কম্পিউটার ফাস্ট করার উপায়

কম্পিউটার স্লো? কিভাবে ফাস্ট করতে হয় জেনে নিন!

কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের অনেকের অনেক অভিযোগ। কম্পিউটার স্লো! কাজ করতে পারি না। প্রায় সময়েই কম্পিউটার হ্যাং করে। আবার সব ধরণের সফটওয়্যারে কাজ করা যায় না। এমন আরো বিভিন্ন অভিযোগ ‘আইটি নির্মাণ’ পারিবারের কাছে প্রায়ই আসে। তাই আজ আলোচনা করবো কিভাবে কম্পিউটারকে রকেট গতি করবেন !

রকেট গতি!! অনেক বেশিই বলে ফেললাম হয়তো। তবে একথা সত্য যে, আজ যে টিপসগুলো দেখাবো সেগুলো নিয়মিত ব্যবহার করে কম্পিউটার বা ল্যাপটপে নতুন একটা স্পীড দেখতে পাবেন। টিপসগুলো জানতে পুরোটা লেখা মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

চলুন জেনে নিই কম্পিউটার স্লো হওয়ার বিশেষ ১০ টি কারণ

১ | কনফিগারেশন। আপনার কম্পিউটারের কনফিগারেশন কি? প্রথমেই এটার প্রতি লক্ষ্য করুন। বর্তমান টেকনোলজি আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। টেকনোলোজি প্রতিনিয়তই আপডেট হচ্ছে, হতেই থাকবে। পূর্বে যে টেকনোলজি ব্যবহার করে সফটওয়্যার তৈরি করা হতো, বর্তমান টেকনোলজির কাছে তা খুবই নগণ্য। অর্থাৎ, পূর্বের টেকনোলোজির কম্পিউটারগুলোতে যে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়েছে তা বর্তমান টেকনোলোজির কম্পিউটারে স্মুথলি চলবে না।

সবকিছুরই একটা মেচিং পদ্ধতি বা মিলন নীতি আছে। ফর এক্সামপল: একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু বাচ্চার কিডনি দিয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের কিডনির অভাব পূরণ করা যাবে না। যদিও তা মেডিক্যাল পদ্ধতিতে লাগানো সম্ভব। সব ক্ষেত্রেই যেকোনো কাজের সঠিক ব্যবহার প্রয়োজন। টেকনোলজির ব্যবহার প্রায় এমনই। কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারে আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহারের পাশাপাশি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমকেও আগের চেয়ে অনেক ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হয়েছে। ফিচার আপডেট হয়েছে। নতুন ফাংশন যোগ হয়েছে।

তাই বর্তমান টেকলোজির কম্পিউটারকে স্মুথলি ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন একটি ভালো কনফিগারেশনের কম্পিউটার বা ল্যাপটপ। আপনি Dual Core / Core i3 / Core i5 / Core i7 / Core i9 এর মধ্য হতে কোন সিরিজের প্রসেসরটি ব্যবহার করছেন? আপনি যদি Dual Core প্রসেসরের কোনো ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহার করে Core i5, Core i7 এর পার্ফর্মেন্স আশা করেন তবে সেটা ভুল হবে। কম্পিউটান স্লো হওয়ার প্রথম কারণ এটিই। সর্ব প্রথমেই ভালো একটা কনফিগারেশনের Computer / Laptop বেছে নিন।

কম্পিউটার স্লো

২ |জেনারেশন। প্রসেসর বেছে নেওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রসেসর জেনারেশন। Dual Core ব্যতীত  প্রত্যেকটা প্রসেসরের আলাদা আলাদা জেনারেশন আছে। ফর এক্সামপল: Core i3 সিরিজের একটি প্রসেসর 3 generation / 4 generation / 6 generation / 8 generation ইত্যাদি হয়ে থাকে। এভাবে প্রতিটি প্রসেসরের সিরিজ জেনারেশন আছে। যত উপরে যাবেন ততই ভালো হবে।

>> প্রসেসর সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।

৩ | র‌্যাম। ভালো কনফিগারেশনের পর যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে Ram. বাজারে বিভিন্ন ধরণের Ram পাওয়া যায়। যে কোনো কোম্পানির Ram ব্যবহার করতে পারেন, সমস্যা নেই। তবে সবসময় ভালোটাই বেছে নিতে চেষ্টা করবেন। টেকনোলোজি আপডেটের সাথে সাথে সব ধরণের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম আপডেট হয়েছে।

আর তাই সব উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমকে ভালো করে রান করার জন্য প্রায় 1/2 GB Ram প্রয়োজন। যাদের কম্পিউটারে র‌্যাম ২ জিবির কম তারা অবশ্যই র‌্যাম আপডেট করতে চেষ্টা করবেন। কেননা, উইন্ডোজ রান হতেই যদি 1/2 জিবি র‌্যাম ইউজ হয়ে যায়, তবে বাকি সফটওয়্যার কোথায় রান করাবেন? এজন্য অবশ্যই কমপক্ষে 4 GB Ram ব্যবহার করবেন। বাজেট থাকলে 8/16 GB Ram ব্যবহার করতে পারেন।

>> RAM সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানুন।

৪ | সফটওয়্যার। দৈনন্দন কাজের চাহিদা মেটাতে কম্পিউটারে বিভিন্ন সফটওয়্যার ইনিস্টল করতে হয়। আমরা অনেকেই আছি, কম্পিউটারের পুরো স্কিনজুড়ে বিভিন্ন সফটওয়্যার অযথাই ইনিস্টল করে রাখি। এটা কম্পিউটারকে স্লো করে দেওয়ার একটি কারণ। অপ্রয়োজনীয় সকল সফটওয়্যার সিমেস্টম থেকে রিমুভ করে দিতে হবে। আপারেটিং সিস্টেমে সফটওয়্যার যত কম থাকবে কম্পিউটার ততই স্পীড থাকবে।

৫ | সফটওয়্যার ডাউনলোডের ক্ষেত্রে সচেতনতা।  অচেনা ওয়েবসাইট থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করা খুবই অপন্দনীয়। কোনো অচেনা ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা সফটওয়্যার আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ইনিস্টল দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। যে কোনো ওয়েবসাইট থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করার আগে সাইট সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিন। কারণ, অনেক ওয়েবসাইট আছে যেগুলো হ্যাকার কর্তৃক পরিচালিত।

হ্যকার বা স্প্যামাররা প্রায় সময় বিভিন্ন সফটওয়্যারে মালওয়্যার বা ভাইরাস মিশিয়ে দেয়। আপনি যখন তাদের ওয়েবসাইট থেকে কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করেন তখন সেইসাথে ভাইরাস গুলোও সফটওয়্যারের সাথে সাথে ডাউনলোড হয়। আর এই ভাইরাস বা মালওয়্যার আপনার কম্পিউটারের অপারেটিং সিটেমে প্রবেশ করে। এভাবে এজন সাধারণ ইউজার অনেক ভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

>> ভাইরাস মুক্ত সফটওয়্যার ডাউনলোড করার বেস্ট ওয়েবসাইট।

৬ | হার্ডডিস্ক। হার্ডডিস্ক কম্পিউটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যার। বাজারে অনেক ধরণের হার্ডডিস্ক পাওয়া যায়। পছন্দ অনুযায়ী হার্ডডিস্ক বেছে নেবেন। তবে আমাদের মাঝে এমনও কম্পিউটার ব্যবহারকারী আছে যাদের হার্ডডিস্ক অত্যন্ত দুর্বল। ক্রয় করার সময় ভালোটা সিলেক্ট করতে পারেনি। তাদের কম্পিউটার স্লো করবে বা হ্যাং হবে এটাই নিয়ম। সবাই চেষ্টা করবেন, ব্র্যান্ডেও হার্ডডিস্কগুলো ব্যবহার করার জন্য। যে কোনো ব্র্যান্ড হতে পারে।

ভালো ব্র্যান্ডের হার্ডডিস্ক গুলোতে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম স্মুথলি রান হতে পারে। তাই পারফরমেন্স ভালো পাওয়া যায়। যদি এর চেয়ে আরো ভালো পার্ফরমেন্স চান, তবে অপারেটিং সিস্টেমের জন্য SSD ব্যবহার করতে পারেন। যা সাধারণ হার্ডডিস্কের চেয়ে ভালো এবং SSD হার্ডডিস্কগুলো নরমাল হার্ডডিস্ক অপেক্ষা অনেক ভালো পার্ফর্মেন্স দেয়। তবে নরমাল হার্ডডিস্কের তুলনায় SSD হার্ডডিস্কের দামও একটু বেশি। বাজেট থাকলে অবশ্যই SSD হার্ডডিস্ক বেছে নিবেন।

স্লো কম্পিউটার ফাস্ট করার উপায়

৭ | উইন্ডোজ। উইন্ডোজ হলো কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম। উইন্ডোজকে সর্বদায় ভাইরাস মুক্ত রাখতে চেষ্টা করতে হবে। বিশেষ করে সবসময় আপডেট রাখবে হবে। যখনই কম্পিউটার খুব স্লো বা হ্যাং হতে দেখা যাবে, দেরি না করে তখনই নতুন উইন্ডোজ দিতে চেষ্টা করবেন।

৮ | এন্টিভাইরাস। ভাইরাস একটি ক্ষতিকর জিনিস। যদি কখনো কম্পিউটারে ভাইরাস প্রবেশ করে তবে কম্পিউটার অনেক স্লো হয়ে যায়। আবার অনেক সময় ভাইরাসের আক্রমণে কম্পিউটারের বিভিন্ন ক্ষতি হয়ে যায়। কম্পিউটারকে বিভিন্ন অনিষ্ট থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এন্টিভাইরাস ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত এন্টিভাইরাস দিয়ে কম্পিউটারকে স্ক্যান করা প্রয়োজন। নিয়মিত না পারলে অন্তত সাপ্তাহে একদির এন্টিভাইস দিয়ে কম্পিউটার স্ক্যান করতে হবে। তাছাড়া নিয়মিত উইন্ডোজের Temp File বা শর্টকাট ফাইলগুলো ডিলেট করতে হবে।

>> কম্পিউটারের সেরা ৪ টি এন্টিভাইরাস ২০২০

৯ | হার্ডডিস্ক স্পেস। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম রান হওয়ার স্পেসটা অন্যকিছু দিয়ে ভরাট করে রাখে। এটা কম্পিউটার স্লো হয়ে যাওয়ান অনন্য কারণ। সকলেই জানি, সাধারণত সকল উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ‘সি ড্রাইভে’ রান হয়। তাই ‘সি ড্রাইভকে’ সবসময় ফাকা রাখতে হবে।

কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের মাঝে খুব বেশি পার্টিশন করা। এটাও কম্পিউটারকে স্লো করে তুলে। একটি হার্ডডিস্কে ২ টি পার্টিশনই যথেষ্ট। তবে তিনটা পার্টিশনের বেশি কখনই করবেন না। কখনই কম্পিউটারের হার্ডডিস্ককে অপ্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ভরাট করবেন না। তাহলে কম্পিউটারে কোনো সফটয়্যার বা কোনো প্রোগ্রাম রান হতে বেশি সময় নেবে না। তাছাড়া কম্পিউটার যথেষ্ট পরিমাণ ফাস্ট থাকবে।

১০ | অতিরিক্ত প্রোগ্রাম একসাথে রান করা। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল কাজ। প্রতিটি প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার রান হতে কম্পিউটোরের হার্ডডিস্ক ও র‌্যাম থেকে স্পেস দখল করে। একসাথে অনেকগুলো প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার রান করার কারণে কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়। তাই এই বিষয়গুলোর দিকে অবশ্যই ‍দৃষ্টি দিতে হবে।

এখন দেখবো রকেট গতি করার কিছু গোপন টিপস!

কম্পিউটার স্পিড করার নিয়ম

Step No 1 :  প্রথমেই আপনার কীবোর্ড থেকে Windows + R বাটনটি একসাথে ছাপুন। অথবা Start Menu তে গিয়ে Run Option চালু করুন। Run অপশনটি চালু হলে Tree লিখে Enter বাটন ছাপুন। তাহলে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সকল ওপেন ফাইল বা সফটয়্যার অটোমেটিক রিফ্লেস হবে। এভাবে তিন থেকে চারবার করুন।

কম্পিউটারে কাজ করাকালীন কম্পিউটার স্লো মনে হলেই এটা করবেন। যে কোনো সময় এটা করা যাবে। এটা করলে কম্পিউটারের উইন্ডোজ প্রোগ্রামের যে কোডগুলো স্লো হয়ে যায় তা আবারো আগের মতো কাজ করে। ফলে কম্পিউটার পুণরাই ফাস্ট হয়ে যায়।

Step No 2 : পূণরায় কিবোর্ড থেকে Windows + R বাটন একসাথে ছাপুন। অথবা Start Menu তে গিয়ে Run Option চালু করুন। তারপর লিখুন Temp এবং Enter বাটনে ছাপুন। Enter বাটনে ছাপার পর নতুন একটি উইন্ডো চালু হবে। তারপর Ctrl + A বাটনটি একসাথে ছাপুন বা মাউজের কার্জার দিয়ে সবগুলো টেম্প ফাইলকে সিলেক্ট করে নিন এবং নির্দ্বীধায় সবগুলো টেম্প ফাইল ডিলেট করে দিন।

Step No 3 :তারপর আবারও Windows + R বাটন একসাথে ছাপুন। Run অপশন চালু হলে %Temp% লিখুন। তারপর আগের মতই সবগুলো টেম্প ফাইল সিলেক্ট করে ডিলেট করে দিন।

Step No 4 : Windows + R বাটন একসাথে ছেপে Run Option চালু করুন। তারপর লিখুন Help এবং Enter বাটনে ছাপুন। এটা প্রায় Tree -এর মতই। এটা করার ফলে উইন্ডোজে থাকা সাধারণ সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

Step No 5 : আবারো Windows + R বাটন একসাথে ছেপে  বা Start Menu থেকে Run অপশন চালু করুন।  তারপর Recent লিখে Enter বাটনে ছাপুন। এবার জমে থাকা সবগুলো Recen ফাইল Ctrl +A দিয়ে সিলেক্ট করে ডিলেট করে দিন।

Step No 6 : পূণরায় Run অপশন চালু করে Prefetch লিখে Enter বাটনে ছাপুন। নতুন একটি উইন্ডো ওপেন হবে। আগের মতই সবগুলো Prefetch ফাইল Ctrl +A দিয়ে সিলেক্ট করে ডিলেট করে দিন।

এখন অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে,  এতোগুলো ফাইল এভাবে ডিলেট করার কথা বলছি। সেগুলো ডিলেট করলে প্রয়োজনীয় কোনকিছু ডিলেট হয়ে যাবে? উত্তর: না। যেগুলো ডিলেট করার কথা বলছি, ওগুলো আপনার প্রয়োজনীয় কিছু না। এগুলো হচ্ছে উইন্ডোজের শর্টকাট ভাইরাস। যা আপনার কম্পিউটারকে প্রতিনিয়ত স্লো করে রাখে। তাই নিয়মিত এই টিপসগুলো ফলো করবেন।

আপনি যদি নিয়মিত এই টিপসগুলো ফলো করেন তবে আশাকরি কম্পিউটারের নতুন একটি স্পীড দেখতে পারবেন ইনশাআল্লাহ্ । এই টিপসগুলো কেবলমাত্র উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে কাজ করবে। লিনাক্স ও মেক কম্পিউটারের জন্য পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

=====>> এই বিষয়ে আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে কমেন্টে জানান। ধন্যবাদ।

Add comment