Bounce Rate বাউন্স রেট

বাউন্স রেট (Bounce Rate) কি? ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কমানোর সেরা ১০ উপায়

SEO বা সার্চ ইঞ্জিন র‌্যাংকিংয়ে ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট (Bounce Rate) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটে নিয়মিত অডিয়েন্স পাওয়ার মানেই এই নয় যে, আপনার ওয়েবসাইট ভালোভাবে চলছে। হয়তোবা আপনার সাইটে নিয়মিতই কাঙ্খিত ভিজিটর পাচ্ছেন। কিন্তু একটি ওয়েবসাইটকে শুধুমাত্র ভিজিটরের উপর ভিত্তি করেই ভালো পারফর্মেন্স করছে এটা নির্ণয় করা যায় না এবং সার্চ ইঞ্জিনগুলোও শুধুমাত্র ভিজিটরের উপর ভিত্তি করে র‌্যাংক দেয় না। ওয়েবসাইট র‌্যাংকিংয়ে নিয়ে আসার জন্য বেশকিছু র‌্যাংকিং ফ্যাক্টর অনুসরণ করতে হয়। এরই মাঝে Bounce Rate অন্যতম একটি র‌্যাংকিং ফ্যাক্টর। আজকে আমরা জানবো বাউন্স রেট (Bounce Rate) কি? ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কমানোর সেরা ১০ উপায়।

বাউন্স রেট (Bounce Rate) কি?

বাউন্স রেট হচ্ছে গুগল এ্যানালাইটিক্সের একটি মেট্রিক। বাউন্স রেট বুঝার আগে অবশ্যই আপনাকে বাউন্স (Bounce) সম্পর্কে বুঝতে হবে।

বাউন্স হলো এমন একটি বিষয়, আপনার ওয়েবসাইটের কোন পেজে একজন ভিজিটর প্রবেশ করার পর সে ঐ পেজে থাকাকালীন সময়ে কেমন এনগেজমেন্ট হলো, অর্থাৎ, একজন ভিজিটর আপনার সাইটের একটি পেজ থেকে অন্য পেজে গেল কিনা, পেজের কোন লিংকে ক্লিক করলো কিনা, ওয়েবসাইটের মেনুতে ক্লিক করলো কিনা ইত্যাদি এরই উপর ভিত্তি করে গুগল এনালাইটিক্স বাউন্স রেট (Bounce Rate) নির্ণয় করে।

ওয়েবসাটের বাউন্স রেট যত কম হবে ওয়েবসাইট ততই ভালো পারফর্মেন্স করছে এটা ধরে নেওয়া যায়। কেননা, বাউন্স রেট কম থাকাটা SEO ( এসইও) এর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট দেখার জন্য গুগল এনালাইটিক্স টুলস্ ব্যবহার করতে পারেন।

ওয়েবসাইটের স্টান্ডার্ড বাউন্স রেট কত % ?

ওয়েবসাইটের টপিক ও কাটামোভেদে বাউন্স রেট বিভিন্ন ভাবে নির্ণয় করা হয়ে থাকে। একটি সিম্পল ইনফোগ্রাফিকের মাধ্যমে তা তোলে ধরা হলোঃ 

বাউন্স রেট (Bounce Rate) কি?আমি পার্সোনালি মনে করি, যে কোন ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে ৩০% – ৪০% বাউন্স রেট থাকা সহনীয় পর্যায়ের। ৪০% – ৫০% বাউন্স রেটও খুব বেশী ক্ষতিকর নয়। তবে কোন ওয়েবসাইটে যদি বাউন্স রেট ৫০% এর উপরে চলে যায়, তবে তা কমানোর জন্য ওয়েবসাইটে ভালো করে কাজ করা প্রয়োজন মনে করি।

বাউন্স রেট বেশী হলে ওয়েবসাইটে কী ধরণের সমস্যা হয়?

গুগল বা যে কোন সার্চ ইঞ্জিন সবসময় সার্চ কোয়েরিতে সবচেয়ে রিলেভেন্ট রেজাল্ট প্রদর্শন করে। সার্চ ইঞ্জিনগুলো যদিও বট দ্বারা পরিচালিত হয়। তবে যে কোন ওয়েবসাইটের রিলেভেন্ট পেজগুলো তারা খুব সহজেই  তাদের ইউজারদের এনগেজমেন্টের ভিত্তিতে নির্ণয় করতে পারে। এরই মধ্যে বাউন্স রেটকে খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।

মনে করুন আপনার ওয়েবসাইটের একটি পেজের বাউন্স রেট ৯০% -এর উপরে। এখন গুগল এটা খুব সহেজেই বুঝতে পারে যে আপনার এই পেজ থেকে ভিজিটরটা উপকৃত হচ্ছে না। তাই তারা ওয়েবপেজটিতে সময় দিচ্ছে না। লিংকে ক্লিক করার সাথে সাথেই বের হয়ে যাচ্ছে। গুগল যখন এই বিষয়টা বুঝতে পারে তখন আপনার পেজটিকে সার্চ রেজাল্ট থেকে ড্রপ করে দেওয়া হয়।

ঠিক তেমনীভাবে আপনার ওয়েবপেজের বাউন্স রেট যদি ৩০% এর কম হয়, তখন গুগল বুঝে নেয় যে, আপনার ওয়েবপেজ থেকে ভিজিটরটা নিশ্চই উপকৃত হচ্ছে, তাই সময় দিয়ে পেজটি পড়ছে। গুগল যখন এটা বুঝতে পারে তখন এই পেজটিকে সার্চ রেজাল্টে উপরে নিয়ে আসে। এভাবেই মূলত সার্চ রেজাল্টে ওয়েবপেজকে দেখতে পাওয়া যায়। যদিও গুগলের তথ্য অনুযায়ী ২০০ টির উপরে র‌্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর রয়েছে। তবে এরই মধ্যে বাউন্স রেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কমানোর সেরা ১০ উপায়

বাউন্স রেট (Bounce Rate) কি? ০১, পেজ লোডিং টাইম

ওয়েব পেজের লোডিং টাইম কমানোর জন্য ভালো হোস্টিং ব্যবহারের বিকল্প নেই। আপনার ওয়েব পেজের লোডিং টাইম যদি ৩ সেকেন্ডের কম হয় তবে ভিজিটর বেশী প্রবেশ করার চান্স রয়েছে। প্রত্যেকেই চায় যে সময় কম দিয়ে বেশী কিছু আয়ত্ব করা। আপনার ওয়েব পেজের লোডিং টাইম যদি ২০-৩০ সেকেন্ড হয় তবে ৯৯% ভিজিটরই আপনার পেজে প্রবেশ করতে চাইবে না। তারা লিংকে ক্লিক করেই বের হয়ে যাবে। এতে করে ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট অনেক বেড়ে যায়।

তাই অবশ্যই চেষ্টা করবেন ওয়েবসাইটে কোয়ালিটিপূর্ণ হোস্টিং ব্যবহার করার জন্য। কোয়ালিটি হোস্টিং ব্যবহারের পাশাপাশি ওয়েবসাইটের প্রত্যেকটা পেজের সকল কন্টেন্টকে ভালো করে অপটিমাইজ করা প্রয়োজন।

০২, ইন্টার্নাল লিংকিং

ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কমানোর জন্য ইন্টার্নাল লিংকিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
( ইন্টার্নাল লিংকিং এসইওর (SEO) ক্ষেত্রেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ) ইন্টার্নাল লিংকিং করার মাধ্যমে ওয়েবপেজের ভ্যালু বৃদ্ধি পায়। একজন ভিজিটর ইন্টার্নাল লিংকের মাধ্যমেই এক পেজ থেকে অন্য পেজে প্রবেশ করে। ফলে ওয়েব পেজের এভারেট টাইম বৃদ্ধি পায় এবং বাউন্স রেট অনেকাংশেই কমে যায়।

০৩, অতিরিক্ত অ্যাড ব্যবহার

কোন ভিজিটরই ওয়েবসাইটে অ্যাড দেখার জন্য প্রবেশ করে না। তারা মূলত তাদের কাঙ্খিত কন্টেন্ট পড়া বা জানার উদ্দেশ্যেই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে। কোন পেজে যদি খুব বেশী অ্যাড থাকে তবে ভিজিটরটা বিরক্ত হয়ে যায়। তাই ওয়েব পেজে খুব বেশী অ্যাড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে পপ আপ অ্যাড ব্যবহার না করা ভালো।

০৪, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স

আপনার সাইটের ডিজাইনের অবকাটামো যদি সুন্দর নাহয় তবে ভিজিটররা খুব বেশী সময় দেবে না। তাই ওয়েবপেজেকে ইউজারদের চোখে দৃষ্টিনান্দন করে তোলা প্রয়োজন।

০৫, কন্টেন্ট লেখার ব্যপারে সতর্কতা

সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় কন্টেন্ট লিখুন। যেনো আপনার কন্টেন্ট ভিজিটররা বুঝতে পারে। পাশাপাশি আপনার ওয়েবসাইটের নিশ অনুযায়ী কন্টেন্ট লিখতে চেষ্টা করুন। মনে করেন আপনার সাইট টেকনোলজি নিশের উপর। এখন যদি মনে করেন যে, হেলথ নিশের কন্টেন্ট থেকে বেশী ইনকাম হচ্ছে। তাই নিজের প্রাইমারি নিশ ( টেকনোলজি ) বাদ দিয়ে নতুন করে হেলথ নিয়ে লেখালেখি করছেন, তবে এক্ষেত্রেও ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে হ্যাঁ, একটি ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরণের কন্টেন্ট পাবলিশ করা যেতে পারে। এতে কোন সমস্যা নেই। তবে ওয়েবসাইটের প্রাইমারি নিশকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে এবং প্রাইমারি নিশের উপর বেশী বেশী কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে।

০৬, ভিজিটরদের অংশ গ্রহণের ব্যবস্থা

যে কোন ওয়েবসাইটে ভিজিটরদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা থাকলে সেই ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কমে যায়। তাই আপনার পেজের কমেন্ট বক্স দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিন। পাশাপাশি ভিজিটরদের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করুন।

০৭, অনাকাঙ্খিত পেজ টাইটেল

ওয়েব পেজের টাইটেলে কোন প্রকার অনাকাঙ্খিত কিওয়ার্ড ব্যবহার না করা। অনেকেই আছে শুধুমাত্র ভিজিটর পাওয়ার উদ্দেশ্য করে এমন কিছু কিওয়ার্ড ব্যবহার করে যা প্রকৃতপক্ষে ভিজিটরদের উপকারে আসে না। তাই পেজের টাইটেলে এমন কিওয়ার্ড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অর্থাৎ, টাইটেলে এমন লেখা দিলেন, যেটার সাথে আপনার পেজের মূল কন্টেন্টের মিল নেই। এই ধরণের টাইটেলের জন্য যদিও ওয়েবসাইটে কিছুটা বেশী ভিজিটর আসে, তবে প্রকৃতপক্ষে ওয়েবসাইটের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যায়।

০৮, ফিচার্ড ইমেজ ব্যবহারে সতর্কতা

অনাকাঙ্খিত কিওয়ার্ডের মতই ফিচার্ড ইমেজ ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। আপনার পেজে যে বিষয়ের কন্টেন্ট রয়েছে সেই বিষয়েরই ইমেজ ব্যবহার করুন। যেনো ভিজিটররা প্রকৃত কন্টেন্ট পেতে পারে। যদি পেজের কন্টেন্ট এক ধরণের হয় আর ফিচার্ড ইমেজ তার বিপরীতে হয় তখন ভিজিটররা খুবই বিরক্তকর অনুভূতি প্রকাশ করে এবং পেজের কন্টেন্ট না পড়েই বের হয়ে যায়। এভাবে ওয়েবপেজের বাউন্স রেট অনেক বেড়ে যায়।

০৯, রেসপন্সিভ বা মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন

প্রত্যেকটা ওয়েবপেজই রেসপন্সিভ থাকার মানেই হলো দর্শকের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বৃদ্ধি করে তোলা। ওয়েব পেজের ডিজাইন প্রত্যেকটা ডিভাইস থেকেই যেনো ১০০% রেসপন্সিভ হয়। অর্থাৎ কম্পিউটারের পাশাপাশি মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন হওয়া জরুরি। বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষই মোবাইল ব্যবহার করে ওয়েবপেজ ভিজিট করে থাকে। তাই মোবাইল ফ্রেন্ডলি ডিজাইন হওয়া চাই। যেহেতু মোবাইল দিয়েই ওয়েবসাইটে বেশীরভাগ ভিজিটর প্রবেশ করে, তাই পেজের ডিজাইন মোবাইল ফ্রেন্ডলি হলে ওয়েব পজের বাউন্স রেট কমে যাবে।

১০, কন্টেন্টে ব্যবহৃত ফন্ট

ওয়েব পেজে সুন্দর ও সুস্পষ্ট ফন্ট ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি ফন্টের সাইজ এমন ভাবে রাখতে হবে যেনো ভিডিটরদের পড়তে কষ্ট নাহয়। ফন্টের সাইট খুব বেশী ছোট করা যাবে না এবং খুব বেশী বড়ও রাখা যাবে না। সবসময় মিডিয়াম ফন্ট ব্যবহার করা উচিত। ফন্টের জটিলতার কারণে অনেক ভিজিটর কন্টেন্ট না পড়েই ওয়েবসাইট থেকে বেরিয়ে যায়। তাই ফন্টের সাইট সঠিক ভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ভিজিটর আপনার পেজে যত সময় দেবে আপনার বাউন্স রেট ততই কমে যাবে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

এসইওতে ভালো করতে হলে বাউন্স রেট -এর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। বাউন্স রেট এমন একটি বিষয় যেটা আপনার সাইটের কোয়ালিটির উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়। তাই ওয়েব পেজের কন্টেন্ট কোয়ালিটি বৃদ্ধি করণে সর্বদায় চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ওয়েব পেজের কন্টেন্টে যত বেশী কোয়ালিটি দিতে পারবেন তত সহজেই এসইওতে ভালো পারফর্ম করার সুযোগ বের হবে এবং ওয়েব পেজের বাউন্স রেট কমে যাবে।

আশাকরি বাউন্স রেট সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন। এই বিষয়ে যদি কারো কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

👉 What is Backlink / ব্যাকলিংক কি? এসইওতে গুরুত্বের স্থান

1 comment