কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়

কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়? বাংলা ব্লগার গাইড

ইন্টারনেট থেকে ইনকাম করার খুবই চমৎকার একটি পদ্ধতি হলো ব্লগিং করা। ব্লগিং ইন্ডাস্ট্রিতে পৃথিবীর প্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করে। বাংলা ভাষাভাষীদের জন্যও ব্লগিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার অপর্চুনিটি রয়েছে। কিন্তু নতুনদের মাঝে অনেকেই প্রশ্ন করেন, কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়? ব্লগিং সেক্টরে যারা কাজ করে বা কাজ করতে আগ্রহী তাদের প্রায় সবারই উদ্দেশ্য একটাই, তা হলো ব্লগ থেকে আয় করা।

কিন্তু লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো, আমাদের নতুনেরা ব্লগার হওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়ে যাই। তাদের জন্যই আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে কিছু পরামর্শ ও নির্দেশনা থাকবে। আশাকরি নতুনদেরকে ব্লগার হতে এই আর্টিকেলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়?

ব্লগার হওয়ার জন্য রেডিমেট শটকার্ট কোন রাস্তা নেই। আপনাকে এমন কিছু বিষয় ফলো করতে হবে, যে বিষয় গুলো ফলো করলে ব্লগার হতে আপনার জন্য এডভান্টেজ তৈরি করবে। তবে প্রথমেই আপনাকে ব্লাগারের সংজ্ঞা বুঝতে হবে। ব্লগার কাকে বলে? ব্লগার বুঝার আগে আপনাকে ব্লগিং বিষয়টা বুঝতে হবে।

ব্লগিং কি?

ব্লগিং মানে হলো আপনার দিনলিপি বা ব্যক্তিগত বিষয়ের উপস্থাপনা। আমরা যখন নিজের পার্সোনালিটি বা ব্যক্তিগত বিষয়াদি পাঠকদের সামনে তুলে ধরি, যেমন লেখালেখি বা ভিডিওর মাধ্যমে। এই ধরণের উপস্থাপনাকেই ব্লগিং বলা হয়।

আমরা যে এই ওয়েবসাইটে লেখালেখি করছি এটিকেও ব্লগিং বলা যায়। ব্লগিং বিষয়টা লেখালেখির উপর সবচেয়ে বেশী প্রাধান্য পেয়ে থাকে। তবে ইদানিং ভিডিওর মাধ্যমেও অনেকেই ব্লগিং করছে।

ব্লগিং করতে গেলে ব্লগ এর প্রয়োজন হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই যুগে ব্লগ ইন্ডাস্ট্রিটি দুইটি ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। যারা জানতে চান কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়, তাদের জন্য এই বিষয়টা জানাও জরুরি।

ব্লগ কি?

২০০৪ সালের আগে, অর্থাৎ ইউটিউব আসার আগে ব্লগিং বিষয়টা শুধুমাত্র লেখালেখির উপর নির্ভরশীল ছিল। তবে এখন ইউটিউব প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে অনেকেই ব্লগিং করে। ইদানিং ভিডিও ব্লগিং ইন্ডাস্ট্রিকে আরো সমৃদ্ধ করতে ফেসবুকও এই কাতারে যুক্ত হয়েছে।

তবে ব্লগিংয়ের নির্ভরতা লেখালেখির উপর থেকে সরে যায়নি। বরং লেখালেখির উপর ব্লগিং আরো সমৃদ্ধ হয়েছে, হচ্ছে এবং আগামী দিনগুলোতে আরো সমৃদ্ধ হবে।

মোটকথা হলো ব্লগিং সেক্টরটি প্রতিনিয়তিই সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই সেক্টরে নিয়মিত যুক্ত হচ্ছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। তাই আমাদের বাংলাদেশের মানুষের কর্ম সংস্থান হিসেবে ব্লগিংকে দারুণ সম্ভাবনা হিসেবেই মনে করি।

চলুন এবার জেনে নিই কিভাবে ব্লগার হওয়া যায়?

ব্লগার হতে চান?

ব্লগার হতে গেলে আপনাকে নিয়মিত ব্লগিং করতে হবে। এজন্য প্রথমেই আপনাকে ইন্ডাস্ট্রি সিলেক্ট করতে হবে। অর্থাৎ, আপনি কোন প্লাটফর্মে কাজ করতে চান, ভিডিও প্লাটফর্ম নাকি লেখালেখি প্লাটফর্ম?

লেখালেখির মাধ্যমে প্রফেশনালি ব্লগিং করলে নিজস্ব ব্লগ সাইট তৈরি করতে হবে। আবার চাইলে বিভিন্ন ব্লগ সাইটে লেখালেখি করতে পারেন। বাংলাদেশের অনেক জনপ্রিয় ব্লগ সাইট রয়েছে, যারা নতুনদেরকে তাদের সাইটে লেখালেখির জন্য সুযোগ দেয়। তবে লেখালেখির মাধ্যমে প্রফেশনাল মানের ব্লগার হতে নিজস্ব ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করার বিকল্প নেই।

কিন্তু ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য আপনাকে সামান্য কিছু টাকা ব্লগ তৈরির পেছনে খরচ করতে হবে। খরচের পরিমাণটা জেনে নিনঃ ওয়েবসাইট তৈরির খরচ

ভিডিও প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে ব্লগিং করতে গেলে প্রথম সারির চয়েজ হলো ইউটিউব এবং ফেসবুক। আপনার  ‍রুচি ও চাহিদার উপর ভিত্তি করে অবশ্যই প্লাটফর্ম সিলেক্ট করবেন। অর্থাৎ, আপনার কাছে লেখালেখি ভালো লাগে তবে ব্লগ সাইটে লেখালেখির মাধ্যমে ব্লগিং করবেন। আবার যদি ভিডিওর মাধ্যমে ব্লগিং করতে ভালো লাগে তবে অবশ্যই ভিডিও ব্লগিংয়ে মনোযোগী হবেন।

ইচ্ছার বাহিরে গিয়ে ব্লগিং প্লাটফর্ম সিলেক্ট করবেন না। কারণ, ব্লগিং হলো দীর্ঘমেয়াদী একটি পরিকল্পনার নাম। ব্লগিংয়ের জন্য প্লাটফর্ম নির্ণয় করার পর সেই প্লাটফর্মে নিয়মিত এক্টিভ থাকতে হবে এবং পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধিকরণে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি ব্লগিংয়ের জন্য ভাষা নির্বাচন করাও জরুরি।

এখানে অনেক মানুষ আছেন, যারা একাধিক ভাষায় অভিজ্ঞ। আমার ধারণা অনুযায়ী বাংলাদেশীদের অনেকেই মাতৃভাষা হিসেবে প্রথমেই বাংলা ভাষা, আরবি ভাষা, উর্দু ভাষা, হিন্দি ভাষা ও ইংরেজি ভাষা গুলো জানি। ব্লগিংয়ে এই প্রত্যেকটি ভাষাই পৃথিবীজুড়ে রাজত্ব করছে। তাই এই ভাষাগুলোর যে কোনোটা ব্লগিং করার জন্য নির্ণয় করতে পারেন।

বাংলাদেশি ব্লগার হওয়ার জন্য প্রথম চয়েজ হলো নিজের মাতৃভাষা বাংলা। কারণ, ভাষাভাষীরা নিজের মাতৃভাষা যত ভালো করে জানবে তা অন্য কোন ভাষা জানবে না এটাই স্বাভাবিক।

একজন সফল ব্লগার হওয়ার জন্য নিজ মাতৃভাষাকেই সবচেয়ে বেশী প্রাধান্য দেওয়া উচিত। কেননা, ব্লগার হতে গেলে ব্লগিয়ের সাথে নিয়মিত সম্পৃক্ত থাকতেই হবে। নাহয় সফল ব্লগার হওয়া যাবে না।

আপনি যদি অন্য কোন ভাষা ভালো করে জানেন, তবে কাঙ্খিত ভাষায় ব্লগিং করতে কোন বাঁধা নেই।

গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু কথাঃ

সেরা ব্লগার হওয়ার একটাই পথ, তা হলো প্রাথমিক পর্যায়ে লাভ-ক্ষতির দিকে লক্ষ্য না করে নিয়মিত ব্লগিংয়ের কাজ চালিয়ে যেতে হবে। অনেকেই মাত্র এক-দুইমাস ব্লগিং করে হাঁপিয়ে যায়। তাদের জন্য সাময়িক ব্লগার হওয়া হয়ত সম্ভব। তবে সফল ব্লগার হওয়া অসম্ভব ব্যাপার।

আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে কিছু কথা বলি, যেনো আপনি সহজেই বিষয়টা বুঝতে পারেন। আমি প্রায় ৪ বছর ধরে ব্লগিংয়ের সাথে সম্পৃক্ত। ২০০৬ সাল থেকে লেখালেখির প্রতি গুরুত্ব দেই। কিন্তু ২০০৮ সালের পর পুরোপুরি ভাবেই লেখালেখিতে সম্পৃক্ত হয়ে পড়ি। যদিও তখনকার সিচুয়েশনে ইন্টনেটে ব্লগিং করাটা আমার জণ্য দুঃসাধ্য ব্যাপার ছিল। তবে ২০৩ সালে এসে ইন্টারনেটে ব্লগিং যাত্রা শুরু করি। আজ অবধি ধৈর্যের সাথে কাজ করে যাচ্ছি।

এখনো আমি খুব বেশী সফল তা কিন্তু নয়। তবে ব্লগিংয়ের প্রতি ভালোবাসাটা আমাকে টিকিয়ে রেখেছে। এই সুদীর্ঘ পথচলাতে অনেক ভুল করেছি, যার কারণে আমার চোখে আমি খুববেশী এগোতে পারিনি। তবে ব্লগিংয়ের অনেক বিষয়াদি জানা হয়েছে।

কিভাবে ব্লগার হওয়া যায় এই বিষয়ে খুব বেশী ফোকাস করবেন না। ব্লগিংয়ের কাজ চালিয়ে যাওয়াই মূল উদ্দেশ্য হিসেবে নিন। ব্লগিং করতে করতে সুনিশ্চিতভাবে আপনি একজন সফল ব্লগার হয়ে যাবেন এতে কোন সন্দেহ নেই।

এজন্য প্রয়োজন মেধা, ধৈর্য, শ্রম, আগ্রহ-আবেগ ইত্যাদি। আমি মূলত ওয়েব ডিজাইন, এসইও এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে কাজ করতাম। এখনো করি। তবে ব্লগিং করাটা আমার কাছে যতটুকু ভালোবাসার, ওয়েব ডিজাইন, এসইও এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনে কাজ করাটা আমার কাছে ততটুকু ভালোবাসার নয়।

সত্যি বলতে আমার কাছে লেখালেখি অনেক বেশী ভালো লাগে। যার কারণে  ব্লগিংকেই প্রাথমিক টার্গেক হিসেবে নিয়েছে। আপনি যদি এমন একটি প্রতিজ্ঞার মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, তবে আশা করি আপনি সফল ব্লগার হবেন ইনশাআল্লাহ।

কিভাবে ব্লগার হওয়া যায় আশাকরি উত্তর পেয়েছেন। তবে এই বিষয়ে যদি আপনার কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

অনলাইন ইনকাম এর খুবই চমৎকার একটি পদ্ধতি হলো ব্লগিং করা। ব্লগিং ইন্ডাস্ট্রিতে পৃথিবীর প্রায় লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ করে। বাংলা ভাষাভাষীদের জন্যও ব্লগিংয়ে ক্যারিয়ার গড়ার অপর্চুনিটি রয়েছে।

ItNirman English

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

Add comment