what is SEO এসইও কি? এসইও কত প্রকার?

SEO /এসইও কি? সার্চ ইঞ্জিনের ভাষায় এসইও কত প্রকার?

যারা ইন্টারনেটের সাথে সম্পৃক্ত তারা অবশ্যই এসইও (SEO) শব্দটি শুনে থাকবেন। এসইও (SEO) হলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। যারা এসইও সম্বন্ধে কিছুই জানেন না, তাদের জন্যই এই আর্টিকেলটি তৈরি করা হয়েছে। আজকে আমরা জানবো এসইও কি? এসইও কত প্রকার এবং কি কি?

SEO /এসইও কি?

এসইও (SEO) এর পূর্ণরূপ হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন।  এসইও এর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে কোন ওয়েবপেজকে সার্চ ইঞ্জিনে রেংক করানো। অর্থাৎ, সার্চ ইঞ্জিন থেকে সংরক্ষিত কোন তথ্যকে সহজেই খুঁজে বের করার মাধ্যমকে এসইও (SEO) বলে। আমরা যখন কোন কিওয়ার্ড লিখে গুগলে সার্চ করি, তখন সেই কিওয়ার্ড এর ভিত্তিতেই তথ্য দেখতে পাই।

এসইও মূলত সার্চ ইঞ্জিনগুলোর বানানো একটি নিয়ম। সেই নিয়ম মেনে চললে আপনার ওয়েবপেজকে তারা তাদের সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ কোয়েরির রেজাল্টে প্রদর্শন করবে।

পড়ার সাজেশনঃ
অন পেজ এসইও কি? কিভাবে করতে হয়?
SEO Glossary – এসইও টার্ম এবং ডেফিনেশন

মনে করেন গুগলে সার্চ করলাম : Best iPhone Mobile 2022. এখানে “Best iPhone Mobile 2022” এই লেখাটি হলো একটি কিওয়ার্ড। গুগলে এই কিওয়ার্ডটি লিখে সার্চ করার পর যে রেজাল্ট গুলো প্রদর্শন করেছে, তা এসইও -এর ভিত্তিতেই প্রদর্শিত হয়েছে। এটাকে সার্চ ইঞ্জিনের ভাষায় অর্গানিক সার্চও বলা হয়।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে ওয়েবপেজকে রেংক করানো হয়। এর ফলে বিলিয়ন বিলিয়ন ওয়েব পেজ থেকে অপটিমাইজকৃত পেজটি সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকে চলে আসে। এটা একটা প্রযুক্তিগত কৌশল। অনেকেই হয়ত আন্দাজ করতে পারছেন সার্চ ইঞ্জিনের সাথে অপটিমাইজেশন রিলেটেড কোন একটি বিষয়কে এসইও (SEO) বলে।

এসইও ইন্ডস্ট্রিটা অনেক বড়। প্রতি বছর এসইও (SEO) এর পিছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। ২০৬ সালের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ হওয়া একটি তথ্য হলো, ২০৬ সালের বিশ্বব্যাপী এসইও বাজেট ছিল ৬৫ বিলিয়িন মার্কিন ডলার! ২০২২ সালের বাজেট তো আরো বেশী হবে। যারা এখনো বুঝতে পারেননি তারা শুধু এতটুকু মনে রাখুন যে, এসইও -এর পুরোটা বিষয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের সাথে সম্পৃক্ত।

সার্চ ইঞ্জিন কি?

সার্চ ইঞ্জিন হলো একটি বিশাল তথ্য ভান্ডার। যেখানে সকল ওয়েবসাইটের তথ্যকে একত্রিত করা হয়। এটা করার ফলে যে কোন তথ্য সাধারণ মানুষের জন্য খুঁজে পাওয়া সহজ হয়ে যায়।

জনপ্রিয় কিছু সার্চ ইঞ্জিনের তালিকাঃ

  • গুগল
  • বিংগ
  • ইয়ানডেক্স
  • সি সি সার্চ
  • ডাকডাক গো
  • সুইসকো
  • ওয়ানসার্চ
  • স্টার্ট পেজ
  • একোরু

এমন আরো অনেক সার্চ ইঞ্জিন রয়েছে। যারা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্যকে নিজেদের ডেটাবেজে সেভ করে তাদের সার্চ ইঞ্জিনে প্রদর্শন করে। প্রতিটা সার্চ ইঞ্জিনই এসইও (SEO) -এর ভিত্তিতেই কাজ করে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্চ ইঞ্জিন হলো গুগল, তারপর হলো বিংগ

SEO / এসইও কত প্রকার?

এসইও (SEO) কি? সার্চ ইঞ্জিনের ভাষায় এসইও কত প্রকার?এসইও ইন্ডাস্ট্রিতে অগণিত মানুষ কাজ করে। তবে অনেকেই আছে এসইওর প্রকারভেদ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখে না। আর এই ধারণা গুলো সচারাচর কেউ দিতেও চায় না। এজন্যই অনেক সময় বিভিন্ন ভুলের কারণে এসইওর পুরো কষ্টটাই বিফলে যায়। তাই আপনাকে প্রোপারলি জানতে হবে এসইও কি এবং এসইওর প্রকারভেদ সম্পর্কে।

পড়ার সাজেশনঃ
এসইও (SEO) শিখতে কতদিন লাগে?
Off Page SEO ব্যাকলিংক ও Link Popularity

আমাদের নতুনেরা এসইওর প্রকারভেদ গুলো এভাবে জানেঃ অনপেজ এসইও, অফপেজ এসইও, ফোরাম পোস্টিং, ওয়েব 2.0 ব্যাকলিংক, প্রোফাইল ব্যাকলিংক ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো আসলে এসইওর মূল প্রকারভেদ নয়। তবে একটি এসইওর টার্গেট পূরণে এগুলো কাজে লাগে।

সার্চ ইঞ্জিনের ভাষায় বা কাটামো ভেদে এসইও সাধারণত তিন প্রকার।

  1. হোয়াইট হ্যাট এসইও (White Hat SEO)
  2. গ্রে হ্যাট এসইও (Grey Hat SEO)
  3. ব্ল্যাক হ্যাট এসইও (Black Hat SEO)

প্রত্যেক প্রকারের সহজ সংজ্ঞা ও তার পর্যালোচনা নিচে তোলে ধরা হলো।

 White Hat SEO / হোয়াইট হ্যাট এসইও কি?

হোয়াইট হ্যাট এসইও -এর অর্থ “বিধি” অনুসরণ করা। আপনার নৈতিক কৌশল ব্যবহার করে সার্চ ইঞ্জিনের নির্দেশিকা অনুসরণ করে যেই এসইও করা হয়, তাকে ‘হোয়াইট হ্যাট এসইও (White Hat SEO)’ বলা হয়।

হোয়াইট হ্যাট এসইওটা সবচেয়ে সেভ ও দীর্ঘমেয়াদী এসইও। তবে হোয়াইট হ্যাট এসইও এর নির্দেশনা মেনে ওয়েবসাইট এসইও করলে সার্চ ইঞ্জিনে রেংক পেতে সামান্য সময় লাগে। তবে একথা সত্য যে, হোয়াইট হ্যাট এসইও অনুসরণ করা পেজগুলো সার্চ রেজাল্টের পারফর্মেন্সে সবসময় দৃঢ় থাকে এবং আস্তে আস্তে উন্নতির দিকে আসে। এটা সর্মস্ত সার্চ ইঞ্জিনের নীতির সাথে একতা পোষণ করে এবং এটা সার্চ ইঞ্জিনের ভাষায় বৈধ এসইও।

এসইও ইন্ডাস্ট্রিতে হোয়াইট হ্যাট এসইও -এর ভ্যালু সবচেয়ে বেশী। এটা মানুষের কমন সেন্স কাটিয়ে করা হয়। এই এসইওতে কোন প্রকার অবৈধ পন্থা ব্যবহার করা হয় না। হোয়াইট হ্যাট এসইও যারা করে তাদের ওয়েবপেজ ন্যাচারালি ভাইরাল হয়, সার্চ ইঞ্জিনেও রেংক পায় এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্গনিক ভিজিটর পাওয়া যায়।

Grey Hat SEO/ গ্রে হ্যাট এসইও কি?

গ্রে হ্যাট এসইও এর অর্থ হলো ‘বৈধ -অবৈধ’ বিষয়ের সংমিশ্রণ। এই এসইওটা করার মাধ্যমে ওয়েব পেজেকে দ্রুতই সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ রেজাল্ট পেজে রেংক করানো যায়। তবে এই এসইওটা সার্চ ইঞ্জিন দ্বারা বৈধ প্রমাণিত নয়। সার্চ ইঞ্জিনগুলো যদি কখনও বুঝতে পারে তবে যে কোন সময় এই ধরণের এসইওতে বেংক করা পেজগুলোকে রেংক ড্রপ করে দিতে পারে।

এই ধরণের এসইও যারা করে তাদের ওয়েব পেজের রেংকিংয়ের স্থায়িত্ব বেশী দিনের হয় না। তবে অনেকেই আছে, সার্চ ইঞ্জিনকে ফাকি দিয়ে মার্কেটে টিকে আছে দীর্ঘ সময় ধরে। তবে এই ধরণের এসইও করার প্রতি সবাইকে অনুৎসাহিত করি।

Black Hat SEO/ ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কি?

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও -এর অর্থ হলো ‘অবৈধ’ পন্থা অবলম্বন করা। এই এসইওকে কোন সার্চ ইঞ্জিনই বৈধতা দেয় না। মার্কেটে টিকে থাকতে ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এটা কোন ভাবেই দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নয়। এই ধরণের এসইও করলে সে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ধরা খাবেই এটা নিশ্চিত। তবে এই ধরণের এসইও করলে খুব দ্রুতই ওয়েব পেজেকে রেংকিয়ে নিয়ে আসা যায়। ব্ল্যাক হ্যাট এসইও -কে যেহেতু কোন সার্চ ইঞ্জিনই বৈধতা দেয় না, সেহেতু এই ধরণের এসইও করা মোটেও ঠিক নয়।

পড়ার সাজেশনঃ
ওয়েবসাইট এসইও করার গুরুত্ব
কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়? বাংলা ব্লগার গাইড

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

এসইও (SEO) ইন্ডাস্ট্রিতে যাদের দীর্ঘ মেয়াদী টিকে থাকার পরিকল্পনা রয়েছে, তারা ভুলেও সার্চ ইঞ্জিনের নীতির বিপরীতে কাজ করতে যাবেন না। ওয়েবসাইটকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য ‘হোয়াইট হ্যাট এসইও (White Hat SEO)’ -এর প্রতি গুরুত্ব দিন, পাশাপশি এসইওর রিকমেন্ডেড বিষয়গুলো পূর্ণ করুন।

যারা সৎপথে চলে তাদের কোন কিছুতেই তেমন রিস্ক থাকে না। এসইওর জন্য যেহেতু সার্চ ইঞ্জিন থেকে একটি নীতি নির্ধারণ করা আছে, তাই সবসময় চেষ্টা করবেন তাদের নীতি মেনে কাজ করতে। তবেই আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্য আস্তে আস্তে পূরণ হবে এবং এসইও ইন্ডাস্ট্রিতে দীর্ঘদিন কাজ করার সুযোগ পাবেন।

আমি আশা করছি, (SEO) এসইও কি? এসইও কত প্রকার এই বিষয়ে সুষ্পষ্ট একটি ধারণা পেয়েছেন। তুবও যদি এই বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকে তবে কমেন্টে জানাবেন। এই বিষয়ে নিজস্ব কোন মন্তব্য থাকলে আমাদের জানান। ধন্যবাদ

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

3 comments

error: Content is protected !!