ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কিভাবে করতে হয়?

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?

অনলাইনে বাণিজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক বড় একটি অংশ। ডিজিটাল মার্কেটিং এর অপর নাম অনলাইন মার্কেটিং বা ইন্টারনেট মার্কেটিং। বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের ব্যবহারের প্রসার ঘটার সাথে সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচুর চাহিদা বেড়েছে।

ইন্টার আসার আগে সবাই গাতনুগতিক বা ট্রেডিশনাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করতো। এখনো করে। তবে প্রযুক্তির ছোঁয়া যখন বাণিজ্যক্ষেত্রে প্রবেশ করে, তখন ট্রেডিশনাল মার্কেটিং থেকে অনলাইন মার্কেটিং এর ডিমান্ড রকেট গতিতে বেড়ে চলছে।

বর্তমান সময়ে আপনার বাণিজ্য বা বিজনেসকে শুধু ট্রেডিশনাল মার্কেটিং দিয়ে অন্য কোম্পানির সাথে ফাইট করাটা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার মনে করি। এমনটি কোম্পানি টিকিয়ে রাখাটা বড় একটি চ্যালেঞ্জও হতে পারে।

অতীতে যেই কোম্পানি গুলো গতানুগতিক মার্কেটিং করে একচেটিয়া ভাবে দাপটের সাথে দেশে পণ্য বিক্রি করতো, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে আজ তাদেরকে টপকিয়ে ছোট ছোট কোম্পানি গুলোও তাদের চেয়ে বড় হয়ে গেছে।

প্রযুক্তির এই যুগে প্রায় অধিকাংশ মানুষই ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত। দৈনন্দন জীবনে ইন্টারনেট ব্যবহারে বিভিন্ন চাহিদা এবং প্রয়োজন মেঠানো যায়। অনলাইন ভিত্তিক অগণিত প্রতিষ্ঠান আছে, যারা বিভিন্ন পণ্য ইন্টারনেটের সাহায্যে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। সাধারণ ক্রেতারাও নিজ নিজ ঘরে বসে পণ্য হাতে পাচ্ছে।

এভাবেই দিন যত পার হচ্ছে অনলাইন ভিত্তিক বাণিজ্যের চাহিদা ক্রমাগতই বেড়ে চলছে। একটা বিষয় অবশ্যই আপনাকে জানা উচিত, অনলাইনে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা বা যে কোনো কোম্পানি -প্রতিষ্ঠানের প্রচার প্রসারের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের শতভাগ গুরুত্ব রয়েছে।

আর এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে মার্কেটিং সেক্টরে ডিজিটাল মার্কেটারদের প্রচুর ডিমান্ড তৈরি হয়েছে। বর্তমান সময়ে প্রায় প্রত্যেক কোম্পানি -প্রতিষ্ঠানই তাদের প্রচার-প্রসারের জন্য প্রথমেই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কথা চিন্তা করে।

দেশী-বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানি -প্রতিষ্ঠান মার্কেটারদেরকে হায়ার করে ডিজিটাল মার্টেটিংয়ের কাজ করিয়ে নেয়। ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করতে হয় -এর প্রাথমিক বিষয়বস্তু সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে আজকের এই আলোচনা।

ডিজিটাল মার্কেটিং কি?

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়মার্কেটিং মানেই হলো প্রচার করা। ডিজিটাল মার্কেটিং বলতে ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রে পরিচালিত ইন্টারনেটের ব্যবহারে কাঙ্ক্ষিত বিষয়কে টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে প্রচার করা। এভাবেও বলা যায় যে, ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার করে যে বিজ্ঞাপণগুলো প্রচার করা হয়, তাকেই ডিজিটাল মার্কেটিং বলে।

আপনি হয়ত লক্ষ্য করলে দেখবেন, প্রতিটি সরকারি -বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট থাকে। এই ডিপার্টমেন্টে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে মার্কেটিং বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে দক্ষ করে তোলা হয়। সেখান থেকেই তৈরি হয় হাজার হাজার মার্কেটার।

তবে বর্তমান সময়ে অফলাইন মার্কেটিং বা ট্রেডিশনাল মার্কেটিং থেকে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের চাহিদা অনেকগুণে বেড়ে গেছে। তাই মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে যারা পড়াশোনা করেছে বা করছে, তাদের প্রায় সকলেই এখন ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং কেন করবেন?

যারা মার্কেটিং সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন, তারা অবশ্যই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের গুরুত্বও অনুধাবণ করতে পেরেছেন হয়ত। সকলেই জানেন, মার্কেটিংয়ের প্রধান কাজ বা উদ্দেশ্যই হলো প্রচার করা। আপনার কোম্পানির প্রোডাক্ট যত বেশী মানুষের কাছে প্রচার করতে পারবেন, আপনার প্রোডাক্ট তত বেশীই বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মার্কেটিংয়েং মাধ্যমে মূলত কোম্পানির প্রোডাক্ট সম্পর্কে সাধারণ ক্রেতাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়। যেমনঃ আপনার প্রোডাক্ট কি কাজে ব্যবহার করা হয়, কি কি ফিচার আছে, ওয়ারেন্টি, গ্যারান্টি ইত্যাদি বিষয়াদি।

তবে মার্কেটিং প্রধান লক্ষ্যই থাকে পণ্য বিক্রয়। দেশী-বিদেশী প্রায় সকল কোম্পানিই এখন ডিজিটাল মার্কেটিং নির্ভর কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রায় বেশীরভাগই কোম্পানি সফলতার উর্ধ্ব শিকরে পৌঁছে গেছে।

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সুবিধা কি?

  • ডিজিটাল মার্কেটিং এমন একটি বিষয়, যেটার ব্যবহারে অল্প পুজীতেই একটি কোম্পানি দাঁড় করানো যায়। অর্থাৎ, অল্প পণ্য বা বিক্রয়যোগ্য সাধারণ সামগ্রী নিয়েও অর্থ উপার্জনের একটি পেসিভ ইনকাম সোর্স তৈরি করা যায়।
  • অল্প খরচেই নিজস্ব সার্ভিস, কোম্পানির প্রোডাক্ট বা যে কোন সামগ্রী হাজার হাজার টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
  • ডিজিটাল মার্কেটিং করার জন্য তেমন কোনো অফিস বা কোম্পানির প্রয়োজন হয় না। সাধারণত অল্প কিছু প্রোডাক্ট নিয়েও কাজ করা যায়।
  • ছোট বড় সকল কোম্পানিই ডিজিটাল মার্কেটিং সেবা নিয়ে তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারে।
  • দেশ ভিত্তিক, এলাকা ভিত্তিক এবং বয়স ভিত্তিক টার্গেট মানুষের কাছেও মার্কেটিং করার সুবিধা পাওয়া যায়।
  • সকল ধরণের কাস্টোমারদের সাথে একটি কমিউনিটি তৈরি করা যায়। ফলে কাস্টোমারদের মাঝে একটি আবেগ ও আগ্রহ বাড়ে।
  • সহজেই পণ্যের প্রসার ঘটানো এবং অল্প সময়েই পণ্য বিক্রয়ের কাজ সম্পূর্ণ করা যায়।

আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। দিন যত পার হচ্ছে ততই কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই আগামীর বিশ্বটা অনলাইন ভিত্তিক বাণিজ্য পরিচালনার স্বপ্নকে কেন্দ্র করেই কাজ করে যাচ্ছে।

মার্কেটিং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী দিনগুলোতে ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্ব ও চাহিদা ক্রমাগত ভাবে বেড়েই চলবে। আমরাও তার পূর্বাবাস দেখছি পারছি। তাই ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে প্রত্যেকটা কোম্পানির জোরদার হওয়ার প্রয়োজনীতা মনে করছি।

ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?

ডিজিটাল মার্কেটিং কিমার্কেটিং মানেই যেহেতু প্রচার করা, তাই অনেক ভাবেই প্রচার করা যায়। তবে দুটি পদ্ধতিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। অফলাইন প্রচারণা ও অনলাইন প্রচারণা। কোম্পানি অথবা যে কোনো বিষয়ের প্রচারণায় এই দুটি পদ্ধতিই সবাই অবলম্বন করে। তবে অফলাইনের প্রচারণা থেকে অনলাইনের প্রচারণায় বেশী সাশ্রয়ী। অল্প সময়ে, অল্প টাকায়, অল্প পরিশ্রমেই অনলাইনে যেই টার্গেট অডিয়েন্স পাওয়া সম্ভব তা কখনই অফলাইনে সম্ভব নয়।

ডিজিটাল মার্কেটিং একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজের নাম। এর মাঝে অনেক শ্রেণীবিন্যাস রয়েছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং করার বেশ কিছু মাধ্যম রয়েছে। তার মাঝে জনপ্রিয় ও সময়োপযোগী কিছু মাধ্যমকেই টার্গেট করে আজকের আলোচনা। তবে আপনার সার্ভিস, কোম্পানি বা প্রোডাক্টের ধরণ অনুযায়ী প্রচার-প্রসারের মাধ্যমকে বেছে নিতে হবে।

  1. সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social media marketing)
  2. কনটেন্ট রাইটিং (Content Writing)
  3. সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization / SEO)
  4. গুগল এডওয়ার্ডস ( Google AdWords)
  5. ইউটিউব মার্কেটিং বা ভিডিও মার্কেটিং (YouTube Marketing / Videos Marketing)
  6. মোবাইল এপস মার্কেটিং (Mobile App Marketing)
  7. এফিলিয়েট মার্কেটিং ( Affiliate Marketing )
  8. ইমেইল মার্কেটিং (Email marketing)

(১) সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social media marketing)

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (Social media marketing)মার্কেটিং জগতে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সবচেয়ে বড় একটি প্লাটফর্ম। বিশ্বের প্রায় ৪.৩৩ বিলিয়ন মানুষ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার সাথে এক্টিভ রয়েছে। এর মাঝে বাংলাদেশী সোশ্যাল মিডিয়া ইউজার ৪৫ মিলিয়ন+

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর ভেতরে কিছু আলাদা আলাদা প্লাটফর্ম রয়েছে। যেমনঃ ফেসবুক, টুইটার, ইনস্ট্রাগ্রাম, পিনটারেষ্ট ইত্যাদি। এই প্রত্যেকটা প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয়ের মার্কেটিং করা যায়।

সোশ্যাল মিডিয়া যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাই এই ধরণের মিডিয়াগুলোতে সবসময় সাধারণ মানুষের সমাগম থাকে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ লক্ষ কোম্পানি তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করে নিচ্ছে।

ফেসবুক, টুইটার, ইনস্ট্রাগ্রাম, পিনটারেষ্টের মতো সাইটগুলো যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাই এই সোশ্যাল মিডিয়া গুলোর ব্যবহারে যে মার্কেটিং করা হয় তাকেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ফেসবুক। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আমরা ফেসবুককে পার্সোনাল কাজে ব্যবহার করি। কিন্তু অনেকেই জানেনা, এই মিডিয়াগুলো পার্সোনাল ও প্রফেশনাল কাজে ব্যবহার করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং সাধারণত দুই প্রকার।

সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে দুইভাবে মার্কেটিং করা যায়। (১) ফ্রি মার্কেটিং, (২) পেউড মার্কেটিং। ফ্রি এবং পেইড মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। তবে দুটো মার্কেটিং সিস্টেম আলাদা।

  1. ফ্রি মার্কেটিং মানে অর্থ খরচ না করে কাঙ্খিত বিষয়ের প্রচার করা। অর্থাৎ, আপনার কোম্পানির নামে সোশ্যাল মিডিয়াতে কোন পেজ বা প্রোফাইল তৈরি করা এবং তাতে কোম্পানি সম্পর্কে বিভিন্ন লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও ইত্যাদি পোস্ট করা। এভাবে প্রচার করতে সাধারণত কোনো প্রকার টাকা বা অর্থ খরচ হয় না। এটাই মূলত সোশ্যাল মিডিয়াতে ফ্রি মার্কেটিং করা।
  2. সোশ্যাল মিডিয়াতে মার্কেটিং করার আরেকটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো পেইড মার্কেটিং। অর্থাৎ, টাকা খরচ করে আপনার কোম্পানির প্রচার -প্রসার ঘটাতে পারবেন।

ধরুন, আপনার কোম্পানির ১০০ টি প্রোডাক্ট আছে। প্রোডাক্টের গুণগত মানও ভালো। তবে প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য কাঙ্খিত গ্রাহক পাচ্ছেন না। তখন আপনি ইচ্ছে করলেই সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে পেইড মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে প্রোডাক্টের কাঙ্খিত গ্রাহক খুব সহজেই খুঁজে পেতে পারেন।

মনে করেন, ফেসবুক সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার কোম্পানির নামে একটি প্রোফাইল বা পেজ আছে। এখন চাচ্ছেন যে, আগামী ৫ দিনের ভেতরে আপনার কোম্পানির ১০০ টি প্রোডাক্টের তালিকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন, যেনো তারা প্রোডাক্ট গুলো কিনতে আগ্রহী হয়।

এজন্য আপনাকে ফেসবুককে সামান্য কিছু অর্থ পে করতে হবে। বিনিময়ে তারা ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছে আপনার কোম্পানির প্রোডক্টের বিজ্ঞাপন দেবে। এভাবেই অল্প সময়েই আপনার সকল প্রোডাক্ট বিক্রি হওয়ার চান্স রয়েছে। এটাকেই মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার পেইড মার্কেটিং বলে।

কনটেন্ট রাইটিং (Content Writing)

ডিজিটাল মার্কেটিং এর অনেক বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে কনটেন্ট রাইটিং। কনটেন্ট রাইটিং মূলত লেখালেখির কাজ। বর্তমান সময়ে সব ধরণের কোম্পানি -প্রতিষ্ঠানই তাদের নিজস্ব কোম্পানির জন্য ওয়েবসাইট খুলে থাকে।  সেইসব ওয়েবসাইটে ব্লগ বা লেখালেখির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রোডাক্টের রিভিউ করে তাদের অডিয়েন্সকে প্রোডাক্টের ফিচার সম্পর্কে অবগত করে।

লেখালেখির বিষয়টা ব্লগিং পর্যায়ে যায়। প্রত্যেকটা কোম্পানিই এখন ব্লগিং নিয়ে কাজ করে। গ্রাহকদেরেকে প্রোডাক্টের ফিচার সম্পর্কে জানাতে ব্লগিংয়ের গুরুত্ব অপরসীম। যা কোনো কিছুর সাথেই তুলনাযোগ্য নয়। আপনি ব্লগিং করার মাধ্যমে ডিজিটাল মার্কেটিং করে সম্পূর্ণ ফ্রিতেই টার্গেট অডিয়েন্স পেতে পারেন।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization / SEO)

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? কিভাবে করতে হয়?সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনকে সংক্ষেপে এসইও (SEO) বলা হয়। এসইও হলো ডিজিটাল মার্কেটিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এটি পেসিভ ইনকাম বা প্রোডাক্ট বিক্রি করার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

ওয়েবসাইটের বিভিন্ন কনটেন্টকে মূলত এসইও করা হয়। এসইওর প্রধান উদ্দেশ্যই হলো সার্চ ইঞ্জিনের সাথে কনটেন্টকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

আপনার যদি সার্ভিস বা প্রোডাক্ট ভিত্তিক কন্টেন্ট হয় তবে এই ধরণের কনটেন্টকে এসইও করে সার্চ ইঞ্জিন থেকে অগণিত গ্রাহক ফ্রিতেই অর্গানিক ভাবে পাবেন। এসইও এমন একটি বিষয়, যা ছোট্ট একটি বিজনেসকে অনেক উপরে নিয়ে যায়।

এসইও একটি দীর্ঘমেয়াদী বিজনেজ কৌশল। যেটার মাধ্যমে ওয়েবসাইটে নতুন নতুন টার্গেট অডিয়েন্স আসে। এসইওর মাধ্যমে ওয়েবসাইকে সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাঙ্ক করানো হয়। আর সেই র‌্যাঙ্ক করা ওয়েবসাইটে নিজের সার্ভিস, প্রোডাক্ট খুব সহজেই টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে সেল করা যায়।

ওয়েবসাইটকে এসইও করার জন্য আপনাকে এসইওর জ্ঞান আয়ত্ব করতে হবে। নতুবা এসইও করার জন্য বিভিন্ন এসইও এক্সপার্টকে হায়ার করে কাজ করিয়ে নিতে হবে।

গুগল এডওয়ার্ডস ( Google AdWords)

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি বড় অংশ হচ্ছে Google AdWords. গুগল এডওয়ার্ডস ব্যবহার করেও খুব সহজেই অল্প পূজীতে টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে যে কোনো সার্ভিস বা কাঙ্ক্ষিত বিষয়ের প্রচরণা করা যায়। এটা প্রচারণার সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম।

গুগল এডওয়ার্ডস মূলত একটি বিজ্ঞাপণ সেবা। এই সেবাটি গুগল কোম্পানি নিজেরাই প্রোভাইট করছে।  গুগল এডওয়ার্ডস এর মাধ্যমে মার্কেটিং করতে হলে আপনাকে অবশ্যই গুগল কোম্পানিকে অর্থ প্রদান করতে হবে। এর বিনিময়ে তারা আপনার কাঙ্খিত বিষয়টি তাদের অডিয়েন্সের কাছে প্রচার করবে।

আপনারা হয়ত দেখে থাকবেন যে, বিভিন্ন ইউটিউব ভিডিও বা ওয়েবসাইটের কনটেন্টের মাঝে বিচিত্রময় বিজ্ঞাপণ আসে। এটা মূলত গুগল দ্বারাই পরিবেশন করা হচ্ছে। এই বিজ্ঞাপন গুলো সরাসরি কোন এক বা একাধিক কোম্পানির। সেই কোম্পানি গুলো অর্থের বিনিময়ে গুগলের সাথে এই ধরণের বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

আপনার যদি কোন নিজস্ব সার্ভিস, কোম্পানি বা প্রোডাক্ট থাকে, তবে আপানার কঙ্খিত বিষয়ের টার্গেট অডিয়েন্স পেতে গুগলের এডওয়ার্ডস ব্যবহার করতে পারেন।

গুগল এডওয়ার্ডসের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সময় আপনার সেবার এরিয়া সিলেক্ট করতে পারবেন। পাশাপাশি অডিয়েন্সের ধরণ, বয়স ইত্যাদি সিলেক্ট করতে পারবেন।

ইউটিউব মার্কেটিং বা ভিডিও মার্কেটিং (YouTube Marketing / Videos Marketing)

ডিজিটাল মার্কেটিং এর আরেকটি বড় অংশ হচ্ছে ইউটিউব মার্কেটিং বা ভিডিও মার্কেটিং। ইউটিউব একটি ভিডিও প্লাটফর্ম। বর্তমান সময়ে ইউটিউব মার্কেটিংটা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের একটি বড় অংশ হিসেবে কাজ করছে। ইউটিউব ছাড়াও ভিডিও মার্কেটিং অনেক ভাবেই করা যায়। তবে ভিডিও মার্কেটিং এর জন্য ইউটিউব সবচেয়ে বেস্ট।

আপনার যদি নিজস্ব একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকে, তবে আপনি নিজের কোম্পানি বা প্রোডাক্টের জন্য ফ্রিতেই টার্গেট অডিয়েন্স পাবেন। ইউটিউবে অনেক ভিডিও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আছে, যারা ইউটিউবে বিভিন্ন বিষয়ের ভিডিও পাবলিশ করছে। একটা বিষয় লক্ষ্য করবেন যে, ভিডিওর মাঝখানে বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রোডাক্টের এড দেয় তারা। এটা মূলত মার্কেটিং এর জন্য করা হচ্ছে।

আপনার নিজস্ব চ্যানেল থাকলে আপনি নিজেই এভাবে আপনার কাঙ্খিত বিষয়ের মার্কেটিং করতে পারবেন। আর যদি আপনার নিজস্ব কোন চ্যানেল না থাকে, তবে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সাথে অর্থ চুক্তিতে আপনার কোম্পানি বা প্রোডাক্টকে তাদের মাধ্যমে প্রমোট করতে পারবেন। এটাই মূলত ভিডিও মার্কেটিং।

মোবাইল অ্যাপস মার্কেটিং (Mobile Apps Marketing)

প্রযুক্তির এই যুগে প্রায় সকল মানুষের হাতেই এখন স্মার্টফোন রয়েছে। সাধারণ স্মার্টফোন ইউজারেরা গুগল প্লে-স্টোর থেকে বিভিন্ন ধরণের অ্যাপস ডাউনলোড করে তাদের স্মার্টফোনে ব্যবহার করছে। এতে প্রায় সকল ইউজারই স্বাচ্ছন্দবোধ করছে। তবে এর মাঝখানে একটি বিশাল মার্কেটিং এর কাজ চলছে তা অনেকই হয়ত জানেন।

আমরা যখন আমাদের মোবাইল বা স্মার্টফোনে কোন অ্যাপস চালু করি, তখন দেখবেন যে বিভিন্ন ধরণের এড বা বিজ্ঞাপন আছে। এটাও মূলত গুগল এডওয়ার্ডস এর মতই কাজ করছে। তবে মোবাইলের অ্যাপসে বিজ্ঞাপনগুলো সরাসরি গুগল এডওয়ার্ডস থেকে আসছে না। এই বিজ্ঞাপন গুলো মূলত এডমুব থেকে আসছে। তবে এটাও গুগলেরই একটি সেবা।

আপনি চাইলে মোবাইল অ্যাপসেও আপনার কোম্পানি বা যে কোন পণ্যের বিজ্ঞাপন দিয়ে মার্কেটিং করতে পারেন। এটা করার জন্য আপনাকে গুগলের সাথে অর্থের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে। এটা সাধারণত গুগল এডওয়ার্ডস এর মতই কাজ করে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং ( Affiliate Marketing )

এফিলিয়েট মার্কেটিং খুবই চমৎকার একটি প্রচার মাধ্যম। এটি ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ। তবে চাহিদাগত ভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং জনপ্রিয়তায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

ব্যবসায়িক বা পণ্য বিক্রয়ে প্রচারের প্রেক্ষাপটে এফিলিয়েট মার্কেটিং দুর্দান্ত একটি পন্থা। এই পন্থাটি অবলম্বন করার জন্য আপনাকে এক টাকাও খরচ করতে হবে না। বিনা খরচেই আপনার কোম্পানির টার্গেট পূরণ করতে পারবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং বিষয়টা এমন, আপনার প্রোডাক্ট অন্য কেউ বিক্রি করে দেবে, তার বিনিময়ে প্রোডক্টের মোট বিক্রয়মূল্যের একটি অংশ বিক্রেতাকে দেবেন। কোম্পানি ভেদে এটার পার্সেন্টিজ নির্ণয় করা হয়।

মনে করেন, আপনার কোম্পানির একটি পণ্যের মূল্য ১০০ টাকা। এফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আপনার পণ্যটি কেউ বিক্রি করে দিলো এবং এর বিনিময়ে আপনি তাকে পণ্যের বিক্রয় মূল্যের ১০% দিয়ে দিয়েন। অর্থাৎ, ১০ টাকা। বাকি ৯০ টাকা আপনার। এফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত এভাবেই কাজ করে।

ইমেইল মার্কেটিং (Email marketing)

ইমেইল মার্কেটিং হচ্ছে একটি অনলাইন মার্কেটিং পদ্ধতি। এটা ডিজিটাল মার্কেটিং এর খুবই কার্যকরী কৌশল বটে। ইমেইল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার নিজস্ব সেবা বা প্রোডাক্টের প্রচার করতে পারবেন।

বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছোট-বড় অসংখ্য কোম্পানি -প্রতিষ্ঠান এই পদ্ধতিটি অবলম্বন করছে এবং তাদের আয় বৃদ্ধি করছে। সাধারণ ক্রেতাদের কাছে আপনার পণ্যের তথ্য পৌঁছানোর সহজ ও কার্যকরী পদ্ধতি ইমেইল মার্কেটিং।

ইমেইল মার্কেটিং করার জন্য আপনাকে বিভিন্ন মানুষের ইমেইল সংগ্রহ করতে হবে। তারপর আপনার কোম্পানি বা পণ্যের লিংক তাদের ইমেইলে মাধ্যমে পাঠাতে হবে। এভাবেও অনেক গ্রাহক পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটাই মূলত ইমেইল মার্কেটিং।

ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার

ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়বর্তমান সময়ে সকল কোম্পানি -প্রতিষ্ঠানই অনলাইন ভিত্তিক বাণিজ্য পরিচালনার প্রতি ঝুঁকছে। আপনারা অবশ্যই জানেন যে, অনলাইন বাণিজ্য পরিচালনার জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।

এজন্য দেশী-বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানিতেই ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে চাকরির ডিমান্ড তৈরি হচ্ছে। আপনি যদি মার্কেটিংয়ের কাজ করতে চান, তাহলে ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্রাটেজি গুলো শিখে নিতে পারলে আপনিও অনেক কোম্পানিতে পার্মানেন্ট জব করতে পারেন। অথবা, কোথাও পার্মানেন্ট জব না নিয়েও এই সার্ভিসটি বিভিন্ন কোম্পানিকে লোকাল ভাবে দিতে পারবেন।

অনলাইন ভিত্তিক যত ক্যারিয়ার আছে, তার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত এবং জনপ্রিয় ক্যারিয়ার হলো ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যারিয়ার। এই কাজের চাহিদা যেমন, সম্মানও তেমন। তাই আপনি চাইলে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে আপনার জন্য সুন্দর একটি ক্যারিয়ার গড়ার অপর্চুনিটি তৈরি করতে পারেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার উপায় কি?

মার্কেটিং বিষয়টাই প্রচার করা। ডিজিটাল মার্কেটিং মানে অনলাইনে প্রচার করা। আপনি যদি অনলাইনে কিছু প্রচার করতে চান তবে আপনাকে উপরোল্লেখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে।

ডিজিটা মার্কেটিং শেখার জন্য আপনাকে অভিজ্ঞদের সংস্পর্শে আসতে হবে। বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর কোর্স করাচ্ছে। আপনি চাইলে সেসব প্রতিষ্ঠানের কোর্স করেও ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে পারবেন। পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর অনেক বই আছে। চাইলে সেসব বই সংগ্রহে রাখতে পারেন।

আমরা ফ্রিতেই ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স আপনাদেকে উপহার দেওয়ার চেষ্টা করছি। আপনারা যদি আমাদের এই কোর্সটি সম্পূর্ণ ধৈর্যের সাথে পড়তে পারেন এবং অনুধারণ করতে পারেন, তবে আশাকরি আপনারা ডিজিটাল মার্কেটিং এর জ্ঞান আয়ত্ব করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

ডিজাটাল মার্কেটিং শেখার জন্য কেমন যোগ্যতা প্রয়োজন?

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার ক্ষেত্রে অনেকেই যোগ্যতা নিয়ে কনফিউশনে পড়েন, এটাও সুস্পষ্ট করা জরুরি। ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য বিশেষ কোনো যোগ্যতার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি কম্পিউটার, ইন্টারনেট, ব্রাউজিং এবং মার্কেটিং সম্পর্কে জানেন, তবে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে কাজ করতে পারবেন।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

প্রযুক্তির ব্যবহারের দরুণ দিন দিন অগণিত মানুষ ইন্টারনেটে এক্টিভ হচ্ছে। এই বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রায় সব ধরণের কোম্পানিই এখন অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইন ভার্সনেও কাজ করছে। তাই বেড়েছে ডিজিটাল মার্কেটিংরের ব্যবহার। আপনি চাইলে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখে নিজের জন্য বিউটিফুল একটি ক্যারিয়ার গঠন করতে পারেন।

মার্কেটিং যেহেতু প্রচারণার কাজ, আপনি অনলাইনে যেভাবেই প্রচার করবেন তা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে গণ্য হবে। ফেসবুকে যদি আপনার লক্ষ লক্ষ ফলোয়ার থাকে, তবে আপনি এড ক্যাম্পেইন চালু না করেই টার্গেট অডিয়েন্স পেতে পারেন। এটা আপনার জনপ্রিয়তার উপর ভিত্তি করবে। যাইহোক, আশাকরি ডিজিটাল মার্কেটিং কি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে করতে হয় -এর প্রাথমিক বিষয়বস্তুর পূর্ণ ধারণা আপনাদের দিতে পেরেছি।

👉 লেখাটি ভালো লাগলে আপনাদের বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ

6 comments