সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয় - হারানো সার্টিফিকেট তোলার আবেদন ফরম

সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয় | জিডি করার নিয়ম

ছাত্র-ছাত্রীদের মহামূল্যবান সম্পদ এবং শিক্ষাজীবনের একটি বড় অর্জন হলো সার্টিফিকেট। কোনো কারণে যদি এই সার্টিফিকেট হারিয়ে যায় অথবা চুরি হয়ে যায় তবে শিক্ষার্থীদেরকে অনেক চিন্তা, হতাশা ও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয় কি তা আমাদের জেনে রাখা দরকার।

শুধু সার্টিফিকেটই নয়; একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট (মার্কশীট), প্রবেশপত্র ও রেজিষ্ট্রেশন কার্ডও প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর কোনো একটা যদি হারিয়ে যায় অথবা নষ্ট হয়ে যায় তবে নতুন করে উত্তোলন করাটা অনেকটা আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর এই উত্তোলনের পুরো প্রসেসটা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি দেখিয়েছি।

কথিত আছে শিক্ষা জীবনের সমস্ত অর্জনের ভার বহন করে একাডেমিক সার্টিফিকেট। সার্টিফিকেট একটি ভবিষ্যত। অর্থাৎ, আপনার ক্যারিয়ার জীবনে কোনো চাকরি অথবা কর্মে জয়েন করতে গেলে এই সার্টিফিকেট আপনাকে বিভিন্ন ভাবে হেল্প করতে পারে।

কিন্তু সার্টিফিকেট নষ্ট হয়ে যাওয়া, চুরি হয়ে যাওয়া অথবা হারিয়ে যাওয়ার মাধ্যমেই কি সার্টিফিকেটের সমাপ্তি হয়ে যায়? ’না’। সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে কি করতে হবে আজ আমি আপনাকে তাই বলব।

সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয়

শিক্ষার্থীদেরকে বোর্ড কর্তৃক যেই সার্টিফিকেটগুলো দেওয়া হয়, তার একটি কপি বোর্ড কর্তৃপক্ষ তাদের সংরক্ষণাগারে রেখে দেয়। তাই যে কোনো শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট বা মূল্যবান শিক্ষাসংক্রান্ত কাগজপত্র অনাকাঙ্খিত ভাবে হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলে হতাশার কিছু নেই।

আপনার সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে তোলার আবেদন করতে পারবেন। তবে তার আগে অবশ্যই আপনার নিকটবর্তী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি অথবা জিডি করতে হবে।

আবার থানায় যে জিডিটি করবেন সেই জিডির একটি কপি অবশ্যই আপনার কাছে রাখবেন। তারপর যেকোনো একটি দৈনিক পত্রিকায় আপনার হারিয়ে যাওয়া সার্টিফিকেট সম্পর্কে একটি বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে।

উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে আপনার নাম, শাখা, পরীক্ষার কেন্দ্র, রোল নম্বর, পাসের বছর এবং যেই বোর্ডের আন্ডারে পরীক্ষা দিয়েছেন সেই বোর্ডের নাম উল্লেখ করতে হবে। আবার আপনার সার্টিফিকেটটি কিভাবে নষ্ট হয়েছে বা হারিয়েছে তা সংক্ষেপে বিজ্ঞপ্তিতে বলে দিতে হবে।

সকলেই জানি, দৈনিক পত্রিকাগুলো প্রায় সকলেই পড়ে। আপনার হারানো সার্টিফিকেট যদি কেউ পেয়ে থাকে, তবে এই বিজ্ঞপি পড়ে নিশ্চয় আপনাকে সনাক্ত করে আপনার ঠিকানায় যে কোনো মূল্যে সার্টিফিকেট পৌঁছে দেবে।

তাছাড়া, থানায় জিডি করা এবং দৈনিক পত্রিকাতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন অনাকাঙ্খিত সমস্যা থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন। আবার সরাসরি সার্টিফিকেট তুলতে গেলে প্রমাণস্বরূপ এই তথ্যগুলো দেখাতে হয়।

আপনার সার্টিফিকেট হারিয়ে যাওয়ার পর যদি কেউ এটিকে কোনো অবৈধ কাজে ব্যবহার করে আপনাকে ফাসাতে চায়, তবে আপনার করা জিডি এবং দৈনিক পত্রিকার বিজ্ঞপ্তিটি প্রমাণ স্বরূপ খুবই কাজে লাগবে।

তাই আপনার সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয় হিসেবে এই কাজগুলো অবশ্যই করার চেষ্টা করবেন। সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে কিভাবে তোলার আবেদন করতে হয় তা আর্টিকেলটির শেষে বলা আছে।

চলুন এবার জেনে নিই থানায় জিডি করার নিয়মাবলী সম্পর্কে।

সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে জিডি করার নিয়ম

বর্তমানে যে কোনো থানায় জিডি করা অনেক সহজ। তবে জিডি করতে গিয়ে বেশকিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। প্রাথমিক ভাবে আপনি জিডি করার জন্য সেই থানায় যাবেন, যেই থানায় আপনার সার্টিফিকেটটি হারিয়েছে।

থানায় জিডি করতে সাধারণত কমপক্ষে ৮ বছরের প্রয়োজন হয়। তবে JSC /JDC এবং SSC/ Dakhil পরীক্ষার্থীরা তো ১৮ বছরেই আগের সার্টিফিকেট প্রাপ্ত হয়। এক্ষেত্রে কি ৮ বছরের কম বয়সীরা কোনো প্রদক্ষেপ নিতে পারবে না? বিষয়টা মোটেও এমন নয়।

এস এস সি সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলেও আপনি জিডি এবং দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবেন। স্টুডেন্ড হিসেবে অবশ্যই তারা এই বিষয়টা গুরুত্বের সাথে দেখবে। এতে আশাকরি সমস্যা হবে না।

যাইহোক, থানায় জিডি করার জন্য মূলত অফিসার ইনচার্জ -এর কাছে একটি দরখাস্ত লিখতে হয়। যেই দরখাস্তে সার্টিফিকেট হারানোর পূর্ণাঙ্গ বিষয়টা গুছালো নিয়মে স্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করতে হয়।

থানায় যে কোনো সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করার জন্য কোনো টাকার প্রয়োজন নেই। যাইহোক, নিচে সরাসরি নমুনা সহকারে “ssc সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে” কিভাবে জিডি করবেন তা দেখিয়ে দেওয়া হলো।

থানায় জিডি করার নমুনা কপি

তারিখঃ ০৬-০৮-২০২২ ইং।
বরাবর,
অফিসার ইনচার্জ,
কিশোরগঞ্জ সদর থানা, কিশোরগঞ্জ।

জনাব,
যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক নিবেদন এই যে, আমি সাইফুল ইসলাম, পিতাঃ মো. আসাদুজ্জামান লিমন, মাতাঃ মোছা. আমেনা খাতুন, গ্রামঃ চরশোলকিয়া, ডাকঘরঃ চরশোলকিয়া, উপজেলাঃ কিশোরগঞ্জ (সদর), জেলাঃ কিশোরগঞ্জ। গত ২৫/০৭/২০২২ ইং তারিখ সকাল / বিকাল আনুমানিক ৩ ঘটিকার সময় কলেজ হতে বাড়ি যাওয়ার পথে আমার এসএসসি পাসের মূল সনদটি হারিয়ে যায়। যার রোল নং ৪৬২ এবং রেজিষ্ট্রেশন নং ৩৫৩৬৪৮৩ । আমি অনেক খোজাখুঁজি করেও সনদটি পাইনি। বিধায় বিষয়টি ডায়েরি ভূক্ত করা আবশ্যক মনে হলো।

অতএব, মহোদয় সমীপে একান্ত আরজ, আমার এসএসসি পাসের মূল সনদ হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ডায়েরি ভুক্ত করে আপনার চির কৃতজ্ঞাপাশে আবদ্ধ করবেন।

নিবেদক,
মো. সাইফুল ইসলাম
মোবাইলঃ ০৭০০০০০০০০

আপনি এই নিয়ম ফলো করে যে কোনো ধরণের হারানো সার্টিফিকেটের জন্য থানায় জিডি করতে পারবেন। সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয়গুলোর মধ্যে প্রথম করণীয় এটিই।

দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নিয়য়

আপনার সার্টিফিকেট বা মূল্যবান শিক্ষাসংক্রান্ত কাগজপত্রের হারানো বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার জন্যে আপনাকে কাঙ্খিত সেই পত্রিকার অফিসে যেতে হবে। অথবা অনলাইনের মাধ্যমেই তাদের সাথে যোগাযোগ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবেন।

দৈনিক পত্রিকা বলতে প্রথম আলো, ইত্তেফাক, নয়া দিগন্ত ইত্যাদি। প্রথম সারির এমন যে কোনো একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিলেই হবে।

বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার জন্যে আপনার হারানো বিষয়টি ০০ থেকে ২০০ শব্দের মধ্যে গুছালো ভাবে লিখবেন। লেখাটিতে অবশ্যই আপনার নাম, রোল নম্বর, রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ও হারানোর বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে।

তারপর লেখাটি পত্রিকায় ছাপানোর জন্য সরাসরি পত্রিকার অফিসে অথবা পত্রিকার ইমেইলে পাঠাতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে ৩০০ – ৫০০ টাকা দিতে হবে।

সাধারণত লেখা ও টাকা জমা দেওয়ার পর /২ দিনের ভেতরই বিজ্ঞপ্তিটি ছাপা হয়ে যায়। লেখা জমা দেওয়ার পর আপনি অবশ্যই কাঙ্খিত সেই পত্রিকায় নিয়মিত চোখ রাখবেন। তাছাড়া, সরাসরি তাদের সাথে যোগাযোগ করলেই বলে দেবে আপনার বিজ্ঞপ্তি কখন ছাপা হবে।

বিজ্ঞপ্তিটি ছাপা হয়ে গেলে পত্রিকা থেকে আপনার বিজ্ঞপ্তির একটি ছবি তুলবেন। তারপর এই ছবিটি pdf ফরম্যাটে Save করবেন। জিডির ক্ষেত্রেও pdf ফরম্যাট আবশ্যক।

হারানো সার্টিফিকেট তোলার নিয়ম

আপনার হারারো সার্টিফিকেটের জন্য দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি এবং থানায় জিডি করা হয়ে গেলে আপনি যেই বোর্ডের আন্ডারে পরীক্ষা দিয়েছেন সেই বোর্ডে জিডি এবং বিজ্ঞপ্তির কপিগুলো জমা দিতে হবে।

বোর্ডে কাগজগুলো জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া দুটি।

  1. চিঠির মাধ্যমে
  2. অনলাইনে

এই দুটি পদ্ধতিতেই আপনার হারিয়ে যাওয়া সার্টিফিকেট বোর্ড থেকে নতুন করে তুলে আনতে পারবেন। সরাসরি চিঠি যোগাযোগ ব্যবস্থার চেয়ে অনলাইন যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা সহজ, সময় ও টাকা সাশ্রয়ীও বটে।

আমি আপনাদের সুবিধার্থে দুটি পদ্ধতিই বিস্তারিতভাবে নিচে তুলে ধরেছি। যেটা আপনার কাছে সহজ মনে হয় সেই পদ্ধতিই গ্রহণ করতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

. চিঠির মাধ্যমে হারানো সার্টিফিকেট তোলার জন্য আবেদন

শিক্ষা বোর্ডে চিঠির মাধ্যমে হারানো সার্টিফিকেট তোলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষত্রে প্রথমে আপনাকে সোনালী ব্যাংকের ডিমান্ড ড্রাফটের মাধ্যমে বোর্ডের সচিব বরাবর একটি নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হবে।

ফি বা টাকার পরিমাণ ৫০০ টাকা। আপনি টাকা জমা দেওয়ার পর মূলত আপনার আবেদন কার্যকর হবে। নাহয় আবেদন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বাতিল করে দেবে।

আরো পড়ুনঃ অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার নিয়ম

আবেদনপত্রের সঙ্গে মূল ব্যাংক ড্রাফট কপি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির কাটিং ও থানার জিডির কপি একসাথে জমা দিতে হবে। সাথে অবশ্যই আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে দেবেন।

অফলাইনে জমা দেওয়ার প্রসেসটা মূলত চিঠির মাধ্যমে। সরকারী ডাক-বিভাগের মাধ্যমে চিঠি পৌঁছাতে হবে। চিঠি জমা দেওয়ার পর আপনাকে বেশ কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।

আপনার আবেদনের তথ্যের সাথে যদি সার্টিফিকেট মেচিং হয়, তবে আপনাকে বোর্ড থেকে ফোন করা হবে। এবং আপনি সার্টিফিকেট সংগ্রহ করার ঠিকানা বোর্ড থেকে জেনে নিতে পারবেন।

২. অনলাইনে হারানো সার্টিফিকেট উত্তোলনের আবেদন

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেটের সাহায্যে ঘরে বসেই প্রায় সব ধরণের কাজ সম্পাদন করা যায়। সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রেও তাই। এখন ঘরে বসেই সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে তোলার আবেদন করতে পারবেন।

তবে হারানো সার্টিফিকেট যেভাবেই তুলতে যাননা কেন, আপনার থানার জিডি ও পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি কপিটি অবশ্যই প্রয়োজন হবে।তাছাড়া, অফলাইনে আবেদন করতে গলে অবশ্যই সোনালী ব্যাংকের ডিমান্ড ড্রাফটের প্রয়োজন হবে। এখানে অন্য কোনো ব্যাংক হলেও হবে না।

আর অনলাইনে আবেদন করার ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংকের ডিমান্ড ড্রাফটের প্রয়োজন হবে না। মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া যায়।

চলুন এবার জেনে নিই অনলাইনে হারানো সার্টিফিকেট উত্তোলনের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে। স্টেপ বাই স্টেপ ছবি সহকারে হারানো সার্টিফিকেট তোলার নিয়মটি নিচে তুলে ধরা হলো।

স্টেপ -০১

প্রথমেই গুগলে গিয়ে সার্চ করুন “Dhaka Education Board” লিখে। অথবা সরাসরি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন এই লিংক থেকেঃ https://dhakaeducationboard.gov.bd/

উল্লেখ্য, আপনার বোর্ড যদি অন্য বিভাগে হয় তবে অবশ্যই সেই বিভাগের নাম দিয়ে গুগলে Search করবেন। যেমন, “Comilla Education Board”  বা “rajshahi education board” ইত্যাদি।

হারানো সার্টিফিকেট তোলার নিয়ম
সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয়

আপনার কাঙ্খিত শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর বামপাশের মেনু থেকে On-line Application মেনুতে ক্লিক করবেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের On-line Application এই মেনুটি সবার উপরে থাকলেও সকল বোর্ডের ওয়েবসাইটে এই মেনুটি সবার উপরে নাও থাকতে পারে। এক্ষেত্রে ওয়েবসাইটের পুরো মেনুগুলো খুঁজে দেখার অনুরোধ।

অবশ্যই বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ডের সকল ওয়েবসাইটেই On-line Application নামের মেনু রয়েছে।

স্টেপ -০২

হারানো সার্টিফিকেট তোলার আবেদন ফরম
সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে তোলার আবেদন

দ্বিতীয় স্টেপে উপরের ছবিব মতো আরেকটি পেজ ওপেন হবে যেখানে আরো কিছু মেনু আসবে। এখানে থেকে আপনি তিন নম্বর মেনুতে ক্লিক করুন।

অর্থাৎ, “ডকুমেন্ট উত্তোলনের আবেদন, সার্টিফিকেট, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট (মার্কশীট), প্রবেশপত্র ও রেজিষ্ট্রেশন কার্ড উত্তোলনের আবেদন করতে এই বাটনে ক্লিক করুন। তারপর “আবেদন ফরম” বাটনে ক্লিক করুন।

স্টেপ -০৩

অনলাইনে হারানো সার্টিফিকেট উত্তোলন
হারানো সার্টিফিকেট তোলার আবেদন ফরম

তৃতীয় স্টেপে উপরের ছবির মতো আরেকটি মেনু ওপেন হবে। এখান থেকে আপনার যথাপোযুক্ত মেনুটি সিলেক্ট করতে হবে।

এখানে দেখতে পাচ্ছেন “দ্বি-নকল সনদ, দ্বি-নকল নম্বর পত্র, দ্বি-নকল প্রবেশ পত্র এবং ত্রি / চৌ-নকল সনদ ” ইত্যাদি নামের মেনু রয়েছে।

আপনি যদি আপনার সার্টিফিকেটটি দ্বিতীয়বারের মতো পেতে চান, তবে এখানে থেকে ‘দ্বি-নকল সনদ’ সিলেক্টে করবেন, আবার যদি তৃতীয় বা চতুর্থবারের মতো সার্টিফিকেটটি পেতে চান তবে সেই অনুযায়ী মেনু সিলেক্ট করবেন।

উল্লেখ্য, শুধু সার্টিফিকেট নয়; পরীক্ষার প্রবেশ পত্র, মার্কশীট এবং রেজিষ্ট্রেশন কার্ড উত্তোলনের জন্যও অনুরূপ ভাবে আবেদন করতে পারবেন।

স্টেপ -০৪

হারানো সার্টিফিকেট তোলার জন্য আবেদন রাজশাহী
সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয়

চতুর্থ স্টেপে উপরের ছবির মতো একটি ওয়েবপেজ ওপেন হবে। এখানে আপনার পরীক্ষার নাম, পরীক্ষা পাশের বছর, রোল নম্বর এবং রেজিষ্ট্রেশন নম্বর দিয়ে খালিঘর পূরণ করে Find বাটনে ক্লিক করতে হবে।

Find বাটনে ক্লিক করার পর আপনার সার্টিফিকেটে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে একটি ফরম চলে আসবে। এখানে কোনো তথ্য পরিবর্তন করবেন না।

ফরমটির নিচে Application Fee নামের ঘরে টাকার পরিমাণ দেখাবে। এখানে যত টাকা দেখাবে তত টাকাই আপনাকে দিতে হবে। পাশের ঘরে Applicant Mobile নামের একটি খালিঘর রয়েছে, ওখানে আপনার মোবাইল নম্বরটি দিতে হবে।

তার নিচে Applicant Recent Photo নামের একটি লেখা রয়েছে। এখানে আপনার একটি ছবি দিতে হবে। ছবিটি অবশ্যই নতুন তোলা কোনো ছবি হবে হতে। ছবিটি আপলোড করার জন্য Choose File বাটনে ক্লিক করুন এবং আপনার কাঙ্খিত ছবিটি সিলেক্ট করে দিন। তাহলে ছবি অটোমেটিক আপলোড হয়ে যাবে।

নিচে আরো কিছু তথ্য দেওয়ার জন্য বলা রয়েছে। এখানে সকল তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। শুধু থানার জিডি কপি এবং দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি কপিটি জমা দিতে হবে।

Browse বাটনে ক্লিক করে কপিগুলো আপলোড করে দিন। অবশ্যই এই কপিগুলো pdf ফরম্যাটের হতে হবে। তবে আপনার নিজস্ব ছবিটি jpg ফরম্যাটে দিবেন।

তথ্য গুলো সঠিকভাবে দেওয়ার পর নিচে একটি Alert message দেখতে পাচ্ছেন। যেখানে লিখা আছেঃ ”আমি এই মর্মে প্রত্যায়ন করছি যে, আবেদনে বর্ণিত সকল তথ্য সঠিক আছে। কোন ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্যের জন্য আবেদনটি বাতিল হলে বোর্ডে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।”

এই Alert message -এর সাথে অবশ্যই আপনাকে একমত হতে হবে এবং টিকচিহ্ন দিয়ে Submit বাটনে ক্লিক করতে হবে।

স্টেপ -০৫

সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে তোলার আবেদন
সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে তোলার আবেদন

পঞ্চম স্টেপে উপরের ছবিব মতো আপনার সমস্ত ডকুমেন্ট দেখাবে। এই ফরমটি আপনাকে অবশ্যই প্রিন্ট করে নিতে হবে। প্রিন্ট করার জন্য Print বাটনে ক্লিক করুন। তাহলেই ফরমটি pdf আকারে ডাউনলোড হবে, তারপর এটিকে প্রিন্ট করে নিয়েন। প্রিন্ট কপিটি পরবর্তীতে অবশ্যই প্রয়োজন হবে।

ফরমে দেখতে পাচ্ছেন, আবেদনটি করার ৭ দিনের ভেতেরই পেমেন্টে করতে হবে। এখানে যদিও সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পেমেন্ট করার জন্যে বলা হচ্ছে।

কিন্তু আমরা যেহেতু পেমেন্টের জন্য মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করবো, সেহেতু এটি নিয়ে চিন্তা করার কারণ নেই। আপনি Sonali Slip বাটনে ক্লিক করুন।

স্টেপ -০৬

সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয়
সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয়

ষষ্ঠ স্টেপে আসার পর আপনাকে পেমেন্ট করতে হবে। পেমেন্ট করার জন্য এখানে তিনটি অপশন রয়েছে। Sonali Bank, Cards এবং Mobile Banking.

আপনার কার্ড থাকলে কার্ডেও পেমেন্ট করতে পারবেন। তবে সোনালী ব্যাংকের একাউন্ট এবং কার্ড অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের নেই। (আপনার থাকলে ভিন্ন কথা।) না থাকলে এখান থেকে Mobile Banking সিলেক্ট করুন।

মোবাইল ব্যাংকিং সিলেক্ট করার পর বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদির মাধ্যমে পেমেন্টটি করতে পারবেন। পেমেন্ট করার জন্য কাঙ্খিত অপারেটর সিলেক্ট করুন।

মনে করুন, বিকাশে পেমেন্টটি করা হবে।  বিকাশ সিলেক্ট করার আপনাকে নতুন আরেকটি পেজে নিয়ে যাবে। সেখানে যাওয়ার পর Pay With bKash বাটনে ক্লিক করুন।

তারপর আরেকটি  নতুন পেজ ওপেন হবে। সেখানে আপনার বিকাশ নাম্বার এবং বিকাশ পিন নম্বর দিয়ে পেমেন্টটি কনফর্ম করতে হবে। তাহলেই পেমেন্টটি হয়ে যাবে।

পেমেন্টটি হয়ে যাওয়ার পর আপনার আবেদনটি বোর্ড কর্তৃপক্ষ রিভিউ করে দেখবে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে তবে আপনাকে মোবাইলে ফোন দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আবেদনটি গৃহীত হলো কিনা তা জানবেন যেভাবে

আপনি নিজেই দেখতে পারবেন আপনার সার্টিফিকেটের আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা কি। এটি দেখার জন্য উপরোল্লিখিত দ্বিতীয় স্টেপে আসার পর “সর্বশেষ অবস্থা” বাটনে ক্লিক করুন।

হারানো সার্টিফিকেট তোলার নিয়ম ২০২২
সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে কি করনীয়

“সর্বশেষ অবস্থা” বাটনে ক্লিক করার পর উপরের ছবিব মতো একটি লগইন পেজ ওপেন হবে। এখানে Application ID এবং Password দিতে হবে।

আপনি আবেদনটি করার জন্যে যেই মোবাইল নম্বরটি ব্যবহার করেছেন, সেই মোবাইল নম্বরে Application ID এবং Password বোর্ড থেকে মেসেজ আকারে পাঠানো হয়েছে। আপনার মোবাইলের Inbox চেক করলেই পেয়ে যাবেন।

এখানে লগইন করার পর আপনার হারানো সার্টিফিকেট তোলার আবেদন ফরমটি কোন অবস্থায় আছে তা দেখতে পাবেন। এখানেই প্রায় সমস্ত তথ্যের আপডেট পাবেন। তাছাড়া, আপনি চাইলে সরাসরি ভাবে শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করতে পারেন।

আবেদনটি করার পর ৩/৪ দিনের ভেতরেই আপনার সার্টিফিকেটটি রেডি হয়ে যাবে। তখন বোর্ড থেকে সার্টিফিকেটটি সংগ্রহ করে নিতে পারবেন।

সার্টিফিকেটটি সংগ্রহ করার সময় অবশ্যই আপনাকে পঞ্চম স্টেপে দেখানো ফরমটি প্রিন্ট করে নিয়ে যেতে হবে। এই ফরমটি দেখে সার্টিফিকেট হস্তান্তর করা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথাঃ

প্রিয় পাঠক! আপনার সার্টিফিকেট হারিয়ে গেলে করণীয় হলো প্রথমে নিকটবর্তী থানায় একটি ডায়েরি বা জিডি করা। তারপর দৈনিক কোনো পত্রিকায় সার্টিফিকেট সম্পর্কে হারানো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া।

তারপর জিডি ও বিজ্ঞপ্তির কপিগুলো শিক্ষা বোর্ডে পাঠিয়ে সার্টিফিকেটের জন্য নতুন করে আবেদন করা। তবে সরাসরি চিঠির মাধ্যমে কাগজপত্র জমা দিতে দৌড়াদৌড়িতে অনেক হতাশা অনুভব করতে পারেন। এজন্য সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা।

সার্টিফিকেট সংগ্রহ করার সময় অবশ্যই পঞ্চম স্টেপে দেখানো ফরমটি প্রিন্ট করে নিয়ে যাবেন। নাহয় আপনাকে সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না। যাইহোক, আমি আশা করছি সকল শ্রেণির শিক্ষার্থীই এই আর্টিকেলটি থেকে বিশেষ ভাবে উপকৃত হবেন। এই বিষয়ে যদি আপনার আরো কোনো প্রশ্ন থাকে তবে অবশ্যই কমেন্ট করবেন। আমি যথাসাধ্য আপনার প্রশ্নের উত্তর দেবো ইনশাআল্লাহ। সবাইকেই ধন্যবাদ

NAZIRUL ISLAM NAKIB

যত জ্ঞান-ধন করেছি অর্জন জীবনের প্রয়োজনে,
তার সবটুকুই বিলাতে চাই সৃষ্টির কল্যাণে।

2 comments

error: Content is protected !!