সেরা গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার

সেরা ৫ গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার

উচ্চ-মানের ছবি এবং ডিজাইন তৈরি করার জন্য সঠিক গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লোগো এবং ইলাস্ট্রেশন তৈরি করা থেকে শুরু করে ফটো এডিটিং, পোস্টার, ব্যানার এবং ওয়েব ডিজাইন তৈরি করণে সেরা গ্রাফিক ডিজাইন টুলস আপনাকে আপনার লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করতে পারে।

এই আর্টিকেলে আজ আমি সেরা ৫ টি Graphics design software পর্যালোচনা করেছি, যেগুলো থেকে আপনি আপনার জন্য সেরা সফটওয়্যারটি বেছে নিতে পারবেন।

এই সফটওয়্যার গুলো মধ্যে আমি পার্সোনালি যেগুলো ব্যবহার করি, সেগুলোও তুলে ধরবো। তাহলে সফটওয়্যার সিলেকশনে বাড়তি আইডিয়া পাবেন।

যাইহোক, বছরের পর বছর ধরে ডিজাইনারদের চাহিদা মেটাতে বাজারে বিভিন্ন ধরণের ভিজ্যুয়াল ডিজাইন সফ্টওয়্যার টুল আবির্ভূত হয়েছে।

ফিচার সমৃদ্ধ একটি সক্ষম গ্রাফিক ডিজাইন টুল শুধুমাত্র দক্ষতা বাড়ায় না, এটি বাস্তব-বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজাইন সৃজনশীলতায় অসাধারণ ভূমিকা রাখতেও সাহায্য করে।

চলুন শুরু করি,

গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার

সফল গ্রাফিক ডিজাইনার হওয়ার জন্য সঠিক সফটওয়্যার নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি।

আমি আমার পার্সোনাল অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, গ্রাফিক্স ডিজাইন করতে গিয়ে যদি সঠিক সফটওয়্যার নির্বাচন করা যায় তবে কাজে অনেক বেশী এডভান্টেজ আসে।

যা একজন প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনারের জন্য আবশ্যক।

বাজারে অনেক গ্রাফিক্স ডিজাইন টুলস আছে, তবে সবগুলো টুলস প্রফেশনাল মানের নয়। এইদিক বিবেচনায় আন-প্রফেশনাল মানের গ্রাফিক্স সফটওয়্যার সিলেক্ট করা উচিতও মনে করি না।

ঠিক এই মুহূর্তে যেই সফটওয়্যার গুলো চাহিদা ও সুনামের সাথে সারা বিশ্বের ডিজাইনাররা ব্যবহার করছে তাই আমাদেরও ব্যবহার করা উচিত।

সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই সেরা গ্রাফিক ডিজাইন সফটওয়্যার গুলো নিচে তুলে ধরা হলো।

১. Adobe Photoshop – অ্যাডোবি ফটোশপ

আপনি যদি ডিজাইনের জন্য সেরা গ্রাফিক ডিজাইন সফ্টওয়্যার খুঁজে থাকেন, তবে আমি অ্যাডোবি ফটোশপ ব্যবহারের সুপারিশ করছি।

একজন পেশাদার গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে Adobe Photoshop ব্যবহার করতেই হয়।

Adobe Photoshop মূলত ফটো এডিটিংকে সবচেয়ে বেশী প্রায়োরিটি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে।

এটি একটি শক্তিশালী ফিচার সমৃদ্ধ গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার, জনপ্রিয় ফটো এডিটিং সফ্টওয়্যার সরঞ্জামগুলির মধ্যে এডোব ফটোশপ সবচেয়ে বেশী ব্যবহৃত এবং চাহিদা সম্পূর্ণ সফটওয়্যার।

যারা ছবি ডিজাইন সফটওয়্যার খুঁজে থাকেন তাদের জন্য Adobe Photoshop সর্বাধিক Recommend করি।

Adobe Photoshop এর মূল বৈশিষ্ট্য:

() ডিজাইন টুলস: এডোবি ফটোশপ দুই ধরণের ডিভাইসের জন্যই এখন এভেইলএবল। অর্থাৎ কম্পিউটার এবং মোবাইল উভয় ধরণের ডিভাইসে ব্যবহার করা যায়।

তবে উভয় ধরণের ডিভাইসেই এডোবি ফটোশপ এর কাজ করা গেলেও  কম্পিউটারের জন্য তৈরি সফটওয়্যারে যেই সমস্ত ফিচার অফার করে, তার অনেক কিছুই মোবাইলের জন্য তৈরি অ্যাপসে পাবেন না।

(২) ক্রিয়েটিভ ক্লাউড: Adobe Creative Cloud এর সাথে আপনি যদি সিঙ্ক্রোনাইজেশন করেন তবে তাদের অনেকগুলি বৈশিষ্ট্য দেখতে পারবেন এবং এক্সট্রা ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন।

যার মধ্যে রয়েছে ফেস-অওয়ার লিকুইফাই, আর্টবোর্ড, ডিজাইন স্পেস ভিউ, সিঙ্ক করা লাইব্রেরি, একটি গ্লাইফ প্যানেল, ক্লাউড ডকুমেন্টস, টাচ এবং স্টাইলাস ইনপুট ইত্যাদি।

(৩) ইউজার ইন্টারফেস: অ্যাডোবি ফটোশপ সফটওয়্যারের ইন্টারফেস অনেক কাস্টমাইজযোগ্য। তবে আরও কাস্টমাইজযোগ্য এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি করার জন্য ক্রমাগত ভাবেই তা আপডেট করা হয়।

(৪) ওপেন-সোর্স জিম্প সফ্টওয়্যার: এডোবি ফটোশপ একটি পেইড সফটওয়্যার। তবে আপনি যদি টাকা দিয়ে ক্রয় করতে না চান, তাহলেও আপনি বিনামূল্যে এই সফ্টওয়্যারটি ডাউনলোড এবং ইনস্টল করতে পারবেন।

এডোবি ফটোশপের সুবিধা:

✔ এটি একটি প্রশংসাসূচক মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন অফার করে।

✔ ফটোশপের ডেশবোর্ড কাস্টোমাইজযোগ্য এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি।

✔ টাইপোগ্রাফি এবং অঙ্কন সরঞ্জামের জন্য সমৃদ্ধ টুলস অফার করে।

✔ ফটো এডিটিং ছাড়াও 3D ডিজাইন করা যায়।

✔ Adobe Creative Cloud এর সাথে একটি লাইব্রেরি এবং ফটো ম্যানেজমেন্ট অফার করে।

✔ একাধিক ডিজাইন টুল একসাথে ব্যবহার করা যায়।

✔ অ্যানিমেশন তৈরি করা যায়।

✔ কাস্টম ব্রাশ তৈরি করা যায়, 3D প্রজেক্টে কাজ করা যায়, ছবি থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড রিমুভ করা যায়।

এগুলো ছাড়াও এডোবি ফটোশপ দিয়ে আরো বিভিন্ন ধরণের কাজ করা যায়।

এডোবি ফটোশপের অসুবিধা:

▪ Adobe ফটোশপ ক্রয় করার ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিভ ক্লাউডের সাবস্ক্রিপশন সহ ফটোশপ অফার করে। প্রতি মাসে লাইসেন্সের জন্য $20.99 পে করতে হয়।

যদিও এটাকে ফটোশপের অসুবিধা বলা ঠিক হবে না। কারণ তারা তাদের সার্ভিস বাবদ ইউজারদের থেকে এই টাকা গ্রহণ করে।

Adobe Photoshop এর লেটেস্ট ভার্সনে প্রায় ৮ জিবি RAM এবং Intel i3 প্রসেসর রিকমেন্ড করে।

সফটওয়্যারের ল্যাগ এবং অন্যান্য সমস্যা এড়াতে Adobe Photoshop কে একটি শক্তিশালী কম্পিউটারে ইনস্টল করার কথা বিবেচনা করুন।

২. Adobe InDesign – এডোবি ইন ডিজাইন

ডিজাইনারের মধ্যে যারা দ্রুততার সাথে ডিজাইন আউটপুট তৈরি করতে চান, তাদেরকে আমি Adobe InDesign ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছি।

ফটোশপের তুলনায় সহজ এবং সুন্দর লেআউট তৈরি করার জন্য InDesign খুবই চমৎকার একটি গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার।

আপনি যদি প্রেস বা প্রকাশনার ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকেন, তবে Adobe InDesign সফ্টওয়্যারটি ডিজাইনের কাজে ব্যবহার করা উচিত।

এটি অত্যাশ্চর্য ম্যাগাজিন, ই-পেপার, পত্রিকা, এবং ব্রোশিওর ডিজাইন করার জন্য চমৎকার ফিচার প্রদান করে, যা একজন প্রফেশনাল ডিজাইনারের জন্য প্রয়োজন।

Adobe InDesign এর মূল বৈশিষ্ট্য:

() ব্যবহার করা সহজ: InDesign সফটওয়্যারটি Photoshop থেকে অনেক সহজ। নতুন ব্যবহারকারীরা দ্রুত শিখতে পারবে।

(২) চমৎকার লেআউট : ইন ডিজাইনের জন্য অনেক রেডিমেড টেমপ্লেট রয়েছে, যেগুলোর লেআউট খুবই চমৎকার এবং এগুলো আপনি আপনার যে কোন প্রজেক্টে এডিট করে ব্যবহার করতে পারবেন।

বিশেষ করে ইনফোগ্রাফিকের জন্য তৈরি টেমপ্লেট গুলোকে দুর্দান্ত বলা যায়। নতুন ডিজাইনারদের জন্যও এটি অনেক বড় একটি সুবিধাও বটে।

(৩) Sensei প্রযুক্তি: Adobe-এর AI-চালিত Sensei প্রযুক্তি InDesign সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবির আকার পরিবর্তন এবং বিন্যাস নিশ্চিত করে।

(৪) Adobe InCopy: ডিজাইনাররা টেক্সট, রঙ এবং গ্রাফিক্স কপি করে দলের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কাজ করার জন্য InCopy ব্যবহার করতে পারে।

যারা টিম ভিত্তিক কাজ করে, তাদের জন্য Adobe InCopy ফিচারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তাই গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে InDesign প্রায় সকল ডিজাইনারের কাছেই পছন্দের।

InDesign এর সুবিধা:

✔ গ্রাফিক ডিজাইনাররা সহজে স্ট্রিমলাইনিং এবং ফাইল অপ্টিমাইজেশনের জন্য গ্রাফিক্স এবং টেক্সটগুলিকে অল্প সময়েই একত্রিত করতে পারে।

✔ এটি ব্যবহারকারীদের ইনডেক্স, কিওয়ার্ড, অ্যাঙ্কর টেক্সট ফ্রেম, বিষয়বস্তুর সারণী এবং হাইপারলিঙ্ক সহ ডিজাইনের ক্যাপশনে ট্যাগ যোগ করতে দেয়।

✔ InDesign সফটওয়্যারটি HTML সরাসরি সাপোর্ট করে যা ওয়েব ডেভেলপারদের ওয়েবসাইটের লেআউট ডিজাইন বাস্তবায়নকে সহজ করে দেয়।

InDesign এর বড় একটি সুবিধা হলো, আপনি যদি ওয়েবসাইটের জন্য কোন লেআউট ডিজাইন করেন তখন সেই ডিজাইনটিকে HTML এবং CSS কোড এর মাধ্যমেও সংরক্ষণ করতে পারবেন।

এটি ওয়ার্ডপ্রেস সাইটগুলির জন্য দুর্দান্ত কাজ করে।

এই সফটওয়্যারটি শুধুমাত্র যে গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার হিসেবেই ব্যবহৃত হয় তা কিন্তু নয়, অনেক ওয়েব প্রোগ্রামররা ওয়েবসাইটের চমৎকার লেআউট তৈরিতেও এটি ব্যবহার করে থাকে।

✔ InDesign দিয়ে একসাথে একাধিক লেআউটের আকার পরিবর্তন করা যায়। অর্থাৎ একই সময়ে যে কোন লেআউটের দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ পরিবর্তন করতে পারবেন।

InDesign এর অসুবিধা:

▪ বাজারে উপলব্ধ অন্যান্য অনুরূপ সফ্টওয়্যারের তুলনায় তুলনামূলকভাবে InDesign ব্যয়বহুল একটি সফটওয়্যার।

▪ Adobe কোম্পানি $20.99 এর মাসিক সাবস্ক্রিপশনে InDesign অফার করে। আর ক্রিয়েটিভ ক্লাউডের দাম প্রতি মাসে $52.99।

সফটওয়্যারটির সাবস্ক্রিপশন ক্রয় করে ব্যবহার করা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কষ্টকর বলে মনে করি। তবে আপনি চাইলে InDesign কে ফ্রিতেও ব্যবহার করতে পারবেন।

৩. CorelDraw -কোরেলড্র

CorelDraw সফটওয়্যারটি আপনাকে চিত্র, লোগো এবং মার্কেটিং বিষয়ক সামগ্রী তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত প্রফেশনাল-স্তরের বৈশিষ্ট্য বা ফিচার প্রদান করে৷

যারা ভেক্টর-ভিত্তিক গ্রাফিক্স ডিজাইন তৈরি করতে চায় তাদের জন্য এটি একটি দুর্দান্ত গ্রাফিক্স টুলস।

গ্রাফিক ডিজাইন যদি আপনার পেশাগত জীবনের অংশ হয়, তাহলে CorelDraw সফটওয়্যারটি ব্যবহার করা উচিত।

তাছাড়া গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে CorelDraw এর বেশ সুনাম রয়েছে।

CorelDraw এর মূল বৈশিষ্ট্য:

() বিষয়বস্তু বিনিময়: আপনি যদি CorelDraw সফটওয়্যারটি ক্রয় করে ব্যবহার করেন, তবে আপনি Corel এর অনলাইন ডিজিটাল লাইব্রেরির হাজার হাজার উচ্চ-রেজুলেশনের ফটোগ্রাফ এবং ডিজিটাল চিত্রগুলো অ্যাক্সেস করতে পারবেন।

(২) Corel এর অনলাইন লাইব্রেরিতে 2000 টিরও বেশি টেমপ্লেট, 1000টি ফন্ট, 350টি প্রফেশনাল মানের ডিজাইন করা টেমপ্লেট, 500টিরও বেশি ইন্টারেক্টিভ ফ্রেম, 600 টিরও বেশি গ্রেডিয়েন্ট এবং ভেক্টর পাবেন।

(৩) কাস্টমাইজযোগ্য UI: আপনি আপনার কম্পিউটারের জন্য একটি কাস্টমাইজযোগ্য UI এনভায়রনমেন্ট, আইকন আকার, টুলবক্স এবং উইন্ডো বর্ডার রঙের স্কিম পাবেন৷

CorelDraw এর সুবিধা:

✔ এটি ডিজাইনের গুণগত মান বাড়ানোর জন্য অ্যাপ-ওয়াইড ওয়ার্কফ্লো এবং আন্ডার-দ্য-হুড উদ্ভাবন করে এবং সারফেস পেনের সাথে কোন প্রকার ল্যাগ ছাড়াই পুরোপুরি কাজ করে।

✔ যে কোন সফটওয়্যার দিয়ে তৈরি ইপিএস (EPS) এবং পিডিএফ (PDF) ফাইল সাপোর্ট করে এবং কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই এই সফটওয়্যার দিয়ে সম্পাদনা বা এডিট করা যায়।

✔ CorelDraw সফটওয়্যারটি অটোক্যাড, জেপিজি, পিএনজি, এসভিজি, টিআইএফএফ সহ ৪৮ ধরণের ফরম্যাটে ফাইল তৈরি করতে পারে।

✔ ইপিএস, এইচটিএমএল, অটোক্যাড, পিডিএফ, পাওয়ারপয়েন্ট, এসভিজি এবং এমনকি পুরানো ফ্রিহ্যান্ড ফাইলগুলি সহ ৩৫ ধরণের ফরম্যাটের ফাইল সাপোর্ট করে।

CorelDraw এর অসুবিধা:

▪ CorelDraw এর কোন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নেই।

▪ খুব বেশী ইউজার ফ্রেন্ডলি না। নতুনদের জন্য ব্যবহার করা অনেকটা কঠিন বলা যায়।

▪ CorelDraw সফটওয়্যারটি কম্পিউটারের খুব বেশী গ্রাফিক্স ব্যবহার করে, আপনার প্রসেসরের ডিফল্ড GPU দিয়ে চালাতে গেলে অনেক ল্যাগ দেখাতে পাবেন। তাই গ্রাফিক্স কার্ড রিকমেন্ডেড বলা যায়।

▪ CorelDraw সফটওয়্যারটি অর্থ প্রদানের মাধ্যমে ব্যবহার করতে হবে। মাসিক মেয়াদে কিনলে $20.75 এবং বাৎসরিক মেয়াদে $249  পে করতে হবে।

আপনার কম্পিউটার যদি খুবই ভালো থাকে এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনে যদি পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকে তবে CorelDraw নামক গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

আর যদি নতুন হন এবং আপনার কম্পিউটার যদি খুব ভালো নাহয় তবে এই সফটওয়্যার আপনার জন্য নয়।

সফটওয়্যারটি ইন্টারনেটের বিভিন্ন সোর্স থেকে ফ্রিতেই ডাউনলোড করা যায়। তবে সামর্থ্য থাকলে CorelDraw  এর সাবস্ক্রিপশন ক্রয় করে ব্যবহার করুন।

৪. Adobe Illustrator -এডোবি ইলাস্ট্রেটর

এডোবি ইলাস্ট্রেটর এমন একটি সফটওয়্যার, যেই সফটওয়্যারকে ব্যবহার করে যে কোন ধরণের ডিজাইন করা সম্ভব।

যারা পেজ লেআউট, ভেক্টর, লোগো এবং টাইপোগ্রাফি নিয়ে নিয়মিত কাজ করেন, তাদের জন্য এটি প্রয়োজনীয় সমস্ত সরঞ্জাম সরবরাহ করে।

Adobe Illustrator ডিজাইনারদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় লোগো ডিজাইন সফটওয়্যার, পোস্টার ডিজাইন সফটওয়্যার এবং ব্যানার ডিজাইন সফটওয়্যার ইত্যাদি নামে বেশ পরিচিত।

Adobe Illustrator এর বৈশিষ্ট্যঃ

() Adobe Illustrator একটি গ্রাফিক ডিজাইন টুলস, যা অন্যান্য যে কোন টুলের চেয়ে অনেক বেশী ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং চাহিদার দিক দিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয়।

(২) এটি দিয়ে আর্ট, পেজ লেআউট, কর্পোরেট লোগো, ওয়েবসাইট মকআপ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রায় সকল ধরণের ডিজাইন তৈরির জন্য উপযুক্ত।

(৩) Adobe এর অন্যান্য প্রোডক্টগুলোর মতই এর একটি ইউজার ফ্রেন্ডলি ইন্টারফেস রয়েছে। আপনি যদি ফটোশপ পারেন তবে Adobe Illustrator এর অনেক টুলসের কাজ পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াও করতে পারবেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে এডোবি ইলাস্ট্রেটর এর চাহিদা ও সুনাম পৃথিবীর প্রায় সব জায়গায় রয়েছে।

Adobe Illustrator এর সুবিধা:

✔ অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর অন্যান্য কাস্টমাইজযোগ্য টুলস গুলোর চেয়েও অনেক বেশী কাস্টমাইজযোগ্য। Adobe Illustrator এর যত ফিচার আছে, তার বেশীর ভাগ ফিচারই নিজের মতো কাস্টোমাইজ করতে পারবেন।

সফটওয়্যারটির যে কোন টুলস বা প্যানেল ড্র্যাগ এবং ড্রপ করে স্ক্রীনের যেকোনো জায়গায় সরাতে পারবেন।

✔ Adobe Illustrator এর ইন-প্যানেল নিজের মতো করে যে কোন সময় সম্পাদনা বা এডিটিং করতে পারবেন। একই সাথে চাহিদার ভিত্তিতে একাধিক আর্টবোর্ড তৈরি করে কাজ করতে পারবেন।

✔ অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটর এর ইউজার ইন্টারফেস অত্যন্ত অ্যাক্সেসযোগ্য। আপনার কম্পিউটারের স্ক্রিন ছোট হোক বা বড় হোক, প্রায় সব ধরণের স্ক্রিনের জন্য এটি অটোমেটিক কাস্টোমাইজ হয়ে যাবে।

✔ হাই রেজুলেশন এবং গাণিতিক সমীকরণের উপর ভিত্তি করে যে কোন গ্রাফিক্স ডিজাইন তৈরি করা যায় এবং ডিজাইন মুদ্রণে তীক্ষ্ণ রেখাগুলোও সুস্পভাবে প্রদর্শিত হয়।

✔ এটি তুলনামূলকভাবে রেজুলেশন ঠিক রেখে ছোট সাইজের গ্রাফিক্স ফাইল তৈরি করে।

✔  আপনি যদি Adobe Illustrator ক্রয় করে ব্যবহার করেন, তবে Adobe Stock থেকে প্রায় ৯০ মিলিয়নেরও বেশি ছবি, গ্রাফিক্স, টেমপ্লেট, ভিডিওর এক্সেস পাবেন এবং হাজার হাজার প্রিমিয়াম ফন্ট ডিজাইনে ব্যবহার করতে Adobe ফন্ট ইন্টিগ্রেশন করতে পারবেন।

Adobe Illustrator এর অসুবিধা:

▪ অন্যান্য ভেক্টর-ভিত্তিক গ্রাফিক ডিজাইন টুলের তুলনায় এটি ব্যয়বহুল।

▪ এটি কম্পিউটারের প্রায় ৮ জিবির বেশী Ram রিকমেন্ড করে এবং স্টরিজ থেকে অনেক জায়গা খেয়ে নেয়।

▪ Adobe Illustrator ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে $20.99 এর সাবস্ক্রিপশন কিনতে হবে।

সফটওয়্যারটি ইন্টারনেটের বিভিন্ন সোর্স থেকে ফ্রিতেই ডাউনলোড করা যায়। তবে সামর্থ্য থাকলে Adobe Illustrator এর সাবস্ক্রিপশন ক্রয় করে ব্যবহার করুন।

৫. Inkscape -ইঙ্কস্কেপ

Inkscape হলো একটি ফ্রি গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার। এটি খুবই সিম্পল এবং ইউজার ফ্রেন্ডলি।

হবিস্ট বা ভেক্টর অঙ্কনে যারা কাজ করেন তাদের জন্য এই সফটওয়্যারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি খুবই সহজ সফটওয়্যার হওয়ায় অল্প সময়েই হবিস্ট বা ভেক্টর জাতীয় ডিজাইন করা যায় এবং এটি নতুনরাও ব্যবহার করতে পারবে।

Inkscape এর বৈশিষ্ট্যঃ

() Inkscape হলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একটি হবিস্ট বা ভেক্টর ডিজাইন সফ্টওয়্যার। এটি দিয়ে অভিজ্ঞ ডিজাইনারদের পাশাপাশি নতুনরাও চিত্তাকর্ষক ডিজাইন খুব সহজেই তৈরি করতে পারবে।

(২) যারা Adobe টুলের সাথে পরিচিত, সেই সমস্ত ডিজাইনাররা খুব ভালো ভাবেই Inkscape পরিচালনা করতে পারবেন।

(৩) ইঙ্কস্কেপ সফটওয়্যারটি ফিচার সমৃদ্ধকরণে প্রতিনিয়মতিই আপডেট হয়, যা আপনি বিনামূল্যেই ব্যবহার করতে পারবেন।

(৪) এটি অ্যাডোবি ইলাস্ট্রেটরের মতই প্রায় এবং এটি অফিসিয়ালি বিনামূল্যে সরবারহ করা হয়।

(৫) এটি একটি ওপেন সোর্স সফটওয়্যার। আপনি যদি কম্পিউটার প্রোগ্রামিং পারেন তবে এই সফটওয়্যারের কোড পরিবর্তন করে প্রয়োজন অনুযায়ী সফ্টওয়্যারটিকে উন্নত করতে পারবেন। এটি Inkscape দ্বারাই স্বীকৃত।

Inkscape এর সুবিধা:

✔ অতি অল্প সময়েই যে কোন ধরণের চিত্তাকর্ষক ভেক্টর তৈরি করা যায়।

✔ Inkscape সফটওয়্যারটি একাধিক গ্রেডিয়েন্ট একসাথে সাপোর্ট করে এবং ব্যাকগ্রাইন্ড তৈরিতে রঙের জটিল সংমিশ্রণ তৈরি করতে পৃথক পৃথক টুলের করা যায়।

✔ ইঙ্কস্কেপ সফটওয়্যারটি ভেক্টর তৈরি, ডিজাইন সম্পাদনা এবং রূপান্তর করার জন্য বেশ কয়েকটি ভালো টুলস সরবরাহ করে। যা আপনি সফটওয়্যারের ডেশবোর্ডের ফিচারেই পাবেন।

✔ Inkscape সফটওয়্যারটিকে সর্বোচ্চ ব্যবহারের জন্য আলাদা ভাবে রেডিমেড প্লাগইন ডাউনলোড করতে পারবেন অথবা আপনি নিজেই প্লাগইন তৈরি করে সফটওয়্যারটিতে ব্যবহার করতে পারবেন।

✔ সময় এবং শ্রম বাঁচাতে সফটওয়্যারটি থেকে আপনি বিভিন্ন প্রিসেট ক্যাটাগরিকে ফিল্টার করে ব্যবহার করতে পারবেন।

Inkscape এর অসুবিধা:

▪ Inkscape এর স্ট্রিমিং টেক্সট বা লেখাকে প্লেইন টেক্সটে রূপান্তর করে তারপর ডিজাইন এক্সপোর্ট (Export) দিতে হবে। নাহয় ডিজাইনে ব্যবহৃত লেখা সঠিক ভাবে প্রদর্শন করবে না।

▪ অন্যান্য গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যারের তুলনায় Inkscape এর প্রসেসিং কিছুটা ধীরগতির।

ভেক্টর ভিত্তিক লোগো ডিজাইন সফটওয়্যার গুলোর মধ্যে Inkscape অনেক ভালো।

আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করতে গিয়ে খুব বেশী হবিস্ট বা ভেক্টর তৈরি করতে হয়, তবে এই সফটওয়্যারটি আপনাকে অনেক সাহায্য করতে পারে।

  • ডাউনলোড করুনঃ Inkscape 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

প্রিয় পাঠক, গ্রাফিক্স ডিজাইন করার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরণের সফটওয়্যার পাওয়া যায়। এর মধ্য হতে আমি চেষ্টা করেছি সেরা গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার গুলোই আপনাদের সামনে তুলে ধরার জন্য।

এই সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করে আপনি যে কোন ধরণের ডিজাইনের কাজ করতে পারবেন। হয়ত সফটওয়্যার ভেদে কোনোটা একটু সহজ অথবা কঠিন মনে হতে পারে।

তবে উল্লিখিত সফটওয়্যার গুলোর যে কোনো দুইটা সফটওয়্যারের কাজ শিখতে পারলে আপনি প্রায় সব ধরণের গ্রাফিক্স রিলেডেট সফটওয়্যার চালাতে পারবেন।

আমি এডোবি ফটোশপ এবং এডোবি ইলাস্ট্রেটরের কাজ শিখেছিলাম, এখন আল্লাহর রহমতে প্রায় সব ধরণের গ্রাফিক্স রিলেডেট সফটওয়্যারের কাজ একটু চেষ্টা করলেই পারি। আপনারও পারবেন।

এই সফটওয়্যার গুলো শেখার মানে হলো আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখছেন। আর গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখতে কত দিন সময় লাগে তা আপনারা হয়ত নিশ্চয় জানেন।

ফ্রিল্যান্সিং বা প্রেসে কাজ করার জন্য এই সফটওয়্যার গুলোই ব্যবহার করা হয়। তাই এগুলোর কাজ শেখার মাধ্যমে আপনার গ্রাফিক্স ডিজাইন ক্যারিয়ার খুব সহজেই বিল্ড করতে পারবেন।

আমার ব্যক্তিগত সাজেশন হলো, এগুলোর মধ্য হতে এডোবি ফটোশপ এবং এডোবি ইলাস্ট্রেটর সফটওয়্যারের কাজ আগে শিখুন। তারপর প্রয়োজনে অন্যান্য গ্রাফিক্স ডিজাইন সফটওয়্যার শিখতে পারেন।

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

1 comment

error: Content is protected !!