র‌্যাম / RAM কি? র‌্যাম কিভাবে কাজ করে? 2021

র‌্যাম (RAM) কি? র‌্যাম কিভাবে কাজ করে?

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আমরা প্রায় সকলেই বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের সাথে সম্পৃক্ত। তারমধ্যে রয়েছে, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব, স্মার্টফোন ইত্যাদি। কার্য সম্পাদন করার জন্য এই ধরণের ডিভাইসগুলোতে রোম অর্থাৎ স্টোরির ব্যবহারের পাশাপাশি র‌্যাম (Ram) ব্যবহার করা হয়েছে। র‌্যাম ছাড়া এসব ডিভাইস গতিশীল থাকতে পারে না। অর্থাৎ, চলবেই না।

বুঝতেই পারছেন তাহলে একটি ডিজিটাল ডিভাইস গতিশীল করার জন্য র‌্যাম কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ। এই আর্টিকেল থেকে জানবো র‌্যাম / Ram কি এবং র‌্যাম কিভাবে কাজ করে? তার পাশাপাশি আপনার ডিজিটাল ডিভাইসটির জন্য কত জিবি র‌্যাম এর প্রয়োজন? চলুন জেনে নিই র‌্যাম এর আদ্যোপান্ত-

র‌্যাম RAM কি?

RAM এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Random Access Memory. সহজভাবে বলতে গেলে র‌্যাম হলো অস্থায়ী একটি মেমোরি। অর্থাৎ, কম্পিউটারে কোনো প্রোগ্রাম রান করার সময় RAM ব্যবহৃত হয়।

আপনি যখন আপনার কম্পিউটারে কোনো সফটয়্যার ইনিস্টল দেন তখন সেটা সরাসরি আপনার কম্পিউটার SDD / SSD বা Hard-dive এর মাঝে সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু যখন সেই সফটয়্যারটি ওপেন করেন, তখন সেই সফটয়্যারটির টেম্পোরারি ফাইলগুলো অটোমেটিক ভাবে RAM – এর মাধ্যমে প্রসেস হয়। সফটয়্যারটি ওপেন থাকা অবস্থায় সমস্ত প্রোগ্রাম RAM-এর সাহায্যেই সম্পূর্ণ হয়।

যদি আরো সহজভাবে বলি, ধরেন আপনার কম্পিউটারে কিছু ছবি আছে, এখন সেগুলোকে একটা মেমোরি বা পেনড্রাইভে নিতে চাচ্ছেন। তো এই কাজটি করার জন্য যখন আপনি কম্পিউটার থেকে ছবিগুলো কপি বা কাট করেন, তখন সেই ছবিগুলো অস্থায়ীভাবে RAM- এ এসে জমা হয়। তারপর কোনো ফোল্ডারে পেস্ট করার সাথে সাথেই র‌্যামে জমানো ছবিগুলো মেমোরি বা পেনড্রাইভে ট্রান্সফার হয় এবং RAM আবারো পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে। এভাবেই প্রত্যেকটা ডিজিটাল ডিভাইসে একই নিয়মে র‌্যাম কাজ করে।

RAM এর প্রকারভেদ

Ram কি এবং র‌্যাম কিভাবে কাজ করেবর্তমান বাজারে সাইজ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের RAM পাওয়া যায়। যেমন: 1 GB, 2 GB, 4 GB, 8 GB, 16 GB, 32 GB ইত্যাদি। এখন প্রশ্ন হতে পারে, আপনার ডিভাইসের জন্য কত জিবি র‌্যাম প্রয়োজন?

উদাহরণত: মনে করুন ২ জন ব্যক্তিকে বলা হলো একই টাইপের ২ টি কম্পিউটার টেবিল ভালো ভাবে গুছানোর জন্য। এখন উল্লেখিত ২ জন লোকের মাঝে একজনের একটি হাত, অপরজনের দুইটি হাত। আপনিই বলুন তো এই দুজন লোকের মাঝে কম্পিউটার টেবিলটি কে আগে গুছাতে পারবে? যার ২ হাত রয়েছে অবশ্যই  তিনিই বিজয়ী হবেন।

এখন যদি এমন যে, করো ৪ টি হাত থাকে তবে অবশ্যই ৪ হাত ওয়ালা লোকটি ২ হাত ওয়ালা লোকের চেয়েও দ্রুত গতিতে কম্পিউটার টেবিলটি গুছাতে সক্ষম হবে। আর এটাই স্বাভাবিক। ডিজিটাল ডিভাইসের র‌্যামগুলো প্রায় এভাবেই কাজ করে। অর্থাৎ, স্বাভাবিক ভাবে বলতে গেলে আপনার ডিভাইসে যত বেশী র‌্যাম থাকবে আপনার ডিভাইস তত দ্রুতই কাজ করতে সক্ষম হবে।

তবে এখানে আরো কিছু বিষয় রয়েছে। র‌্যাম বেশী হলেই যে কাঙ্খিত ডিভাইসে স্পিড বেশী পাবেন, এই বিষয়টা বেশকিছু জিনিসের উপর ভিত্তি করে নির্ণয় হয়। তারমধ্যে একটি হলো র‌্যাম টাইপ বা র‌্যাম ক্যাটাগরি। যেটাকে ইংরেজিতে ডিডিআর (DDR) বলা হয়।

RAM স্পিড হয় DDR এর ভিত্তিতে

বর্তমান বাজারে বেশী ব্যবহৃত হচ্ছে DDR 3 ও DDR 4. সাধারণ ইউজাররা এগুলোই বেশী ব্যবহার করে। এখন প্রশ্ন হতে পারে  DDR কি?

DDR-এর পূর্ণনাম হচ্ছে Double Data Rate. ধরুন DDR 1 র‌্যাম যদি প্রতি সেকেন্ডে একটি ডাটা ট্রান্সফার করে, তবে DDR 2 করবে দুটি। যথাক্রমে DDR 3 তিনটি, DDR 4 চারটি, DDR 5 পাঁচটি ইত্যাদি। মূলত এটিই হলো DDR-এর কাজ।

একটি র‌্যাম শুধু DDR এর ভিত্তিতেই স্পিড হয় না। এখানে বাস স্পিড (BUS Speed) হলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

BUS Speed | বাস স্পিড

Ram কি এবং র‌্যাম কিভাবে কাজ করে
Ram কি এবং র‌্যাম কিভাবে কাজ করে

প্রতিটি র‌্যাম এর মাঝে বাস স্পিড (BUS Speed) নামের একটি সিস্টেম থাকে। বাস স্পিড মূলত গতির কাজ করে। কম্পিউটারে যখন কোনো প্রোগাম ওপেন করা হয়, তখন সেই কম্পিউটারের র‌্যাম-এর বাস স্পিড অনুযায়ী প্রোগ্রামটি লোড হয়। অর্থাৎ, যে কম্পিউটারের র‌্যাম-এর বাস স্পিড যতবেশী, যে কম্পিউটারের প্রোগ্রাম তত দ্রুতই লোড হবে।

বাজারে বিভিন্ন প্রকারের BUS Speed-এর র‌্যাম পাওয়া যায়। যেমন: 1400 BUS, 1600 BUS, 2400 BUS, 3200 BUS স্পিড ইত্যাদি।

এখন যদি কেউ ভাবেন যে, ভালো DDR ও BUS Speed এর র‌্যাম হলেই তো কম্পিউটার অনেক স্পিড হবে। বিষয়টা আসলে এমন নয়। প্রত্যেকটা প্রসেসর এবং মাদারবোর্ড এর র‌্যাম ব্যবহারের জন্য একটি লিমিটেশন রয়েছে। অবশ্যই প্রসেসর ও মাদারবোর্ডে কত জিবি র‌্যাম এবং কোন টাইপের র‌্যাম সাপোর্ট করে এটা দেখতে হবে।

কেউ যদি DUAL-CORE প্রসেসরের সাথে DDR 4 ও 3200 BUS Speed-এর র‌্যাম ব্যবহার করতে চায়, তবে এটা কখনই সাপোর্ট নেবে না। কারণ, প্রত্যেকটা জিনিসেরই মেচিংয়ের একটা বিষয় আছে।

তবে হাাঁ, যদি আপনার প্রসেসর ও মাদারবোর্ডে বেশী DDR ও BUS Speed-এর র‌্যাম সাপোর্ট নেয়, তবে অবশ্যই বেশীটাই ইউজ করবেন।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

র‌্যাম হলো Random Access Memory. এটা প্রসেসর ভিত্তিক প্রত্যেকটা ডিজিটাল ডিভাইসের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি অংশ। এটা ছাড়া কম্পিউটার, স্মার্টফোনের মতো ডিজিটাল ডিভাইসগুলো চলবে না।

আপনি যখন এই ধরণের ডিজিটাল ডিভাইস ক্রয় করতে যাবেন, তখন অবশ্যই প্রসেসরের পর র‌্যাম সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবেন। যেই ডিভাইস এর প্রসেসর এবং র‌্যাম ভালো হবে সেই ডিভাইস অবশ্যই স্পিড অপটিমাইজ হবে। অর্থাৎ, দ্রুত কাজ করবে।

আমি আশা করছি RAM কি এবং র‌্যাম কিভাবে কাজ করে এই বিষয়ে অনেক কিছুই জানতে পেরেছেন। যদি এই বিষয়ে আরো কিছু জানার থাকে বা নিজস্ব মতামত থাকে, তবে অবশ্যই কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ

2 comments

  • ভাই আপনার লেখাগুলো ভালো লাগে। Motherboard নিয়ে রিভিউ চাই। গেমিংয়ের জন্য একটা ভালো Motherboard সাজেস্ট করুন প্লিজ।

    • ধন্যবাদ নিজস্ব মতামত প্রকাশের জন্য। ঠিক আছে। আমরা খুব শিঘ্রই আপডেট দিতে চেষ্টা করবো। সাথেই থাকৃুন