গ্রাফিক্স ডিজাইন কি এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার?

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার?

Graphics design এর কাজ করতে গিয়ে প্রায় মানুষই আমাকে ডিজ্ঞাসা করে গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? আবার অনেকেই প্রশ্ন করে গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার? গ্রাফিক ডিজাইন কিভাবে শিখতে হয়?

Graphics design রিলেটেড সকল কনফিউশন দূর করতে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য তৈরি করা। চলুন জেনে নিই Graphics design এর আদ্যোপান্ত।

Graphics design বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ইউজার ফেন্ডলি প্রফেশন। সারাবিশ্ব জুড়ে এর চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলছে।

ডিজাইন রিলেটেড পেশাগুলোর মধ্যে Graphics design হলো অন্যতম।

যে কেউ চাইলে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে পারে। ওয়েব ডিজাইন ও সফটওয়্যার ডিজাইনের মতো কঠিন নয় এটা।

গ্রাফিক্স ডিজাইন করার জন্য কোন প্রকার প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে হয় না।

সাধারণত কয়েকটি সফটওয়্যারের ব্যবহার জানলেই গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করা সম্ভব।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি?

গ্রাফিক্স শব্দের অর্থ চিত্র বা অঙ্কন সম্বন্ধীয় কোনোকিছু। ডিজাইন শব্দের অর্থ নকশা।

এক কথায়, ড্রয়িং , ছবি, ইমেজ এই ধরণের কাজকে গ্রাফিক্স ডিজাইন বলে।

আরো সহজ ভাষায় বলতে গেলে, চিত্র দ্বারা নকশা তৈরির পক্রিয়াকেই মূলত Graphics design বলা হয়।

Graphics design মূলত ব্যবহার করা হয়, কোন উপাত্ত বা ড্যাটা প্রকাশের উদ্দেশ্যে, নকশা বা শিল্পজাত করণে, আর্ট বা ছাপাখানায় অক্ষর বিন্যাসে অথবা শিক্ষামূলক বা বিনোদন মূলক কোন কাজে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন এর ইতিহাস

গ্রাফিক্স এর ব্যবহার শুরু হয়েছিল আজ থেকে খ্রীষ্টপূর্ব প্রায় ৪০,০০০-০,০০০ বছর আগে অথবা তারো আগে।

অর্থাৎ, প্রত্নপ্রস্তর যুগ থেকে।

প্রাচীন গ্রাফিক্স ব্যবহারের হদীস পাওয়া যায় নৃবিজ্ঞানীদের কাছ থেকে।

প্রত্নপ্রস্তর যুগে বস্তু চিহ্নিত করার জন্য নুড়ি পাথর, হাতির দাঁত, হাড় এবং হরিণের শিং দিয়ে তারা নকশা তৈরী করতো।

সে সব নকশাগুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞান, বাৎসরিক মৌসুমী ঘটনা, কালক্রমানুযায়ী ঘটনাবলীকে কেন্দ্র করে প্রতীকী চিত্র খোদাই করে রাখতো।

খ্রীষ্টপূর্ব প্রায় ৬০০-২৫০ অব্দে গ্রীক সভ্যতার কাছ থেকে জ্যামিতিক চিত্র কর্মের একটি বিশেষ ভূমিকা দেখা যায়।

তারা ঐ সময় গ্রাফিক্স এর মাধ্যমে জ্যামিতিক তত্ত্ব গুলো উপস্থাপন করতো । যেমন, বৃত্তের তত্ত্ব , প্যাথাগোরিয়ান তত্ত্ব ।

প্রাচীন যুগে গ্রাফিক্স এর কাজ করা হলো বিশেষ কোন কালি ব্যবহার করে। আমরা যেটাকে আর্ট বলে থাকি।

কিন্তু ডিজিটাল যুগে অথবা প্রযুক্তি আসার পর থেকে গ্রাফিক্স এর ধরণ পাল্টে যায়।

বর্তমানে Graphics এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাটাগরির গ্রাফিক্স যুক্ত হয়েছে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার?

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার?
গ্রাফিক্স ডিজাইন কি এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার?

কাজের ধরণ এবং চাহিদাগত ভাবে গ্রাফিক্স ডিজাইন সাধারণত ২ প্রকার।

  1. প্রকৌশলী ড্রয়িং
  2. কম্পিউটার গ্রাফিক্স

প্রকৌশলী ড্রয়িং কি?

(১) প্রকৌশলী ড্রয়িং হলো নিজ হাতে বিশেষ কোন রঙ বা কালি ব্যবহার করে কাগজে অথবা দেওয়ালে ড্রয়িং করা।

এটাও গ্রাফিক্স ডিজাইনের অন্তর্ভূক্ত।

এটা প্রাচীনকাল থেকেই শিল্প হিসেবে চলে আসছে।

এখনো প্রকৌশলী ড্রয়িং এর চাহিদা অনেক।

কম্পিউটার গ্রাফিক্স কি?

(২) কম্পিউটার গ্রাফিক্স শুরু হয় প্রযুক্তি আবির্ভাবের অনেক পড়ে। বলা যায় ডিজিটাল যুগে এসে কম্পিউটার গ্রাফিক্স এর সূচনা।

কম্পিউটার গ্রাফিক্স বলতে কম্পিউটারের সাহায্যে যে ধরণের গ্রাফিক্স ডিজাইন করা হয়।

কম্পিউটার গ্রাফিক্স ২ টি বিশেষ ক্যাটাগরিতে বিভিক্ত। যেমনঃ

  1. স্টিল ইমেজ গ্রাফিক্স
  2. মোশান গ্রাফিক্স

স্টিল ইমেজ কি?

(১) স্টিল ইমেজ গ্রাফিক্স বলতে 2D কোন ইমেজ বা ছবিকে বুঝানো হয়।

অর্থাৎ, যেই ধরণের ইমেজ কাগজে প্রিন্ট হয়, এবং নিজ থেকে সে নড়াচড়া করতে পারেনা।

যেমনঃ পোস্টার ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, ফেস্টুন ডিজাইন ইত্যাদি। এই ধরণের ইমেজ বা ছবিকে স্টিল পিকচার / স্টিল ইমেজ / স্টিল গ্রাফিক্স বলা হয়।

স্টিল ইমেজ গ্রাফিক্স আবার ৩ ভাগে বিভক্ত।

  1. রাস্টার ইমেজ (পিক্সেল বেসিস)
  2. ভেক্টর ইমেজ (পিক্সেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট)
  3. টাইপোগ্রাফি

স্টিল ইমেজ গ্রাফিক্স এর প্রকারভেদ নিয়ে পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

মোশান গ্রাফিক্স কি?

(২) মোশান গ্রাফিক্স বলতে এক ধরণের ভিডিও চিত্রকে বুঝানো হয়।

যেটা স্বাভাবিক ভাবে নড়াচড়া করে।

মোশান গ্রাফিক্স সাধারণত 3D ক্যাটাগরির হয়ে থাকে।

অর্থাৎ, যেটা ভিডিও আকারের হয়।

যেমনঃ ইনট্রু, অ্যানিমেশন ইত্যাদি।

মোশন গ্রাফিক্স আবার ২ প্রকার।

  1. অ্যানিমেশনগ্রাফিক্স
  2. ভিডিও গ্রাফিক্স

অ্যানিমেশন গ্রাফিক্স এর প্রকারভেদ নিয়ে পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কেন শিখবেন?

যে কোনো কাজ শেখার আগে অবশ্যই ”কাজের উদ্দেশ্য থাকা চাই”। অযথা সময় নষ্ট করা জ্ঞানীলোকের কাজ নয়।

তাই অবশ্যই কাজ শেখার আগে কাজের মান, কাজের ধরণ এবং কাজের চাহিদা সম্পর্কেও সুস্পষ্ট ধারণা রাখা জরুরি।

আপনি Graphics design এজন্যই শিখবেন, কেননা এটা শেখা অনেক সহজ।

অনলাইন ও অফলাইনে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এজন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে দারুণ একটি ক্যারিয়ার গড়ার অপর্চুনিটি আছে।

গ্রাফিক্স ডিজাইনে ক্যারিয়ার

বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়া সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ Graphics design এর উপর কাজ করছে এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপরই ভিত্তি করে তাদের ক্যারিয়ার সাজিয়েছে। Graphics design এমন একটি বিষয়, যার চাহিদা অনলাইন এবং অফলাইনে সমান তালে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে আপনি অনেক ভাবেই ক্যারিয়ার বিল্ড করতে পারবেন। এরই মধ্যে যেমনঃ

(১) কোন Graphics design কোম্পানিতে পার্মানেন্ট জব করতে পারবেন।

(২) গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর নিজস্ব দোকান দিয়ে ক্যারিয়ার বিল্ড করতে পারবেন।

(৩) অনলাইনে কোন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অথবা কোন মার্কেটপ্লেসে সার্ভিস দিয়েও ক্যারিয়ার বিল্ড করতে পারবেন।

আপনার পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী যে কোন ক্যাটাগরির Graphics design শিখতে পারেন।

ইতোমধ্যেই গ্রাফিক্স ডিজাইন এর প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কিভাবে শিখব?

বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়াতে Graphics design এর উপর অনেক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।

যারা গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর স্টুডেন্টদেরকে বিভিন্ন ভাবে ট্রেনিং দিয়ে থাকে।

আপনি চাইলে সরাসরি ভাবে নিকটস্ত কোন ট্রেনিং সেন্টার থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে নিতে পারেন।

তাছাড়া গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার মতো আরো কিছু জনপ্রিয় মাধ্যম নিচে তোলে ধরা হলো।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স

বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই নতুনকে দক্ষ করে তোলার জন্য বিভিন্ন ধরণের কোর্স তৈরি করা হয়।

এরই মধ্যে ভিডিও কোর্স সবচেয়ে জনপ্রিয়। ভিডিও কোর্স গুলো মূলত টিউটোরিয়াল ভিত্তিক হয়ে থাকে। অর্থাৎ, গৃহশিক্ষক হিসেবে কাজ করে।

ভিডিও কোর্স এর ট্রেনিং প্রক্রিয়া সাধারণত ২ প্রকারের হয়ে থাকে।

  1. লাইভ ভিডিও টেনিং ক্লাস
  2. ভিডিও টিউটোরিয়াল ভিক্তিক ক্লাস

এই ক্লাসগুলোর মাধ্যমে আপনাকে গ্রাফিক্স ডিজাইন কি এবং তার ব্যবহার প্রক্রিয়ার সমস্ত বিষয়াদি বলে দেওয়া হবে।

ক্লাসের ট্রেনিং প্রক্রিয়া গুলো জেনে নেওয়া যাক।

(১) লাইভ ভিডিও ট্রেনিং ক্লাস বলতে, কোন ডিজিটাল ডিভাইস এর সাহায্যে ইন্টারনেট সংযোগ এর মাধ্যমে দূর থেকে বিশেষ কোন সফটওয়্যারের ব্যবহারে স্টুডেন্টদেরকে ট্রেনিং দেওয়া। এর জন্য আপনার একটি কম্পিউটার/ ল্যাপটপ / স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হবে।

(২) ভিডিও টিউটোরিয়াল ভিক্তিক ক্লাস বলতে, এক বা একাধিক অভিজ্ঞ ব্যক্তি দ্বারা কোন নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর বেশ কিছু লেকচার যার ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়েছে।

যেই ভিডিওগুলো পরবর্তীতে নতুনদের কাছে কোর্স হিসেবে পরিবেশন করা হয়। এই ধরণের বিষয় ভিত্তিক কিছু ভিডিও চিত্রকে একত্রিত করার মাধ্যমে তা কোর্স হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটাকেই ভিডিও টিউটোরিয়াল ভিক্তিক ক্লাস বলা হয়।

ভিডিও টিউটোরিয়াল গুলো ২ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।

  1. ফ্রি টিউটোরিয়াল
  2. পেইড টিউটোরিয়াল

(১) ফ্রি টিউটোরিয়াল বলতে যেই টিউটোরিয়াল গুলো সংগ্রহ করতে কোন প্রকার টাকা-পয়সা প্রয়োজন হয় না।

(২) পেইড টিউটোরিয়াল বলতে যেই টিউটোরিয়াল গুলো সংগ্রহ করতে টাকা-পয়সার প্রয়োজন হয়।

এখন অনেকেই বলতে পারেন, গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর কি কোন টিউটোরিয়াল কোর্স আছে? বা কোর্স থাকলেও কিভাবে কি করতে হবে?

গ্রাফিক্স ডিজাইন টিউটোরিয়াল

টিউটোরিয়াল ভিত্তিক Graphics design শেখা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে পপুলার একটি সিস্টেম।

ভিডিও টিউটোরিয়াল এর প্রকারভেদ সম্পর্কে ইতোমধ্যেই আলোচনা করা হয়েছে।

আপনি যদি Graphics design এর ফ্রি ভিডিও টিউটোরিয়াল সংগ্রহ করতে চান, তবে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব এর শরণাপন্ন হতে পারেন।

ইউটিউব থেকে বিনামূল্যেই গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ শিখতে পারবেন।

👉 ইউটিউবে আমরা ফ্রিতেই গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর ট্রেনিং দিচ্ছি। আপনি চাইলে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করার মাধ্যমে আমাদের ফলো করতে পারেন। চ্যানেল লিংকঃ আইটি নির্মাণ (ইউটিউব)

আর আপনি যদি Graphics design এর পেইড ভিডিও টিউটোরিয়াল সংগ্রহ করতে চান, তবে আপনি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গ্রাফিক্স এক্সপার্ট এর তৈরিকৃত টিউটোরিয়াল সংগ্রহ করতে পারেন ’ইউডেমি’ থেকে।

অথবা দেশীও পরিচিত যে কোন বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান থেকে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন বই

Graphics design এর উপর বাজারে অনেক বই পাওয়া যায়। আমরা সরাসরি ভাবে কোন বইকে সাজেস্ট করছি না। আপনার পরিচিত লাইব্রেরীতে খোঁজলে পেয়ে যাবেন। ইন্টারনেটজুড়েও গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর বিভিন্ন পিডিএফ বই রয়েছে। গ্রাফিক্স ডিজাইন পিডিএফ বই এর একটি লিস্ট খুব শিঘ্রই আমরা পাবলিশ করবো ইনশাআল্লাহ।

গ্রাফিক্স ডিজাইন টিপস

Graphics design এমন একটি বিষয়, যা একদিনেই শেখা সম্ভব নয়।

তবে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার জন্য এমন কিছু টিপস রয়েছে, যা আপনাকে শেখার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেবে এবং শেখার পরও আপনাকে দক্ষতা অর্জনের জন্য সহায়তা করবে।

এজন্য আপনাকে যা করতে হবে, শুরুতেই গ্রাফিক্স ডিজাইন কি তা ভালো করে জানুন।

তারপর আপনি এমন কিছু ডিজাইন ইন্টারনেট থেকে খুঁজে বের করুন, যেগুলো আপানার কাছে ভালো লাগে।

তারপর সেই ডিজাইনগুলো করার জন্য আপনি নিজেই চেষ্টা করুন।

এমন ভাবে ডিজাইন করবেন, যেনো হুবহু সেম ডিজাইন হয়। এভাবে অন্তত ৫০/৬০ টা ডিজাইন নকল করুন।

তবে এই ডিজাইন গুলো কোন কাজে ব্যবহার করতে যাবেন না।

কারণ, এগুলো অন্য একজনের কপিরাইট এর আন্ডারে রয়েছে।

অনেকেই বলবেন, তবে এই ধরণের ডিজাইন করে লাভ কী? অবশ্যই লাভ আছে।

এতে করে আপনার দক্ষতা যাচাই হবে।

আপনি যদি যে কোন ডিজাইন হুবহু নকল করতে পারেন, তবে ধরে নিন আপনি একজন দক্ষ ডিজাইনার!

কারণ, অন্যের ডিজাইন হুবহু নকল করতে পারার মানে হলো এই, আপনি সব ধরণের টুলসের ব্যবহার জানেন।

এজন্যই অন্যের ডিজাইন হুবহু নকল করতে পেরেছেন।

এভাবেই বেশ কিছুদিন ট্রাই করার পর নিজ থেকে ডিজাইন তৈরি করুন।

অনেকেই গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখার পর বলে, ভাই ডিজাইন মাথায় আসে না। কিভাবে ডিজাইন করবো?

আসলে আপনি যদি উপরোল্লেখিত টিপসটি ফলো করেন তবে দেখবেন যে,  ক্রিয়েটিভ ডিজাইন তৈরি করতে আপনার খুব বেশী কষ্ট হবে না।

এটা এজন্যই যে, অনেকেই গ্রাফিক্স শেখার ক্ষেত্রে তেমন চর্চাই করেন না, টুলসগুলো শিখেই থেমে যান।

একটা কথা মনে রাখবেন, আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন যতবেশী চর্চা করবেন ততই আপনার দক্ষতা বাড়বে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার

ইতোমধ্যেই গ্রাফিক্স ডিজাইন কি এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

আপনি যদি স্টিল ইমেজ গ্রাফিক্স অথবা মোশান গ্রাফিক্স শিখতে চান তবে নিচে দেওয়া সফটওয়্যার গুলো সংগ্রহ করুন।

এক্ষেত্রে আপনার সবগুলো সফটওয়্যার সংগ্রহ করার প্রয়োজন নেই।

Graphics design শেখার জন্য আপনার পছন্দ অনুযায়ী সফটওয়্যার বাছাই করতে পারবেন। /২ টা সফটওয়্যারের কাজ শিখলেই Graphics design সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পেয়ে যাবেন।

স্টিল ইমেজ গ্রাফিক্স সফটওয়্যার

  • Adobe Photoshop
  • Adobe InDesign
  • CorelDraw Graphics Suite
  • Adobe Illustrator
  • Xara Designer Pro X ইত্যাদি।

মোশান গ্রাফিক্স সফটওয়্যার

  • Adobe After Effects
  • Cinema 4D
  • Mocha Pro
  • Maya ইত্যাদি।

গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে হলে

গ্রাফিক্স ডিজাইনার হওয়ার জন্য একাডেমিক বিশেষ কোন যোগ্যতার প্রয়োজন নেই।

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি এই বিষয়টি যদি ভালো করে জানেন, তবে আপনি যে কোন শ্রেণী বা পেশার মানুষ হোননা কেন, ইচ্ছে করলেই গ্রাফিক্স ডিজাইন এর কাজ শিখতে পারবেন।

Graphics design শেখার ক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন

  1. একটি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ প্রয়োজন হবে।
  2. Graphics design করা যায় এমন সফটওয়্যার প্রয়োজন হবে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে কতদিন লাগে?

ইতোধ্যেই ’Graphics design শিখতে কতদিন লাগে’ এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি আর্টিকেল লেখা হয়েছে।

আপনি যদি ঐ আর্টিকেলটি না পড়ে থাকেন, তবে এখনই পড়ে নিনঃ গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে কতদিন লাগে? 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

অনলাইন এবং অফলাইনে এখনও দক্ষ গ্রাফিক্স ডিজাইনার -এর বড়ই অভাব।

আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন তবে আপনার জন্য Graphics design এর উপর একটি সুন্দর ক্যারিয়ার বিল্ড করার দারুণ সম্ভাবনা রয়েছে।

আমিও সাধারণত একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। তবে আমি অফলাইনে কাজ করিনা।

আমার কাজগুলো মূলত অনলাইন ভিক্তিক।

আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি হলফ করে বলতে পারি, আপনি যদি Graphics design শেখার পর অফলাইন বা অনলাইনে যে কোন জায়গায় দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারেন, তবে প্রতি মাসে ০ – ,০০০০০/- + টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারবেন।

তাও আবার বাংলাদেশ অথবা ইন্ডিয়ার যে কোন প্রান্ত থেকেই।

বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়াতে এমন অগণিত লোক আছে, যারা নিজ ঘরে বসেই অনলাইন থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর কাজ কাজ করে মাসে লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করে। যাইহোক, বিষয়টি অনলাইনে যাচাই করতে পারেন।

প্রিয় পাঠক, আমি আশা করছি গ্রাফিক্স ডিজাইন কি এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন কত প্রকার তার সুস্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।

👉 আপানার কাছে এই আর্টিকেলটি কেমন উপকারী মনে হয়, তা আমাদের জানাতে ভুলবেন না । কোন প্রশ্ন বা নিজস্ব মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

14 comments

error: Content is protected !!