ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়

ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

পৃথিবীর বৃহত্তম সোশ্যাল মিডিয়া হলো ফেসবুক। আমাদের দৈনন্দন জীবনে ঘটে যাওয়া প্রায় প্রতিটা বিষয়ই ফেসবুকে বন্ধদের মাঝে শেয়ার করি। যুগটা এমন হয়ে গেছে যে, আমাদের দিন-রাতের অনেকটা সময় ফেসবুকেই কাটাতে হয়। এভাবে আমাদের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যায়। এর প্রভাব আমাদের ক্যারিয়ার  লাইফেও এসে পড়ে। আর এই কথাটি চিন্তা করে ফেসবুকেও বাণিজ্য পরিচালনার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন ফেসবুক থেকে আয় করা যায়। কিন্তু কিভাবে? এই আর্টিকেল থেকে আজ আমরা জানবো, ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়।

বর্তমানে (২০২ সালে) ফেসবুক ব্যবহারকারীর মোট সংখ্যা ২.৮৯ বিলিয়ন। দিনদিন এর জনপ্রিয়তা ক্রমান্বেয়ে বেড়েই চলছে। আপনি জানলে হয়ত অবাক হবেন, একজন ফেসবুকে ব্যবহারকারী ইচ্ছে করলেই ফেসবুককে ব্যবহার করে তার কাঙ্খিত ব্যবসা পলিচালনা করতে পারে। আমাদের দেশে এমন অগণিত ফেসবুক কেন্দ্রিক ব্যবসায়িক আছে, যারা প্রতি মাসে ফেসবুক থেকে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছে। এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। পুরো আর্টিকেলটি পড়লে আপনিও বিষয়টি ক্লিয়ার হতে পারবেন।

ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়

অনেকেই মনে করেন, অনলাইন ইনকাম মানেই কাজ না করেই টাকা আয়। এই বিষয়টা পুরোই ভিত্তিহীন। ফেসবুক থেকে আয় কারার ব্যপারটা অনলাইন ইনকাম এর একটি ছোট্ট অংশ। তবে আপনি যদি শুধু ফেসবুকেই সঠিক বাণিজ্য বা মার্কেটিং করতে পারেন, তবে এটাই আপানার ক্যারিয়ার লাইফের জন্য খুব ভালো একটি আউটপুর্ট দেবে।

ফেসবুকে বিভিন্ন ভাবে আয় করা যায়। তারমধ্যে ফেসবুকে থেকে আয় কারার জনপ্রিয় কিছু পদ্ধতি হলোঃ

ফেসবুক ভিডিও থেকে আয়

ইউটিউব ভিডিও থেকে আয় করা যায়, এই বিষয়টা হয়ত সবাই জানেন। তবে ফেসবুকের কথা অনেকেই জানেন না। ফেসবুক এবং ইউটিউব ভিডিও থেকে প্রায় একই নিয়মে আয় হয়। ভিডিও থেকে আপনি প্রাথমিক ভাবে ফেসবুকের এড ম্যানেজার এর বিজ্ঞানের মাধ্যমে আয় করতে পারবেন।

ইউটিউবে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় গুগলের এডসেন্স এর মাধ্যমে। তবে ফেসবুকের বিজ্ঞাপন গুলো তাদের নিজস্ব এড ম্যানেজার এর মাধ্যমে দেওয়া হয়। ফেসবুক ভিডিও থেকে আয় কারার জন্য আপনাকে কিছু নিয়ম নীতি ফলো করতে হবে। যেমন:

  • একটি ফেসবুক পেজ প্রয়োজন হবে।
  • আপনার তৈরি করা বেশকিছু ভিডিও পেজে আপলোড করতে হবে।
  • আপনার পেজে দশ হাজার ফলোয়ার থাকতে হবে।
  • ৬০ দিনে আপনার মোট ভিডিওর ৬ লক্ষ মিনিট ওয়াচ টাইম হতে হবে।

উপরোল্লেখিত চারটি বিষয় ফলো করার মাধ্যমে আপনি আপনার ফেসবুক পেজকে মনিটাইজ করে ফেসবুক থেকে আয় করতে পারবেন।

ফেসবুক মার্কেটিং করে আয়

আমরা সকলেই মার্কেটিং এর সাথে পরিচিত। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে অনলাইন থেকে যেই পদ্ধতিতে আয় হয়, তার সবকিছুই ফেসবুকে বিদ্যমান। আপনি আপনার নির্বাচিত বিষয়বস্তুর উপর ফেসবুক মার্কেটিং করে বিভিন্ন উপায়ে আয় করতে পারবেন। তারমধ্যে রয়েছেঃ

  1. নিজস্ব সার্ভিস দিয়ে
  2. প্রোডাক্ট বিক্রি করে
  3. পেজ প্রমোশন করে

(১) ফেসুবকে নিজস্ব সার্ভিস দিয়ে আয় করাটা খুবই জনপ্রিয় একটি সিস্টেম। আপনি যদি কোনো বিষয়ে অভিজ্ঞ হন, তবে আপনার সেই অভিজ্ঞতাকে সার্ভিস হিসেবে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। মনে করুন, আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন জানেন, ফেসবুকে এমন হাজারো মানুষ আছে যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন করিয়ে নিতে আগ্রহী। আপনি যদি এই বিষয়ে অভিজ্ঞ হন, তবে আপনি তাদেরকে গ্রাফিক্স ডিজাইন করে দিয়ে ইনকাম করতে পারবেন।

(২) ফেসবুকে আয় করার জন্য আরেকটি জনপ্রিয় সিস্টেম হলো বিভিন্ন প্রোডাক্ট বিক্রি। এটা মোটামুটি ভাবে ই-কমার্স বাণিজ্যের ক্যাটাগরিতে যায়। একবারে নতুনদের জন্যও ফেসুবক থেকে আয় করার সহজতর বিষয় এটি। মনে করুন আপনার একটি টি-শার্ট বা পাঞ্জাবির কোম্পানি আছে, অথবা আপনি কোনো কোম্পানি থেকে পাইকারি মূল্যে কিনে খুচরা মূল্যে বিক্রি করায় অভিজ্ঞ। তবে আপনি চাইলে ফেসবুককে ব্যবহার করে আপনার প্রোডাক্ট অনলাইনের মাধ্যমেই বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করে ফেসুবক থেকে আয় করতে পারবেন।

(৩) পেজ প্রমোশন করে আয় করার জন্য আপনার একটি মাস্টার কার্ড বা ভার্চুয়াল কার্ড এর প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ, আপনার কাছে এমন একটি কার্ড থাকতে হবে যাতে ইউএসডি ডলার সাপোর্ট করে। এটার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন মানুষের পেজ, প্রোডাক্ট বা কাঙ্খিত যে কোনো বিষয় ফেসুবকে প্রমোট করতে পারবেন। এভাবে আপনি খুব সহজেই ফেসবুক থেকে আয় করতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষেই মাস্টার কার্ড বা ভার্চুয়াল কার্ড নেই। আপনারও হয়ত নাও থাকতে পারে। তবে আপনি চাইলে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে একটি মাস্টার কার্ড কালেক্ট করতে পারবেন।

ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল থেকে আয়

ফেসবুক ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল থেকে আয় করার জন্য আপনার একটি পার্সোনাল ওয়েবসাইট প্রয়োজন হবে। আপনি আপনার ওয়েবসাইটে নিয়মিত লেখা পাবলিশ করবেন এবং সেই লেখাগুলোর লিংক ফেসবুকে শেয়ার করবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করে নিতে হবে এবং সেই পেজে ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল সিস্টেম চালু করার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে রিকোয়েস্ট করতে হবে। যদি তারা আপনার রিকোয়েস্ট গ্রহণ করে তবে আপনি ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল এর মাধ্যমে ফেসবুক থেকে আয় করতে পারবেন।

ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল মূলত বিজ্ঞাপন কেন্দ্রিক আয় করার সিস্টেম। ভিডিওতে যেভাবে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় হয়, ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল এর মাধ্যমেও সেম পদ্ধতিতেই আয় হয়।

ফেসবুক পেজ বিক্রি করে আয়

পেজ বিক্রি করে আয় করার বিষয়টা আমি খুব বেশী গুরুত্ব দেইনা। তবে নতুন হিসেবে আপনার জানার প্রয়োজন আছে বিধায় শেয়ার করছি। পেজ বিক্রির বিষয়টা সচারাচর খুব বেশী হয় না। তবে এর চাহিদা রয়েছে অনেক। আপনার যদি এমন এক বা একাধিক পেজ থাকে, যেটাকে ০ হাজার বা এর অধিক ফলোয়ার রয়েছে, তবে আপনি এই পেজটি অন্য কারো কাছে বিক্রি করে ফেসবুক থেকে আয় করতে পারবেন।

ফেসবুক গ্রুপ বিক্রি করে আয়

গ্রুপ বিক্রি করে আয় এই বিষয়টাও পেজ বিক্রির মতই। এটাকেও আমি খুব বেশী রেফার করি না। তবে চাহিদাগত ভাবে গ্রুপ কেনার জন্য অনেক মানুষ ভালো টাকা অফার করে। আপনার যদি একটি এমন গ্রুপ থাকে যেটাতে লক্ষাধিক মেম্বার রয়েছে, তবে সেই গ্রুপটি আপনি বিক্রি করে ফেসবুক থেকে আয় করতে পারবেন। চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সংখ্যার মেম্বার নিয়ে গ্রুপ কিনতে অনেকেই আগ্রহী। চাইলে ট্রাই করতে পারেন।

এই পদ্ধতি গুলো ছাড়াও ফেসবুক থেকে আয় করার আরো অনেক পদ্ধতি রয়েছে। যা বলে বুঝানো যাবে না। আপনি যদি নিজে ট্রাই করেন, তবে অবশ্যই বুঝতে পারবেন। ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায় আশাকরি বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন।

আরো কিছু কথাঃ

অনলাইন ইনকাম এর মাধ্যমে ফেসবুক থেকে আয় করাটা সবচেয়ে সহজতর প্রক্রিয়া। ফেসবুক তৈরির উদ্দেশ্য শুধু বিভিন্ন ছবি আপলোড বা লেখালেখি নয়। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বাণিজ্য। আপনি-আমি ফেসবুকে ইনকাম না করলেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ প্রতিমাসে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আমাদের মাধ্যমে আয় করে নিচ্ছে। অথচ, আমরা এই বিষয়ে খুব বেশী গুরুত্ব দেই না।

তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আমাদের জন্যও ফেসবুক কেন্দ্রিক আয় করার জন্য ব্যবস্থা রেখেছেন। যারা বুঝি তারাই আয় করছি, আর যারা এই বিষয়ে বুঝিনা তারা শুধু সোশ্যাল মিডিয়া হিসেবে দৈনন্দিন জীবনের চিত্রগুলো ফেসবুকে শেয়ার করছি।

তবে আমরা যেহেতু আমাদের দিন-রাতের অনেকটা সময় ফেসবুকে কাটিয়ে দিই, সেহেতু ফেসবুক থেকে যদি আমাদের আয় হয় তবে এতে মন্দ কি! তাছাড়া আমাদের দেশের বেশীরভাগ মানুষ এখনো বেকারত্বের বোঝা বহন করছি। তাই আমরা যদি আমাদেরকে একটু আপডেট করে অনলাইন ভিত্তিক আয়ের প্রতি নজর দিই, তবে আশাকরি এতে আমাদের ক্ষতি হবে না। বরং আমাদের বেকাত্বের হার কমবে।

উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ মানুষই এখন অনলাইন বাণিজ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বলতে গেলে ওরা অনেকটা সফল। আমাদের বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভূটান, মায়ানমার ইত্যাদি দেশ গুলো এখনো পিছিয়ে রয়েছে। সত্যি বলতে আমরা প্রযুক্তির ছোঁয়া পেয়েছি অনেক পর। তবে আমাদের অগ্রযাত্রা আলহামদুলিল্লাহ ভালোই। রেকারত্ব রোধে ফেসবুক আয় হতে পারে আমাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় সেক্টর।

ItNirman English

Add comment