প্রসেসর কি? কিভাবে কাজ করে?

প্রসেসর কি? প্রসেসর কিভাবে কাজ করে?

প্রযুক্তির ব্যবহারে দিন দিন মানুষের জীবন-যাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। দৈনন্দন জীবনে বিভিন্ন চাহিদা মেঠানোর জন্য আমরা প্রযুক্তির তৈরি বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে থাকি। তারমধ্যে রয়েছে, কম্পিউটার, লাাপটপ, ট্যাব, স্মার্টফোন ইত্যাদি। আমরা কখনও কি ভেবেছি, এই ডিজিটাল ডিভাইসগুলো কিসের উপর ভিত্তি করে চলমান? অনেকেই হয়ত বিভিন্ন ভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন। তবে ফাইনালি সবাইকে মানতেই হবে, প্রত্যেকটা ডিজিটাল ডিভাইস প্রসেসর এর মাধ্যমে ডিভাইসের সমস্ত বিষয় প্রসেসিং করে থাকে।

প্রসেসর কি?

প্রসেসর হলো কম্পিউটারের অন্যতম প্রধান হার্ডওয়্যার। যেটাকে CPU বা Central Processor Unit) বলা হয়। প্রকৃত অর্থে প্রসেসর একটি স্বয়ংসম্পন্ন এবং প্রোগ্রামেবল গানিতিক ইঞ্জিন। যেটা পিউর সিলিকন ও ট্রানজিস্টারের সমন্বয়ে তৈরি করা।

প্রসেসর ডিজিটাল ডিভাইস গুলোর সকল প্রোগ্রাম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রসেসিংয়ের সকল কাজ সম্পাদন করে। অর্থাৎ, আমরা যখন কম্পিউটারে কোন কাজ করি, তখন প্রসেসর প্রোগ্রামকে প্রসেস করে কম্পিউটার স্কিনে তার আউটিপুটটি প্রদর্শন করে।

আমরা প্রতিনিয়ত যেই ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ব্যবহার করি, যেমন: কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্টফোন ইত্যাদি। এসব ডিভাইসগুলোতেও প্রসেসর থাকে। তবে প্রত্যেকটা ডিভাইসের প্রসেসরকে ডিভাইসের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়।

প্রসেসর কত প্রকার

প্রসেসর প্রধাণত ৪ প্রকারের হয়। তবে এই ৪ প্রকারের মাধ্যমেই প্রসেসর আরো বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত।

  1. মাইক্রোপ্রসেসর (Microprocessor)
  2. মাইক্রোকন্ট্রোলার (Microcontroller)
  3. এমবেডেড প্রসেসর (Embedded Processor)
  4. ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসর (Digital Signal Processor)

প্রসেসরের প্রকারভেদ সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আর্টিকেলে শুধুমাত্র প্রসেসর এর কার্যকারীতা সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে।

বর্তমান বাজারে অনেক ধরণের প্রসেসর পাওয়া যায়। কম্পিউটার প্রসেসর নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে Intel এবং AMD এর প্রসেসরগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয়। ব্যবহারের দিক দিয়ে যদিও Intel এর প্রসেসর সব থেকে এগিয়ে। কিন্তু ইদানিং Intel কে পিছনে ফেলে AMD -এর প্রসেসরগুলো এগিয়ে যাচ্ছে। যাইহোক, কম্পিউটারের মতই স্মার্টফোনেরও প্রসেসর প্রয়োজন হয়। স্মার্টফোনের প্রসেসর গুলোর মধ্যে বিশেষ করে Qualcomm এবং MediaTek গ্রহণযোগ্য।

প্রসেসর কিভাবে কাজ করে?

ডিজিটাল ডিভাইসগুলো প্রসেসরের উপর ডিপেন্ট করেই অপটিমাইজ করা হয়। অর্থাৎ, ডিভাইসটি কতটুকু শক্তিশালী বা ফাস্ট হবে তা প্রসেসরই উপর নির্ভর করে। আমরা অনেকেই কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন ইত্যাদি কিনতে এগুলোর দিকে লক্ষ্য রাখিনা। এটা চরম ভুল। যাইহোক, প্রতিটি প্রসেসরের শক্তিমত্তা বা ফিচারকে কেন্দ্র করেই সচারাচর কিছু নাম শুনে থাকি। যেমন :

(1) Clock Speed, (2) Number Of Cores, (3) Cache Memory, (4) FSB ইত্যাদি।

1

What is Clock Speed?

ক্লক স্পীড হলো ক্যালকুলেশন বা হিসেব করার সক্ষমতা। অর্থাৎ, একটা প্রসেসর সেকেন্ডে কত ক্যালকুলেশন হিসেব করতে পারবে এটার ক্ষমতা। Clock Speed কে GHz বলা হয়। এর পূর্ণরূপ হলো gigahertz . এখানে G মানে Giga এবং Hz মানে hertz . GHz হলো Alternating current (AC) বা ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিং ওয়েভ ফ্রিকুয়েন্সি ( Electromagnetic (EM) wave frequencies ) -এর পরিমাপের একক । অর্থাৎ, 1 GHz এর মান = 1,000,000,000 Hz হবে. GHz সম্পর্কে প্রতিটা প্রসেসরের গায়েই লেখা থাকে। যেমন: 2.50 GHz, 3.70 GHz, 4.60 GHz, 5.00 GHz ইত্যাদি।

2

What is the Number Of Cores?

প্রসেসরের কার্য ক্ষমতাকে Core বলা হয়। অর্থাৎ, একসাথে কতগুলো কাজ করতে পারবে? ফর এক্সামপল, একটি বিল্ডিং নির্মাণ করতে০ জন শ্রমিকের যদি ৩০ দিন লাগে তবে ২০ জন শ্রমিকের কতদিন লাগবে? উত্তর অবশ্যই ৫ দিন। Core এর হিসেবটাও প্রায় এমনই। প্রসেসরের Core যত বেশী হবে কম্পিউটারের পারফর্মেন্স ততই ভালো হবে। কেননা, Core বেশী থাকার কারণে প্রসেসর দ্রুতই কাজ সম্পাদন করতে পারবে।

3

What is Cache Memory?

কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় মেমোরি হলো SSD বা SDD হার্ডড্রাইভ । তারপর হলো র‌্যাম। SSD বা SDD থেকে সরাসরি ডেটা প্রসেস করতে প্রসেসরের বেশ সময় লাগে। তাই প্রসেসিং-এর সময় কামানোর জন্য প্রসেসরে এক ধরণের মেমোরি যোগ করা হয়েছে। যার নাম Cache (ক্যাশ) মেমোরি। সাইজের দিক দিয়ে ক্যাশ মেমোরি খুবই ছোট্ট। তবে প্রসেসরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য এর ব্যবহার অতুলনীয়।

Cache মেমোরিতে এমন কিছু ডেটা ধারণ করা হয়, যা অল্প সময়ের ভেতর আমরা বারবার ব্যবহার করে থাকি। এই ডেটাগুলো প্রসেসর দ্বিতীয়বার নতুন করে প্রসেস করে না। ফলে পুরো প্রোগামের প্রসেসিং টাইম কমে আসে। তখন দ্রুতই ডেটা প্রসেস করতে সক্ষম হয়। প্রসেসরের ধরণ অনুযায়ী Cache মেমোরির সাইজ 6 MB, 8 MB, 10 MB, 16 MB, 32 MB ইত্যাদি হয়ে থাকে। প্রসেসরের Cache মেমোরি যত বেশী হবে প্রসেসর তত দ্রুতই কাজ করবে।

4

What is FSB?

FSB হলো Front Side Bus. অর্থাৎ, প্রসেসরের সাথে RAM কত দ্রুত ডেটা আদান প্রদান করতে পারছে। FSB যত ভালো হবে CPU তত দ্রুতই র‌্যাম, মাদারবোর্ড সহ অন্যান্য যন্ত্রের সাথে ডেটা আদান প্রদান করতে পারবে। বর্তমান বাজারে প্রচলিত প্রসেসর গুলোতে এখন আর FSB ব্যবহার করা হয় না। তবে FSB এর পরিবর্তে QPI ( Quick Path Interconnect ) ব্যবহার করা হয়। এটা FSB থেকে আরো আপডেট ও শক্তিশালী বটে।

প্রসেসর কি? কিভাবে কাজ করে? আশাকরি উত্তর পেয়েছেন।

আমাদের কথাঃ

ডিজিটাল ডিভাইসগুলো ক্রয় করার আগে ডিভাইসে ব্যবহৃত প্রসেসর সম্পর্কে জানুন। যদি পারেন তবে প্রসেসরের Clock Speed, Number Of Cores, Cache Memory, FSB সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্টফোন ইত্যাদি কেনার ক্ষেত্রে।

কারণ, প্রত্যেকটা ডিজিটাল ডিভাইস প্রসেসরের উপর ভিত্তি করেই তার শক্তিমত্তা ও কার্যকারীতা নির্ণয় হয়। তাই আপনি যদি এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানেন তবে আশা করা যায়, কারো হেল্প ছাড়াই ভালো মানের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব এবং স্মার্টফোন ইত্যাদি কেনার জন্য আপনিই যথেষ্ট হবেন ইনশাআল্লাহ।

আমি আশা করছি, প্রসেসর কি এবং প্রসেসর কিভাবে কাজ করে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।

➤ প্রসেসর সম্পর্কে আরো কিছু জানার থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ 

2 comments