ব্লগিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ৭ টি কমন ভুল

ব্লগিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর ৭ টি কমন ভুল

অনলাইন থেকে ইনকামের দুইটি জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ব্লগিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ব্লগিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের চাহিদা অপরসীম। ব্লগিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি ছোট্ট অংশ।

আপনি জানলে হয়তো অবাক হবেন,  ব্লগিং এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সেক্টরে কাজ করে নিজের জন্য দারুণ একটি ক্যারিয়ার বিল্ড করা সম্ভব। বাংলাদেশ ও উন্নত বিশ্বে লক্ষ লক্ষ ব্লগার ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার আছে, যারা ঘরে বসেই অনলাইন থেকে প্রতি মাসে হাজার হাজার ডলার ইনকাম করছে।

কিন্তু ব্লগিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে গিয়ে সাধারণ কিছু ভুলের কারণে প্রায় বেশীর ভাগ মানুষ ফেইলিয়র হয়ে যায়। ঝরে পড়ে এই সম্ভাবনাময় পাটফর্ম থেকে। তাই নতুনদের জন্য এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করতে যাচ্ছি, যা নিজের মাঝে এপ্লাই করলে ব্লগিং ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে ভালো ফলাফল দেখতে পাবেন। যারা ব্লগার বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হতে চান, তারা অবশ্যই মনোযোগ সহকারে আর্টিকেলটি পড়ুন।

ব্লগিং কি?

ব্লগিং হলো লেখালেখির একটি পেশা। এই পেশায় সারাবিশ্বে কোটি কোটি মানুষ জরিয়ে আছে। ব্লগিং করার জন্য আপনার একটি ব্লগ ওয়েবসাইট প্রয়োজন হবে। আমাদের আইটি নির্মাণ সাইটটিও একটি ইনফরমেটিভ ব্লগ ওয়েবসাইট। যেটাতে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে আর্টিকেল লিখে থাকি। আপনিও চাইলে আপনার জন্য এমন একটি সাইট তৈরি করে লেখালেখি শুরু করতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো তৃতীয় পক্ষ হয়ে প্রথম পক্ষের প্রোডাক্ট দ্বীতিয় পক্ষের কাছে বিক্রি করে দেওয়া। বিষয়টি আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে মনে করেন আপনার একটি কোম্পানি আছে। আপনার কোম্পানির প্রোডাক্ট আপনি একা একা বিক্রি করতে পারছেন না বা আপনার প্রোডাক্ট গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। তখন আপনি কোনো একজন লোককে বললেন যে, আপনি আমার প্রোডাক্টগুলো বিক্রি করে দেন, বিনিময়ে আপনাকে প্রোডাক্টের বিক্রয় মূল্যের ৪০% অর্থ দেওয়া হবে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বিষয়টি প্রায় এভাবেই কাজ করে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করতে হয়?

ব্লগিং এর কিছু সাধারণ ভুল

(১) ব্লগিং মানেই লেখালেখির কাজ। ব্লগিং করতে গিয়ে অনেকেই জেনে না জেনে এমন কিছু মিসটেক করে, যার দরুণ ব্লগিং ক্যারিয়ার সুখময় হয় না। ব্লগিংয়ে সফল হতে হলে প্রথমেই ভিজিটরদের কথা চলে আসে। ভিডিটর ছাড়া ব্লগিংয়ে সফলতা অনিশ্চিত। যেই ওয়েবসাইটটি ব্লগিং করার জন্য তৈরি করেছেন, সেটি অবশ্যই ইউজার ফেন্ডলি ডিজাইন করতে হবে। ভালো মানের হোস্টিং দিয়ে ওয়েবসাইটটি হোস্ট করতে হবে। তারপর ওয়েবসােইটকে এমন ভাবে গুছিয়ে নিতে হবে, যেনো একজন ভিজিটর ওয়েবসাইটের পারফর্মেন্স ও ডিজাইনের প্রতি আকৃষ্ট হয়।

পাশাপাশি ওয়েবসােইটের প্রতিটি কন্টেন্টে এমন কিছু রাখুন, যা সবার জন্যই কাজে লাগে এবং দ্বিতীয় বার আপনার সাইটে প্রবেশ করতে আগ্রহ অনুভব করে। অনেকেই আছে, ভিজিটরদের কথা চিন্তা না করে ইনকামের কথা চিন্তা করে শুধু। এটা বেশীরভাগ মানুষই করে থাকে। তবে হ্যাঁ, ইনকাম করুন। পাশাপাশি ভিজিটরদের জন্যও এমন কিছু করুন, যা থেকে ভিজিটর উপকৃত হয়। তবেই আপনার ইনকাম দীর্ঘমেয়াদী হবে।

(২) ওয়েবসাইটের আর্টিকেলে এমন ফন্ট ব্যবহার করুন, যেটা দেখতে সুন্দর এবং পড়তেও সহজ লাগে। ফন্টের সাইজ সবসময় মিডিয়াম রাখুন। হিজিবিজি করে আর্টিকেল লিখবেন না। অবশ্যই আর্টিকেলে খুব বেশি এড ব্যবহার করবেন না। একটি আর্টিকেল যদি ০০০ ওয়ার্ডের হয় তবে এইটাতে ২ থেকে ৩ টা এড ব্যবহার করতে পারেন। এর বেশী কখনই না। অর্থাৎ, কিছুতেই যেনো ভিজিটরদের বিরক্তিকর অনুভূতি সৃষ্টি নাহয়।

(৩) ব্লগ সাইটের কমেন্ট বক্স দর্শকদের জন্য উম্মুক্ত রাখা জরুরি। অনেকেই আছে, কমেন্ট বক্স হাইড করে ফেলে। এটা ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে চরম ভুল। দর্শকদের ফিটব্যাক গুলো ব্লগারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দর্শকেরা আপনার কাছে কি চায়? এটা বুঝার জন্য কমেন্ট বক্স চালু রাখুন এবং প্রতিটি কমেন্টর গুছালো উত্তর দিন। ওয়েবসাইটে অবশ্যই নিজের লেখাগুলোই পাবলিশ করুন। কারো থেকে লেখা কপি করবেন না। কারো সাইট থেকে কপি করা একটি আর্টিকেল আপনার হাজার হাজার লেখার মানকে নিমিষেই ধ্বংস করে দিতে পারে। কারণ, সার্চ ইঞ্জিনগুলো কপিরাইট কন্টেন্ট খুব সহজেই ধরতে পারে।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে কিছু সাধারণ ভুল

(৪) বিষয়বস্তু নির্ধারণ না করেই মাঠে নেমে পড়া। অর্থাৎ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে যথেষ্ট নলেজ এবং টপিক নির্ধারণ না করেই কাজ শুরু করে দেওয়া। এই ভুলটি নতুনদেরকে করতে দেখা যায়। আবার অনেকেই আছে, নতুন অবস্থাতেই ০-৫ টা টপিকের উপর মার্কেটিং করতে চাই। এটা চরম একটি ভুল। যার কারণে যথেষ্ট চেষ্টা থাকা সত্ত্বেও সাকসেস হতে পারে না। অবশ্যই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য নতুন অবস্থায় ২-৩ টার বেশী টপিক নির্বাচন করা উচিত নয়।

(৫) প্রফেশনাল ভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য অবশ্যই কোনোনা কোনো প্রোফাইলের প্রয়োজন হয়। যেমন: পার্সোনাল ওয়েবসাইট, ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ ইত্যাদি। অনেকেই আছে, অনলাইনে একবারেই নতুন। কিন্তু কারো কাছ থেকে শুনেছে হয়ত, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে টাকা ইনকাম করা যায়। অথচ, ইন্টারনেট সম্পর্কে তেমন ধারণাই নাই। আর এভাবে কিছু না জেনেই মাঠে নেমে পড়াও বোকমি।

(৬) একসাথে অনেক গুলো অ্যাফিলেয়েট প্রোগামে জয়েন করা। এটা মোটেও ঠিক নয়। অবশ্যই আপনার নিশ রিলেটেড কিছু সাইটের খোঁজ নিন। পাশাপাশি সেইসব সাইটগুলো সম্পর্কে ভালো করে জানুন। সেগুলো থেকেই আপনার পছন্দ অনুযায়ী ২ থেকে ৩ টা সাইট অ্যাফিলিয়েটের জন্য নির্বাচন করুন। অবশ্যই মনে রাখবেন, ভালো ইনকামের ভালো সাইট নির্বাচন করতে হবে। অর্থাৎ, এমন সাইট নির্বাচন কখনই করবেন না, সেই সাইটগুলো নিজেরাই মার্কেটিংয়ে দুর্বল।

আপনি চাইলে অ্যামাজন, আলীবাবা, দারাজ ইত্যাদি এর মতো বড় বড় সাইট নির্বাচন করতে পারেন। ওদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন সোর্স থেকে নিয়মিতই লক্ষ লক্ষ ভিজিটর আসে। পাশাপাশি ওরা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ওদের সাইট থেকে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু করা যদিও একটু কষ্টকর মনে হয়, তবুও চেষ্টা করবেন ওদের থেকেই অ্যাফিলিয়েট লিংক জেনারেট করতে। তবেই আপনি অ্যাফিলিয়েটে অতি সহজেই সাকসেস হবেন।

(৭) অ্যাফিলিয়েট লিংক যেখানে সেখানে কপি পেস্ট করা। এটা অনেকেই করে। থার্ডপার্টি কোনো ওয়েবসাইটের কমেন্ট বক্সে বা ফেসবুক, ইউটিউবের কমেন্টে অ্যাফিলিয়েট লিংক পেস্ট করে দেওয়া। এটাকে কখনই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয় না, এটাকে বলা হয় স্প্যামিং। আর এভাবে স্প্যামিং করার ফলে অ্যাফিলিয়েট লিংকগুলো অটোমেটিক ব্লক করে দেওয়া হয়। মাঝে মাঝে এমনও হয়, যারা এমন করে তাদের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম ডিজেবল করে দেওয়া হয়। এভাবেই নেমে আসে গভীর হতাশা।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

যে কোনো কাজ শুরু করার আগে কাজ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখা জরুরি। তারপর কাজ শুরু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যথাযথ সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত অল্প সময়েই আপনার জীবনকে বদলে দিতে পারে। সবসময় চেষ্টা করবেন যে, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বা উদ্যোগ গ্রহণ করার। কারণ, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বা উদ্যোগ আপনার পথচলাকে দৃঢ় করবে এবং এতে সফলতাও পাওয়া যায়।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এমনই একটি বিষয়, যা ধৈর্যের সাথে করতে হয়। একটা বিষয় মনে রাখবেন, আপনি মার্কেটিংয়ে যতবেশী দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবেন, আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে সাকসেস হওয়া ততই সহজ হয়ে যাবে। তাই প্রথমেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে জেনে নিন।

👉 উপকৃত হলে পোষ্টটি আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

5 comments