ব্লগ থেকে আয় | লেখালেখি করে আয় করবেন যেভাবে

ব্লগ থেকে আয় | লেখালেখি করে আয় করবেন যেভাবে

ব্লগ থেকে আয় করা যায় এই বিষয়টা প্রায় অনেকেরই জানা। ব্লগিং মানে লেখালেখি করার একটি পেশা। আপনি যদি লিখতে ভালোবাসেন, অথবা লেখালেখির প্রতি আগ্রহ থাকে তবে আপনি চাইলে ইন্টারনেট থেকে লেখালেখি করে আয় করতে পারবেন। এটা খুবই জনপ্রিয় পেসিভ ইনকাম প্রক্রিয়া। ব্লগিং করে টাকা আয় করার ব্যপারটা আপনাকে ক্লিয়ারলি বুঝতে হবে। আর এজন্যই আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু বিষয় শেয়ার করা হলো।

ব্লগ থেকে আয় হয় যেভাবে

ব্লগ থেকে আয় করার বিষয়টা খুব বেশী জটিল বা কঠিন কিছু নয়। তবে এখানে আপনাকে ধৈর্যের সাথে দক্ষতার পরিচয় দিতেই হবে। ব্লগিং একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার নাম। এখানে আপনাকে শুরু থেকে জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্তই পরিশ্রম করে যেতে হবে। যতবেশী পরিশ্রমী হবেন, আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার ততই সমৃদ্ধ হবে।

ইন্টারনেটজুড়ে যত ওয়েবসাইট আছে সব ধরণের ওয়েবসাইটকেই মনিটাইজ করার জন্য কন্টেন্টের প্রয়োজন হয়। কন্টেন্ট এর প্রধান উপকরণ হলো লেখালেখি। আপনি যদি আপনার ব্লগিং ওয়েবসাইটকে মনিটাইজ করতে চান, তবে লেখালেখির মধ্য দিয়েই মনিটাইজ করতে হবে।

মনিটাইজ কি?

সাধারণ ভাবে বলতে গেলে মনিটাইজ হলো ব্লগ থেকে ইনকাম করার পদ্ধতি। একটি ব্লগ ওয়েবসাইটকে বিভিন্ন উপায়ে মনিটাইজ করা যায়। মনিটাইজের মাধ্যমে ব্লগিং করে টাকা আয় করা যায় যেভাবেঃ-

  • কাস্টম স্পন্সর এর মাধ্যমে
  • এড নেটওয়ার্ক এর বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে
  • ব্লগে ফিজিক্যাল অথবা ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে
  • ব্লগে নিজস্ব সার্ভিস প্রোভাইট করে
  • কোচিং অথবা কোর্স এর মাধ্যমে
  • প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এর মাধ্যমে
  • লিংক বিক্রি করার মাধ্যমে

এগুলো ছাড়াও ব্লগ থেকে আয় করার অনেক কৌশল রয়েছে। তবে সাধারণভাবে এই পদ্ধতিগুলোই সেরা।

ব্লগ সাইটে কাস্টম স্পন্সর এর মাধ্যমে আয়

কাস্টম স্পন্সর বলতে মূলত বিজ্ঞাপনকেই বুঝানো হয়। অর্থাৎ, কোন কোম্পানি -প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি চুক্তির মাধ্যমে তাদের বিজনেসকে আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটের ভিজিটরদের কাছে প্রমোট করে আয় করতে পারবেন।

বিষয়টি আরো সহজ ভাবে বলতে গেলে, মনে করুন আপনার একটি কোম্পানি আছে। এখন আপনার কোম্পানির প্রচারের জন্য আমাদের এই ওয়েবসাইটে স্পন্সর বা বিজ্ঞাপন দিতে চান। এখন আমরা যেহেতু ব্লগিং করি, আমাদের হাজার হাজার দর্শক বা ভিজিটর আছে, যারা আমাদের ওয়েবসাইটে নিয়মিতই বিভিন্ন বিষয় জানার জন্য ভিজিট করেন। আপনার বিজনেসকে যদি আমাদের সাইটের দর্শকদের কাছে তুলে ধরতে চান, তবে আমাদের সাথে আপনার একটি চুক্তি করতে হবে।

সাধারণত সব ধরণের কাস্টম বিজ্ঞাপনের জন্য চুক্তিগুলো সময় ভিক্তিক অথবা দর্শক ভিত্তিক হয়। যেমন, আপনার কোম্পানির বিজ্ঞাপনটি আমাদের ওয়েবসাইটে ৩ মাস পর্যন্ত থাকবে, এজন্য আপনাকে ৫০০ ডলার দিতে হবে। সময় ভিত্তিক বিজ্ঞানের চুক্তিগুলো এমন হয়। আর দর্শক ভিত্তিক বিজ্ঞাপনগুলো হলো এমন, আমরা আপনার কোম্পানির বিজ্ঞাপনটি ৫ মিলিয়ন দর্শকের কাছে পৌঁছে দেবো, বিনিময়ে আমাদেরকে ৩ হাজার ডলার দিতে হবে।

কাস্টম বিজ্ঞাপনগুলো মূলত এভাবেই কাজ করে। লেখালেখি করে আয় বা ব্লগ থেকে আয় করার জন্য কাস্টম বিজ্ঞাপন খুবই জনপ্রিয় একটি ইনকাম পদ্ধতি। যেটার মাধ্যমে মাসে মিলিয়ন ডলার আয় করাও সম্ভব। তবে কাস্টম বিজ্ঞাপন পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনার সাইটে প্রচুর ভিজিটর থাকতে হবে। নাহয় আপনাকে কেহই কাস্টম স্পন্সর বা বিজ্ঞাপন অফার করবে না।

এড নেটওয়ার্ক এর বিজ্ঞাপন এর মাধ্যমে আয়

ব্লগ থেকে আয় | লেখালেখি করে আয় করবেন যেভাবেএড নেটওয়ার্ক বলতে যারা বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কোম্পানি থেকে স্পন্সর নেয়, তারপর তাদের গ্রাহকেদের মাধ্যমে সেসব স্পন্সর ভাগ করে দেয়। চলুন বিষয়টি আরো সহজভাবে বুঝতে চেষ্টা করি-

সকলেই জানেন, গুগল এডসেন্স হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় একটি এড নেটওয়ার্ক। যেটার মাধ্যমে নিয়মিতই কোটি কোটি স্পন্সর -বিজ্ঞাপন পাবলিশ করা হয়।

এড নেটওয়ার্ড গুলো দ্বিতীয় পক্ষ হয়ে কাজ করে প্রথম এবং তৃতীয় পক্ষের সাথে। প্রথম পক্ষ হলো যিনি নিজ কোম্পানির প্রচারের জন্য টাকার বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দেন। দ্বিতীয় পক্ষ হলো এড নেটওয়ার্ক, যারা প্রথম পক্ষ হতে অর্থচুক্তিতে বিজ্ঞাপন কালেক্ট করেন। তৃতীয় পক্ষ হলো তারা, যাদের নিজস্ব একটি ওয়েবসাইট আছে বা একটি ইউটিউব চ্যানেল আছে, অথবা যাদের নিজস্ব সফটওয়্যার বা অ্যাপস আছে।

এড নেটওয়ার্ক এর ভাষায় তৃতীয় পক্ষকে পাবলিশার বলা হয়। এড নেটওয়ার্ক গুলো এই ধরণের বিজ্ঞাপন ইন্টারনেটে ৩ টি প্রক্রিয়ায় পরিবেশন করে থাকে। যেমনঃ

  1. ওয়েবপেজের মাধ্যমে
  2. ভিডিওর মাধ্যমে
  3. সফটওয়্যার এবং অ্যাপস এর মাধ্যমে

আপনারা যারা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ভিজিট করেন অথবা ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখেন একটি বিষয় লক্ষ্য করেছেন হয়ত, ইউটিউবে ভিডিও দেখতে গিয়ে ভিডিওর শুরুতে অথবা মাঝখানে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন চলে আসে, কিংবা কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করতে গিয়ে ওয়েবপেজের মাধ্যমে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখতে পেয়েছেন। এই বিজ্ঞাপন গুলো মূলত এড নেটওয়ার্ক গুলোর সাহায্যে দেওয়া হয়।

এড নেটওয়ার্ক এর সাহায্যে যেই স্পন্সর এড গুলো দেওয়া হয়, তা থেকে ৪০% অর্থ এড নেওয়ার্ট নিজেরাই নিয়ে নেয় এবং বাকি ৬০% অর্থ পাবলিশারদের দিয়ে দেয়। তবে এড নেটওয়ার্ক অনুযায়ী তা কম-বেশী হতে পারে।

আপনার যদি একটি ব্লগ ওয়েবসাইট থাকে, তবে আপনি চাইলে লেখালেখি করে আয় করতে পারবেন। এই পেশায় জরিয়ে আছে পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ।

কোন এড নেটওয়ার্ক এর মাধ্যমে আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটে স্পন্সর -বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য তাদের সাথে আপনাকে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে এবং এড নেটওয়ার্কের নীতিমালা আপনাকে অবশ্যই মানতে হবে।

গুগল এডসেন্স এর কথাই ধরুন, তাদের নীতিমালা হলো আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটে কপিরাইট যুক্ত অন্যের কোন কন্টেন্ট অথরের অনুমতি ছাড়া পাবলিশ করতে পারবেন না। কোন ক্ষতিকর কন্টেন্ট আপনার সাইটে পাবলিশ করা যাবে না। তাছাড়া, ওয়েবসাইটে বিশেষ কিছু পেজ তৈরি করা ইত্যাদি। এগুলো ছাড়াও আরো নীতিমালা আছে, যা প্রত্যেকটা এড নেটওয়ার্ক তৈরি করে রেখেছে।।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে আয়

ব্লগ থেকে আয় করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং খুবই চমৎকার একটি পদ্ধতি। আপনার ব্লগ সাইটকে সহজেই অ্যাফিলিয়েট এর মাধ্যমে মনিটাইজ করতে পারেন। অনলাইন ভিত্তিক অর্থ উপার্জনের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং খুবই সহজ ইনকাম প্রক্রিয়া।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য মূলত বিভিন্ন প্রোডাক্ট রিভিউ করতে হয়। সকলেই জানেন, ই-কমার্স এর মাধ্যমে ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য জনপ্রিয় ওয়েবসাইট হলো অ্যামাজন, আলিবাবা, দারাজ ইত্যাদি। আর ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রির জন্য ইনভাটো, থিমফরেস্ট, নেইমচিপ ইত্যাদি।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত কোন ই-কমার্স সাইট এর প্রোডাক্ট আপনার রেফারে বিক্রি করে দেওয়া। যার বিনিময়ে আপনাকে প্রোডাক্টের বিক্রয় মূল্য হতে একটি কমিশন দেওয়া হবে। আপনি আপনার ব্লগ সাইটের সাহায্যে যে কোন ধরণের প্রোডাক্টের উপর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন।

আমাদের দেশে অনেক অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার আছে, যারা তাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্রোডাক্টের উপর অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার মাধ্যমে খুবই ভালো ইনকাম করছে। আপনিও চাইলে আপনার ব্লগ সাইটে বিভিন্ন প্রোডাক্টরে উপর রিভিউর মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। লেখালেখি করে আয় করার জন্য এই পদ্ধতি সবচেয়ে বেস্ট।

ফিজিক্যাল অথবা ডিজিটাল প্রোডাক্ট বিক্রি করে আয়

আপনার যদি একটি নিজস্ব ব্লগ ওয়েবসাইট থাকে, তবে এখানে আপনাকে বাঁধা দেওয়ার মতো কেউ নেই। আপনি যদি সামান্য মেধা কাটিয়ে কাজ করতে পারেন, তবে নিজস্ব ই-কমার্স ওয়েবসাইট ছাড়াই ব্লগ সাইট দিয়েই বিভিন্ন ফিজিক্যাল অথবা ডিজিটাল প্রোডাক্ট আপনার ভিজিটরদের কাছে বিক্রি করতে পারেন।

ধরুণ, আপনার একটি টি-শার্ট এর কোম্পানি আছে। তবে টি-শার্ট গুলো অনলাইনে বিক্রি করার মতো নিজস্ব কোন ই-কমার্স সাইট নেই। অথবা এমন হতে পারে, আপনার কাছে মাত্র কয়েক পিছ টি-শার্ট আছে, যা দিয়ে একটি ই-কমার্স সাইটও তৈরি করা পসিবল না। এই পিরিস্থিতিতে যদি আপনার একটি ব্লগ সাইট থাকে, তবে আপনার ভিজিটরদের কাছে ব্লগ এর মাধ্যমেই টি-শার্টগুলো বিক্রি করতে পারবেন।

এজন্য আপনাকে অবশ্যই আপনার টি-শার্ট গুলো সম্পর্কে একটি রিভিউ টাইপ ব্লগ লিখতে হবে, যেখানে আপনার টি-শার্ট এর ভালো-মন্দ দিকগুলো উল্লেখ করা থাকবে। পাশাপশি টি-শার্ট এর বিক্রয় মূল্যও উল্লেখ করে দিতে হবে। আপনার ব্লগ সাইটের ভিজিটরদের কাছে যদি আপনার তৈরি টি-শার্টটি পছন্দ হয় তবে তারা আপনার টি-শার্টটি ক্রয় করতে আগ্রহী হবে।

এভাবে আপনি আপনার ব্লগ সাইটের মাধ্যমে যে কোন প্রোডাক্ট আপনার ভিজিটরদের কাছে খুব সহজেই বিক্রি করতে পারবেন। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে ব্লগ সাইটকে মনিটাইজ করার মাধ্যমে ব্লগিং করে টাকা আয় করার জন্য এটিকে বেছে নিতে পারেন।

ব্লগে নিজস্ব সার্ভিস প্রোভাইট করে আয়

ব্লগ নিয়ে যারা কাজ করে, তাদের কোনোনা কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ হতেই হয়। আপনার সাইট যেই নিশের উপর তৈরি, সাধারণ ভাবে সাইটের ভিজিটরগণ অবশ্যই সেই নিশের উপর জানতে আগ্রহী হবে। অর্থাৎ, আপনি যদি ডাক্তারি অথবা মেডিসিন নিয়ে ব্লগ লেখেন, তবে আপনার সাইটের ভিজিটর তারাই হবে, যারা কোন রোগে আক্রান্ত বা মেডিসিন সংক্রান্ত বিষয় সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।

আপনার সাইটে যদি সর্দি রোগের উপর কোন আর্টিকেল থাকে, আর আর্টিকেলে যদি সর্দির প্রতিকারের টিপস এর পাশাপশি ঔষুধ এর নাম উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয় যদি এই ঔষুধটি আপনার কাছে পাওয়া যাবে, তবে অনেক ভিজিটর আপনার সাথে যোগাযোগ করবে এবং আপনার থেকে ঔষুধ কেনার জন্য তারা খুবই আগ্রহ দেখাবে।

আপনি এভাবেই যদি ব্লগিং এর মাধ্যমে আপনার ভিজিটরদের কাছে আপনার ডাক্টারি পেশাটিকে উপস্থাপন করতে পারেন, তবে খুব সহজেই আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন।

যদিও এখানে শুধু ডাক্টারি পেশার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অবশ্যই আপনি আপনার যে কোন দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আপনার ব্লগ সাইটের ভিজিটরদেরকে সার্ভিস দিতে পারবেন।

আমাদের কথাই বলি, আমাদের এই ওয়েবসাইটটে টেকনোলজি নিশের উপর বিভিন্ন ট্রিক্স – টিপস শেয়ার করে থাকি। আর এজন্য আমাদের ওয়েবসাইটের অধিকাংশ দর্শক সাধারণত টেকনোলজি প্রেমীই বটে। অনেকেই আছে ওয়েবসাইট তৈরি করতে জানে না, তবে জানার জন্য আমাদের ওয়েবসাইটে পরিবেশিত কোন আর্টিকেল পড়েছে। মনে করুন, যেই আর্টিকেলে ওয়েবসাইট তৈরির বিষয়াদি খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এখন যদি সেই দর্শকদের কাছে আমাদের আর্টিকেলটি খুবই ভালো লাগে বা পছন্দ হয়, তবে নিশ্চয় সেই দর্শক চাইবে আমাদের কাছ থেকে তার জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি করিয়ে নিতে। এটাই স্বাভাবিক। আমরাও তাই করতাম।

যাইহোক, আপনিও চাইলে আপনার দক্ষতার উপর নিজস্ব ব্লগ ওয়েবসাইটে বিভিন্ন আর্টিকেল লিখে অডিয়েন্স বিল্ড করতে পারেন এবং পরবর্তীতে তাদের কাছেই আপানর সার্ভিস প্রোভাইট করে ব্লগ থেকে আয় করতে পারেন।

কোচিং অথবা কোর্স এর মাধ্যমে

আপনারা হয়ত জেনে থাকবেন যে, অনেক ব্লগার আছে যারা ব্লগ লেখার পাশাপশি তাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয়ের উপর কোর্স অফার করে। এভাবে তারা তাদের ব্লগ সাইটকে মনিটাইজ করার মাধ্যমে খুবই ভালো ইনকাম জেনারেট করে থাকে। ইন্টারনেট ভিত্তিক কোচিং অথবা কোর্স গুলো সাধারণত ৩ প্রকারের হয়।

  • ভিডিও কোর্স
  • সরাসরি লাইভ কোর্স
  • পিডিএফ বা টেক্সট রিসোর্স রিলেটেড কোর্স

এই ৩ টি কোর্সই যথেষ্ট ইউজার ফ্রেন্ডলি। মনে করুন আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটটি গ্রাফিক্স ডিজাইন নিশের উপর তৈরি করা। আপনি যদি এমন হন যে,  গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি করতে পারেন অথবা অন্যদেরকে গ্রাফিক্স ডিজাইন শেখানোর যোগ্যতা রাখেন, কিংবা গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর কোন পিডিএফ বই তৈরি করতে পারেন, তবে আপনি চাইলে আপনার এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্লগ সাইট থেকে আয় করতে পারবেন।

আপনার ওয়েবসাইট যেহেতু গ্রাফিক্স নিশের উপর তৈরি, সেহেতু ওয়েবসাইটের ভিজিটরগণও গ্রাফিক্স এর উপর জানতে আগ্রহী বিধায় আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে। তাই ব্লগ লেখার পাশাপাশি আপনি যদি গ্রাফিক্স নিশের উপর ভিডিও কোর্স তৈরি করতে পারেন, অথবা একইভাবে যদি সরাসরি লাইভে এসে কাউকে গ্রাফিক্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন, কিংবা গ্রাফিক্স এর উপর তৈরি পিডিএফ বই বিক্রি করেন, তবে আপনার ব্লগ সাইট থেকেই খুব ভালো ইনকাম করার অপর্চুনিটি রয়েছে।

এক্ষেত্রে আপনাকে কোনোনা কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ হতেই হবে। আর সেই অভিজ্ঞতাকে ব্লগিং এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতে হবে। আপনাকে এমন উদারতার সাথে কাজ করা উচিৎ, যাতে আপনার ওয়েবসাইটের দর্শকেরা আপনার প্রতি আস্থা রাখতে সাহসী হয়। দর্শকেরা যদি আপনার প্রতি এবং আপনার কোর্স এর প্রতি ভরসা রাখতে পারে, তবেই আপনি কোর্স বিক্রির মাধ্যেমে ব্লগ ওয়েবসাইটকে মনিটাইজ করতে পারবেন এবং খুব সহজেই ব্লগ থেকে আয় করতে পারবেন।

প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এর মাধ্যমে আয়

ব্লগ থেকে আয় | লেখালেখি করে আয় করবেন যেভাবেএকটি ব্লগ ওয়েবসাইটে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালু করার জন্য আপনার ওয়েবসাইটে খুবই কোয়ালিটিফুল কন্টেন্ট পাবলিশ করতে হবে। নতুবা ব্লগ ওয়েবসাইটে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালু করা মূল্যহীন হয়ে যাবে। চলুন সাবস্ক্রিপশন বিষয়টি বুঝতে চেষ্টা করি।

প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন মূলত এমন, মনে করুন আমাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্রিমিয়াম সফটওয়্যার বিক্রি করে থাকি এবং প্রত্যেকটা সফটওয়্যারের রেগুলার বিক্রয়মূল্য ৫০০ -৮০০/- ডলার এর মতো। এখন যদি আমরা এমন একটি বোনাস প্যাকেজ তৈরি করি যে, মাত্র ২,০০০/- ডলার দিয়ে ২ মাসের জন্য আমাদের ওয়েবসাইটের সমস্ত সফটওয়্যার ডাউনলোড করা যাবে এবং পরিপূর্ণ এক্সেস নেওয়া যাবে। তবে আমার বিশ্বাস অনেকেই আমাদের এই বোনাস প্যাকেজটি কিনতে আগ্রহী হবেন। এটাই মূলত প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন এর সুবিধা।

যদিও এখানে সফটওয়্যারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আপনি চাইলে আপনার ব্লগ সাইটেও এমন প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন পদ্ধতি তৈরি করতে পারেন ব্লগের মাধ্যমে। যেমন, রোবট তৈরির উপর আপনার একটি আর্টিকেল আছে ৮ হাজার ওয়ার্ডের।

আর্টিকেলটি সাধারণ দর্শকদেরকে পড়ার জন্য ৫ হাজার ওয়ার্ড ওয়েবসাইটে পাবলিশ করেছেন, আর বাকি ৩ হাজার ওয়ার্ড প্রাইভেট করে রেখেছেন এবং বলে দিয়েছেন যে, পুরোটা পড়ার জন্য ৫০ ডলার চার্জ দিতে হবে। আর্টিকেলটি যদি খুবই হাই কোয়ালিটির হয় তবে আর্টিকেলটি পুরোটা পড়ার জন্য মেক্সিমাম দর্শক আগ্রহ দেখাবে।

এভাবে যদি আপনার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয়ের উপর হাই কোয়ালিটির আর্টিকেল থাকে এবং প্রত্যেকটা আর্টিকেল পুরোটা পড়ার জন্য যদি চার্জ নেওয়া হয়, তবে আপনি ব্লগ এর উপরই প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন চালু করতে পারেন। তবে আপনাকে অবশ্যই সবদিকেই কোয়ালিটির কথা বিবেচনা করতেই হবে।

লিংক বিক্রি করার মাধ্যমে আয়

যারা ওয়েবমাস্টার আছেন, তারা অবশ্যই জানেন একটি ওয়েবসাইট সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাঙ্ক করানোর জন্য ব্যাকলিংক কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাকলিংক মানে হলো, একটি ওয়েবসাইট থেকে অন্য আরেকটি ওয়েবসাইটকে লিংক দেওয়া। একটি ওয়েবসাইট বিভিন্ন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে র‌্যাঙ্ক করে থাকে। তারমধ্যে একটি হলো ব্যাকলিংক। অর্থাৎ, আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট কোয়ালিটির পর ব্যাকলিংক যদি ভালো হয়, তবে আপনার কন্টেন্ট খুব দ্রুতই সার্চ ইঞ্জিনের র‌্যাঙ্কিংয়ে চলে আসবে এবং এখান থেকে আপনি অগণিত অর্গানিক ভিজিটর পাবেন।

ইন্টারনেটে লক্ষ লক্ষ ওয়েবসাইট আছে, যারা নিজের সাইটকে র‌্যাঙ্ক করানোর জন্য বিভিন্ন সাইট থেকে লিংক কিনে থাকে। আপনার ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে লিংক বিক্রি করার জন্য অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন অথরিটি ( DA) এবং পেজ অথরিটি (PA) ভালো হতে হবে।

ডোমেইন অথরিটি এবং পেজ অথরিটি বলতে আপনার ওয়েবসাইটের পাওয়ার বুঝানো হয়। তবে সাধারণ ভাবে বলতে গেলে, আপনার ওয়েবসাইট ২/৩ বছরের পুরোনো হতে হবে এবং ওয়েবসাইটে ভালো ভিজিটর থাকতে হবে। তবেই আপনি আপনার ওয়েবসাইট থেকে অন্য ওয়েবসাইটকে লিংক দেওয়ার মাধ্যমে ব্লগ থেকে আয় করতে পারবেন।

আমাদের কথাঃ

ব্লগিং এমন একটি পেশা, যেটা করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে এই সেক্টরে আসতে হয়। ব্লগিং মানে এইনা যে, ব্লগ সাইটে একমাস নিয়মিত আর্টিকেল পাবলিশ করলাম, তারপর ২ মাস আর কিছুই করা হয়নি। এভাবে মূলত ব্লগিং ক্যারিয়ার কোন ভাবেই সম্ভব নয়।

ব্লগিং সেক্টরে কাজ করতে হলে আপনাকে অনেক ধৈর্যশীল হতে হবে, নিয়মিতই নতুন নতুন আর্টিকেল পাবলিশ করতে হবে। ব্লগিংয়ে যারা সফল তাদেরকে অনুসরণ করতে হবে। তাছাড়া, আপনার ব্লগে এমন কিছু বিষয় রাখতে হবে, যা থেকে দর্শকেরা সত্যিই উপকৃত হয়।

আপনি উপরোল্লেখিত বিষয়গুলোর যে কোনোটা ফলো করে আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটকে মনিটাইজ করতে পারবেন এবং ব্লগিং ক্যারিয়ারে আপনি অনেক টাকা ব্লগ থেকে আয় করতে পারবেন।

Add comment