ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই

ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই | জেনে নিন উপায়

প্রযুক্তির কল্যাণে অনলাইন ইনকাম পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে ঘরে বসে আয় করার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়েছে। এর ফলে শিক্ষিত সমাজের অনেক বড় একটি অংশ অনলাইন ইনকাম এর সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে এবং তাদের ক্যারিয়ার গঠন ও জীবিকা অর্জনের পথ হিসেবে অনলাইনকেই বেছে নিয়েছে। এই বিষয়টিকে সামনে রেখে অনেকেই বলে ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই। কিন্তু ঘরে বসে টাকা আয় করার উপায় কী?

এই আর্টিকেলটি সাজানো হয়েছে বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়ে। বিশেষ করে “কিভাবে ঘরে বসে আয় করা যায়” এই প্রশ্নটি নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে। তাছাড়া, বাংলাদেশ থেকে আমাদের জন্য কোন কোন বিষয়ে ঘরে বসে টাকা আয় করার সুযোগ রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ আউনলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

এই পৃথিবীতে টাকার প্রয়োজন কার নেই! আমরা সকলে প্রতিনিয়তই টাকার পেছনে দৌঁড়াচ্ছি। কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করে টাকা আয় করে, আবার কেউ চাকরি ও দিনমজুরের কাজ করে টাকা আয় করে। দিনশেষে টাকার প্রয়োজন সবারই। যার হাজার টাকা আছে, সে লক্ষ টাকার স্বপ্ন দেখে, আর যার লক্ষ টাকা আছে সে কোটি টাকার স্বপ্ন দেখে। এটাই আমাদের বাস্তবতা।

পড়ার সাজেশনঃ
ওয়েবসাইট তৈরি করতে কি কি লাগে?
সেরা ০ টাকা ইনকাম করার ওয়েবসাইট

প্রযুক্তির কল্যাণে যেহেতেু ঘরে বসে অনলাইন থেকে ইনকাম করার সুযোগ রয়েছে, সেহেতু এই বিষয়টি আমাদের সকলের জানার প্রয়োজনবোধ করি।

ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই

এই আর্টিকেলে যেই বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে সেই বিষয় গুলোর উপর কাজ করে আপনি পৃথিবীর যে কোন প্রান্ত হতেই নিজ ঘরে বসে অনলাইন থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। চলুন এবার জেনে নিই ঘরে বসে আয় করার উপায় গুলো সম্পর্কে।

(১) ফ্রিল্যান্সিং করে আয়

’ফ্রিল্যান্সিং’ শব্দের সাথে ইতোমধ্যেই আপনারা হয়ত পরিচিত হয়েছেন। অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিউট এর ভাষ্যমতে সারাবিশ্বে ফ্রিল্যান্সিংয়ে ইন্ডিয়া প্রথম এবং বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

ফ্রিল্যান্সিং মানে মুক্ত পেশা। এই পেশাটি ইন্টারনেট ভিত্তিক হওয়ার সমাজের যে কোন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাময় কর্মক্ষেত্র।

বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্র অনেক কম। তাই অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণ-তরুণী বেকারত্বের বোঝা বহন করছে। কিন্তু আপনি কি জানেন, ইন্টারনেটে এত বেশী জব অপর্চুনিটি রয়েছে যা আমাদের দেশের বেকারত্ব রোধে যথেষ্ট! হ্যাঁ, সত্যিই বলছি।

ফ্রিল্যান্সিং এত বিশাল একটি অনলাইন ইন্ডাস্ট্রি যেখানে কোটি কোটি মানুষ কাজ করছে এবং কাজ করাচ্ছে। যারা বলেন ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই, তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং এর চেয়ে সম্ভাবনাময় অনলাইন চাকরিক্ষেত্র আর নেই।

ফ্রিল্যান্সিংকে আরো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন জেলা ও থানা শহরে সরকারি ভাবে ফ্রিল্যান্সিং কেন্দ্রিক কাজ শেখানো হচ্ছে। তাছাড়া, দেশের বিভিন্ন আইটি ফার্ম তাদের নিজস্ব উদ্যোগে নতুনদেরকে ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে ট্রেনিং দিচ্ছে।

পড়ার সাজেশনঃ
স্টুডেন্ট অনলাইন ইনকাম করার সেরা ৫ উপায়
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কি?

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিংয়ে আগ্রহী হন তবে যে কোন কাজে আপনাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে । অর্থাৎ, অনলাইনে চাহিদা আছে এমন কাজ শিখতে হবে। উদাহরণস্বরূপ ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ সমূহঃ

  • কম্পিউটার প্রোগ্রামিং
  • ওয়েব ডিজাইন
  • এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন)
  • গ্রাফিক ডিজাইন
  • মোশন গ্রাফিক্স
  • ভিডিও এডিটিং
  • কন্টেন্ট রাইটিং ইত্যাদি।

ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য এই ধরণের কাজ আপনি শিখতে পারেন। অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায়। সত্যি বলতে আমাদের সমাজ জীবনে ব্যবসা-বাণিজ্য করার জন্য যেই সমস্ত কাজ করি, তার সবই ফ্রিল্যান্সিং অর্থাৎ অনলাইনে করা যায়।

আপনি যদি মনে করেন যে ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই, তবে নির্দ্বীধায় ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে ঘরে বসে অনলাইনে চাকরি করার মতো একটি ব্যাপার।

ফ্রিল্যান্সিং কি এবং ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে করতে হয় তার উপর আমাদের একটি আর্টিকেল রয়েছে। সময় হলে পড়তে পারেনঃ ফ্রিল্যান্সিং কি?

(২) ই-কমার্স বা পণ্য বিক্রি করে আয়

অনলাইন ভিত্তিক যত ইনকাম পদ্ধতি রয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ই-কমার্স। এটা মূলত পণ্য বিক্রি করে আয় করার মাধ্যম। আপনি যদি বিক্রি করার মতো কোন পণ্য তৈরি করতে পারেন বা আপনার কাছে যদি এমন কোন পণ্য থাকে, তবে আপনি চাইলে ই-কমার্স পদ্ধতি ব্যবহার করে ঘরে বসেই টাকা আয় করতে পারবেন।

যেই বন্ধুরা বলেন ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই, তাদের জন্য ই-কমার্স হলো সবচেয়ে আধুনিক অনলাইন বাণিজ্য ক্ষেত্র। আপনি হয়ত অ্যমাজন.কম এর নাম শুনেছেন। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম অনলাইন ভিত্তিক খুচরা বিক্রেতা কোম্পানি। এই কোম্পানিটি ই-কমার্স পদ্ধতি ব্যবহার করে অনলাইনে বাণিজ্য পরিচালনা করছে।

পড়ার সাজেশনঃ
অনলাইনে ইনকাম বাংলাদেশী সাইট
ফ্রিল্যান্সিং কি হালাল নাকি হারাম?

বাংলাদেশেও এমন অগণিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আছে, যারা অনলাইন বাণিজ্যের মাধ্যমে ঘরে বসে আয় করছে। ই-কমার্স করার জন্য নিজস্ব ওয়েবসাইট বাধ্যতামূলত নয়। তবে নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকাটা ভালো।

ই-কমার্স বাণিজ্যটি মূলত একটি দোকানের মতো। হাট-বাজারে যেভাবে দোকান পরিচালনা করা হয়, ঠিক একই নিয়মে ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। তবে এর মধ্যকার ব্যবধান হলো ইন্টারনেট।

মজার বিষয় হলো, সামাজিকভাবে আমরা বাজারে যেই ধরণের দোকান দিই সে দোকানে উপস্থিত থেকেই ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়। আর অনলাইন ভিত্তিক ই-কমার্স ব্যবসাটি নিজ ঘরে বসেই পরিচালনা করতে পারবেন।

ই-কমার্স বাণিজ্যের জন্য পণ্য সংগ্রহ করাটা জরুরি। উদাহরণস্বরূপ কিছু পণ্যের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। বস্ত্রপণ্য যেমনঃ টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, টুপি, শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রি-পিচ ইত্যাদি। খাদ্যপণ্য যেমনঃ খেজুর, মধু, তেল, চাল, ডাল ইত্যাদি।

আপনি টাইলে ইলেক্ট্রনিক পণ্য দিয়েও ই-কমার্স ব্যবসা করতে পারেন। ইলেক্ট্রনিক পণ্য বলতেঃ কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ইত্যাদি।

আমাকে কেউ যদি প্রশ্ন করে ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই, উপায় কী? তবে আমি নির্দ্বীধায় ই-কমার্স বা পণ্য বিক্রি করে আয় করার কথা বলবো।

(৩) অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

প্রযুক্তির এই যুগে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড গুলো দ্রুততার সাথে ইন্টারনেট ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে। এখন প্রায় কোম্পানি বা পণ্য বিক্রেতা সংস্থাগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের ব্যবসায়িক প্রসার ঘটাচ্ছে। সেই সাথে তারা ডিজিটাল বাণিজ্যও পরিচালনা করছে। ডিজিটাল  বাণিজ্য বলতে সাধারণত ই-কমার্স বাণিজ্যকেই বুঝানো হয়।

আপনি যদি নিজে ই-কমার্স ব্যবসাটি না করতে পারেন, তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আপনার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বটে। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মূলত অন্যের পণ্য আপনি বিক্রি করে দেবেন এবং পণ্যের আসল মালিকের কাছ থেকে পারিশ্রমিক হিসেবে পণ্যের বিক্রয় মূল্য থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন পাবেন।

বিষয়টি আরো সহজ ভাবে বলা যাক। মনে করুন, অ্যামাজন.কম একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। তারা তাদের ব্যবসায়িক প্রচার বৃদ্ধি ও পণ্য বিক্রয়ের জন্য একটি অফার নিয়ে আসলো যে, অ্যামাজন.কম -এর সাধারণ ইউজার হিসেবে আপনি যদি অ্যামাজন থেকে একটি কম্পিউটার বিক্রি করে দিতে পারেন, তবে আপনাকে পারিশ্রমিক হিসেবে কম্পিউটারের বিক্রয় মূল্য হতে ০% টাকা দেওয়া হবে।

পড়ার সাজেশনঃ
লেখালেখি করে আয় 
কিভাবে ব্লগিং শুরু করবো?

এই যে আপনি কম্পিউটার বিক্রি করে দিয়ে পারিশ্রমিক হিসেবে ০% টাকা পেলেন, এটাই মূলত অ্যাফিলিয়েটে মার্কেটিং। বিশ্বব্যাপী অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর চাহিদা রয়েছে। বরং এর চাহিদা ক্রমাগতভাবে বেড়েই চলছে।

অতএব, যেই বন্ধুরা বলেন ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই, তারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংকে বেছে নিতে পারেন।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কত টাকা আয় করা যায়, তার কোন নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ নেই। আপনি যত বেশী পণ্য বিক্রয় করে দিতে পারবেন, ততই ইনকাম করার সুযোগ রয়েছে।

(৪) ব্লগিং করে আয়

অনলাইন ইনকাম এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টপিক হলো ব্লগিং। ব্লগিং মানে লেখালেখির পেশা। আমরা যারা অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চাই, তাদের প্রথমেই অনলাইন বিষয়টি বুঝতে হবে। তবেই ব্লগিং এর গুরুত্ব সহজেই বুঝতে পারবেন।

অনলাইন মূলত ইন্টারনেটের সাথে সম্পৃক্ত ওয়েবসাইট ভিত্তিক কর্মকাণ্ডকে বুঝানো হয়। ওয়েবসাইট ছাড়া অনলাইন বলতে কিছুই নেই। ইন্টারনেটের সাহায্যে অনলাইনে যা করা হয় সবই ওয়েবসাইটের আওতাধীন। একটি ওয়েবসাইট অনলাইনে টিকিয়ে রাখার জন্য ব্লগিং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় সব ধরণের ওয়েবসাইটে ব্লগিং সিস্টেম রয়েছে। যাইহোক,

যারা বলেন ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই, তাদের জন্য ব্লগিং হতে পারে সর্বপ্রথম চয়েজ। কেননা, ব্লগিং থেকে আপনি আজীবন ঘরে বসে আয় করতে পারবেন।

ব্লগিং করার জন্য আপনার একটি পার্সোনাল ওয়েবসাইট এর প্রয়োজন হবে। যেই ওয়েবসাইটটি তৈরি করতে মোটামুটি ভাবে ৭,০০০/- থেকে ৮,০০০/- টাকা খরচ হতে পারে।

ব্লগিং করে আয় করার জন্য আপনাকে নিয়মিত আপনার ব্লগ ওয়েবসাইটে লেখালেখি করতে হবে। একটি পার্সোনাল ব্লগ ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন উপায়ে ইনকাম করা যায়। উদাহরণস্বরূপঃ

  • স্পন্সর।
  • গুগল এডসেন্স।
  • অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং।
  • গেস্ট পোস্টিং ইত্যাদি।

ব্লগিং করার জন্য আগ্রহ, আবেগ ও আত্মবিশ্বাস এর প্রয়োজন। ব্লগিং করে আয় করার বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যেই আর্টিকেল পাবলিশ করেছি। ব্লগিং সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পড়ুনঃ ব্লগ থেকে আয় বা লেখালেখি করে আয়। 

(৫) ইউটিউবিং করে আয়

ইউটিউব থেকে আয় করা যায় এই বিষয়টি সকলের জানা। ঘরে বসে আয় করার জন্য ইউটিউব বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি কর্মক্ষেত্র হতে পারে।

ইউটিউব থেকে বিভিন্ন উপায়ে আয় করা যায়। তারমধ্যে জনপ্রিয় আয়ের পদ্ধতিগুলো হলোঃ

  • অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম
  • স্পন্সর বা রিভিউ
  • সার্ভিস অফার করে
  • গুগল এডসেন্স ইত্যাদি।

ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য তাদের প্লাটফর্মে আপনাকে একটি চ্যানেল খুলতে হবে। তারপর সেই চ্যানেলে আপনার তৈরি ভিডিওগুলো পাবলিশ করতে হবে।

ইউটিউবে গুগল এডসেন্স থেকে আয় করার জন্য উক্ত প্লাটফর্মের কিছু রুলস আপনাকে ফলো করতে হবে। যেমনঃ সর্বশেষ ২ মাসে হাজার সাবস্ক্রাইব ও ২ লক্ষ ৪০ হাজার মিনিট ওয়াচ টাইম পূরণ করতে হবে।

পড়ার সাজেশনঃ
ফেসবুকে কিভাবে টাকা আয় করা যায়?
ইউটিউব নিশ আইডিয়া | ভিডিওর সেরা টপিক চয়ন করুন

আর বাকি ইনকাম পদ্ধতি গুলো ইউটিউবে প্রবেশ করার সাথে সাথেই শুরু করতে পারবেন। তবে স্পন্সর বা রিভিউ করে ইনকাম করা অনেকটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কেননা, ছোট চ্যানেলে সহজেই কেউ স্পন্সর করবেনা। যদি কেউ স্পন্সর করে তবে শুরু থেকেই ইনকাম করতে পারবেন।

যাইহোক, আপনি যদি মনে করেন ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই, তবে ইউটিউবকে আপনার কর্মক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। বাংলাদেশে অগণিত সফল ইউটিউবার আছে, যারা ঘরে বসেই ইউটিউব থেকে মাসে হাজার ডলার আয় করছে।

ইউটিউব থেকে কিভাবে আয় করা যায় তার উপর আমাদের একটি আর্টিকেল রয়েছে। সুযোগ হলে পড়ে নিতে পারেনঃ ইউটিউব থেকে আয় করার নিয়ম

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

ইন্টারনেট থেকে করার জন্য আপনাকে কোনোনা কোন কাজ শিক্ষা করতেই হবে। ঘবে বসে ইনকাম করার মানে এইনা যে, কাজ না করেও আপনাকে কেউ টাকা দেবে। বাস্তব জীবনে আমরা যেভাবে একে অপরের কাজ করে অর্থ উপার্জন করি, ঠিক একই ভাবে অনলাইন থেকে আয় করতে হয়।

কাজ যেহেতু অনলাইনে করতে হবে, সেহেতু কম্পিউটার কেন্দ্রিক কাজ শিক্ষা করতে হবে। এখানে বিল্ডিং তৈরির শ্রমিক হিসেবে কেউ কাজ দেবেনা। কম্পিউটারে করা যায় এমন কাজই শিখতে হবে।

আমার এলাকার দুই ছোট ভাই আমাকে প্রায় সময় বলত, ভাইয়া আমরা ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই। আমাদের কাজ শেখাবেন কি? আমরা ফ্রিল্যান্সিং শিখতে চাই। তারা এভাবে প্রায় আমাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করতো। তারপর কিছুদিন আগে ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য তাদেরকে গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখালাম।

আসলে এটা বলার কারণ হলো, অনেকেই বলে ভাই “ফ্রিল্যান্সিং শিখতে চাই।” আসলে ফ্রিল্যান্সিং শেখা খুব জটিল কিছু না। ফ্রিল্যান্সিং হলো বুঝার বিষয়। আর ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য অন্য কোন কাজ শিখতে হয়।

যাইহোক, সকল বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলবো, যারা বলেন ঘরে বসে টাকা আয় করতে চাই, তাদের জন্য আশাকরি আমাদের এই গাইড অত্যন্ত ফলদায়ক হবে। আপনি যদি উল্লেখিত বিষয় গুলোর যে কোনটা ফলো করেন, তবে আপনিও ঘরে বসে আয় করতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

Add comment

error: Content is protected !!