM 2.0 ড্রাইভারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। আর এটি করতে গিয়ে বাজেট বা দাম আরও বেশি হতে পারে।

তাই অধিকাংশ ব্যবহারকারী অন্যান্য উইন্ডোজ থেকে উইন্ডোজ ১১ তে স্যুইচ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সচারাচর প্রশ্নঃ

Windows 11 এর রিলিজ হওয়ার পর থেকে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভিন্ন নতুন নতুন প্রশ্নের উদ্ভব হয়েছে। অনেকেই অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজেন। সচারাচর যেই প্রশ্নগুলো ব্যবহারকারীরা করে থাকেন তা নিচে তুলে ধরা হলো।

উইন্ডোজ 10 ভালো নাকি উইন্ডোজ 11 ভালো?

আপনি যদি উইন্ডোজের সবচেয়ে লেটেস্ট এবং সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্করণ খুঁজে থাকেন, তবে Windows 11 আপনার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।

তাছাড়া যদি Windows ব্যবহারে সবচেয়ে সুরক্ষিত থাকতে চান তাহলে আপনি অন্যান্য উইন্ডোজ থেকে Windows 11-এ মুভ করুন।

উইন্ডোজ ১১ এর সুবিধাগুলোর দিকে লক্ষ্য করে সবদিক বিবেচনায় উইন্ডোজ 10 অনেকটা পিছিয়ে থাকবে।

সিকিউরিটির দিক দিয়েও উইন্ডোজ ১১ অন্যান্য সকল উইন্ডোজ থেকে এগিয়ে থাকবে।

Windows 11 কে TPM চিপ এবং সিকিউর বুট কিভাবে সুরক্ষিত করেছে সে সম্পর্কে মাইক্রোসফট ব্যাপকভাবে কথা বলেছে। আপনি চাইলে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।

উইন্ডোজ 11 কি গেমিংয়ের জন্য ভালো?

Windows 10 এর চেয়ে গেমিং পারফর্মেন্সে Windows 11 অনেক এগিয়ে থাকবে।

কেননা, উইন্ডোজ ১১ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে এবং এমন ভাবে অপটিমাইজ করা হয়েছে যে গেমিং পারফর্মেন্স অনেক ভালো।

Windows 11 এর সুবিধা গুলো কি কি?

1. সুন্দর এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ নতুন ডিজাইন।
2. দুর্দান্ত উইন্ডো লেআউট।
3. ভিডিও গেমের জন্য আপডেট।
4. উন্নত কর্মক্ষমতা।
5. উন্নত মাল্টি-মনিটর কার্যকারিতা।
6. Android অ্যাপস নেটিভলি রান হওয়া।

উইন্ডোজ ১১ প্রাথমিক রিলিজের তারিখ কত?

Windows 11 প্রাথমিক ভাবে রিলিজ হয়  24 জুন, 2021 তারিখে।

উইন্ডোজ ১১ ডাউনলোড করার নিয়ম প্রায় অন্যান্য উইন্ডোজ ডাউনলোডের মতই। এই বিষয়ে বিস্তারিত আর্টিকেল পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

উইন্ডোজ ১১ এর সুবিধা এবং অসুবিধার উপসংহার

উইন্ডোজ 11 অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহারকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করবে কিনা তার উপর যেমন ইতিবাচক মন্তব্য রয়েছে, ঠিক তেমনী টেক রিভিউয়ারদের নেতিবাচক মন্তব্যও রয়েছে।

সহজ কথা হলো হার্ডওয়্যার আপগ্রেড ছাড়া অনেকের পক্ষে Windows 11 সংস্করণটি উপভোগ করা সম্ভব নাও হতে পারে!

উইন্ডোজ 11 ব্যবহার করতে হলে আপনাকে উক্ত অপারেটিং সিস্টেমটির রিকোয়ারমেন্ট মানতেই হবে। নাহয় আপনার কম্পিউটারে উইন্ডোজ 11 সেটআপ দিতে পারবেন না।

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

2 comments

  • ল্যাপটপে উইন্ডোজ 11 সেটআপ দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বলেন ভাই। আর উইন্ডোজ 11 কিভাবে ডাউনলোড করবো এটিও বলুন প্লিজ

error: Content is protected !!