ইউটিউব নিশ আইডিয়া

ইউটিউব নিশ আইডিয়া | ভিডিওর সেরা টপিক চয়ন করুন

ইউটিউব নিশ আইডিয়া | স্যোশাল মিডিয়া জগতে ইউটিউব হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বৃহত্তম ভিডিও শেয়ারিং সোশ্যাল প্লাটফর্ম। সারা বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন বিলিয়ন দর্শক প্রতিদিন ইউটিউবে প্রবেশ করছে। ইউটিউবে ভিডিওর কোন টপিক নির্ধারণ নেই। তাই প্রয়োজনের ভিত্তিতে যে কোন ক্যাটাগরির ভিডিও দেখা যায়।

২০৯ সালের গগণা অনুযায়ী ইউটিউরেব বর্তমান ইউজার সংখ্যা .৯ বিলিয়ন। এখানে শুধু ই-মেইল দিয়ে লগিন করা ইউজার সংখ্যা গগণা করা হয়েছে। সবাই ই-মেইল দিয়ে লগিন করে না। ধারণা করা যায় সব মিলিয়ে ডাবলের চেয়েও বেশী ইউজার আছে। ইউটিউবে প্রতি মিনিটে কোটি কোটি ভিউ হয়।

৩ ডিসেম্বর ২০৭ ইং এর গগণা অনুযায়ী প্রতিদিন মোবাইল দিয়ে ভিডিও ভিউয়ের গড় সংখ্যা ,০০,০০,০০০+ । প্রতিদিন প্রায় ৫ বিলিয়ন ভিডিও দেখা হয়। প্রতিমাসে ভিডিওর ওয়াচ টাইম ৩.২৫ মিলিয়ন ঘন্টা। ইউটিউবে প্রতিদিন ভিজিটির সংখ্যা ৩০ মিলিয়ন প্রায়। ভিডিওতে ওয়াচ টাইমের গড় ৪০ মিনিট। ইউটিউব ব্যবহার কারীদের মধ্যে মহিলা সংখ্যা ৩৮ % এবং পুরুষ সংখ্যা ৬২ % । এটা ২০৭ সালের জরিপ। এখন তো আরো বেশী।

ইউটিউব থেকে আয় করার বিষয়টা এখন প্রায় সকলেই জানেন। এজন্য প্রতিনিয়তই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ইউটিউবার। তবে আপনি যদি ইউটিউব নিশ আইডিয়া জানা না থাকে, তবে ইউটিউবিং করতে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে আপনি হতাশ হয়ে যেতে পারেন। এই আর্টিকেলটি  ইউটিউব চ্যানেল নিশের উপর তৈরি করা হয়েছে। আপনি কিভাবে ভিডিওর জন্য সেরা টপিক চয়ন করবেন, এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ইউটিউব নিশ আইডিয়া

আমরা অনেকেই ইউটিউবিং শুরু করতে গিয়ে বুঝতে পারিনা যে, কোন নিশের উপর ভিডিও তৈরি করবো। ইউটিউবের জন্য কোন নিশটা সবচেয়ে বেশী প্রফিটেবল হবে। এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমরা অনেক সময় নষ্ট করি। অনেকেই এরই মধ্য দিয়ে ইউটিউব নিশ আইডিয়া আয়ত্ব করে নিতে পারি, আবার অনেকেই সঠিক নিশ চয়ন করতে না পেরে পিছিয়ে যাই।

সত্যি বলতে ইউটিউবের জন্য সবচেয়ে সেরা নিশ কোনটি আপনি কি জানেন? মনে রাখবেন ইউটিউবের জন্য সবচেয়ে নিশটি হলো আপনার নিজের দক্ষতা এবং যোগ্যতা। আপনি কোন বিষয়টি ভালো জানেন, এটাই আপনার জন্য সবচেয়ে সেরা নিশ। আপনি কোন বিষয়ে ভালো জানেন এটাই মূখ্য টপিক বা বিষয়।

যারা ইউটিউবে আজ সফল, তারা আগে থেকেই সেরা কোন টপিক চয়ন করেননি। নিজের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে শুরু করেছে। আর শুরুটা এমনই হয়। যারা ইউটিউবে নতুন বা পুরাতন, কখনই চ্যানেল খুলেননি বা খুলবেন অথবা খোলার কথা ভাবছেন। তাদের জন্য একটা পরামর্শ হলো, আপনি ইউটিউব চ্যানেল যখন ইচ্ছে তখনই খুলতে পারবেন।

চ্যানেলটি খোলার আগে নিজের প্রতি সর্বোচ্চ আস্থা রাখুন এবং আপনি ভালো করে জানেন এমন একটি বিষয় নির্বাচন করুন। এটাই আপনার জন্য সেরা টপিক। যারা সফল ইউটিউবার, তারা ইউটিউব নিশ আইডিয়া হিসেবে এটাই আপনাকে সাজেস্ট করবে।

তবে হ্যাঁ, এমন কিছু মানুষ আছে যারা একাধিক বিষয়েই দক্ষ। কিন্তু বুঝতে পারছেনা যে, কোন বিষয়টি নিয়ে কাজ করা উচিত। তাদের জন্য কিছু সাজেশন।

  • ট্রেন্ডিং নিউজ
  • শিক্ষা নিউজ
  • ইসলামিক
  • টেকনোলজি
  • ওয়েব ডিজাইন
  • গ্রাফিক্স ডিজাইন
  • এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন)
  • রেসিপি
  • ট্রাভেল
  • মোশন গ্রাফিক্স
  • গেমিং
  • ফানি ভিডিও ইত্যাদি।

বাংলাদেশ ও পার্শবর্তী দেশ ইন্ডিয়ার সকল বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য ইউটিউব নিশ আইডিয়া হিসেবে উপরোল্লিখিত নিশগুলোই সবচেয়ে কার্যকর। আপনি ট্রাই করে দেখতে পারেন।

ইউটিউব সাজেশন

ইউটিউবে আসার আগে অবশ্যই চেষ্টা করবেন যে কোন এক বা একাধিক বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করার জন্য। অথবা আপনি যে বিষয়টা সবচেয়ে ভালো জানেন সেই বিষয়কেই টপিক বানিয়ে কাজে লেগে পড়ুন। ২০৫ সালের ইউটিউব আর আজকের ইউটিউব এক নয়। চলে এসেছে বিশাল পরিবর্তন। আগে তেমন কোন শর্ত ছিল না, যে কোন চ্যানেলে ২/৩ টা ভিডিও দিয়েই মনিটাইজের মাধ্যমে ইনকাম শুরু করা যেতো।

এখন আর সেই সুযোগ নেই। ইউটিউবে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য। তবুও ইউটিউবে সফল হওয়া এখনো খুব বেশী কঠিন নয়। শুধুমাত্র  এক হাজার সাবস্ক্রাইব এবং ৪ হাজার ঘন্টা পাবলিক ওয়াচ টাইম হলেই চ্যানেল মনিটাইজ করা যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন সামনের দিনগুলোতে ইউটিউবের শর্তগুলো আরো কঠিন হতে পারে। যদিওবা সফল ইউটিউবার যারা পুরাতন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তাদের জন্য এটা সুখবর হতে পারে। কিন্তু নতুন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এটা ভালো নিউজ নয়। তাই এদিক ওদিক না তাকিয়ে নিজের দক্ষতাকে নিশে পরিণত করে কাজে লেগে পড়াই উত্তম।

ইউটিউব নিশ আইডিয়া তো পেলেনই। এবার শুরুতেই আপনার ইউটিউব চ্যানেলের সুন্দর নাম রাখুন। মনে রাখবেন আপনার ইউটিউব চ্যানেলের নাম কোন এক সময় আপনার একটি ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পাবে। তাই অবশ্যই ইউটিউব চ্যানেল নাম এমন ভাবে চয়ন করবেন যেটা আপনার নিজের পছন্দ হবে এবং আপনার ভিডিওর ভিউয়ারেরা চ্যানেল নাম দেখে ভালো অনুভূতি ফিল করবে।

আপনার ভিডিও কোয়ালিটি ভালো হলে বেস্ট টপিক নির্ধারণের প্রয়োজন নেই। কেননা অনেকে আছে ভালো টপিকের উপর ভিডিও বানায়, কিন্তু ভিডিও কোয়লিটি ভালো না থাকার কারণে ভিউ হয় না। তাদের ভিডিও গুলো কেউ দেখে না। এজন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভিডিও কোয়ালিটি। মনে রাখবেন, ইউটিউব এমনই একটি প্লাটফর্ম, যেখানে সব ধরণের ভিডিওর জন্যই ভালো ফিউচার রয়েছে।

ইউটিউব চাইলে একটা ভিডিওকে এক মিনিটের ভেতরেই ভাইরাল করতে পারে। কিন্তু এটা করবে না। কারণ ওদের অ্যালগরিদম বা কমিউনিটির একটি নীতিমালা রয়েছে। নীতির ভেতরেই তারা সব কাজ পলিচালনা করে। কোন ভিডিওটা কোয়ালিটিফুল এটা ইউটিউব কমিউনিটি খুব সহজেই বুঝতে পারে। কোয়ালিটিফুল ভিডিওগুলোই ইউটিউবে ভাইরাল হয়।

কোয়ালিটি বলতে এখানে শুধু ভিডিও রেজুলেশনের কথা বলছিনা। ইউটিউব ভিডিও রেজুলেশনের ভিত্তিতে ভিডিওর কোয়ালিটি নির্ণয় করে না। দর্শকদের ইংগেজমেন্ট এর উপর ভিত্তি করেই ইউটিউব অ্যালগরিদম ভিডিওর কোয়ালিটি নির্ণয় করে। তাই এমন ভিডিও তৈরি করা উচিত, যেই ভিডিও গুলো থেকে দর্শকেরা কিছু আহরণ করতে পারে। অর্থাৎ, এমন ভিডিও তৈরি করতে হবে যেই ভিডিও দেখে দর্শকেরা উপকৃত হয় বা মজা পায়।

ভিউয়ার যখন ভিডিওটাতে ক্লিক করে ওয়াচ করতে থাকে তখন ইউটিউব পরিচালনা করা রোবট ভিডিওটির ওয়াচ টাইমের একটি গড় নির্ণয় করতে থাকে। যদি ভিডিওটি ০ মিনিটের হয়, তবে ইউটিউব রোবট দেখে যে এই ভিডিওটা ভিউয়ারেরা গড়ে কত মিনিট দেখেছে। ইউটিউব রোবট যখন দেখে ০ মিনিটের ভিডিওটা গড়ে ৭-৮ মিনিট দেখা হয়েছে, তবে ইউটিউব রোবট বুঝতে পারে ভিডিওটা কোয়ালিটিফুল।

ইউটিউব যখন বুঝতে পারে একটি ভিডিও কোয়ালিটিফুল, যেটাতে দর্শকদের ভালো ইংগেজমেন্ট হচ্ছে, সেই ভিডিওটাকেই ইউটিউব বিভিন্ন চ্যানেল বা ভিডিওর ফিচারে হাজার হাজার দর্শকের সামনে তুলে ধরে। আর তখনই ভিডিও ভাইরাল হয়।

শেষ কথাঃ

ইউটিউব নিশ আইডিয়া নিয়ে আপনাকে খুব বেশী সময় নষ্ট করা উচিত হবে না। আগেই টপিক চয়নের সিদ্ধান্ত না করে নিজের জানা বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করতে থাকুন। সাধ্য অনুযায়ী কোয়ালিটিফুল ভিডিও বানানোর চেষ্টা করুন।

আপনার দক্ষতাকে সমৃদ্ধকরণে বিভিন্ন চ্যানেলের ভিডিও দেখুন। অন্যরা কিভাবে ভিডিও বানায় বা তাদের কাজ ধরণ কি এটা এনালাইসিস করতে চেষ্টা করুন। সবসময় নিজের মনে সাহস রাখুন এবং সফল হবার উপলদ্ধি করুন। দেখবেন আপনার প্রচেষ্টা, সাধনা ও শ্রম-ঘাম নিশ্চই একদিন ইউটিউবের মাধ্যমে সফলতা চিনিয়ে আনবেই ইনশাআল্লাহ।

আপনি নিশ্চয় জানেন, সাধনা ও প্রচেষ্টার ফল কখনই বৃথা যায় না। আপনার যদি এই বিষয়ে আরো কোন প্রশ্ন থাকে তবে এখনই কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

Add comment