ব্লগিং কিভাবে শিখব

ব্লগিং কিভাবে শিখব? ব্লগার হওয়ার কৌশল

অনলাইন থেকে আয় করার জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি হলো ব্লগিং। ব্লগিং এর সাথে লক্ষ লক্ষ মানুষ সম্পৃক্ত। ব্লগিং করে টাকা আয় করা যায় এই বিষয়টা সকলেই জানেন। নতুনদের মাঝে অনেকেই জানতে চান ব্লগিং কিভাবে শিখব, কোথায় শিখব? তাদের জন্যই এই আর্টিকেলটি তৈরি করা হয়েছে।

আমিও সাধারণত ব্লগিং করি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে কিছু বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করবো, যেই বিষয়গুলো জানার মাধ্যমে আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার উৎসাহের সাথে শুরু করতে পারবেন।

আপনাকে প্রথমেই বুঝতে হবে ব্লগিং কাকে বলে। ব্লগিং মানে লেখালেখির একটি পেশা। আপনার কাছে যদি লেখালেখি করতে ভালো লাগে, তবে আপনি ব্লগিং করে টাকা আয় করার পাশাপাশি মানব কল্যাণে কাজ করার জন্য সমাজের চোখেও সম্মানিত হবেন।

ব্লগিং কিভাবে শিখব?

ইতোমধ্যেই বলেছি ব্লগিং হলো লেখালেখির পেশা। আপনি যদি লিখতে পারেন তবে আপনি ব্লগিং করতে পারবেন।

ব্লগিং বিষয়টা যতটা সহজ মনে হয়, ঠিক ততটাই কঠিন। তবে ধৈর্যশীল লেখকদের জন্য ব্লগিংকে মোটেও কঠিন বলবো না।

পড়ার সাজেশনঃ
লেখালেখি করে আয় করার নিয়ম
কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো?

আমার ব্লগিং শেখা ও শুরুর অভিজ্ঞতাটা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। আমার বিষয়টা যদি উপলব্ধি করতে পারেন, তবে এখান থেকে আপনি ব্লগিং কিভাবে শুরু করতে পারেন, তার চমৎকার একটি আইডিয়া পেতে পারেন।

আমি লেখালেখির কাজ শুরু করেছিলাম ছোটবেলা থেকেই। এটা হয়ত ২০০৭ সালের কথা।

আমি তখন হিফজ বিভাগে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করি। লেখালেখির শুরুটা হয়েছিল ইসলামিক গজল দিয়ে। আমি তখন বিভিন্ন মাহফিলে গজল গাইতাম এবং নিজেই গজল লেখার চেষ্টা করতাম।

তবে কাঁচা হাতের লেখাগুলোর শব্দচয়ন যদিও যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারতাম না, তবুও আমার বন্ধুদের মাঝে গজল লেখায় এবং গাওয়ায় বেশ প্রশংসিত ছিলাম।

এভাবেই তাদের উৎসাথে লেখালেখি আমার কাছে অতি প্রিয় হয়ে উঠে। হিফজ বিভাগে পড়াশোনার পাশাপশি লেখালেখি করা অনেক বেশী কষ্টের। তবুও ক্লাস রুটিনের বাইরে গজল ও কবিতা লেখার কাজ চালিয়ে যাই। এভাবেই ২০২ সালে পৌছে যাই।

২০২ সালে আমার হিফজ বিভাগের লেখাপড়া শেষ হয় এবং নিজেকে অনেকটা বাঁধাহীন মনে হয়। তখন লেখালেখি আমার জন্য অনেকটা সহজ হয়ে উঠে। তখন আমি ব্লগিং করে টাকা আয় করার বিষয়টা শুনতে পারি।

যদিও তখন ইন্টারনেটে ওয়েবসাইট সেক্টরটি আমার পুরোপুরি অচেনা। পাশে এমন কেহই নেই, যার কাছে জিজ্ঞাসা করে কাজ শেখবো।

ছোট্ট একটা স্মার্টফোন চালাতাম তখন, মনে কৌতুহল জাগলো ব্লগিং কিভাবে শিখব? কোথায় শিখবো? আসলে ব্লগিংটা কি তাও জানা ছিল না তখন।

ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করতে শুরু করলাম। এক পর্যায়ে বুঝতে পারি ইন্টারনেটে লেখালেখি করাকে ব্লগিং বলে।

আমার মনে আছে, তখন ফেসবুককে আমার ব্লগিং করার ওয়েবসাইট হিসেবে মনে করতাম। তবে ইনকাম কিভাবে হয় তা জানা ছিল না।

এভাবে ২০৩ সালের মধ্যেই WordPress .com এর কথা শুনতে পারি। এটাও জানতে পারি WordPress .com দিয়ে ফ্রিতেই পার্সোনাল ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। কৌতুহল আরো বেড়ে গেল।

পড়ার সাজেশনঃ
ঘরে বসে মোবাইলে আয় করার সেরা উপায়
ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কতদিন লাগে?

ঠিক ২০৩ সালেই WordPress .com কে ব্যবহার করে নিজের জন্য একটি পার্সোনাল ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলি এবং আমার লেখালেখি বা ব্লগিং এর কাজ সেই ওয়েবসাইটেই করতে থাকি।

আমার ব্লগিংটা মূলত এভাবেই শুরু হয়। যারা বলেন ব্লগিং কিভাবে শিখব? তাদের বলব আপনারা আমার মতই শিখুন!

তবে ব্লগিং করার জন্য বিভিন্ন নিয়ম রয়েছে, শুরুতে আমি তা ফলো করিনি। ফলে আমার লেখায় কোন কিওয়ার্ড থাকতো না। বিষয়টা এমন যে, লেখালেখিকেই আমার প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে নিয়েছিলাম।

কালের আবর্তনে অনেক কিছুই শেখা হয়েছে। আপনাদেরকেও বলবো, যারা মনে করেন ব্লগিং কিভাবে শুরু করা যায়, তারা এই আর্টিকেলটি পড়ার পর শুরু করে দিতে পারেন।

এক্ষেত্রে আমার পার্সোনলি পরামর্শ থাকবে, আপনার টার্গেট যেহেতু শুধুই লেখালেখি বা ব্লগিং না, ব্লগিং করে টাকা আয় করার বিষয়টাও রয়েছে।

সেহেতু আপনি অবশ্যই ব্লগিং করার জন্য লেখালেখির নিয়মাবলী অনুসরণের পাশাপাশি এসইওর মাধ্যমে আর্টিকেল অপটিমাইজ করার বিষয়টাও জানতে চেষ্টা করবেন।

ব্লগিং কিভাবে শিখবেন তার উপর পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়া হয়েছে।  ব্লগিং করে সফল হওয়ার জন্য বড়দের কিছু নির্দেশনা আপনার সাথে শেয়ার করতে চাচ্ছি। যেনো আপনিও ব্লগিং করে সহজেই উপকৃত হতে পারেন।

 সফল ব্লগার হওয়ার উপায়

আমার ব্লগিং অভিজ্ঞতায় অনেক কিছুই শিখেছি। এখনো শিখছি, তবে শেখার তৃপ্তি মিঠেনি এখনো।

আইটি নির্মাণ ছাড়াও আমি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্লগ লিখি। সফল ব্লগারদের ব্লগগুলো পড়তেও আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

তাছাড়া, বিভিন্ন ব্লগিং ফোরামে যুক্ত থাকার কারণে ব্লগিং বিষয়ে মোটামুটি জানার সৌভাগ্য হয়েছে। আমি আমাকে শতভাগ সফল ব্লগার মনে করিনা। তবে ব্লগিং এর সাথে দীর্ঘদিন কনেক্টেড রয়েছি বলে কিছু বিষয় আপনাদেরকে বলতে চাই।

পড়ার সাজেশনঃ
অনলাইনে ইনকাম বাংলাদেশী সাইট
ফ্রিল্যান্সিং কি হালাল নাকি হারাম?

”ব্লগিং কিভাবে শিখব” এখন আর সেই প্রশ্ন না। সফল ব্লগার হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে যা যা করতে হবে, তা জেনে নেওয়া যাক।

() নিশ নির্বাচন

নতুন হিসেবে ব্লগিং করার জন্য অবশ্যই নিশ সিলেক্ট করা জরুরি। নিশ মানে হলো আর্টিকেল এর বিষয়। অর্থাৎ, আপনি যদি “বিউটি” নিশের উপর আর্টিকেল লিখতে ভালোবাসেন, তবে চেষ্টা করবেন আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র বিউটি নিশের উপরই আর্টিকেল লেখার জন্য।

আবার যদি খেলাধুলা বা বিনোদন নিশে আর্টিকেল লিখতে আপনার ভালো লাগে, তবে চেষ্টা করবেন খেলাধুলা বা বিনোদন নিয়েই সব আর্টিকেল লেখার জন্য। এতে আপনি অল্প সময়েই ব্লগিং থেকে ভালো রেজাল্ট পাবেন।

কেননা, ব্লগিং করতে গিয়ে আপনার সাইটে ভিজিটর ধরে রাখতে হবে। একটি ব্লগ ওয়েবসাইটে ভিজিটর ধরে রাখার সবচেয়ে কার্যকরী কৌশল হলো নিশের উপর পর্যাপ্ত আর্টিকেল।

মনে করেন আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটটি টেকনোলজি বিষয়ক। এখন আপনার সাইটে যদি ২০০ টির বেশী টেকনোলজি বিষয়ক আর্টিকেল থাকে, তবে আপনার ভিজিটর একটি আর্টিকেল পড়া শেষে আরেকটি আর্টিকেল পড়তে আগ্রহী হবে। কারণ সে ভিজিটরও টেকনোলজি বিষয়ে জানতে আগ্রহী বলেই টেকনোলজি রিলেটেড আর্টিকেল পড়তে আপনার ব্লগ সাইটে প্রবেশ করেছে।

ব্লগ সাইটে যদি একটি নিশের উপর পর্যাপ্ত আর্টিকেল থাকে, তবে নতুন আরেকটি নিশ ব্লগে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে নতুনদের জন্য যে কোন একটি নিশ নিয়েই ব্লগিং শুরু করা সফল ব্লগার হওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্লগিং যদিও লেখালেখিকে বুঝানো হয়। তবে ব্লগিং করার জন্য ব্লগিংয়ের রুলস ফলো করতে হবে। যারা বলে ”ব্লগিং কিভাবে শিখবো” তাদের এই প্রশ্নটির মাঝে যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

(২) এসইও ফ্রেন্ডলি লেখা

আর্টিকেল লেখার ক্ষেত্রে এসইও (SEO) এর উপর গুরুত্ব দেওয়া। যেহেতু আপনি চাচ্ছেন লেখালেখির মাধ্যমে ইন্টারনেট থেকে আয় করার জন্য, যেহেতু আর্টিকেলকে সার্চ ইঞ্জিনে রেংক করাতে হবে।

সার্চ ইঞ্জিনে আর্টিকেল রেংক করানোর জন্য এসইও খুবই কার্যকরী। এসইও এর প্রধান লক্ষ্যই হলো আর্টিকেলকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য যথাযথ ভাবে অপটিমাইজ করা।

যত ভালোই লেখক হোকনা কেন, তার আর্টিকেল যদি এসইওর রিকেয়ারমেন্ট ফলো না করে তবে সার্চ ইঞ্জিনে সেই লেখকের লেখার মানকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারবে না।

এজন্য সফল ব্লগার হতে হলে আপনাকে এসইওর মাধ্যমে আর্টিকেলকে অপটিমাইজ করা জরুরি।

আমাকে যদি কেউ প্রশ্ন করে ব্লগিং কিভাবে শিখবো? তার জবাবে আমি অবশ্যই বলবো এসইও ফেন্ডলি আর্টিকেল লিখতে শিখুন।

(৩) সফল ব্লগারদের ফলো করা

ব্লগিং সেক্টরে যারা দীর্ঘসময় ধরে কাজ করছে, তাদের ফলো করুন। কেননা, ব্লগিং যতটা সহজ মনে হয়, ঠিক তার চাইতেও এটা কঠিন।

ব্লগিংটা এমন, শুরুতে আপনার কোন প্রকার আর্থিক লাভ নেই। শুধুমাত্র আবেগ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়মিত লেখালেখি করতে হবে।

পড়ার সাজেশনঃ
ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহ কি কি?
সেরা ০ টাকা ইনকাম করার ওয়েবসাইট

আপনাকে ইন্টারনেট থেকে খুঁজে বের করতে হবে কারা ব্লগিংয়ের মাধ্যমে আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিচ্ছে। সে আপনার বয়স কিংবা যোগ্যতায় ছোট হোক বা বড় হোক, চোখ বুজে তাকেই অনুসরণ করুন।

আপনি যদি এভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কাজ করে যান, তবে অতি দ্রুতই ব্লগিং করে সফলতা পাবেন ইনশাআল্লাহ।

আমাদের শেষ কথাঃ

প্রিয় পাঠক বন্ধুরা, যারা প্রশ্ন করেন ব্লগিং কিভাবে শিখব বা ব্লগিং কিভাবে শুরু করা যায়, তাদের উদ্দেশ্যে অনেক কিছুই বলা হয়েছে। এখনো বলবো আপনারা লেখালেখি চালিয়ে যান। লেখালেখিই হলো ব্লগিং করার প্রধান শর্ত।

ব্লগিং করে ঘরে বসে টাকা আয় করার জন্য আপনাকে একটি পার্সোনাল ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে। তবে তার আগে আমার পার্সোনাল পরামর্শ হলো আপনারা অন্তত ৫০ টির বেশী আর্টিকেল কোন খাতায় বা ডিজিটাল নোট প্যাডে সংগ্রহ করুন। তারপর নিজের জন্য ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করুন।

অনেকের ক্ষেত্রে এমন হয় যে, অতি আবেগ ও দ্রুততার সাথে ব্লগ ওয়েবসাইট খুলে ফেলে। তবে পরবর্তীতে আর আর্টিকেল লিখতে পারে না। অবশেষে ব্লগিং করা থেকে ঝরে পড়ে।

তাই আমাদের ওয়েবসাইটের সকল ভিজিটর ও পাঠক বন্ধুদের বলব, আপনারা যারা ব্লগিং শুরু করতে চান এবং ব্লগিংকে ক্যারিয়ার লাইফে কাজে লাগাতে চান, তারা অবশ্যই আর্টিকেল রেডি করে ব্লগিংয়ে আসবেন।

আমার লেখালেখির বিষয়টা ইতোমধ্যেই শেয়ার করেছি। আশাকরি আপনারা এই আর্টিকেলটি উৎসাহ হিসেবে নেবেন। যাদের প্রশ্ন ছিল ব্লগিং কিভাবে শিখব? তাদের কাঙ্খিত প্রশ্নের যথাসাধ্য উত্তর দিতেও চেষ্টা করেছি।

আপনার কাছে যদি এই আর্টিকেলটি উপকারী মনে হয়, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আরো কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

Add comment

error: Content is protected !!