ওয়েব ডিজাইন ক্যারিয়ার

ওয়েব ডিজাইন ক্যারিয়ার

ওয়েব ডিজাইন ক্যারিয়ার: পৃথিবীতে এমন কোনো কোম্পানি নেই, যার একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট নেই। দেশি – বিদেশী সব কোম্পানিরই এক বা একাধিক ওয়েবসাইট রয়েছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিক কোম্পানিগুলো অনলাইনের মাধ্যমে ই-কমার্স ওয়েবসাইটকে ব্যবহার করে তাদের প্রোডাক্ট অনলাইনেই কোটি কোটি ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, আবার ক্রেতারাও ঘরে বসে প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র খুব সহজেই হাতে পাচ্ছে।

শুধু তাই নয়, এখন দেখা প্রায় মানুষেরই ব্যক্তিগত একাধিক ওয়েবসাইট আছে। এভাবে দিন যত পার হচ্ছে ওয়েবসাইটের সংখ্যা ক্রমাগত ভাবেই বেড়ে চলছে।

ওয়েব ডিজাইন ক্যারিয়ার

বিভিন্ন ভাবে ওয়েব ডিজাইনে ক্যারিয়ার বিল্ড করা যায়। সকলেই জানেন, ওয়েবসাইটকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য ওয়েব ডিজাইন করা হয়। আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন জানেন তবে ওয়েব ডিজাইনের উপর সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন উপায়ে সার্ভিস দিতে পারবেন।

আবার নিজস্ব ওয়েবসাইটকে ব্যবহার করে অনেক ভাবেই ইনকাম করা যায়। আর যেটা সবার জন্য সহজতম বিষয়। ব্লগিং, ইকর্মাস, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ওয়েবসাইটের অন্যান্য কন্টেন্টের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করা যায়।

ওয়েব ডিজাইনের জন্য গ্রাফিক্স, অ্যানিমেশন, ছবি ইত্যাদি আরো নানা ধরণের প্রোগ্রামিংয়ের প্রয়োজন। আর এই কাজগুলো সাধারণত সবাই করতে পারে না। একটা ওয়েবসাইটের পূর্ণতাদানে একজন দক্ষ ওয়েব ডেভলপারের প্রয়োজন। কারণ, ওয়েবসাইট ডিজাইনের জন্য বিভিন্ন ধরনের কোডিং নলেজ সম্পর্কে জানা প্রয়োজন হয়। যেমন, HTML, CSS, JavaScript, PHP ইত্যাদি।

আর এইগুলো একজন ওয়েব ডেভলপার ছাড়া সচারাচর সবাই পারে না। আর এজন্যই একটি ওয়েবসাইট তৈরিতে প্রোগ্রামারদের প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে প্রায় জায়গায় সরকারি, বেসরকারি উদ্দোগ্যে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার প্রতিষ্ঠান চালু আছে। যেগুলোতে তিন মাস / ছয় মাসের কোর্সের মাধ্যমে হাজার হাজার ছাত্র -ছাত্রীরা প্রোগ্রামিং শিখছে।

বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ। এদেশের আয়তনের দিক থেকে জনসংখ্যার হার অনেক বেশি। আর জনসংখ্যা অনুয়ায়ী বাংলাদেশে কর্মসংস্থান তেমন নেই। তাই এদেশের বেশীরভাগ মানুষ বেকারত্বের বোঝা বহন করে চলাফেরা করে। উন্নত দেশগুলোতে কর্মসংস্থান অনেক বেশি। তাই বেকারত্বও কম। এজন্যই দেশগুলো অনেক উন্নত। প্রকৃত পক্ষে বলা যায় ‘যে দেশে বেকারত্ব নেই সেদেশ উন্নত হবেই।

স্যাটেলাইট যুগে বিদেশিদের মাঝে প্রায় মানুষই ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে ওয়েবসাইট ভিত্তিক বাণিজ্যকে বেছে নিয়েছে। তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো আজ অনলাইনে ওয়েবসাইট বা সফটয়্যার দিয়ে কন্ট্রোল করা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় ভেসে আসে জেফ বেজোস এবং বিল গেটস নামটি। তারাও কিন্তু ওয়েবসাইট কেন্দ্রিক বাণিজ্যের মাধ্যমেই বিলিয়নার হয়েছেন। যাইহোক, সেদিকে যেতে চাই না। ওয়েব ডিজাইন মোটামুটি কঠিন হলেও এর ফলাফল ভালো।

শেষ কথাঃ

আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন ক্যারিয়ার গড়তে চান তবে নিশ্চিন্তে ওয়েব ডিজাইন শিখে নিতে পারেন। আমাদের দেশেও প্রায় দেখা যায় নবীণ কিশোর – কিশোরিরা ওয়েব ডিজাইনের উপর আউটসোর্সিং, ফ্রিলান্সিং করছে ঘরে বসেই। এটা দারুণ একটা বিষয়। আমি তাদেরকে স্বাগত জানাই।

বাংলাদেশী ওয়েব ডিজাইনাররা বিভিন্ন ধরণের ওয়েবসাইট ডিজাইন করছেন। তারমধ্যে ই-কমার্স ওয়েবসাইট, নিউজপেপার ওয়েবসাইট, পোর্টফোলিও এবং ব্লগ ওয়েবসাইট ইত্যাদি ডিজাইন করছেন। আর এভাবে তারা দেশী-বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানির সাথে কাজ করে অনেক ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জন করছেন।  এই মূহুর্তে এমন অনেক সফল মানুষ রয়েছে, যারা ওয়েব ডিজাইন ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ অর্জন করে নিয়েছে।

আমি মনে করি, অনলাইনকে ব্যবহার করে বাংলাদেশি মানুষের জন্য নতুন একটি কর্মসংস্থান হতে পারে ওয়েব ডিজাইন। আমরা দেখতে পারি দিন দিন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা যত বাড়ছে ততই ওয়েবসাইটের সংখ্যাও বাড়ছে। আর ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য ওয়েব ডিজাইনারের প্রয়োজন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ ধরনের কাজ সময়োগযোগী এবং সৃজনশীলও বটে। তাই জীবন যুদ্ধে এই ক্যারিয়ারে আপনিও অংশ নিতে পারেন।

এই বিষয়ে যদি আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

ItNirman English

Add comment