অনলাইন ইনকাম এর আদ্যোপান্ত ২০২১

অনলাইন ইনকাম এর আদ্যোপান্ত ২০২১ | অনলাইন আয়ের সহজ উপায়

প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায়, ২০২ সালে পদার্পণ করার পর এই বিষয়টি সবারই জানা। টেকনোলজি ব্যবহারের ফলে মানুষের জীবন যাত্রার মান যেমনী উন্নত হয়েছে, ঠিক তেমনীভাবে জীবিকা অর্জনে এসেছে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা।

তবে নতুনদের মাঝে অনেক মানুষ আছে, যারা অনলাইনে নিজের কর্মসংস্থান গড়তে এসেও সুনিশ্চিত ভাবে কিছুই করতে পারে না। এর প্রধান কারণ হলো সঠিক স্কিল অর্জন না করেই অনলাইন ইনকাম এর পিছনে দৌঁড়ানো। আরেকটি কারণ হলো ইন্টারনেট বা অনলাইন সম্পর্কে জ্ঞানের ঘাটতি।

এজন্য আপনাকে ইন্টারনেট এবং বহির্গত বিশ্বে কি হচ্ছে, তা এনালাইসিস করতে হবে। একটি বিষয় জানলে হয়তো সকলেই অবাক হবেন, বর্তমান বিশ্বের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭.৯ বিলিয়ন। এর মধ্যে ২০০৫ সাল থেকে ২০৯ সাল পর্যন্ত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মোট জনসংখ্যা ছিল ৩.৯৭ বিলিয়ন। ২০২ সালের জানুয়ারিতে এসে তা ৪.৬৬ বিলিয়নে পৌঁছেছে!

তাই বর্তমান বিশ্বে আধুনিক প্রক্রিয়ায় বাণিজ্য পরিচালনার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারে সবাই মরিয়া। ছোট-বড় প্রায় সকল কোম্পানি প্রতিষ্ঠানই এখন অনলাইন ভিত্তিক বাণিজ্যে আগ্রহী। এই বিষয়টা কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন আয়ের উৎস। তৈরি হয়েছে অগণিত কর্মসংস্থান। কর্মজীবি মানুষদের মাঝে অনলাইন বাণিজ্য খুব দ্রুততার সাথেই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

অনলাইন ইনকাম নিয়ে নতুনদের মাঝে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে, আমার অভিজ্ঞতা থেকে সেসব প্রশ্নের সহজ উত্তর এবং বৈধ অনলাইন ইনকাম সোর্স গুলো সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হলো। এই আর্টিকেলে আলোচিত প্রত্যেকটা কাজই অনলাইন ভিত্তিক পেসিভ ইনকামের জন্য সুইটেবল। আজ আমরা জানবো, অনলাইন ইনকাম এর আদ্যোপান্ত।

অনলাইন ইনকাম সোর্স সম্পর্কে জানুন

অনলাইনে ইনকাম করার আগে ‘ইনকাম সোর্সগুলো’ সম্পর্কে আপনাকে জেনে নিতে হবে। অনেকেই আছে, কোন বড়ভাই বা বন্ধু-বান্ধবের কাছে শুনেছে অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে। অথচ, বিষয়টা যাচাই বা এনালাইসিস ছাড়াই ইনকামের কথা শুনেই অনেকে মাঠে নেমে পড়ে। আসলে সত্যি কথা বলতে, অনলাইন ভিত্তিক ইনকামটা তাদের জন্য নয়। যারা বিভিন্ন বিষয়কে যাচাই এবং এনাইলাইসিস করতে পারে, পাশাপাশি ধৈর্যের সাথে কাজ করতে পারে, অনলাইন ভিত্তিক ইনকাম কেবল তাদের জন্যই মনে করি।

আমার অভিজ্ঞতা থেকে অনলাইন ইনকামকে ৩ টি ভাগে বিভক্ত করেছি। আপনি যদি বিষয়টি ভালোকরে লক্ষ্য করেন, তবে আপনি নিজের জন্য একটি পথ খুব সহজেই নির্ধারণ করতে পারবেন বলে আশাবাদী। যেই ৩ টি প্রক্রিয়ায় অনলাইনে ইনকাম হয়ঃ

  1. পণ্য বিক্রয় করে আয়
  2. সার্ভিস প্রোভাইট করে আয়
  3. মার্কেটিং করে আয়

অনলাইন ভিত্তিক যত বৈধ ইনকাম সোর্স রয়েছে, তা উপরোল্লেখিত ৩ টি বিষয়ের উপরই ভিত্তি করেই পরিচালিত হয়।


(১) পণ্য বিক্রি করে আয়

বর্তমান বিশ্বে অনলাইনে পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে প্রায় সকল মানুষই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।  অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয় বিষয়টা যেমনী সহজ, ঠিক তেমনী বাজেট ফ্রেন্ডলি। অর্থাৎ,  শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই অল্প ব্যয়ে নিজ ঘরে বসেই পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। তাই অনলাইন ভিত্তিক বাণিজ্য ক্রমাগত ভাবেই মানুষের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দৈনন্দন জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।


ই-কমার্স বাণিজ্যের মাধ্যেমে আয়

অনলাইন ভিত্তিক যত ইনকাম আছে, তারমধ্যে সবচেয়ে বড় একটি জায়গা দখল করে রেখেছে ই-কমার্স বাণিজ্য। ই-কমার্স মূলত একটি ব্যবসা। আমরা যেভাবে অফলাইনে ব্যবসা করি, ঠিক একই ভাবে অনলাইনেও ব্যবসা করা যায়। অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনাকেই ই-কমার্স বাণিজ্য বলা হয়।

অনলাইনে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় করার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ই-কমার্স বাণিজ্যকে মনে করা হয়। আপনার যদি কোন পণ্য তৈরির কোম্পানি বা পণ্য থাকে তবে ই-কমার্স বাণিজ্য আপনার জন্য খুবই সম্ভাবনাময় একটি পথ। তবে একথাও সত্য যে, অন্য যে কোন কোম্পানির পণ্য দিয়েও নিজের ই-কমার্স বাণিজ্য শুরু করতে পারেন।

বর্তমান সময়ে অনলাইন ইনকামের সবচেয়ে হট টপিক ই-কমার্স। আপনারা হয়ত অ্যামাজন.কম এর কথা শুনেছেন। অ্যামাজন.কম হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ই-কমার্স ওয়েবসাইট। যেটার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় প্রতিটা দেশেই বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় করা হচ্ছে। এভাবে তারা প্রতিবছর বিলিয়ন বিলিয়ন ইউ.এস. ডলার অনলাইন থেকেই ইনকাম করছে।

বাংলাদেশেই এমন অনেক ই-কমার্স ওয়েবসাইট আছে, যারা প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার অনলাইন থেকেই ইনকাম করছে। তাদের মধ্যে যেমনঃ দারাজ.কম, বিডিশপ.কম ইত্যাদি।

ই-কমার্স বাণিজ্য পরিচালনার আপনাকে তেমন কষ্ট করতে হবে না। তবে পণ্য এনালাইসিস এবং গ্রাহক সেবা নিশ্চিতকরণে আপনাকে দক্ষ হতে হবে। পাশাপাশি অর্থ মানেজমেন্ট প্রক্রিয়ায় আপনাকে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। ই-কমার্স বাণিজ্যটা মূলত শিক্ষিত ব্যাক্তি এবং ব্যাংকিং বিষয়ে অভিজ্ঞ লোক দ্বারা পরিচালনা করা উত্তম।

ছবি বিক্রি করে আয়

আপনি যদি একজন ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন বা ফটোগ্রাফার হতে আগ্রহী, তবে এই কথাগুলো আপনার জন্য।ইন্টারনেটে অগণিত এমন ওয়েবসাইট আছে, যেখানে আপনার নিজস্ব ক্যামেরায় তোলা ছবি বিক্রি করতে পারেন। মনে রাখবেন, আপনার ক্যামেরা দিয়ে তোলা ছবিগুলোও আপনার তৈরি নিজস্ব একটি ডিজিটাল পণ্য। আর এই পণ্যও অনলাইনে বিক্রি করা যায়।

ছবি বিক্রি করা যায় এমন জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হলো ফ্রিপিক, সাটারস্টক ইত্যাদি। এই ধরণের আরো অগণিত ওয়েবসাইটে আছে। যেই সাইটগুলোতে আপনার নিজের তোলা ছবিগুলো সাবমিট করবেন। পরবর্তীতে এই ছবিগুলো যারা ডাউনলোড করবে, তাদের থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আপনি পাবেন। দীর্ঘমেয়াদী পেসিভ ইনকামের জন্য এটিও একটি চমৎকার প্রক্রিয়া।

স্টিল ইমেজ গ্রাফিক্স বা মোশন গ্রাফিক্স টেমপ্লেট বিক্রি করে আয়

স্টিল ইমেজ গ্রাফিক্স এবং মোশন গ্রাফিক্স এর বিভিন্ন টেমপ্লেট তৈরি করে আপনি আপনার অনলাইন ক্যারিয়ার বিল্ড করতে পারেন। ইন্টারনেটে এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে, যেখানে আপনার তৈরি গ্রাফিক্স টেমপ্লেট গুলো বিক্রি করতে পারবেন।

আপনি যদি স্টিল ইমেজ গ্রাফিক্স বা মোশন গ্রাফিক্স এর যে কোনটাই অভিজ্ঞ হন তবে অনলাইন থেকে আপনি পেসিভ একটি ইনকাম সোর্স তৈরি করতে পারেন।

গ্রাফিক্স টেমপ্লেট গুলো অনলাইনে প্রচুর ক্রয়-বিক্রয় হয়। আপনার তৈরি স্কিল ইমেজ গ্রাফিক্স টেমপ্লেট বিক্রি করার জন্য ফ্রিপিক.কম কে বেছে নিতে পারেন বা আপনার পছন্দের অন্য কোন ওয়েবসাইট বেছে নিন। আর মোশন গ্রাফিক্স টেমপ্লেট বিক্রি করার জন্য ফাইবার বা অন্যান্য মার্কেটপ্লেস বেছে নিতে পারেন।


(২) সার্ভিস প্রোভাইট করে আয়

অনলাইনে ই-কমার্স এর সাহায্যে পণ্য বিক্রয়ের পাশাপশি বিভিন্ন সার্ভিস দেওয়া-নেওয়াও অনলাইন ইনকাম এর একটি বিশাল অংশ দখল করে আছে। যেটাকে আমরা সাধারণত ফ্রিল্যান্সিং অথবা আউটসোর্সিং বলে চিনি।

অনেকেই মনে করেন যে, বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস এর সাহায্যে মানুষকে সার্ভিস দিয়ে অর্থ উপার্জনটাই কেবল ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং। তবে প্রকৃতপক্ষে এই ধারণাটি নিত্যান্তই ভুল। আপনি ইন্টারনেটের সাহায্যে মানুষকে যেভাবেই সার্ভিস দিয়ে অর্থ উপার্জন করেননা কেন, তা সবই  ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এর মধ্যেই গণ্য হবে।


ওয়েব ডিজাইন করে আয়

ওয়েব ডিজাইন মূলত ওয়েবসাইট তৈরির কাজ। আপনি যদি নিজে ওয়েবসাইট তৈরি করতে জানেন, তবে আপনি মানুষকে ওয়েবসাইট তৈরি করে দিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করতে পারেন। শুরুতেই বলেছি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪.৬৬ বিলিয়নে পৌঁছেছে! দিনদিন এই সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।

তাই আধুনিক বিশ্বের বর্তমান টার্গেট হলো অফলাইনে পরিচালিত ব্যবসাগুলোকে অনলাইনেও নিয়ে আসা। আর এটা করার জন্য একটি নিজস্ব ওয়েবসাইটের বিকল্প নেই। এই বিষয়টি কেন্দ্র করে বাড়ছে ওয়েবসাইটের সংখ্যা। তবে যে হারে ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে ঠিক সেই হারে অভিজ্ঞ ওয়েব ডিজাইনার নেই।

এখানে রয়েছে  অভিজ্ঞ ডিজাইনারের বড় একটি ঘাটতি। আমাদের দেশে যদিও ওয়েবসাইট তৈরির প্রতি তেমন জোর দেওয়া হয় না। তবে বহির্গত বিশ্বে ওয়েবসাইট তৈরির খুবই চাহিদা। ইদানিং একটি বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আমাদের দেশেও ওয়েবসাইট তৈরির প্রতি অনেকেই বেশ মনোযোগি। আশা করা যায় আমাদের দেশেও ওয়েবসাইট তৈরির চাহিদা আরো বাড়বে।

অনলাইন ইনকাম এর জন্য ওয়েব ডিজাইন বা ওয়েবসাইট তৈরির কাজ খুবই উন্নত একটি প্রফেশন। তাই আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন ভালো করে শিখতে পারেন, তবে আপনার জন্য অনলাইন ক্যারিয়ার বিল্ড করা খুবই সহজ।

এসইও করে আয়

এসইও এর পূর্ণরূপ হলো ‘সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন’। আপনারা সকলেই জানেন, এসইওর ভিত্তিতেই একটি ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাঙ্ক করে। এসইও মূলত ওয়েবসাইট ভিত্তিক একটি মার্কেটিং সিস্টেম। যেটা সার্চ ইঞ্জিন দ্বারা পরিচালিত হয়।

যারা অনলাইনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনার জন্য আসে বা যে কোন টার্গেক পূরণ করতে চায়, তাদের কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণ করার জন্য এসইও হলো সবচেয়ে বেস্ট উপায়। যেটার মাধ্যমে খুব সহজেই যে কোন টার্গেট পূরণ করা সম্ভব।

আপনি যদি এসইও বিষয়ে জেনে থাকেন তবে খুবই ভালো, আর যদি না জানেন তবে জেনে নিন এসইও কি? এসইও খুবই জনপ্রিয় অনলাইন মার্কেটিং প্রক্রিয়া। আপনি যদি এসইও শিখে নিতে পারেন, তবে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন মানুষের ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের জন্য অপটিমাইজ করে বিপুল অর্থ উপার্জন করতে পারেন।

এসইও সার্ভিস আপনি অনেক ভাবেই দিতে পারবেন। তারমধ্যে জনপ্রিয় হলো নিজস্ব কোন এজন্সি বা ওয়েবসাইট দিয়ে সাধারণ মানুষকে এসইও সার্ভিসের অফার করা। অথবা, কোন মার্কেটপ্লেসের সাহায্যে বিভিন্ন মানুষকে এসইও বিষয়ে সহযোগিতা করা। আপনি এভাবে আনলিমিটেড অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

কন্টেন্ট রাইটিং করে আয়

নিজস্ব সার্ভিস অন্যকে প্রোভাইট করে অনলাইন ইনকাম এর আরো একটি জনপ্রিয় প্রক্রিয়া হলো কন্টেন্ট রাইটিং। কন্টেন্ট রাইটিং মূলত বিভিন্ন বিষয়ের উপর লেখালেখি করাকে বুঝায়। আপনার যদি লিখতে ভালো লাগে এবং ভাষার গ্রামার গুলো অনুসরণ করে যদি যে কোন বিষয়ের উপর আর্টিকেল লিখতে পারেন, তবে কন্টেন্ট রাইটিং পেশাটি আপনার জন্য।

কন্টেন্ট রাইট সকলেই করতে জানে না। এর জন্য প্রয়োজন যথেষ্ট মেধা এবং নিশ ভিত্তিক জ্ঞান। তাই দেশী-বিদেশী অনণিত ওয়েবসাইট ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আছে, যারা তাদের ওয়েবসাইটের নিশ অনুযায়ী বিভিন্ন বিষয়ের কন্টেন্ট টাকার বিনিময়ে রাইটারদের হায়ার করে লেখিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে কন্টেন্ট রাইটারকে তাদের লেখার মান এবং লেখার ওয়ার্ড কাউন্টের উপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।

কন্টেন্ট রাইটিং এর পাশাপশি আরেকটি জনপ্রিয় অনলাইন ইনকাম এর পদ্ধতি হলো ভাষা ট্রান্সলেট করে দেওয়া। অর্থাৎ, মনে করেন আপনার কাছে একটি ৫০০০ ওয়ার্ডের বাংলা আর্টিকেল আছে। এখন চাচ্ছেন যে, হুবহু সেই আর্টিকেল এর মূল মেসেজ ঠিক রেখে আর্টিকেলটিকে ইংরেজি অথবা যে কোন ভাষায় ভাষান্তর করতে। এখন আপনি বাংলা ভাষা ছাড়া আর কোন ভাষা জানেন না। এক্ষেত্রে আপনি কোন অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে  বাংলা আর্টিকেলটি অন্য ভাষায় ভাষান্তর করতে পারবেন।

এটিও মূলত কন্টেন্ট রাইটিং ক্যাটাগরিতেই যায়, তাই আলাদা ভাবে এটি লেখার প্রয়োজনবোধ করিনি। আপনি চাইলে কন্টেন্ট রাইটিং করার মাধ্যমে দারুণ একটি ক্যারিয়ার বিল্ড করত পারেন। আর যদি ভাষা ট্রান্সলেট এর বিষয়েও আগ্রহী হন, তবে একাধিক ভাষায় আপনাকে অভিজ্ঞ হতেই হবে।

সফটওয়্যার তৈরি করে আয়

কম্পিউটার সফটওয়্যার এর উপর ভিত্তি করে চলমান। সকলেই জানেন, হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে কম্পিউটারের আকৃতি দেওয়া হয় এবং সফটওয়্যারের মাধ্যমে গতিশীল করা হয়। সফটওয়্যার তৈরি প্রয়োজন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বা মেশিন ভাষা।

কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরি করার জন্য আপনাকে জানতে হবে বিভিন্ন প্রোগামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে। এই ধরণের কাজ করার জন্য আপনাকে উচ্চ মানের পড়াশোনা করতে হতে পারে। কারণ, এখানে সবই এডভান্স বিষয়াদির কাজ। তবে আপনি যদি অন্য কোন কৌশলে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে নিতে পারেন, তবে আপনিও চাইলে কম্পিউটারের জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যার তৈরি করতে পারবেন।

প্রোগ্রামিং রিলেটেড বিশ্বব্যাপী যত কাজ আছে, তারমধ্যে কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরি করার কাজ সবচেয়ে উন্নত মানের। একজন দক্ষ কম্পিউটার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক আয় ৫-০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যায়।

সাধারণ ভাবে কম্পিউটার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করতে হয়। যেখানে বিভিন্ন প্রোগামিং ল্যাঙ্গুয়েজের উপর ‍বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা হয়।

তবে বর্তমানে অনেক আইটি ফার্ম আছে, যারা লোকল ভাবে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়ের উপর ট্রেনিং দেয়। আপনি যদি প্রোগামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শিখতে আগ্রহী হন, তবে যে কোন আইটি ফার্ম থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

সকলেই জানেন, কম্পিউটারের মাঝে একাধিক অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে। তবে প্রত্যেকটা অপারেটিং সিস্টেমই সফটওয়্যার নির্ভর। আপনি প্রোগ্রামিং শেখার পর যে কোন এক বা একাধিক অপারেটিং সিস্টেমেরে জন্যই সফটওয়্যার তৈরি করে আপনার জন্য চমৎকার একটি অনলাইন ক্যারিয়ার বিল্ড করতে পারবেন।

একজন কম্পিউটার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বিভিন্ন ভাবে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারেন। যেমনঃ () বিভিন্ন কোম্পানির জন্য সফটওয়্যার তৈরি করে। (২) সফটওয়্যার বিক্রি করে। (৩) সফটওয়্যার বা গেমে প্রিমিয়াম প্যাকেজ চালু করে। (৫) এডসেন্স বিজ্ঞাপণ এর মাধ্যমে। (৬) বিভিন্ন কোম্পানিতে পার্মানেন্ট জব করে ইত্যাদি।

মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে আয়

অ্যাপ মূলত স্মার্টফোনে ব্যবহার করা হয়। এটিও প্রোগ্রামিং ভিত্তিক একটি কাজ। যারা প্রোগামিং ল্যাঙ্গয়েজে দক্ষ, তারা কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরির পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে পারেন।

কম্পিউটারের জন্য যেমন একাধিক অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে, ঠিক একই ভাবে স্মার্টফোনের জন্যও একাধিক অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে। আর প্রত্যেকটা অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহৃত অ্যাপগুলো কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দ্বারাই তৈরি করা হয়েছে।

আপনি যদি ইতোম্যেই কোন প্রোগামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কে অভিজ্ঞ হন, তবে এখন থেকেই ট্রাই করতে পারেন। আর যদি প্রোগামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখার আগ্রহ থাকে, তবে যে কোন আইটি ফর্ম থেকে প্রশিক্ষণ নিন।

মোবাইল তৈরি করেও আপনি বিভিন্ন ভাবে অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন। যেমনঃ () বিভিন্ন মানুষকে অ্যাপ তৈরি করে দিয়ে। (২) অ্যাপ বিক্রি করে। (৩) অ্যাপ অথবা গেমে প্রিমিয়াম প্যাকেজ চালু করে। (৫) এডসেন্স এর এডমুভ বিজ্ঞাপণ এর মাধ্যমে। (৬) বিভিন্ন কোম্পানিতে পার্মানেন্ট জব করে ইত্যাদি।

ট্রেনিং এর মাধ্যেমে আয়

অনলাইন ভিত্তিক ট্রেনিং, এটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে কার্যকরী অনলাইন ইনকাম প্রক্রিয়া। অনলাইন ট্রেনিং এর মাধ্যমে ২ টি পক্ষই বিশেষ ভাবে লাভবান হয়। যিনি প্রশিক্ষণ দেন, তিনি ঘরে বসেই অর্থ উপার্জন করতে পারেন এবং যারা প্রশিক্ষণ নেয়, তারা একজন সুদক্ষ শিক্ষকের কাছ থেকে ঘরে বসেই কাঙ্খিত বিষয়ে উপর দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

আপনি যদি কোন বিষয়ে ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, তবে আপনি চাইলেও নতুনদেরকে নিজের দক্ষতার উপর ট্রেনিং দিতে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এটা মূলত স্কুল এবং কোচিং সেন্টার এর মতই কাজ করে।


(৩) মার্কেটিং করে আয়

মার্কেটিং করে আয় করার বিষয়টা খুবই সহজ আয়ের একটি মাধ্যম। মার্কেটিং মানে কোন বিষয়ের প্রচার-প্রচারণার কাজ। আপনি ইন্টারনেটকে ব্যবহার করে নিজের ব্যবসার প্রচার বা অন্য কারো ব্যবসার প্রচার করবেন, তা থেকে আপনি বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। অনলাইন ইনকাম এর মাঝে ‘মার্কেটিং’ বিষয়টাও খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।


ব্লগিং করে আয়

ব্লগিং মূলত লেখালেখির কাজ। আপনার যদি লিখতে ভালো লাগে, তবে ব্লগিং আপনার জন্য খুবই চমৎকার একটি অনলাইন ক্যারিয়ার গড়ার অপর্চুনিটি দিচ্ছে।

ব্লগিং করতে আপনার একটি পার্সোনাল ওয়েবসাইট এর প্রয়োজন হবে। যেখানে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের দর্শককের রুচির উপর ভিত্তি করে নিয়মিত বিভিন্ন বিষয়ের উপর ব্লগ পাবলিশ করবেন।

একটি পার্সোনাল ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে অনেক ভাবেই ইনকাম করা যায়। তারমধ্যে জনপ্রিয় হলো গুগল এডসেন্স, স্পন্সর, গেস্ট পোস্ট এবং লিংক বিক্রি ইত্যাদি। তাছাড়া আপনি যদি কোন বিষয়ের উপর দক্ষ হন, তবে ব্লগ সাইট এর মাধ্যমেই আপনার দর্শকদেরকে সার্ভিস দিয়েও ইনকাম করতে পারবেন।

ব্লগিং মূলত দীর্ঘমেয়াদী অনলাইন ইনকাম এর একটি পরিকল্পনা। যেখানে আপনাকে বছরের পর বছর ধৈর্যের সাথে পরিশ্রম করে যেতে হবে।

ইউটিউবিং করে আয়

ইউটিউবিং মূলত ব্লগিং এর মতই দীর্ঘ পরিকল্পনাময় একটি কাজ। ব্লগিং করা হয় লেখালেখির মাধ্যমে, আর ইউটিউবিং হলো ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে। তবে এই দুইটা বিষয় প্রায় একই বার্তা বহন করে।

আপনি যদি কোন বিষয়ে দক্ষ হন, তবে ইউটিউব প্লাটফর্ম ব্যবহার কর আপনার জন্য একটি চমৎকার অনলাইন ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।

ব্লগিং এর মতই ইউটিউব থেকে অনেক ভাবেই ইনকাম করা যায়। তারমধ্যে জনপ্রিয় হলো গুগল এডসেন্স, স্পন্সর, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ইত্যাদি। তাছাড়া আপনি যদি কোন বিষয়ের উপর দক্ষ হন, তবে ইউটিউব এর মাধ্যমেও আপনার দর্শকদের কাছে নিজস্ব সার্ভিস প্রোভাইট করেও ইনকাম করতে পারবেন।

আমাদের কথাঃ

অনলাইন থেকে ইনকাম করতে হলে আপনাকে কোনোনা কোন একটি বিষয়ে অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতেই হবে। সাধারণ ভাবে আমরা যখন কোন চাকরি নিতে যাই, তখন আমাদের শিক্ষাগতা যোগ্যতার প্রয়োজন এবং একাডেমিক সার্টিফিকেট লাগে। আর এই যোগ্যতা এবং সার্টিফিকেট অর্জনে আমাদের ২ থেকে ৫ বছর লেগে যায়।

তারপর আমরা ৫,০০০ -২০,০০০/- টাকায় মাসিক বেতনে চাকরি নিই। অথচ, তবুও ঘুষ দিয়ে চাকরি কনফার্ম করতে হয়। এক্ষেত্রে আপনি যদি ঘরে বসেই নিজের চাকরি নিজেই কনফর্ম করতে পারেন, তবে বিষয়টা আরো ভালো হয়।

ইন্টারনেট আপনার-আমার জন্য এমন কিছু বিষয় অফার করছে, যা আমাদের সমাজের কোন জায়গায় পাওয়া সম্ভব না। আপনি যদি উপরোল্লেখিত যে কোন এক বা একাধিক বিষয়ের উপর দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, তবে আপনি ঘরে বসেই অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন। উল্লেখ্য, অফলাইন চাকরি ক্ষেত্রের মাসিক বেতন থেকেও অনলাইনে আপনি আরো বেশী অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

তবে মনে রাখবেন, ভালো জিনিসের কদর সব জায়গায় রয়েছে। আপনি যেই ধরণের স্কিলই অর্জন করেননা কেন, অবশ্যই আপনাকে পুরোপুরি দক্ষতা অর্জন করতেই হবে। তাই আমাদের বিশেষ পরামর্শ থাকবে, অনলাইন ইনকাম এর জন্য উপরোল্লেখিত স্কিল গুলোর  যে কোন স্কিলই সিলেক্ট করবেন, অন্তত সেই স্কিলের উপর ৬ থেকে বছর ভালো করে সময় দিন। তারপর অনলাইন ইনকাম এর কথা চিন্তা করুন।

1 comment