দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ১০টি ব্যবহার

দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ১০টি ব্যবহার

ইন্টারনেট বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সম্ভবনাময় একটি প্রযুক্তি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি অঙ্গনেই ইন্টারনেট অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ইন্টারনেটের ০টি ব্যবহার নিয়েই আজকের আলোচনা।

ইন্টারনেটের প্রথম যাত্রা শুরু হয় 1960 সালে। এর পর থেকেই মানুষের জীবনের বিভিন্ন কাজে ইন্টারনেট অবদান রাখতে শুরু করে। প্রযুক্তিকে এতদূর এগিয়ে নিয়ে আসার পেছনে ইন্টারনেটের অবদান অনস্বীকার্য।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির একমাত্র অবলম্বন হলো ইন্টারনেট ব্যবস্থাপনা। বর্তমান সময়ে আমরা প্রায় সকলেই ইন্টারনেট প্রযুক্তির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি।

আমরা অনেকেই দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে, গবেষণা ক্ষেত্রে, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং  চিকিৎসা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার করছি।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। ২০২২ সালে আসার পর আমরা প্রায় সকলেই ইন্টারনেটের বিভিন্ন সুবিধা উপভোগ করছি।

ইন্টারনেট এর ব্যবহার আমাদেরকে কিভাবে জীবন যাত্রায় সুবিধা ও সহজলভ্যতা এনে দিয়েছে চলুন তার বিস্তারিত জেনে নিই।

ইন্টারনেটের ১০টি ব্যবহার

আমরা প্রায় প্রত্যেকেই ইন্টারনেট (Internet) ব্যবহার করি। দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে ইন্টারনেটের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে অবশ্যই ইন্টারনেটকে ভালো এবং উপযুক্ত কাজে ব্যবহার করতে হবে।

ইন্টারনেটের ০ টি ব্যবহার আমাদেরকে বিশেষ ভাবে প্রভাবিত করে এবং প্রত্যেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের জীবনে ইন্টারনেটের এই দশটি ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

১. দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার

সামাজের প্রায় সকলেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এখানে শুধুমাত্র একটি ডেডিকেটেড শ্রেণী-পেশার মানুষকে চিহ্নিত করা যাবে না। শিক্ষক, ছাত্র, ব্যবসায়ী, পেশাজীবি, দিনমজুর প্রায় সকলেই ইন্টারনেটের ব্যবহারকারী।

দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানে ইন্টারনেটের ভূমিকা রয়েছে। এজন্য ইন্টারনেট এর ব্যবহার আমাদের প্রায় সকলকেই বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করে। ইন্টানেট world wide network হওয়ায় পৃথিবীতে প্রায় ৩ বিলিয়ন মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।

ইন্টারনেট ব্যবহারে শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে China, India এবং United states. বাংলাদেশ একটি ঘনবসতি দেশ হওয়ায় ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশের অবস্থানও শীর্ষ দেশ গুলোর তালিকায় রয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারে সমাজের প্রায় সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ যেই সুবিধা গুলো পেয়ে থাকে, তারমধ্যে রয়েছে ইন্টারনেট ভিত্তিক সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা সোশ্যাল প্লাটফর্ম। যেমন, ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটস্যাপ, উইচ্যাট ইত্যাদি।

বিনোদন এবং বিভিন্ন বিষয় জানার জন্যে রয়েছে YouTube, Dailymotion,Vimeo এবং Facebook ইত্যাদি।

এগুলো ছাড়াও, ইমেইল, বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন, গুগল ম্যাপ, প্লেস্টোর, গেম ইত্যাদির মতো ইন্টারনেট ভিত্তিক বিভিন্ন পরিসেবা আমরা প্রায় সকলেই ব্যবহার করে থাকি।

বাংলাদেশী হিসেবে অনলাইনে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ, ন্যাশানাল আইডি কার্ড, ই-পাসপোর্ট, মৌজা ও অনলাইনে জমির মালিকানা যাচাই করা থেকে শুরু করে পরীক্ষার রেজাল্টও ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেখতে পারি।

২. শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহার

বর্তমান সময়ে শিক্ষা জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার অপরিহার্য একটি বিষয়। কেননা, ইন্টারনেট হলো সবচেয়ে বড় তথ্য ভাণ্ডার। মূহুর্তের মধ্যেই শিক্ষা সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য ইন্টারনেট থেকে জেনে নেওয়া যায়।

ইন্টারনেটের তথ্য ভাণ্ডার এতটাই বিশাল যে, শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়; আপনি চাইলে যে কোনো বিষয়ের জ্ঞান ইন্টারনেট থেকে জেনে নিতে পারবেন।

করোনা মহামারির কারণে ২ বছরের বেশী সময় ধরে আমরা আমাদের বিদ্যালয়ে যেতে পারিনি। শিক্ষা জীবন থেকে প্রায় ২ বছর হারিয়ে গেছে। আর এই সময়টাতে শিক্ষা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহারের গুরুত্বটা প্রায় সকলেই বুঝেছি।

শুধুমাত্র কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই ইন্টারনেটের ব্যবহার সীমিত নেই। বরং বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয়েছে।

৩. চিকিৎসা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার

চিকিৎসা ক্ষেত্রেও ইন্টারনেটের বিশেষ অবদান রয়েছে। সারাবিশ্বে প্রতিনিয়তই মানুষ অসুস্থ হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ ও দক্ষ ডাক্তারের পরামর্শ পাওয়ার সবচেয়ে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা হলো ইন্টারনেট।

বর্তমানে চিকিৎসা পদ্ধতিতে কঠিন সমস্যাগুলো মূলত প্রযুক্তিগত কৌশলে সমাধান করা হয়। আর এখানে ইন্টারনেটের ব্যবহার অপরিহার্য বিষয়।

৪. পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ইন্টারনেটের ব্যবহার

প্রযুক্তির এই যুগে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ইন্টারনেটের ব্যবহারকে অপরিহার্য বলা যায়। এখন যে কোনো ধরণের চাকরি ক্ষেত্রেই কম্পিউটার শিক্ষার গুরুত্ব রয়েছে। আপনি কখনই ইন্টারনেটকে বাদ দিয়ে কম্পিউটার শিক্ষায় নিজেকে খুব বেশী এগিয়ে নিতে পারবেন না।

ইন্টারনেট এমন একটি প্রযুক্তি, আপনি চাইলেই যে কোনো বিষয়ের উপর নিজের দক্ষতা বাড়াতে ইন্টানেটের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন।

৫. ইতিহাসের তথ্য সংগ্রহে ইন্টারনেটের ব্যবহারের সুবিধা

পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া গঠনা ও রহস্যের নাম ইতিহাস। ইতিহাসেরও ইতিহাস রয়েছে। পৃথিবীতে এত বেশী ইতিহাস আছে, যা কখনই একত্রকরণ করে কোনো বইয়ের পাতায় ছাপিয়ে একটি সংরক্ষণাগারে সংরক্ষণ করা সম্ভব না।

তবে ইন্টারনেট এমন এক প্রযুক্তি, যেখানে পৃথিবীর সকল ইতিহাস সংরক্ষণ রয়েছে। ইতিহাস সংরক্ষেণের জন্য লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিনিয়তই কাজ করছে।

ইন্টারনেট যে কত বড় ডিজিটাল তথ্য ভাণ্ডার তা অনেকে কল্পনাও করতে পারবে না। এজন্য ইন্টারনেটকে তথ্যের সমুদ্র বলা হয়। ইন্টারনেটে প্রায় সব ধরণের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে এবং যে কোনো সময় এই তথ্যগুলো সহজেই খুঁজে বের করা যায়।

৬. গবেষণায় ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার

গবেষণা এমন একটি বিষয়, যা নতুন সৃষ্টির দিকে মানুষকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে এবং সেইসাথে জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে। ইন্টারনেট প্রযুক্তি মানুষের গবেষণাকে অনেক দূর নিয়ে গেছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে বসেই মহাকাশের সরাসরি বিভিন্ন ফুটেজ ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেখতে পারি। আবার দুর্গম মরু, জঙ্গল এবং সমুদ্র পৃষ্ঠের বিভিন্ন ফুটেজ স্যাটেলাইটের সাহায্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেখতে পারি। এগুলো ইন্টারনেটের বিশেষ এক অবদান।

গবেষণা ক্ষেত্রকে ইন্টারনেট এত বেশী সমৃদ্ধ করেছে যে, প্রযুক্তির এমন যুগন্তকারী আবিস্কার খুব কমই আছে।

৭. যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইন্টারনেটের ব্যবহার

ডিজিটাল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিষয়টি অনেকটা ইন্টারনেট কেন্দ্রিক। আমরা সাধারণত Email, Facebook, Twitter, WhatsApp এবং imo ইত্যাদির মতো সফট্যারের সাহায্যে পরস্পরে মধ্যে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করি।

এই ধরণের সফটওয়্যারগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমেই ডেটা আদান- প্রদান করে।

শুধু তাই নয়, আমরা যখন পরস্পরের ডিভাইসকে একটির সাথে আরেকটি কানেক্ট করি তখন মূলত ইন্টারনেটের মাধ্যমেই এটি কানেক্ট হয়।

৮. ব্যবসা -বাণিজ্য ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার

প্রযুক্তির অগ্রগতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য এখন ইন্টারনেটে কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। দিন যত পার হচ্ছে ইন্টারনেট কেন্দ্রিক ব্যবসার চাহিদা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমানে ডিজিটাল বাণিজ্যের জোয়ার চলছে। অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যকে ই-কমার্স বলা হয়। ই-কমার্সের মাধ্যমে নিজ ঘরে বসেই পণ্য ক্রয় -বিক্রয় করা যায়।

এই বিষয়টি মানুষের জীবনে এক নতুনত্ব এনে দিয়েছে। তাছাড়া, ঘরে বসেই ই-কমার্স পদ্ধতিতে পণ্য ক্রয় -বিক্রয়ের বিষয়টা মানুষকে ক্যারিয়ার গঠনে অনেক সুবিধা তৈরি করে দিয়েছে।

তাছাড়া, বাণিজ্যের গতানুগতিক মার্কেটিং থেকে ডিজিটাল মার্কেটিং অনেক সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য হওয়ার দরুণ সকলেই ইন্টারনেট কেন্দ্রিক বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকছে।

৯. রেমিটেন্স খাতে ইন্টারনেটের ব্যবহার

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিটেন্সের প্রভাব রয়েছে। রেমিটেন্স (Remittance) বলতে বিদেশী মুদ্রা দেশীয় অর্থনীতিতে যুক্ত হওয়া। অর্থাৎ, প্রবাসী এবং ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে অন্য দেশ থেকে বাংলাদেশে যে পরিমাণ অর্থ আসে তাই মূলত রেমিটেন্স।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে রেমিটেন্স আসে ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে। শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে অর্থ উপার্জন করাকেই ফ্রিল্যান্সিং বলে না। বরং অনলাইনে কাজ করে অর্থ উপার্জন করার মানেই হলো ফ্রিল্যান্সিং। এখানে ব্লগিং, ইউটিউবিং, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংও থাকতে পারে।

প্রবাসী এবং ফ্রিল্যান্সারদের সম্মানে তাদেরকে “রেমিটেন্স যোদ্ধা” বলা হয়। প্রতি বছর মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিটেন্স (Remittance) হিসেবে যুক্ত হয়। আর এই রেমিটেন্সের অনেকটা আসে ইন্টারনেট ভিত্তিক কাজের মাধ্যমে।

০. প্রতিভা বিকাশে ইন্টারনেটের ব্যবহার

প্রত্যেক মানুষের মাঝেই কিছু গুপ্ত প্রতিভা রয়েছে। চক্ষু লজ্জার কারণে সচারাচর খুব কম মানুষই তা প্রকাশ করে। তবে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করার কারণে মানুষ চক্ষু লজ্জাকে অনেকটা জয় করে নিতে সক্ষম হয়েছে।

অনেক মানুষ আছে স্বভাবতই খুব ভালো লিখতে জানে, আর্ট করতে জানে, মোটিভেশন করতে জানে, গুছিয়ে কথা বলতে জানে, নতুন নতুন আবিস্কারের ধারণা দিতে জানে। কিন্তু তারা স্বশরীরে মানুষের সামনে চক্ষু লজ্জার কারণে এসব প্রতিভা প্রকাশ করে না।

কিন্তু ইন্টারনেট আসার পরে বেশীরভাগ গুপ্ত প্রতিভাধারী মানুষেরা নিজেকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করেছে। এতে অবশ্যই প্রতিভাধারীর পাশাপাশি গণমানুষেরও উপকার হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

প্রিয় পাঠক, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ইন্টারনেটের ০টি ব্যবহার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে চেষ্টা করেছি। আপনি যদি আর্টিকেলটি পুরোটা মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তবে নিশ্চয় ইন্টারনেটের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন।

বর্তমানে প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রেই ইন্টারনেট এর ব্যবহার করতে হয়। শিক্ষা জীবনে ইন্টারনেটের ব্যবহার রয়েছে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের ব্যবহার রয়েছে এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে ইন্টারনেটের ব্যবহার রয়েছে।

তবে ইন্টারনেটের উপকারিতাও রয়েছে, আবার অপকারিতাও রয়েছে। আপনি যদি ইন্টারনেটকে ভালো কাজে ব্যবহার করেন তবে ইন্টারনেটের অপকারিতা আপনাকে সহজে স্পর্শ করবে না।

তাই অবশ্যই আমাদের সকলেরেই উচিত ইন্টারনেটের অপব্যবহার রোধ করে ভালো কাজে ব্যবহার করা। তবেই আমরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে উপকৃত হতে পারবো ইনশাআল্লাহ।

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

Add comment