Blogger VS WordPress

Blogger VS WordPress | কোনটা আপনার জন্য বেস্ট?

Blogger VS WordPress : বর্তমান সময়ে কাস্টমভাবে এখন আর কেউ ওয়েবসাইট তৈরি করতে চায় না। একটি কাস্টম ওয়েবসাইট তৈরি করতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, তা সাধারণত কোন CMS প্লাটফর্ম থেকে তৈরি ওয়েবসাইট গুলোতে ব্যয় হয়না। কাস্টম ওয়েবসাইট গুলোতে সিকিউরিটি পারপাসেও সর্বদা অর্থ ব্যয় করতেই হয়। তাছাড়া, এই ধরণের ওয়েবসাইটে কোন কিছু পরিবর্তন বা যোগ করতে হলেও ডেভেলপারদের প্রয়োজন হয়। তাই অর্থ ব্যয়ের বিষয়টা এখানে প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়।

তাই এই দুর্লভ কাজটিকে সহজ করার জন্যই বিভিন্ন CMS প্লাটফর্ম গড়ে উঠেছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম CMS প্লাটফর্মগুলো বিনামূল্যেই সবাইকে সার্ভিস দিচ্ছে। এজন্যই CMS প্লাটফর্মগুলো অত্যন্ত ইউজার ফ্রেন্ডলি ও বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে WordPress এবং blogger সবচেয়ে জনপ্রিয়। এই দুটি প্লাটফর্ম যেহেতু সবচেয়ে জনপ্রিয়, সেহেতু এই দুটি প্লাটফর্মকেই কেন্দ্র করে নতুনদের মাঝে অনেক প্রশ্নের উদ্ভব হয়। ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ব্লগার নাকি ওয়ার্ডপ্রেস কোনটা সবচেয়ে বেস্ট?

আমরা যেহেতু সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করে দিই, সেহেতু এই প্রশ্নগুলো প্রায়ই আমাদের কাছে আসে। আর সবাইকে আলাদা আলাদা করে উত্তর দেওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে যায়। তাই WordPress vs blogger -এর বিস্তাুরিত বিষয়গুলোর সহজ এবং গুছালো উত্তর নিয়েই এই কন্টেন্টটি তৈরি করা। আশাকরি সকলেরই কাজে আসবে।

Blogger VS WordPress কোনটা সবচেয়ে বেস্ট?

পৃথিবীতে কোন কিছুই শতভাগ পার্ফেক্ট নয়। মানুষের মাঝে সবাই যেমন এক রকম হতে পারে না, ঠিক তেমনীভাবে প্রযুক্তির আলাদা আলাদা সৃষ্টিগুলোও এক রকম নয়। তবে একথা শতভাগ সত্য যে, সবাই মাঝেই আলাদা আলাদা এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা একচেটিয়া ভাবে সবার মাঝে নেই।

Blogger এর আলোচনাঃ

Blogger VS WordPress ব্লগার vs ওয়ার্ডপ্রেসBlogger একটি আমেরিকান কোম্পানি। Blogger প্লাটফর্মকে Blogspot ও বলা হয়। এটি ২৩ আগষ্ট ১৯৯৯ সালে Pyra Labs দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল। যার প্রাথমিক নাম দেওয়া হয়েছিল Blogger. এটি তৈরি করতে যে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করা হয়েছে তার নাম ’পাইথন’। তারপর ২০০৩ সালে এটিকে গুগল কোম্পানি কিনে নেয় এবং নামটা সামান্য পরিবর্তন করে Blogspot রাখা হয়। তবে এখনও Blogger বা Blogspot নামেই সবার কাছেই পরিচিত।

Blogspot একটি ফ্রি সফটওয়্যার। যেটা ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। ব্লগস্পট তৈরির মূল উদ্দেশ্যই ছিল ব্লগিংকে টার্গেট করে। কিন্তু বর্তমান সময়ে শুধু ব্লগিংয়েই সীমাবদ্ধ নয়; এখন Blogspot কে ব্যবহার করে অনেক ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।

Blogger বা Blogspot -এর ভালো ফিচার সমূহঃ

১. Blogger কে চয়েজ করার প্রথম রিযন হলো তাতে আলাদা ভাবে কোন হোস্টিং প্রয়োজন হয় না।

২. গুগলের নিজস্ব সার্ভারে ওয়েবসাইট হোস্ট করা হয়। তাই হাইকোয়ালিটি ১৫ জিবি হোস্টিং ফ্রিতেই পাওয়া যায় আজীবনের জন্য। এই হোস্টিংটা মূলত গুগল ড্রাইভে ব্যবহার করার জন্য প্রতিটা জিমেইলের সাথে ফ্রিতেই দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই হোস্টিং স্পেসটাই ওয়েবসাইটের হোস্টিং আকারে ব্যবহৃত করা হয়।

৩. Blogger হোস্টিংটা মূলত ক্লাউড হোস্টিং। এটা সবসময় আপটাইম থাকে বা রানিং থাকে। এটা কখনই ডাউন টাইমে যায় না। ফলে ওয়েবসাইটও সবসময় লাইভ সার্ভারে সক্রিয় থাকে।

৪. Blogger -য়ে ওয়েবসাইট তৈরি করার প্রধান আরেকটি কারণ হলো, স্ট্রং সিকিউরিটি। ব্লগারে ব্যবহৃত হোস্টিংটা যেহেতু গুগলের নিজস্ব সার্ভারের আওতাধীন। সেহেতু এটার সিকিউরিটির বিষয়টা গুগলের কর্তৃপক্ষ নিজেরাই মেন্টেন্ট করে। তাই সাধারণ ইউজারদেরকে ব্লগার ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি নিয়ে টেনশন করতে হয় না।

৫. ব্লগারের থিমগুলোর মাঝে ফ্রি এবং পেইড ভার্সন রয়েছে। তবে এখানে কোন ক্র্যাক বা নাল থিম ব্যবহার করা যায় না। ফলে সিকিউরিটির প্রতি সুনিশ্চিত ভাবে চিন্তামুক্ত থাকা যায়।

৬. ব্লগারে তৈরিকৃত ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ফ্রি ডোমেইনগুলোতেও গুগল এডসেন্স এপ্রুভ করা হয়।

Blogger বা Blogspot -এর মন্দ দিক সমূহঃ

১. ব্লগারে অনেক সুযোগ সুবিধা থাকলেও ব্লগার সাইটগুলোকে নিজের মতো কন্ট্রোল করা যায় না। গুগলের দেওয়া সুযোগ সুবিধার ভিত্তিতেই তাদের আন্ডারেই কাজ করতে হবে।

২. ব্লগারের তৈরি সাইটগুলো মনমতো কাস্টোমাইজ করা যায় না। ফলে অনেক ফিচার থেকে মাহরুম হতে হয়।

৩. ব্লগার পাটফর্মটি সচারাচর আপডেট হয় না। আপডেট করা হলেও তেমন নতুন ফিচার যুক্ত হয় না। একরকম ফিচার দিয়েই সন্তুষ্ট থাকতেই হবে।

৪. ব্লাগার থেকে সব ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায় না। এটা ব্লগারের সবচেয়ে খারাপ দিক। তাই দিন দিন ব্লগারকে পিছনে ফেলে অনেক নতুন পাটফর্মও এগিয়ে যাচ্ছে।

৫. ব্লগারের সাইটগুলোকে র‌্যাঙ্কিং করানোর জন্য কন্টেন্ট এসইও করার তেমন কোন ফিচার বিশিষ্ট অপশন নেই।

WordPress এর আলোচনাঃ

ব্লগার vs ওয়ার্ডপ্রেস Blogger VS WordPressWordPress একটি আমেরিকান কোম্পানি। এটি ২৭ মে ২০০৩ সালে ওয়ার্ডপ্রেস ফাউন্ডেশন (WordPress Foundation) কর্তৃক তৈরি করা হয়। WordPress সফটওয়্যারটি তৈরি করতে যেই ল্যাঙ্গুয়েজটি ব্যবহার করা হয়েছে তা হলো ‘পিএইচপি’। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে মার্চ ২০২১ সালে ওয়ার্ডপ্রেস থেকে তৈরি করা ওয়েবসাইটের সংখ্যা ১০ মিলিয়ন। যেটা পৃথিবীর সমস্ত সাইটের ৪০.৫%!

WordPress -এর ভালো দিকগুলোঃ

১. WordPress কে চয়েজ করার প্রথম রিযন হলো তাতে আনলিমিডেট ফিচার সমৃদ্ধ রয়েছে। এজন্যই WordPress হলো পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ইউজার ফ্রেন্ডলি CMS সফটওয়্যার।

২. ওয়ার্ডপ্রেসকে ব্যবহার করে যে কোন ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।

৩. WordPress জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান একটি কারণ হলো ’প্লাগইন’। প্লাগইন এমন একটি ফিচার, যা দিয়ে ওয়েবসাইটে ফিচার বৃদ্ধি করা যায়।

৪. ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরি ওয়েবসাইটের সম্পূর্ণ কন্ট্রোল নিজের হাতেই। সুতরাং যে কোন সময় (সিকিউরিটি পারপাসে) ওয়েবসাইট পাবলিশ বা আন-পাবলিশ করা যায়।

৫. ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে যে কোন ধরণের কাস্টম অপশন যুক্ত করা যায়।

৬. ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটের জন্য বিভিন্ন ফিচার সমৃদ্ধ ফ্রি এবং পেইড থিম রয়েছে। তবে এখানে প্রচুর পরিমাণে ক্র্যাক বা নাল থিমের ব্যবহার হয়। এভাবে একটি ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি ঝুঁকিতে পড়ে যায়। এটা অবশ্য ব্যবহারকারীদের ভুল।

WordPress -এর মন্দ দিকগুলোঃ

১. WordPress ওয়েবসাইটের জন্য হোস্টিং প্যাকেজ আলাদা ভাবে ক্রয় করতে হয়। এটা প্রফেশনাল ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্র বিশেষে প্রয়োজন পড়ে। তবে ’ওয়ার্ডপ্রেস.কম’ থেকে ফ্রিতেই ব্লগ তৈরি করার অপশন রয়েছে।

২. WordPress থেকে তৈরিকৃত ফ্রি ডোমেইনে এডসেন্স এপ্রুভ করা হয় না।

এই দুটি বিষয় ছাড়া WordPress এর মন্দ দিক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! অনেকেই বলে ওয়ার্ডপ্রেসে তৈরি ওয়েবসাইটগুলোর সিকিউরিটি তেমন শক্তিশালি নয়। একথা যদিও কিছুটা মিলে যায়, তবে বিভিন্ন প্লাগইন ব্যবহার করে যথেষ্ট সিকিউরিটি প্রদান করা যায়। তাই এই কথাটার সাথে ওয়ার্ডপ্রেসে অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা কখনই একমত হবে না।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

Blogger VS WordPress সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে চেষ্টা করেছি। এখন আপনার ওয়েবসাইট তৈরির জন্য প্লাটফর্ম সিলেক্ট করার দায়িত্বটা আপনারই। তবে যাদের মূল টার্গেট শুধু ব্লগিং করা, এবং প্রথমত ওয়েবসাইটের পেছনে তেমন অর্থ ব্যয় করার মনোনিবেশ নেই, তারা Blogging platform কে বেছে নিতে পারেন।

আর যাদের টার্গেট বিশাল কোন বিষয়ের হবে তারা অবশ্যই WordPress platform কে বেছে নিতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেসকে ব্যবহার করে আপনি যে কোন ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। মন মতো ডিজাইন, ওয়েবসাইটের নতুন ফিচার এড করার এখানে কোন বাঁধা নেই। তাছাড়া, ওয়ার্ডপ্রেস পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় প্লাটফর্ম বলেও সর্বজনীন স্বীকৃত।

যাইহোক, আমি আশা করছি সকলেই Blogger VS WordPress সম্পর্কে ভালো একটি ধারণা পেয়েছেন। এই বিষয়ে যদি কারো কোন প্রশ্ন বা পরামর্শ থাকে তবে অবশ্যই কমেন্টে মতামত ব্যক্ত করতে ভুলবেন না। সবাইকেই ধন্যবাদ!

2 comments